আজকের বিষয়:-মুয়াবিয়ার শাসনামল

 






 পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আজকের বিষয়:-মুয়াবিয়ার শাসনামল


হাদীসের সংকলনঃ-কারবালার ঘটনার পেছনের কারণ(৯মপর্ব)

লেখকঃ-শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ।
বি:দ্রি:-আজকের পর্ব অনেক বড়।এজন্য ফেসবুক পোস্ট এও আপলোড দেয়া যাচ্ছে না।এজন্য আমি দু'টি ভাগে ভাগ করেছি।পর্ব ৯.১ এ শুধু হাদীসগুলো নিয়ে আলোচনা করব।আর পর্ব ৯.২ এ হাদীসগুলোর রেফারেন্স সহ দিব।সহিহ হাদীসের তাহকিক সহ আমি দিয়ে দিয়েছি।
মুয়াবিয়ার শাসনামনে কিছু ভালো কাজ ছিল।কিন্তু ভালো কাজের সাথে যা মন্দ কাজ ও হয়েছে তা অনেকেই বলেন না।কারণ হলো অনেক হুজুরদের বানী হলো আহলে সুন্নাত(সুন্নি) হতে হলে নাকি সকল সাহাবীকে মিয়ারে হক(সত্যের মাপকাঠি) মেনে নিতেই হবে।তাই মুয়াবিয়া তার ছেলে ইয়াজিদকে বসিয়েছে যেহুতু তাই এ ব্যাপারে কোন প্রশ্ন ই নাকি করা চলবে না।অনেকে তো ইয়াজিদ এর অবস্থানকে সঠিক বলে শুধু তার পিতা তাকে বসিয়েছে এইজন্য।তার নিকট অনেক সাহাবী বায়াত করেছিল এজন্য।[জোড় জবরদস্তি করে করিয়েছিল এটা কখনো বলে না]
আচ্ছা আমার একটা ছোট প্রশ্ন।মক্কা বিজয়ের পরে মুসলিম হওয়া মুয়াবিয়া সাহাবী হওয়াতে যেহুতু এত সম্মানিত হয় যে সে যাই বলে সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে মেনে নিতে হয়;তাহলে যেই সাহাবীরা ইয়াজিদ এর বায়াত নেয়ার বিরুদ্ধে ছিলেন তারা? আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর(রা:),আব্দুর রহমান বিন আবু বকর(রা:),আব্দুল্লাহ বিন যোবায়ের (রা:) এরা কি সাহাবী না??
আর যারা বলে ইয়াজিদ এর কাছে সাহাবিরা বায়াত হয়েছে।এজন্য ইয়াজিদ নাকি যোগ্য শাসক।আর ইমাম হুসাইন (রা:) এর নাকি ত্রুটি হয়েছে।
এসব বলা লোকদেরকে আমার প্রশ্ন আছে।তাদের থেকে জানতে চাই আপনারা এগুলো কেন বলেন না যে ইমাম হুসাইন (রা:) এর হত্যার পরে ইয়াজিদ এর বায়াত সাথে সাথে মদিনাবাসী ভেঙ্গে দেয়।আব্দুল্লাহ বিন যোবায়ের(রা:) এই নেতৃত্বে ছিল।কেন বলেন না?এজন্যই ইয়াজিদ কারবালার ঘটনার পরের বছর মদিনাতে হামলা করেছিল।মদিনাতে হামলা করে অসংখ্য সাহাবী মেরে ফেলে আর লুটপাত করে।
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এসে আব্দুল্লাহ বিন যোবায়ের (রা:) কে মেরে রাস্তায় তার মৃতদেহ টাঙ্গিয়ে রাখে।আর বলে ওনাকে ইহুদির কবরে ফেলে আসো।সহিহ মুসলিম এর হাদীস কি চোখে পড়ে না?এরমানে হলো আপনারা আসলে সাহাবীদের জামাত না।যেই সরকার আসবে তার ই অন্ধ আনুগত্য করেন। হুসাইন(রা:) কে ভুল বলতে সামান্য দিল ও কাপে না এদের।নাউযুবিল্লাহ!
সকল সাহাবী নাকি সত্যের মাপকাঠি।আসলেই কি কোরআন এমন কিছু বলেছে?আসুল দেখি কোরআন কি বলে।কোরআনে সকল সাহাবা মিয়ারে হক এমন কোন কথা নেই।কোরআন সাহাবীদের ৩ টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।এক সত্যিকারের মুত্তাকি ও পরহেজগার।দুই হলো উপর দিয়ে মুসলিম ভিতরে মুনাফিক।তিন হলো ভালো ও মন্দ মিশ্র আমল করে।=====>
আর যে সব মুহাজির ও আনসার অগ্রবর্তী এবং প্রথম, আর যে সব লোক সরল অন্তরে তাদের অনুগামী, আল্লাহ তাদের প্রতি রাযী-খুশি হয়েছেন যেমনভাবে তারা তাঁর প্রতি রাযী হয়েছে, আর আল্লাহ তাদের জন্য এমন উদ্যানসমূহ প্রস্তুত করে রেখেছেন যার তলদেশে নহরসমূহ বইতে থাকবে, যার মধ্যে তারা চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে, তা হচ্ছে বিরাট কৃতকার্যতা।(সূরা তাওবা:১০০)
আর তোমাদের মরুবাসীদের মধ্য হতে কতিপয় লোক এবং মাদীনাবাসীদের মধ্য হতেও কতিপয় লোক এমন মুনাফিক রয়েছে যারা নিফাকের চরমে পৌঁছে গেছে। তুমি তাদেরকে জাননা, আমিই তাদেরকে জানি, আমি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করব, অতঃপর (পরকালেও) তারা মহা শাস্তির দিকে প্রত্যাবর্তিত
হবে।।(সূরা তাওবা:১০১)
এবং আরও কতকগুলি লোক আছে যারা নিজেদের অপরাধসমূহ স্বীকার করেছে, যারা মিশ্রিত 'আমল করেছিল, কিছু ভাল, আর কিছু মন্দ, আশা রয়েছে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি করুণা দৃষ্টি করবেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।।(সূরা তাওবা:১০২)
এখানে মুয়াবিয়া হলেন এমন সাহাবী যিনি কিনা ভালো ও মন্দ মিশ্র কাজ করেছেন।মুয়াবিয়া হলেন আবু সুফিয়ানের ছেলে।তার মাতা হলেন হিন্দা।আবু সুফিয়ান সেই ব্যক্তি যিনি কাফের থাকতে নবিজী(সা:)এর সাথে উহুদের যুদ্ধ করেছিল।
সেই যুদ্ধেই নবি সা: এর দাত মোবারক শহীদ হয়। ৭০ জন সাহাবী শহীদ হয়ে যান।এই যুদ্ধেই নবিজী (সা:) এর চাচা হামযা(রা:) কে শহীদ করা হয়।হামযা(রা:) কে শহীদ করে তার শরীর ফেড়ে আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা তার কলিজা চাবিয়ে পৈশাচিক আনন্দ নিয়েছিল।
আগের পর্বে বলেছিলাম যে মুয়াবিয়া নবিজীর(সা:)এর জীবনের একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে মুসলমান হন।মুয়াবিয়া ইসলামের গ্রহণের আগে থেকেই প্রচন্ড শত্রুতা করে আসছে।এমনকি ইসলাম গ্রহণের পরেও ওনার প্রচন্ড অপরাধ লক্ষ্য করা যায়।যেহুতু উনি মুসলিম হয়েছেন এবং নামমাত্র সাহাবী হয়েছেন তাই ওনাকে হাদীসে ( রা:) বলা হয়েছে।কিন্তু তাই বলে যে মুহাদ্দিসগণ ওনার অপরাধ লুকানোর চেষ্টা করেছেন এমন নয়।বরং সরাসরি বর্ণনা করেছেন।আর যে অপরাধ হাদীসে এখানে দিয়েছি তা মুসলিম
হওয়ার পরের অপরাধ।
দাবী ১:-নবিজী(সা) ইবনে আব্বাস (রা:)কে পাঠিয়ে সময় নিয়ে কতক্ষণ পর পর কয়েকবার ডাকার পরেও উনি নবিজীর ডাকে সাড়া দেন নি।উলটো মুয়াবিয়া বলে যে আমি খাচ্ছি।অনেকক্ষণ সময় নিয়ে নবিজী আবার আব্বাস রা: কে পাঠান।তাও একই কথা বলে উনি নবিজী(সা:) এর কাছে আসেন নি।বললেন যে আমি খাচ্ছি।অনেকক্ষণ ডাকার পরেও উনি না আসায় নবিজী(সা:)বলেই ফেললেন ওর পেট কখনোই না ভরুক।(১)সহিহ মুসলিম: ৬৪০৯, ৬৬২৮ দালাইলুন নুবুওয়্যাহ বায়হাকি : ২৫০৬
ব্যাখ্যা:-
অনেকে বলে যে মুয়াবিয়া হলেন ওহীর লেখক।তাদের জন্য এই হাদীস। এখানে এই হাদীস এ বলা হয়েছে যে মুয়াবিয়ার বাবা আবু সুফিয়ান চেয়েছিলেন যে তার ছেলে যেন ওহীর লেখক হন।এজন্য সুফিয়ান নবিজি(সা:) এর কাছে অনুরোধ করেছিলেন।যাতে তার ছেলে এই কাজে অংশ নেন।নবিজী(সা:)এর অভ্যাস ছিল উনি কোনদিন ই হালাল কোন কাজে 'না' উত্তর দিতেন না।উনি বললেন আচ্ছা।
এজন্য নবিজী (সা:) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) কে পাঠালেন যে মুয়াবিয়া কোথায় আছে ডেকে নিয়ে আসো।ইবনে আব্বাস (রা:) মুয়াবিয়ার কাছে এসে বললেন নবিজী(সা:) আপনাকে ডেকেছে।অথচ মুয়াবিয়া আমি খাচ্ছি বলে তখন যান নি।কিছু সময় নবিজী(সা:) অপেক্ষা করলেন।এরপর আবার নবিজী ইবনে আব্বাস (রা:)কে বললেন যাও মুয়াবিয়াকে আমার কাছে নিয়ে এসো।ইবনে আব্বাস (রা:) আবার গেলেন আবার ঐ একই কথা।এইভাবে নবিজী আবারো অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে ডাক দিলেন।এইভাবে করতে করতে তিনবার এই জিনিসের পুনরবৃত্তি হলো।পরিশেষে নবিজী(সা:) বলেই ফেললেন ওর পেট কখনোই না ভরুক।
মুয়াবিয়া নবিজী(সা:) এর কেমন ভক্ত ছিলেন এটা এই সহীহ হাদীস দ্বারা বোঝাই যাচ্ছে।চলুন পরের দাবীতে যাই।
দাবী ২:-মুয়াবিয়ার বাহিনী বানু উমাইয়ারা আলী (রা:) কে গালি ও অভিশাপ দেয়ার রীতি প্রণয়ন করে।
(২),(৩),(৪),(৫),(৬) সহিহ মুসলিম: ৬২২০, সুনানুন নাসাঈ আল কুবরাঃ ৮৪৩৯ [সহীহ বুখারী: ৩৭০৩, মুসলিম: ৬২২৯] [সুনানুন নাসাঈ আল কুবরাঃ ৮৪৭৭,, মুসতাদরাক লিল হাকিমঃ ৬১২১, [সুনানে আবু দাউদ: ৪৬৪৮, সুনানুন নাসাঈ আল কুবরাঃ ৮২০৮ [সুনানে আবু দাউদ: ৪৬৫০, মুসনাদ আহমাদঃ ১৬২৯
ব্যাখ্যা:-
(*) মুসলিম শরীফে [আন্তর্জাতিক:-6220], তে এ আছে যে মুয়াবিয়া সাদ (রা:)কে প্রশ্ন করছে কিসে তোমায় আলী কে অভিশাপ দিতে বারণ করল?এরপরে সাদ রা: আলী রা: এর তিনটি ফযীলত বর্ণনা করে শোনান।ইবনু মাজাহ তে এই হাদীস আরোও আগে থেকে বর্ণনা শুরু হয়েছে।ইবনু মাজাহর বর্ণনায়ঃ সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত, মু'আবিয়াহ বিন আবী সুফিয়ান একবার হজ্জে আসেন। তখন, সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস মু'আবিয়াহ বিন আবী সুফিয়ানের সাথে দেখা করতে আসেন। মু'আবিয়াহ বিন আবী সুফিয়ান তাঁর সামনে "আলীর কথা তুলেন এবং গালমন্দ করেন। সা'দ প্রচণ্ড রেগে যান এবং তিনটি তিনটি ফযীলত বর্ণনা করে শোনান।
(**)শুধু তাই নয় সহিহ বুখারী [আন্তর্জাতিক:৩৭০৩] এবং মুসলিম শরীফে [আন্তর্জাতিক:-6229] তে আছে যে এক লোক মারওয়ানের বংশের এক লোককে মাদীনার শাসনকর্তা গভর্নর নিয়োগ দেয়।ঐ মারওয়ানের বংশের লোক মাদীনার গভর্নর নিয়োগপ্রাপ্ত হলো, সে সাহলকে ডেকে এনে আলী (রাঃ)-কে গালি দিতে বলল। সাহল (রাঃ) অস্বীকৃতি জানালেন। শাসক লোকটি বলল, তুমি যদি গালি নাই দাও তবে অন্তত এটুকু বলো যে, আবূ তুরাবের উপর আল্লাহর লা'নত।কিন্তু সাহল (রা:) অস্বীকার করেন লানত দিতে।আর আবু তুরাব আলী রা: এর নাম কিভাবে হয়েছে এটার বর্ণনা করেন।এই সকল হাদীস দ্বারা প্রমাণিত মুয়াবিয়ার শাসনামলে উমাইয়ারা আলী(রা:) কে লানত করত।মুয়াবিয়া ঐসময় আমির হয়েও এসবের বাধা দেন নি।তাছাড়া বরং উনি সাদ(রা:) কে প্রশ্ন করেছেন যে কেন গালি দাও না? এখন আমার প্রশ্ন উনি কি এত বড় সাহাবী আলি(রা:) এর ফযীলত জানতেন না? সত্য কথা হলো সব ই জানতেন।কিন্তু তার বাহিনী যা করত তার সাথে মুয়াবিয়ার সহমত ছিলেন।
সাদ ইবনে ওয়াক্কাস (রা:), সাইদ (রা:) যেভাবে বীরের মতো এইসবের প্রতিবাদ করে চলতেন তা এই হাদীসে রয়েছে।ওনারা আশারায়ে মুবাশশারা(জান্নাতী সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীর)অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
মুয়াবিয়ার শাসনামলে উমাইয়ারা যে আলী (রা:) কে লানত তা এই এই হাদীস দিয়েও প্রমাণিত।
এখন আপনার উপর নির্ভর করে আপনি কি নবিজী (সা:) দ্বারা জান্নাতী সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীদের সাথে থেকে আলী (রা:) কে গালি ও অভিশাপ দেয়ার রীতির বিরোধীতা করবেন নাকি উমাইয়াদের সাথে থাকবেন।যদি বলেন যে এইসকল কাজে মুয়াবিয়ার হাত নেই।তবে বলব মুয়াবিয়ার শাসনামলেই এসব হয়েছে।সে তার দলের লোকদের কোন শাস্তি তো দেই ই নি উল্টো অণুপ্রাণিত করেছে।তার প্রমাণ পূর্বেই দিয়েছি।পরের হাদীসটি একটু দেখি---->>
মুয়াবিয়ার ভয়ে মানুষ আরাফাতে তালবিয়া ও পাঠ করতে পারত না।ইবনে আব্বাস (রাঃ)আফসোস করে বললেন তারা আলী (রাঃ)-এর প্রতি বিদ্বেষবশত সুন্নত ছেড়ে দিয়েছে।(৭)[সুনান আন- নাসায়ী: ৩০০৯]
নবী (সা:) বলেছেন যে, মু'মিন ব্যক্তিই আলী রা: কে ভালোবাসবে, আর মুনাফিক ব্যক্তি আলী রা: এর সাথে শত্রুতা পোষণ করবে।'তাই একজন মুমিন হিসেবে আমার এটা দায়িত্ব,যারা আলী রা: এর বিরুদ্ধে ছিলেন তাদের ব্যাপারে বলা।(৮)[সহিহ মুসলিম: ২৪০]
***আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) বলেছেনঃ “কতিপয় ব্যক্তি আমাকে ভালবাসার কারণে জাহান্নামে যাবে আর কতিপয় আমার প্রতি ঘৃণার কারণে জাহান্নামে যাবে"।ফাযায়েলে সাহাবা আহমাদ বিন হাম্বালঃ ৯৩২, ৯২০]
তাই আমরা সবাই বলি যে আলী (রা:)কে অতিরিক্ত ভালোবাসায় শিয়াদের মধ্যে অনেকে (রাফেজিরা) জাহান্নামে যাবে।কিন্তু ঘৃণায় যারা যাবে তারা হলো সুন্নিদের ভেতরে নাসেবিরা।আর যাবে খারেজ্বীরা।
দাবী ৩:-শাসকের আনুগত্য কখন করতে হবে।আর শাসকের বিরুদ্ধে অবস্থান কখন নিতে হবে এই বিষয়ে হাদীস (Sahih Muslim 4776)
ব্যাখ্যা:-
আবদুল্লাহ বিন 'আমর (রাঃ) কাবার ছায়ায় বসে ছিলেন এবং লোকেরা তার চারপাশে জড়ো হয়েছিল।উনি শাসকের আনুগত্যের বিষয়টি নিয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। একজন তাবেঈ (আব্দুর রহমান আল কাবা)
কাবা ঘরের পাশেই আব্দুল্লাহ বিন আমরের(রা:) এর সাথে আলচনা শুনছিলেন ।আব্দুল্লাহ বিন আমর(রা:) বলছিলেন:-
"রাসুল(সা:) বলেছেন যে ব্যক্তি খলিফার প্রতি আনুগত্যের শপথ করে, তাকে তার হাতের প্রতিশ্রুতি এবং হৃদয়ের আন্তরিকতা (অর্থাৎ উভয়ভাবে সমর্পণ করতে হবে) দিতে হবে। সে তার ক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় তাকে মান্য করবে। যদি অন্য কেউ (খিলাফতের দাবিদার হিসেবে) এগিয়ে আসে, তার কর্তৃত্ব নিয়ে বিতর্ক করে, (মুসলমানদের) উচিত তাকে শিরচ্ছেদ করা।"
তখন তাবেঈ ব্যক্তিটি আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা:) কে লক্ষ্য করে বললাম, ঐ যে আপনার চাচাতো ভাই মু'আবিয়্যাহ তিনি আমাদেরকে আদেশ দেন যেন আমরা আমাদের পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করি আর নিজেদের মধ্যে পরস্পরে হানাহানি করি অথচ আল্লাহ্ বলেছেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, ব্যবসার মাধ্যমে পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ব্যতীত এবং তোমরা পরস্পরে হানাহানি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান" -(সূরা আন নিসা ৪: ২৯)। রাবী বলেন, তখন তিনি কিছুক্ষণের জন্য চুপ থাকলেন। তারপর বললেন, আল্লাহর অনুগত্যের ব্যাপারসমূহে তুমি তার আনুগত্য করবে এবং আল্লাহর অবাধ্যতার বিষয়গুলোতে তার অবাধ্যতা করবে।(১০) (সহিহ মুসলিম:৪৭৭৬)।
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে আমরা যেসব কাজ এ মুয়াবিয়া ইসলাম বিরোধী কাজ করেছে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।আর এটি যেকোন শাসক এর ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য।মুয়াবিয়া তার ছেলে ইয়াজিদকে বসিয়েছে এটা ছিল চরম ভুল।ইমাম হুসাইন তাই করেছেন যা ইসলামের শিক্ষা।যা ওনার নানা রাসুল(সা:) এর শিক্ষা।

আমি এখন পর্যন্ত যা যা হাদীস নিয়ে আলোচনা করলাম চলুন মূল হাদীসগুলো দেখে নেই রেফারেন্স সহ:==>>>
১)ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ মুসলিমরা আবূ সুফইয়ানের প্রতি দৃষ্টি দিতেন না এবং তাঁর সাথে উঠা- বসা করতেন না। তখন তিনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বললেন, হে আল্লাহর নাবী! তিনটি জিনিস আমাকে দিন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (আবূ সুফইয়ান) বললেন আমার নিকট আরবের সবচেয়ে উত্তম ও সুন্দরী উম্মু হাবীবাহ বিনতু আবূ সুফইয়ান (রাঃ) আছে তাকে আমি আপনার সাথে বিবাহ দিব। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন হ্যাঁ। আবূ সুইয়ান (রাঃ) পুনরায় বললেন, আমার পুত্র মু'আবিয়াহকে আপনি ওয়াহী লেখক নিযুক্ত করুন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন হ্যাঁ। আবূ সূইয়ান (রাঃ) বললেন আমাকে কাফিরদের বিপক্ষে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিন, যেমন আমি (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) মুসলিমদের বিপক্ষে অস্ত্র ধারণ করেছিলাম। তিনি বললেন আচ্ছা। আৰু যুমায়ল (রাঃ) বলেন, যদি তিনি এসব ব্যাপারে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট আবেদন না করতেন তাহলে তিনি তা দিতেন না। কারণ, তাঁর নিকট চাওয়া হলে তিনি হ্যাঁ বলতেন। সহীহ মুসলিমের অপর বর্ণনায়: "আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস বর্ণনা করেন, আমি বাচ্চাদের সাথে খেলছিলাম। যখন আল্লাহর নবী আসলেন, আমি দরজার আড়ালে লুকিয়ে পড়লাম। তিনি আসলেন এবং আমার পিঠে টোকা দিয়ে বললেন, “যাও, মু'আবিয়াহ কে আমার কাছে নিয়ে এসো।" "আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস বলেন, আমি গেলাম এবং (ফিরে এসে) বললাম যে তিনি খাচ্ছেন। তিনি আবার বললেন, “যাও এবং মুআবিয়াহ কে আমার কাছে নিয়ে এসো।” আমি আবার গেলাম এবং ফিরে এসে বললাম যে তিনি খাচ্ছেন। তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ যেন কখনও তার পেট না ভরেন।" দালাইলুন নুবুওয়্যাহ এর বর্ণনায়: 'আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস বর্ণনা করেন, আমি বাচ্চাদের সাথে খেলছিলাম। এমতাবস্থায় আল্লাহর নবী আসলেন এবং আমি ভাবলাম তিনি আমার কাছে এসেছেন, কাজেই আমি লুকিয়ে পড়লাম। কিন্তু, তিনি আমাকে হালকা ভাবে টোকা দিলেন এবং বললেন: “যাও এবং মু'আবিয়াহ কে আমার কাছে নিয়ে এসো” এবং তিনি ওহী লিখতেন। আমি তার কাছে গেলাম এবং একথা তাকে বললাম।
আমাকে বলা হল যে তিনি খাচ্ছেন। আমি ফিরে আসলাম এবং তাকে খবরটা জানালাম। তিনি আবার বললেন: "যাও এবং মু'আবিয়াহ কে আমার নিকত নিয়ে এসো।" আমি আবার গেলাম এবং একই উত্তর পেলাম যে তিনি খাচ্ছেন। আমি আবার তাকে একই কথাগুলো বললাম। তিনি তৃতীয়বারের মত বললেন: “মহান আল্লাহ কখনও তার পেট না ভরান"। হাদিসের বর্ণনাকারী আবু হামযা বর্ণনা করেন: “তার পেট কখনও ভরে নি”। অতঃপর ইমাম বায়হাকী লিখেছেন: “বর্ণনাকারীর কথাগুলো প্রমাণ করে যে আল্লাহর নবী র দু'আ কবুল হয়েছিল” [সহিহ মুসলিম: ৬৪০৯, ৬৬২৮, দালাইলুন নুবুওয়্যাহ বায়হাকি : ২৫০৬, শায়খ যুবায়ের আলী যাঈ তার তাওযীহুল আহকাম ২য় খন্ড এবং গোলাম মোস্তফা জহির তার সুন্নাহ-৪৯ এ হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন]
২)সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ মু'আবিয়াহ্ ইবনু আবূ সুইয়ান (রাঃ) সাদ (রাঃ)-কে *আমির (প্রতিনিধি) নিযুক্ত করলেন এবং বললেন, আপনি 'আলী (রাঃ)-কে কেন মন্দ বলেন না? সা'দ বললেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সম্বন্ধে যে তিনটি কথা বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তা আমি মনে রাখবো ততক্ষণ পর্যন্ত কখনও তাঁকে খারাপ বলব না। সেসব কথার মধ্য হতে একটিও যদি আমি লাভ করতে পারতাম তাহলে তা আমার জন্য লাল উটের চেয়েও অধিক কল্যাণকর হত। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে 'আলী (রাঃ)-এর উদ্দেশে বলতে শুনেছি- আলী (রাঃ)-কে কোন যুদ্ধের সময় প্রতিনিধি বানিয়ে রেখে গেলে তিনি বললেন, মহিলা ও শিশুদের মধ্যে আমাকে রেখে যাচ্ছেন, হে আল্লাহর রসূল? তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃতুমি কি এতে আনন্দবোধ করো না যে, আমার নিকট তোমার সম্মান মূসা (আঃ)-এর নিকট হারুন (আঃ)-এর মতো। এ কথা ভিন্ন যে, আমার পর আর কোন নবী
নেই। খাইবারের যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমি এমন এক লোককে পতাকা (ইসলামের ঝাণ্ডা) দেব যে আল্লাহ ও তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ভালবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলও তাঁকে ভালবাসেন। এ কথা শুনে আমরা (অধির আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকলাম। তখন তিনি বললেন, আলীকে ডাকো। আলী আসলেন, তাঁর চোখ (অসুখ হয়েছিল) উঠেছিল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর চোখে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তাঁর হাতে পতাকা সবে দিলেন। অবশেষে আল্লাহ তাঁর হাতেই বিজয়মালা (পতাকা) তুলে দিলেন। আর যখন আয়াত: 'চলো আমরা আমাদের এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততিকে ডাকি'- (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরান ৩: ৬১) অবতীর্ণ হলো, তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)-কে ডাকলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহ! এরাই আমার পরিবার-পরিজন।
সুনানুন নাসাঈ আল কুবরার বর্ণনায়ঃ মুআবিয়াহ বিন আবী সুফিয়ান জিজ্ঞাসা করলেন সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস কেঃ আপনে আবু তুরাবকে লা'নত করতে কিসে বাধা দিল? সা'দ উত্তর করলেনঃ “যতক্ষণ আমার স্মরণে তিনটি বিষয় আছে, যা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলী বিন আবী তালিবের ব্যাপারে বলেছেন, আমি আলীর ওপর কখনও লা'নত করব না। এমনকি তার ভেতর একটি বিষয় পাওয়াও আমার জন্য লাল উটের চেয়ে উত্তম"। অতঃপর, সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস বললেনঃ “আল্লাহর কসম! এই কথা শোনার পর মুআবিয়াহ বিন আবী সুফিয়ান যতদিন মদিনায় ছিলেন, একবারের জন্যও এ ব্যাপারে কথা তোলেননি"। ইবনু মাজাহর বর্ণনায়ঃ সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত, মু'আবিয়াহ বিন আবী সুফিয়ান একবার হজ্জে আসেন। তখন, সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস মু'আবিয়াহ বিন আবী সুফিয়ানের সাথে দেখা করতে আসেন। মু'আবিয়াহ বিন আবী সুফিয়ান তাঁর সামনে "আলীর কথা তুলেন এবং গালমন্দ করেন। সা'দ প্রচণ্ড রেগে যান এবং বলেনঃ আপনি এমন এক ব্যক্তির ব্যাপারে এমন কথা বলছেন, যার ব্যাপারে আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ "আমি যার মাওলা(বন্ধু), 'আলীও তার মাওলা”। সাথে সাথে আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে এও বলতে শুনেছিঃ "হে আলী! তুমি আমার নিকট ওইরকমই, যেমন মুসার নিকটে হারূন। কেবলমাত্র, আমার পরে আর নবুওয়াত নেই"। অতঃপর, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ "আজ আমি এমন এক ব্যক্তির হাতে ঝাণ্ডা তুলে দেব, যে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলকে ভালবাসে, আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলও তাঁকে ভালবাসেন” [সহিহ মুসলিম: ৬২২০, সুনানুন নাসাঈ আল কুবরাঃ ৮৪৩৯, শায়খ গোলাম মোস্তফা জহীর খাছায়েছে আলী তে হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন, সুনান ইবনু মাজাহঃ ১২১, শায়খ আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন]
৩)মুসলিমের বর্ণনায়ঃ সাহল ইবনু সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ মারওয়ানের বংশের এক লোক মাদীনার শাসনকর্তা। নিয়োগপ্রাপ্ত হলো, সে সাহলকে ডেকে এনে আলী (রাঃ)-কে গালি দিতে বলল। সাহল (রাঃ) অস্বীকৃতি জানালেন। শাসক লোকটি বলল, তুমি যদি গালি নাই দাও তবে অন্তত এটুকু বলো যে, আবূ তুরাবের উপর আল্লাহর লা'নত। সাহল (রাঃ) বললেন, আলী (রাঃ)-এর নিকট কোন নামই এর চেয়ে বেশি পছন্দনীয় ছিল। না। এ নামে ডাকলে তিনি আনন্দিত হতেন। সে লোক বলল, তাহলে আবূ তুরাব নাম হওয়ার কাহিনী বর্ণনা। করো। তিনি বললেন যে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাতিমা (রাঃ)-এর গৃহে আসলেন; কেন্তু আলী (রাঃ)-কে গৃহে পেলেন না। ফাতিমা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলেন, তোমার চাচাত ভাই কোথায়? ফাতিমা (রাঃ) বললেন, তাঁর আর আমার মধ্যে একটা কিছু ঘটেছিল যার ফলে তিনি রাগ করে বের হয়ে গেছেন, আর তিনি আমার নিকট ঘুমাননি। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক লোককে বললেন, দেখ তো, আলী কোথায়? লোকটি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! তিনি মাসজিদে ঘুমিয়ে আছে। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিকট আসলেন। আলী (রাঃ) শুয়েছিলেন। তাঁর এক পাশের চাদর সরে গিয়েছিল, ফালে গায়ে মাটি স্পর্শ করেছিল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাটি ঝাড়তে শুরু করলেন এবং বললেন, হে আবূ তুরাব! উঠো, হে আবূ তুরাব! উঠো। [সহীহ বুখারী: ৩৭০৩, মুসলিম: ৬২২৯]
৪)আবূ বাকার বিন খালিদ বর্ণনা করেনঃ আমি সাদ বিন মালিকের সাথে দেখা করার জন্য মদিনায় গেলাম এবং তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ “আমি শুনলাম যে তোমরা নাকি "আলী ইবনু আবী তালিবের ওপর লা'নত কর?" আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ "আপনি কি সত্যই আমাদের ব্যাপারে এমন কিছু শুনেছেন?” অতঃপর তিনি উত্তর করলেনঃ “হ্যাঁ, হয়ত তোমরা তাঁর ওপর লা'নত করেছো?" আমি বললামঃ “আল্লাহ্ রক্ষা করেন!" সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস বললেনঃ “কখনও 'আলী ইবনু আবী তালিবের ওপর লা'নত কর না। নিশ্চয়ই, যদি আমার
মাথায় করাতও রেখে 'আলীর ওপর লা'নত করতে বলা হয়, তবুও আমি তাঁর ওপর লা'নত করব না, কেননা আমি আল্লাহর রসূল(সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে অনেক কিছু শুনেছি"। মুসতাদরাক লিল হাকিমের বর্ণনায়ঃ ক্বায়েস বিন আবু হাযিম বর্ণনা করেনঃ আমি মদিনার বাজারে ঘুরছিলাম। যখন আমি আহযারে যাইত এর নিকট পৌঁছালাম, দেখলাম কিছু মানুষ এক অশ্বারোহীর চারপাশে জড়ো হয়েছে, যে কিনা "আলী ইবনু আবী তালিবের ওপর লা'নত করছিল। হঠাৎ, সেখানে সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেনঃ “কি সমস্যা?” লোকে বললঃ “এই ব্যক্তি 'আলী ইবনু আবী তালিবের ওপর লা'নত করছে"। অতঃপর, সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস সামনে আগালেন এবং মানুষ তার পথ ছেড়ে দিল। তিনি ওই ব্যক্তির সামনে দাড়িয়ে বললেনঃ “ওহে! তুমি 'আলী ইবনু আবী তালিবের ওপর লা'নত কেন করছ? তিনি কি সর্বপ্রথম ইসলাম কবুলকারী ছিলেন না? তিনি কি আল্লাহ্র রসুলের (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে প্রথম সালাত আদায়কারী ছিলেন না? তিনি কি দ্বীনের ব্যাপারে সবচেয়ে অনুরাগী ছিলেন না? তিনি কি সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন না?” সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস একের পর এক গুণাবলী বর্ণনা করতে করতে বললেনঃ “তিনি কি আল্লাহর রসুলের (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মেয়ে জামাই ছিলেন না? তিনি কি প্রত্যেক যুদ্ধে আল্লাহর রসুলের (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঝাণ্ডা বহনকারী ছিলেন না?” অতঃপর, সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস আকাশের দিকে হাত তুলে দু'আ করলেনঃ “হে আল্লাহ্! এই ব্যক্তি আপনার অলিদের মধ্যে একজনকে লা'নত করছে, এই গণজমায়েত ভেঙ্গে যাওয়ার পূর্বেই আপনার কুদরতের নমুনা দেখান"। কায়েস বিন আবী হাযিম বলেনঃ “আমাদের জমায়েত ভঙ্গ হবার আগেই তার ঘোড়া তাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে মাটিতে নুইয়ে পড়ল। সেই ব্যক্তির মাথা গিয়ে বাড়ি খেল এক পাথরের সাথে। ফলে, তার মাথা ফেটে সে সেখানেই মৃত্যুবরণ করল।" [সুনানুন নাসাঈ আল কুবরাঃ ৮৪৭৭, শায়খ গোলাম মোস্তফা জহীর বাছায়েছে আলী তে হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন, মুসতাদরাক লিল হাকিমঃ ৬১২১, ইমাম হাকিম ও যাহাবী সনদটিকে সহীহ বলেছেন ]
৫)আবদুল্লাহ ইবনু যালিম আল-মাযিনী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, সাঈদ ইবনু যায়িদ ইবনু আমর ইবনু নুফাইল (রাঃ) বলেছেন এবং আমি শুনেছি, অমুক লোক (মু'আবিয়াহ) যখন কুফায় এলেন তখন অমুকে (মুগীরাহ ইবনু শু'বাহ) ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন [ ভাষণে 'আলী (রাঃ) -এর মর্যাদার পরিপন্থী কথা থাকায়] সাঈদ ইবনু যায়িদ (রাঃ) আমার হাত ধরে বললেন, এ যালিম তার ভাষণে কি বলছে তুমি কি লক্ষ্য করছো না? তারপর তিনি নয় ব্যক্তির জান্নাতবাসী হওয়া সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিলেন এবং আরো বললেন, আমি যদি দশম ব্যক্তির নামও উল্লেখ করি তাতে আমি গুনাহগার হবো না। 'আবদুল্লাহ ইবনু যালিম (রহঃ) বলেন, আমি বললাম, এই নয়জন কে কে? তিনি (সাঈদ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ "আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেরা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে
চুপ থেকে বললেন, আমি সুনানুন নাসাঈ আল কুবরা ও মুসনাদ আহমাদের বর্ণনায়ঃ আব্দুল্লাহ্ বিন যালিম বর্ণনা করেনঃ মু'আবিয়াহ বিন আবী সুফিয়ান কুফায় আসেন। মুগীরাহ ইবনু শু'বাহ কিছু বক্তা নিযুক্ত করেন, যারা 'আলী ইবনু আবী তালিবকে গালিগালাজ করছিল। তো সাইদ বিন যাইদ আমার হাত ধরলেন এবং বললেনঃ “তুমি কি এই গুনাহগার ব্যক্তিকে দেখছ না, যে একজন জান্নাতী ব্যক্তির অবমাননা করছে?" অতঃপর তিনি ৯ জন ব্যক্তির ব্যাপারে সাক্ষ্য দিলেন যারা জান্নাতে যাবে। আর বললেনঃ "আমি দশম ব্যক্তির কথা মাথায় রেখেই এই সাক্ষ্য দিচ্ছি”। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ সেই ৯ জন কারা? সাইদ বিন যাইদ বললেনঃ আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেরা পাহাড়ে দাড়িয়ে বলেছিলেনঃ “হে হেৱা পাহাড়! স্থির হও। কেননা, তোমার ওপর ওই ব্যক্তিবর্গই আছেন, যারা হয় রসূল, নয়তো সত্যবাদী নয়ত শহীদ”। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলামঃ সেই ৯জন কারা? সাঈদ বললেনঃ আবূ বাক্র, ‘উমার, 'উসমান, "আলী, জ্বালহা, যুবাইর, সাদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস, ও আবদুর রহমান ইবনু 'আওফ (রাঃ)। আমি বললাম, দশম ব্যক্তি কে? তখন তিনি খানিক চুপ থেকে বললেন, আমি। [সুনানে আবু দাউদ: ৪৬৪৮, সুনানুন নাসাঈ আল কুবরাঃ ৮২০৮, শায়খ যুবায়ের আলী যাঈ, আলবানী ও গোলাম মোস্তফা যহির ফাযায়েলে সাহাবা তে সনদটিকে সহীহ বলেছেন। সহীহ ইবনু হিব্বানঃ ৬৯৯৬, আস-সুন্নাহ ইবনু আবী আসেমঃ ১২২০, মুজাদ আহমাদঃ ১৬৪৪ (১ম খন্ড, ১৮৯ পৃষ্ঠা), শায়খ শুআইব আরনাউৎ সনদটিকে সহীহ বলেছেন ]
৬) রিয়াহ ইবনুল হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একদা আমি অমুক লোকের (মুগীরাহ ইবনু শু'বার) নিকট কুফার মাসজিদে বসা ছিলাম এবং তার নিকট কুফার লোকজনও উপস্থিত ছিল। এ সময় সাঈদ ইবনু যায়িদ 'আমর ইবনু নুফাইল (রাঃ) এলে তিনি তাকে সাদর সম্ভাষণ ও সালাম জানিয়ে খাটের উপর নিজের পায়ের কাছে বসালেন। অতঃপর কাইস ইবনু 'আলকামাহ নামক জনৈক কুফাবাসী এলে তাকেও অভ্যর্থনা জানালেন। তারপর সে গালাগালি করতে লাগলো। সাঈদ (রাঃ) বললেন, এ ব্যক্তি কাকে গালি দিচ্ছে? তিনি বললেন, সে 'আলী (রাঃ) -কে গালি দিচ্ছে। তিনি বললেন, আমি দেখতে পাচ্ছি, সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীকে আপনার সম্মুখে গালি দিচ্ছে অথচ আপনি তাকে নিষেধ করছেন না আর থামাচ্ছেনও না! আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি তাঁর সম্পর্কে এমন উক্তি করা হতে মুক্ত যা তিনি বলেননি। অতঃপর ক্বিয়ামাতের দিন যখন তার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হবে তখন এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। আবূ বকর (রাঃ) জান্নাতী, 'উমার (রাঃ) জান্নাতী। বর্ণনাকারী অতঃপর অনুরূপ অর্থের বর্ণনা করলেন এবং তিনি বললেন, তাদের কোন একজনের রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভ, যে সাহচর্যে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না তাও তোমাদের কোন ব্যক্তির সারা জীবনের আমলের চেয়ে উত্তম, যদিও সে নূহ (আঃ)-এর মতো দীর্ঘ আয়ু পায়। মুসনাদ আহমাদের বর্ণনায়ঃ মুগীরাহ ইবনু শু'বা কুফার বড় মসজিদে ছিলেন, যার ডানে বায়ে লোকজন ছিল। এমতাবস্থায়, সাঈদ বিন যায়দ আসলেন তার নিকট। মুগীরাহ ইবনু শু'বা তাকে স্বাগতম জানিয়ে তার আসনের নিকট তার পায়ের সামনে বসালেন। অতঃপর, এক ব্যক্তি এসে মুগীরার দিকে ঘুরে গালি-গালাজ শুরু করল। সাঈদ বিন যাইদ জিজ্ঞাসাস করলেনঃ "হে মুগীরাহ! সে কার ব্যাপারে গালমন্দ করছে?” তিনি বললেনঃ "সে "আলী বিন আবী
তালিবের গালমন্দ করছে”। সাঈদ বিন যাইদ বললেনঃ “ও মুগীরাহ বিন শুবা! ও মুগীরাহ বিন শু'বা! ও মুগীরাহ বিন শু'বা! কেন আমি আল্লাহর রসলের (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীর সমালোচনা শুনছি। আর তুমি তার বিরোধিতা বা থামানোর চেষ্টা করছ না? আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহর রসলের (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যাপারে যে, আমার কান শ্রবণ করেছে, অন্তর অনুধাবন করেছে এবং আমি তার ব্যাপারে কোনও মিথ্যা বলব না, যা আমাকে তার দর্শন লাভে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।" তিনি বললেনঃ "আবূ বকর (রাঃ) জান্নাতী, ‘উমার (রাঃ) জান্নাতী, আলী (রাঃ) জান্নাতী, উসমান (রাঃ) জান্নাতী, ত্বালহা (রাঃ) জান্নাতী, যুবাইর (রাঃ) জান্নাতী, সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্‌কাস (রাঃ) জান্নাতী, আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ), নবম আরেক ব্যক্তিও জান্নাতী। আমি চাইলে তার নাম বর্ণনা করতে পারি।" মসজিদের মানুষজন জোর করতে লাগলঃ “হে আল্লাহর রসুলের সাহাবি ! নবম ব্যক্তি কে?" সাঈদ বলেনঃ “যেহেতু তোমরা আমাকে বাধ্য করলে, আল্লাহর কসম! আমিই সেই নবম ব্যক্তি আর আল্লাহর নবী(সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে দশম। আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি তার মুখ আল্লাহর নবীর সাহচর্যে ধুলামলীন করেছেন, তার আমল তোমাদের কোন ব্যক্তির সারা জীবনের আমলের চেয়ে উত্তম, যদিও সে নূহ (আঃ)-এর মতো দীর্ঘ আয়ু পায়।” [সুনানে আবু দাউদ: ৪৬৫০, মুসনাদ আহমাদঃ ১৬২৯ (১ম খন্ড, পৃষ্ঠা-১৮৭), শায়খ যুবায়ের 'আলী যাঈ, আলবানী ও শুআইব সনদটিকে সহীহ বলেছেন ]
৭)আহমাদ ইবন উসমান ইবন হাকীম আউদী (রহঃ থেকে বর্ণিতঃ সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) বলেনঃ আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর সঙ্গে আরাফায় ছিলাম। তিনি বললেন: কী হলো লোকদেরকে তো তালবিয়া পাঠ করতে শুনছি না? আমি বললামঃ মুআবিয়া (রাঃ)-এর ভয়ে। এরপর ইবন আব্বাস (রাঃ) তাঁর তাঁবু হতে বের হলেন এবং বললেনঃ (আরবি) তারা তো আলী (রাঃ)-এর প্রতি বিদ্বেষবশত সুন্নত ছেড়ে দিয়েছে। [সুনান আন- নাসায়ী: ৩০০৯]
৮)'আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, সে মহান সত্তার কসম! যিনি বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম করেন এবং জীবকুল সৃষ্টি করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, মু'মিন ব্যক্তিই আমাকে ভালোবাসবে, আর মুনাফিক ব্যক্তি আমার সঙ্গে ত্রুতা পোষণ করবে।' [সহিহ মুসলিম: ২৪০]
৯) আবু মারিয়াম বর্ণনা করেনঃ আমি 'আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ "দুইদল ব্যক্তি আমার কারণে ধ্বংস হবে। একদল আমাকে অধিক ভালবাসার কারণে এবং আরেকদল আমাকে অধিক ঘৃণা করার কারণে”। ফাযায়েলে সাহাবা ও আস সুন্নাহ্র (মাওকুফ) বর্ণনায়ঃ আবুস সাওয়ার বর্ণনা করেনঃ "আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) বলেছেনঃ “কতিপয় ব্যক্তি আমাকে ভালবাসার কারণে জাহান্নামে যাবে আর কতিপয় আমার প্রতি ঘৃণার কারণে জাহান্নামে যাবে"। [ফাযায়েলে সাহাবা আহমাদ বিন হাম্বালঃ ৯৩২, ৯২০ (৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা-৪৪৫, ৪৪৩)। আস সুন্নাহ ইবনু আবী আসেমঃ ৮১৯, শায়খ যুবায়ের "আলী যাঈ সনদটিকে সহীহ বলেছেন]
১০)আবদুর রহমান বিন 'আবদ রব্ব আল-কাবা কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে যিনি বলেছেন: আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম যখন 'আবদুল্লাহ বিন 'আমর বিন আল-'আস কাবার ছায়ায় বসে ছিলেন এবং লোকেরা তার চারপাশে জড়ো হয়েছিল। আমি তাদের দিকে গেলাম এবং তার কাছে বসে পড়লাম। (এখন) 'আবদুল্লাহ বললেন: আমি আল্লাহর রাসূলের (সা.) সাথে একটি যাত্রায় ছিলাম। আমরা একটি স্থানে থামলাম। আমাদের মধ্যে কিছু লোক নিজেদের তাঁবু ঠিক করতে শুরু করল, কিছু লোক তীর ছোঁড়াতে প্রতিযোগিতা করতে লাগল, এবং কিছু লোক নিজেদের পশু চরাতে শুরু করল, যখন আল্লাহর রাসূলের (সা.) একজন ঘোষক ঘোষণা করলেন যে লোকেরা নামাজের জন্য একত্রিত হোক, তাই আমরা আল্লাহর রাসূলের (সা.) চারপাশে জড়ো হলাম। তিনি বললেন: আমার আগে চলে যাওয়া প্রত্যেক নবীর কর্তব্য ছিল তার অনুসারীদেরকে সেই সব ভাল কাজের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া যা সে জানত তাদের জন্য ভাল, এবং তাদেরকে সেই সব মন্দ কাজ থেকে সতর্ক করা যা সে জানত তাদের জন্য খারাপ; কিন্তু তোমাদের এই উম্মাহর শুরুতে শান্তি ও নিরাপত্তার দিন থাকবে, এবং এর শেষ পর্যায়ে এটি বিপর্যয় ও তোমাদের কাছে অপ্রিয় বিষয়ের সাথে আক্রান্ত হবে। (উম্মাহর এই পর্যায়ে), একের পর এক বড় পরীক্ষা আসবে, প্রত্যেকটি আগেরটি ক্ষুদ্র করে তুলবে। যখন তারা একটি পরীক্ষায় আক্রান্ত হবে, তখন মুমিন বলবে: এটি আমার ধ্বংস ঘটাবে। যখন (পরীক্ষাটি) শেষ হয়ে যাবে, তখন তারা অন্য একটি পরীক্ষায় আক্রান্ত হবে, এবং মুমিন বলবে: এটি অবশ্যই আমার সমাপ্তি ঘটাবে। যে কেউ আগুন থেকে মুক্তি পেতে এবং বাগানে প্রবেশ করতে চায়, সে যেন আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস নিয়ে মৃত্যুবরণ করে এবং মানুষের সাথে এমন আচরণ করে যেমনটি সে চায় যে তারা তার সাথে আচরণ করবে। যে ব্যক্তি খলিফার প্রতি আনুগত্যের শপথ করে, তাকে তার হাতের প্রতিশ্রুতি এবং হৃদয়ের আন্তরিকতা (অর্থাৎ উভয়ভাবে সমর্পণ করতে হবে) দিতে হবে। সে তার ক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় তাকে মান্য করবে। যদি অন্য কেউ (খিলাফতের দাবিদার হিসেবে) এগিয়ে আসে, তার কর্তৃত্ব নিয়ে বিতর্ক করে, (মুসলমানদের) উচিত তাকে শিরচ্ছেদ করা। বর্ণনাকারী বলেছেন: আমি তার ('আবদুল্লাহ বিন 'আমর বিন আল-'আস) কাছে গিয়ে বললাম: আপনি কি শপথ করে বলতে পারেন যে আপনি এটি আল্লাহর রাসূলের (সা.) থেকে শুনেছেন? তিনি তার হাত দিয়ে তার কান এবং তার হৃদয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন: আমার কান এটি শুনেছে এবং আমার মন এটি ধরে রেখেছে। আমি তাকে বললাম: আপনার এই চাচাতো ভাই, মু'আবিয়া, আমাদেরকে অন্যায়ভাবে আমাদের সম্পদ ভোগ করতে এবং একে অপরকে হত্যা করতে আদেশ দেয়, যখন আল্লাহ বলেন: হে মুমিনগণ, তোমরা অন্যায়ভাবে তোমাদের সম্পদ পরস্পরের মধ্যে ভোগ করো না, যদি না এটি পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বাণিজ্য হয়, এবং তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই, আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু (সূরা আন-নিসা: ২৯)। বর্ণনাকারী বলেছেন যে (এটি শুনে) 'আবদুল্লাহ বিন 'আমর বিন আল-'আস কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন এবং তারপর বললেন: তাকে মান্য করো যতক্ষণ সে আল্লাহর আনুগত্য করে; এবং আল্লাহর অবাধ্যতার বিষয়গুলিতে তাকে অমান্য করো।[সহিহ মুসলিম:-আন্তর্জাতিক:৪৭৭৬)




Comments

Popular posts from this blog

আজকের বিষয়:- খেলাফত রাজতন্ত্রে রুপান্তর।ইমাম হাসান(রা:) কে বিষ দিয়ে হত্যা।

১২ ইমাম নিয়ে শিয়া ও সুন্নীদের রায়।(১ম পর্ব)