শিয়ারা সাহাবী বিদ্বেষী।সাহাবীদের সমালোচনা করে।এই অভিযোগের উত্তর।
বিষয়: শিয়ারা সাহাবী বিদ্বেষী।সাহাবীদের সমালোচনা করে।এই অভিযোগের উত্তর।
লেখক: শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ।
মানুষ পড়াশোনা না করেই বলে বেড়াবে যে ইরান যেহুতু শিয়া তারা সাহাবী বিদ্বেষী তাই যাই হোক তাকে খারাপ বলতেই হবে।
তারা গাদিরে খুম,বনু সাকিফা,সিফফিন,কারবালা.... এসব নিয়ে আলোচনাও করবে না।
রসুল(সা:) গাদিরে খুমে( সহিহ মুসলিম আন্তর্জাতিক ৬২২৫-৬২২৮) কোরআন ও আহলুল বাইত রেখে যাচ্ছি বলে ঘোষণা দিয়েছেন।তাহলে তাদের আদর্শ নিয়েই তো জীবন পরিচালনা করতে হবে।তাই না! অথচ দু:খের ব্যাপার হলো আমাদের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত(সুন্নি মানহাজ) এর সীমাবদ্ধতা হলো আহলে বাইত হতে বর্ণিত হাদিস খুব ই কম!থাকবেই বা কিভাবে! কেননা কিতাবাদি লেখা হতো শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায়।আহলে বাইতের থেকে হাদিস গ্রহণ/শিক্ষা অর্জন তো দূরের কথা! তখনকার উমাইয়া আব্বাসি জালেম শাসকরা তো এটাই চাইত না যে আহলে বাইতের ফাযায়েল বর্ণিত হোক।এজন্য আহলে সুন্নাতের অনেক মুহাদ্দিস ও ফিকহের আলেমদেরকে জুলুম করা,কারাগারে নিক্ষেপ সহ নানা ট্যাগ দেয়া এগুলো চলত।
তারা খুব ভালো করেই জানে যে সমাজে জ্ঞানী কারা।আর তাই শাসকেরা চাইত না যে জনগণ বুদ্ধিমান হয়ে যাক আর এই জুলুমের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুক।তারা চাইতই জনগণ ভয়ের মধ্যে থাকুক,যাতে তারা যা ইচ্ছা সেভাবে রাজতন্ত্রের গদি টেকাতে পারে।
আহলে সুন্নাতের গ্রন্থে এই সমস্যাগুলোর সমাধান আহলে তাশায়্যু (শিয়া মানহাজ) এর গ্রন্থে পাই।সেখানে আহলে বাইত হতে বর্ণিত হাদিস রয়েছে।
কিন্তু কোরআন বাদে কোন মানহাজ ই ভুলের উদ্ধে নয়। দিনের পর দিনে এত নির্যাতিত হয়ে শিয়ারা অন্য এক্সট্রিমে চলে যায়। তবে বর্তমানে শিয়াদের মধ্যে যেই সমস্যা তা খোমেনি বিপ্লবের পরে প্রচুর সংশোধন হয়েছে।তারা (ইরান)সাহাবীদের গালাগালি বা অপমান করা নিষিদ্ধ করেছে।
লন্ডনে থাকা ইয়াসির আল হাবিব 'লেডি অফ হেভেন' মুভি কে ইরান ব্যান করেছে।কেননা সেখানে তিন খলিফাকে ছোট ও অপমান করেছে।(রসুল সা: এর ইন্তেকালের পরে হযরত ওমর যে হযরত ফাতিমা (সা:আ:) এর গৃহে ধমকি দিয়েছিল সাহাবাদেরকে তোমরা বের না হলে আগুণ দিয়ে জ্বালিয়ে দেব এটাকে ইয়াসির আল হাবিব আরোও বড় সর করে মাল মশলা মাখিয়ে দেখিয়েছে।এই কাহিনী সুন্নি গ্রন্থের সহিহ সোর্স মুসান্নাফ আবি শাইবাতেও আছে).
এই ধরণের উগ্র শিয়াদের আমেরিকা খুব প্রমোট করে।সৌদির ঘোমটা শায়েখদের ভক্তরা সাহাবীদের অপমান করা ইয়াসির আল হাবিবের(যে নিজেই ইরান বিরোধী) ক্লিপ দেখিয়ে বলে যে এই দেখ শিয়াদের নিকৃষ্ট আক্বিদা।অথচ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ইয়াসির আল হাবিবের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়ে রেখেছে।সে কোনদিক দিয়ে শিয়া মাঝহাব কে রিপ্রেজেন্ট ও করে না।
1. আলী খোমেনির ফতোয়া (সুন্নি ব্যক্তিত্বদের অপমান নিষিদ্ধ):
https://en.wikipedia.org/wiki/Ali_Khamenei%27s_fatwa_against_insulting_revered_Sunni_figures
2. Lady of Heaven সিনেমা নিয়ে সমালোচনা –
Tehran Times:
https://www.tehrantimes.com/news/456341/Is-The-Lady-of-Heaven-true-in-its-claim
এখন কথা হচ্ছে হাসান আল্লাহইয়ারি বা ইয়াসির আল হাবিবের মতো শিয়ারা তিন খলিফার সমালোচনা কেন করবে? আসল কথা হচ্ছে তিন খলিফারা এমন কাজ করেছে যার জন্য সমালোচনার যায়গা আপনা আপনি তৈরী হয়েছে।যেমন রসুল সা: যখন জীবনের শেষ সময়ে কাগজ কলম চেয়েছিলেন কিছু লেখার জন্য তখন হযরত ওমর বলেন আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাব যথেষ্ঠ। এরপরে কলম দিলেন না।এটা হাদিসে কিরতাস লিখে সার্চ দিলেই পাবেন যে সুন্নিদের মেইন কিতাব বুখারীতেই আছে।তাছাড়া নবীর ইন্তেকালের পরে ফাতিমা সা:আ: নবিজীর পরিত্যাক্ত সম্পত্তি বাগে ফিদাক চেয়েছিলেন।আবু বকর রা: বলেছিলেন যে নবীদের কোন ওয়ারিশ হয় না।আর তাছাড়া যেই সাহাবীরা হযরত আলিকে খলিফা বানাতে চাইছিল তারা ফাতিমা সা: আ: এর ঘড়ে জড়ো হয়েছিল।তো ঐ মুহুর্তে হযরত ওমর রা: বলেন যে এখান থেকে চলে যেতে নয়তো ফাতিমার ঘরে আগুণ দিয়ে জ্বালিয়ে দিব।এটা সুন্নি সোর্সের মুসান্নাফ আবি শাইবার :৩৮২০০ নং হাদিসেই আছে।এই হাদিসের রাবি সবাই গ্রহণযোগ্য সিকাহ রাবি।এর সত্যতা সনদ নিয়ে যাচাই করলেই বুঝবেন।তাছাড়া বাগে ফিদাকের হাদিসেই আছে যে ফাতিমা সা: আ: মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হযরত আবু বকরের সাথে কথা বলেন নি।
আবার বুখারি ৪২৪০ তে আছেই যে হযরত আলি হযরত আবু বকরকে বলেন " যে আহলে বাইতের সদস্য হিসেবে আমি মনে করি এতে আমাদের হক রয়েছে।আর খলিফা কে হবে সেই শালিসে আমাকে শামিল ও করলেন না? এতে আমি কষ্ট পেয়েছি।"
এসব বিষয়গুলো নিয়েই সমালোচনার যায়গা তৈরী হয়েছে।এবার আসে হযরত ওসমান রা: এর ব্যাপারে।হযরত ওসমানের শেষের সময়তে উনি তার পরিবার বনু উমাইয়াকে বিভিন্ন যায়গায় ক্ষমতা দেন।এরা পরবর্তিতে দুর্নিতি শুরু করে।বুখারি ৩১১১ এ আছে এই যাকাত নিয়ে যখন অভিযোগ আসে( হযরত ওসমানের নিয়োগকৃত গভর্নরেরা যাকাতের মালে কারচুপি করে) হযরত ওসমান কে হযরত আলি রা: নবিজীর একটা হাদিস চিরকুঠে (যেখানে কিভাবে যাকাত বন্টন হবে তা লেখা ছিল) নিয়ে ওসমান কে দেন।কিন্তু হযরত ওসমান রা: সেটা ফিরিয়ে দেন।তো শেষের দিকে বহু সাহাবীরা হযরত ওসমানের উপরে ক্ষিপ্ত ছিল উনি যেই তার পরিবারকে বসিয়েছিলেন তাদের জন্য।অনেক বড় কাহিনী,শেষের দিকে হযরত ওসমান নিহত নয়।তারপরে তার হত্যাকে ঘিরে মুসলমানদের মাঝে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় যার পর থেকে মুসলমান এক হতে পারে নি।এখানে ঘটনায় তিন খলিফার ইনটেনশন খারাপ ছিল আমি এটা বলতে চাই নি।এখানে প্রত্যেকটা ঘটনার পেছনে বিস্তারিত কারণ আছে।যা লিখতে থাকলে সিরিজ হয়ে যাবে এই লেখা।পর্বের পর পর্ব লিখতে হবে।তারা যেইসময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় কি করা যায় বলে সবচাইতে ভালো হবে মনে করেছেন তাই করেছেন।আমার মূল কথার উদ্দেশ্য ছিল তারা শুধু শুধু বানিয়ে সমালোচনা করে না (শিয়াদের মধ্যে যারা করে)।এগুলোর হিস্টোরিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড না জেনে ঢালাওভাবে আপনি শিয়াদের কাফির বলতে পারেন না।
তো এসব যায়গাতে সমালোচনার স্পেস তৈরী হয় যেসবকে কেন্দ্র করে উগ্র শিয়ারা আরোও বাড়িয়ে প্রচার করে।আর আমেরিকা এদেরকে খুব প্রমোট করে।যাতে শিয়া ও সুন্নি দ্বন্দ আরোও বাড়ে আর এতে তাদের ই লাভ।কিন্তু ইরান সর্বদাই মুসলমানদের ঐক্যের দিকে আহবান করে।আলি খামিনি সাহাবীদের অপমান,গালি দেয়া বা লাঞ্চনা করাকে নিষিদ্ধ করেছে।
যাতে মুসলমানদের মাঝে ভাতৃত্ব নষ্ট না হয়।
তাও তারা নাকি খারাপ।ইব্রাহিম রাইসি,হাসান নাসরুল্লাহ আর এখন আলি খামিনি ই/হুদিদের আক্রমণে মারা যায়। ফিলিস্তিনের মজলুমদের পাশে থাকলেও নাকি তাদের জন্য দোয়া করা যাবে না।এরা মারা যাওয়াতে ই/হুদিদের মতো নামধারী কিছু মুসলমান লোক খুব খুশী।
Comments
Post a Comment