আজকের বিষয়:- খেলাফত রাজতন্ত্রে রুপান্তর।ইমাম হাসান(রা:) কে বিষ দিয়ে হত্যা।

 




পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আজকের বিষয়:- খেলাফত রাজতন্ত্রে রুপান্তর।ইমাম হাসান(রা:) কে বিষ দিয়ে হত্যা।

হাদীসের সংকলনঃ-কারবালার ঘটনার পেছনের কারণ(৮ম পর্ব)
লেখকঃ-শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ।
১)ইমাম হাসান(রা:) এর সাথে মুয়াবিয়া কেন সন্ধি করলেন?
২) সন্ধিচুক্তিতে কি আছে ?
৩) মুয়াবিয়া কিভাবে সন্ধিচুক্তি অমান্য করে গাদ্দারী করে রাজতন্ত্র কায়েম করলেন।
৪) ইমাম হাসান (রা:) কে হত্যা।মুসলিম উম্মাহ এর বিভীষিকাময় অধ্যায়।
৫)মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।বড় বড় সাহাবীদের অস্বীকৃতি।যার পরিণতি ই হলো কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা(পর্ব ১০ এ দেখবো ইনশাল্লাহ)
আলোচনা পর্ব:-
১) হযরত আলী(রা:) ইন্তেকালের পরে সকল গণ্য মান্য সাহাবীরা ওনার বড় ছেলে হাসান(রা:) কে মুসলিম উম্মাহের খলিফা নির্বাচন করলেন।সিফফিনের যুদ্ধ তখনো শেষ হয় নি।হাসান (রা:) বিরাট সৈন্য নিয়ে মুয়াবিয়ার মুখোমুখি হলেন।এত বড় সৈন্য দেখে মুয়াবিয়া ভাবতে লাগল এত বড় সৈন্যের যাথে সিফফিনের যুদ্ধ যদি চালিয়ে যাই যেভাবে তার বাবা(আলী রা:) এর সাথে চালিয়ে গিয়েছিলাম তবে প্রায় সকল সৈন্য মারা যাবে।এতে আমার নিজ উদ্দেশ্য হাসিল হবে না।তা ভেবে মুয়াবিয়া হাসান(রা:) সাথে সন্ধি ও শান্তি চুক্তি করতে চাইল।উনি আর যুদ্ধ চান না।
২)হাসান রা: পরে কিছু শর্তের ভিত্তিতে সন্ধিচুক্তি গ্রহণ করেন। কেননা কোরআনে আছে কাফের ও যদি যুদ্ধ না চায় এবং এর বদলে সমঝোতায় আসতে চায় তবে গ্রহণ করতে।ওনার বাবা আলী(রা:) কেও যদি মুয়াবিয়া বলত যে আমি যুদ্ধ চাই না সমঝোতায় আসতে চাই তখনো আলী(রা:) তা গ্রহণ করতেন।এতে সিফফিনের যুদ্ধই হতো না।
[এখানে একটু বলে নেই সিফফিনের যুদ্ধের শুরুতে আলী(রা:) মুয়াবিয়ার সাথে যুদ্ধ করতে চান নি।বরং শান্তি ই চেয়েছিলেন।কিন্তু মুয়াবিয়া আলী (রা:) এর খেলাফতকেই অস্বীকার করেছিল আর বলেছিল যে ওসমান হত্যার বিচার আমি তরোয়াল দিয়ে করব।আর আমি আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাই।আলী(রা:) বলেছিলেন যে আমি ওসমান(রা:) হত্যার বিচার করব।কিন্তু আমার হাতে তাহলে বায়াত নিতে হবে।কারণ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সবার কাছে স্বীকৃতি না পেলে ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী আমি কিসাস(হত্যার বিচার হত্যা) নিতে পারব না।কিন্তু মুয়াবিয়া তাকে খলিফা মানতে অস্বীকৃতি জানালো ও বিদ্রোহ করল।এই ব্যাপারে বিস্তারিত আমি পর্ব ৬ এ বর্ণনা করেছি।]যাই হোক,এখন হাসান(রা:) যখন খলিফা হলো তখন এত বড় সৈন্য দেখে সন্ধি চুক্তি করতে রাজি হলো।যা আলী(রা:) এর সময়ে মুয়াবিয়া করতে চায় নি।]
যাই হোক এখন যেহুতু করতে চেয়েছে তাই হাসান (রা:) কিছু শর্তের ভিত্তিতে মুয়াবিয়ার সাথে সন্ধিচুক্তি করল।এর মধ্যে প্রধান ছিল উনি রাসুল(সা:) ও খোলাফায়ে রাশিদিনের আদর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কায়েম করবেন।অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে যে মুয়াবিয়া কোনভাবেই রাজতন্ত্র(তার পুত্র আগামী খলিফা) হতে পারবে না।ওনার পরে আবার ইসলামী খেলাফত এর নিয়মেই খলিফা হবে।আরোও কিছু শর্ত ছিল।এর বদলে মুয়াবিয়া হয়ে ওঠে মুসলিম উম্মাহ এর আমির।হাসান (রা:) ৬ মাস পরে খেলাফত থেকে ইস্তফা নেন।
৩)কিন্তু মুয়াবিয়া কোন শর্ত ই পুরণ করেন নি।উনি সন্ধিচুক্তিতে প্রাপ্ত সকল সুবিধা ভোগ করেন অথচ তার যা যা দায়িত্ব ছিল তা উনি পালন করেন নি।খুমুসের বন্টনের বিষয়টি ব্যতিত।উনি ওনার পুত্র অযোগ্য পুত্র ইয়াজিদকে খলিফা নিয়োগ করেন।যা ইসলামিক খেলাফতের সম্পূর্ণ বিপরীত।এই হাদীসে দেখা যায় আবু বকর (রা:) এর ছেলে আব্দুর রহমান (রা:) ও আয়েশা (রা:) ইয়াজিদকে খেলাফত নিয়োগ দেয়ার বিষয়টা সাথে বিরোধীতা করছেন।এই বিষয়টা ফুটে ওঠেছে।কারণ এটা রাজতন্ত্র যা ইসলামিক নয়।
৪)আমি আরোও দেখিয়েছি যে কিভাবে উমাইয়ারা হাসান (রা:) কে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে।যাতে কোনভাবেই নবীর পরিবারের কাছে খেলাফত না যায়।
৫)তাছাড়া আরোও দেখিয়েছি যেখানে হাসান(রা:) এর হত্যার পর মুয়াবিয়ার রিয়্যাকশন কেমন ছিল।এই হাদীস থেকে পরিষ্কার যে মুয়াবিয়া স্বর্ণ পড়ত,রেশমী কাপড় পড়ত এবং হিংস্র পশুর চামড়া ব্যবহার করত যা ইসলামে হারাম। ইয়াজিদের শাসনের রীতিনীতি বিচার করে হুসাইন(রা:) ইয়াজিদের বায়াত নিয়ে অস্বীকৃতি জানান।এতেই সুত্রপাত ঘটে কারবালার মতো মর্মান্তিক ঘটনা।
হাদীস পর্ব-------->>>>
১)হাসান (বাসরী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ আল্লাহর কসম, হাসান ইবনু 'আলী (রাঃ) পর্বত প্রমাণ সেনাদল নিয়ে মু'আবিয়াহ (রাঃ)-এর মুখোমুখী হলেন। আমর ইবনু 'আস (রাঃ) বললেন, আমি এমন সেনাদল দেখতে পাচ্ছি যারা প্রতিপক্ষকে হত্যা না করে ফিরে যাবে না। মুআবিয়াহ (রাঃ) তখন বললেন, 'হে 'আমর! এরা ওদের এবং ওরা এদের হত্যা করলে, আমি কাকে দিয়ে লোকের সমস্যার সমাধান করব? তাদের নারীদের কে তত্ত্বাবধান করবে? তাদের দুর্বল ও শিশুদের কে রক্ষণাবেক্ষণ করবে? অতঃপর তিনি কুরায়শের বানূ আবদে শাম্‌স্‌ শাখার দু'ব্যক্তি 'আবদুর রহমান ইন্তু সামুরাহ ও 'আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ)-কে হাসান (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। তিনি তাদের বললেন, তোমরা উভয়ে এ ব্যক্তিটির নিকট যাও এবং তাঁর নিকট (সন্ধির প্রস্তাব পেশ করো, তাঁর সঙ্গে আলোচনা কর ও তাঁর বক্তব্য জানতে চেষ্টা কর। তাঁরা তাঁর নিকট রয়ে গেলেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বললেন, আলাপ-আলোচনা করলেন এবং তাঁর বক্তব্য জানলেন। হাসান ইবনু “আলী (রাঃ) তাদের বললেন, “আমরা আবদুল মুত্তালিবের সন্তান, এই সম্পদ (বায়তুল মালের) আমরা পেয়েছি আর এরা রক্তপাতে লিপ্ত হয়েছে।" তারা উভয়ে বললেন, [মু'আবিয়াহ (রাঃ)] আপনার নিকট এরূপ বক্তব্য পেশ করেছেন। আর আপনার বক্তব্যও জানতে চেয়েছেন ও সন্ধি কামনা করেছেন। তিনি বললেন, 'এ দায়িত্ব কে নিবে?" তারা (তার জবাবে) বললেন, 'আমরা এ দায়িত্ব নিচ্ছি।' অতঃপর তিনি তাঁর সঙ্গে সন্ধি করলেন। হাসান (বসরী) (রহঃ) বলেন, আমি আবূ বাকরাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি : 'রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু "আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি মিম্বরের উপর দেখেছি, হাসান বিন আলী (রাঃ) তাঁর পাশে ছিলেন। তিনি একবার লোকদের দিকে আরেকবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, আমার এ সন্তান একজন নেতা। সম্ভবত তার মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলা মুসলমানদের দু'টি বড় দলের মধ্যে মীমাংসা করাবেন।' [সহিহ বুখারী: ২৭০৪ ও ৭১০৯]
২)হাসান বিন আলী (আ:) যে সকল শর্তের ভিত্তিতে মুআবিয়াহ্ বিন আবী সুফিয়ানের কাছে বায়আত করেছিলেন, সেগুলো হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ইতিহাসগ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে। যেমনঃ
* মু'আবিয়াহ আল্লাহর কিতাব, আল্লাহর রসূলের(সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ ও খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শানুযায়ী শাসন করবেন।
* মু'আবিয়াহ তার কোনও উত্তরসূরি নির্ধারণ না করে উম্মাহর শুরার হাতে ছেড়ে যাবেন।
* আলী ইবনু আবী তালিবের সৈন্যদের ভেতর আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে কোনও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেয়া যাবে। না।
* খুমুসের বণ্টন খুলাফায়ে রাশেদিনের আমলের মত বনু মুত্তালিবের নিকট প্রেরণ অব্যাহত থাকবে, যা আল্লাহর রসুল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পরিবারের ব্যাপারে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।
[ইবনু "আবদিল বার-এর আল-ইস্তিয়ার, ইবনু হাজার আসকালানীর আল-ইসাবাহ, ইবনু কাসিরের আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ইবনু হাজারের ফাতহুল বারী, বুখারীর হাদিস ৭১০৯ এর ব্যাখ্যা]
৩)ইউসুফ ইবনু মাহাক থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, মারওয়ান ছিলেন হিজাযের গভর্নর। তাকে নিয়োগ করেছিলেন মু'আবিয়াহ (রাঃ)। তিনি একদা খুতবা দিলেন এবং তাতে ইয়াজিদ ইবনু মু'আবিয়ার কথা বারবার বলতে লাগলেন, যেন তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তার বায়'আত গ্রহণ করা হয়। এ সময় তাকে 'আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাক্ৰ কিছু কথা বললেন। মারওয়ান বললেন, তাঁকে পাকড়াও কর। তৎক্ষণাৎ তিনি 'আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরে চলে গেলেন। তারা তাঁকে ধরতে পারল না। তারপর মারওয়ান বললেন, এ তো সেই লোক যার সম্বন্ধে আল্লাহ্ অবতীর্ণ করেছেন, "আর এমন লোক আছে যে, মাতাপিতাকে বলে, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব যদিও আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়েছে, তখন তার মাতাপিতা আল্লাহ্র নিকট ফরিয়াদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার জন্য। বিশ্বাস স্থাপন। কর, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য। কিন্তু সে বলে এ তো অতীতকালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়।" (একথা শুনে উম্মুল মুমিনীন 'আইশাহ পর্দার আড়াল থেকে বললেনঃ “আল্লাহ্ আমাদের ব্যাপারে কুরআনে কিছুই নাযিল করেন নি, কেবলমাত্র আমার নির্দোষিতা ছাড়া”)। সুনানুন নাসাই আল কুবরা ও মুসতাদরাক লিল হাকিমের বর্ণনায়ঃ মুহাম্মাদ বিন যায়দ বর্ণনা করেন যে যখন মুআবিয়াহ তার ছেলের জন্য বায়আত নিচ্ছিলেন, মারওয়ান বললঃ “এটি আবু বাকার ও 'উমারের সুন্নাহ”। "আব্দুর রহমান জবাব দিলেনঃ “এটি হারকাল ও কায়সারের সুন্নাহ্”। তখন মারওয়ান বললঃ “এই সেই ব্যক্তি, যার ব্যাপারে কুরআনে অবতীর্ণ হয়েছে, আর এমন লোক আছে যে, মাতাপিতাকে বলে, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব যদিও আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়েছে, তখন তার মাতাপিতা আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার জন্য। বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য। কিন্তু সে বলে এ তো অতীতকালের উপকথা বাতীত কিছুই নয়। [সুরা আহক্বাফ ৪৬:১৭'। একথা শুনে আইশাহ্ বললেনঃ “আল্লাহর কসম! সে মিথ্যা বলেছে, আল্লাহ্ এই আয়াত আমাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ করেননি। আর আমি যদি চাই, তাহলে বলতে পারি এই আয়াত কার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আমি আল্লাহর রসুল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মারওয়ান ও তার পিতার ওপর লা'নত করতে শুনেছি, যখনও মারওয়ান জন্ম নেয়নি। কাজেই, মারওয়ান আল্লাহর লা'নতের ভাগীদার”। [সহিহ বুখারী: ৪৮২৭, সুনানুন নাসাই আল কুবরাঃ ১১৪৯১, মুস্তাদরাক লিল হাকিমঃ ৮৪৮৩, ইমাম হাকিম বলেনঃ হাদিসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ]
৪)উমাইর বিন ইসহাক বর্ণনা করেনঃ আমি এবং অপর এক ব্যক্তি হাসান বিন 'আলীর কাছে যাই, যখন তিনি খুব একটা সুস্থ বোধ করছিলেন না। হাসান বিন আলী বারংবার তাকে বলছিলেনঃ “আমাকে যা জিজ্ঞাসা করার, তা করে নাও ওই সময় আসার পূর্বেই, যখন আর আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারবে না"। তিনি
বললেনঃ আমি আপনাকে কিছুই জিজ্ঞাসা করতে চাই না, মহান আল্লাহ্ আপনাকে সুস্থতা দান করুন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং ইস্তিঞ্জার দিকে আগালেন। এরপর ফিরে এসে বললেনঃ “এই কেবলমাত্র আমার পেটের একটি অংশ কেটে বের হয়ে আসল, যা আমি এই কাঠের সাহায্যে উল্টিয়ে পালটিয়ে দেখছিলাম। আমাকে বারংবার কয়েক দফা বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। এই বারে প্রচণ্ড তীব্র বিষ দেয়া হয়েছে”। উমাইর বিন ইসহাক বলেন, আমরা আবার পরের দিন সকালে হাসান বিন আলীকে দেখতে গেলাম। তিনি বাজারে ছিলেন এবং ইতোমধ্যে হুসাইন বিন আলী এসে তাঁর মাথার পাশে বসে জিজ্ঞাসা করলেনঃ “হে আমার ভাই! কে আপনাকে বিষ প্রয়োগ করেছে?" হাসান বিন আলী বললেনঃ “তুমি কি তাকে হত্যা করতে চাও?” তিনি বললেনঃ "হ্যাঁ”। হাসান বিন আলী বললেনঃ "যদি আমি সত্যিকার অর্থেই খুনিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই, তাহলে মহান আল্লাহ্ তার কঠোর বদলা নিবেন। আর, যদি সেই ব্যক্তি নির্দোষ হয়, তবে আমি চাই না যে কোনও নির্দোষ ব্যক্তি খুন হোক”। [আল মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাঃ ৩৭৩৫৯, শায়খ গোলাম মোস্তফা জহীর সুন্নাহ- ২৬ এ সনদটিকে সহীহ বলেছেন]
৫)খালিদ (রহ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একদা আল- মিক্বদাম ইবনু মা'দীকারিব (রাঃ), 'আমর ইবনুল আসওয়াদ ও কিন্নাসিরীনবাসী বনী আসাদের এক লোক মু'আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর নিকট গেলেন। মু'আবিয়াহ (রাঃ) মিকদাম (রাঃ)-কে বললেন, জানতে পারলাম, হাসান ইবনু 'আলী মারা গেছেন। একথা শুনে মিকদাম (রাঃ) “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" পড়লেন। অমুক ব্যক্তি মুআবিয়াহকে বললেন, এর মৃত্যুকে আপনি কি বিপদ মনে করেন? তিনি বললেন, আমি এটাকে কেন বিপদ মনে করবো না, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাকে নিজের কোলে নিয়ে বলতেনঃ হাসান আমার এবং হুসাইন "আলীর। আমাদী বললো, তিনি ছিলেন এক জ্বলন্ত কয়লা যাকে আল্লাহ নিভিয়ে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী, অতঃপর মিকদাম (রাঃ) বলেন, আজ আমি আপনাকে অসন্তুষ্ট না করে ছাড়বোনা। তিনি বললেন, হে মু'আবিয়াহ! আমি যদি সত্য বলি তবে আমাকে সমর্থন করবেন আর মিথ্যা বললে আমাকে মিথ্যাবাদী বলাবেন। তিনি বললেন, ঠিক আছে। তিনি বলেন, আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বর্ণ (পুরুষদের) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। তিনি আবার বললেন, আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি জানেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রেশমী পোশাক (পুরুষদের) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। তিনি আবারও বললেন, আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করছি, আপনি কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিংস্র জন্তুর চামড়া ব্যবহার করতে এবং এর চামড়ার তৈরী আসনে আরোহী হতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি আপনার প্রাসাদে এসবের কিছুই দেখছি না। মু'আবিয়াহ (রাঃ) বলেন, হে মিকদাম! আমি জানতাম যে, তোমার কাছ থেকে রক্ষা পাবো না।
খালিদ (রহ) বলেন, অতঃপর মুআবিয়াহ (রাঃ) তার জন্য এত পরিমাণ সম্পদ দেয়ার আদেশ দেন, যা অপর দু'জন সাথীর জন্য দেননি। আর তার ছেলের জন্য দুইশো দীনার প্রদান করেন। মিকদাম (রাঃ) এগুলো তার সাথীদের মাঝে বন্টন করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আসাদী এখানে যা পেয়েছে তা থেকে কাউকে কিছু দেয়নি। এ সংবাদ মু'আবিয়ার নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, মিকদাম হলো লম্বা হাতের দানশীল লোক, আর আসাদী নিজের জন্য আটকিয়ে রাখার লোক। মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায়ঃ খালিদ বিন মিদান হতে বর্ণিত, মিকদাম বিন মাদীকারব এবং আমর বিন আসওয়াদ আসলেন মু'আবিয়াহ বিন আবী সুফিয়ানের সাথে দেখা করার জন্য। মু'আবিয়াহ বিন আবী সুফিয়ান জিজ্ঞাসা করলেন মিক্বদাম বিন মাদীকারব কেঃ “আপনি কি জানেন যে হাসান বিন 'আলী ইন্তিকাল করেছেন?” মিকদাম তৎক্ষণাৎ তিলাওয়াত করলেনঃ “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য এবং তাঁর কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে)"। মু'আবিয়াহ বিন আবী সুফিয়ান জিজ্ঞাসা করলেন মিকদাম বিন মাদীকারব কেঃ “আপনি কি এটিকে কোনও বিপদ মনে করেন?” তিনি উত্তর করলেনঃ “কেন আমি এটিকে বিপর্যয় মনে করব না, যখন আমি আল্লাহর রসূলকে হাসান বিন "আলীকে কোলে নিয়ে বলতে শুয়েছিঃ সে আমার আর হুসাইন আলীর" [সুনানে আবু দাউদ: ৪১৩১, মুসনাদ আহমাদঃ ১৭২২৮ (৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা-১৩২), শায়খ যুবায়ের ও আলবানী হাদিসটিকে সহীহ্ বলেছেন]


Comments

Popular posts from this blog

১২ ইমাম নিয়ে শিয়া ও সুন্নীদের রায়।(১ম পর্ব)

আজকের বিষয়:-মুয়াবিয়ার শাসনামল