বিষয়:-মিয়ারে হক বলতে কিছু নেই

 বিষয়:-মিয়ারে হক বলতে কিছু নেই


ওয়াজি হুজুরদের কাছে(জামাত বাদে) সব সাহাবী যেহুতু মিয়ারে হক বা সত্যের মাপকাঠি।এজন্য জামাতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ'লা মওদুদিকে সবসময় খারাপ বলেন।মওদুদির উপর বিদ্বেষ পোষণ করে।এর কারণ হলো উনি সাহাবী মাত্রই সকলে সত্যের মাপকাঠি এটা মানেন না।কেন মানেন না এই ব্যাপারে একটা জিনিস দেখি।


আমিরে মুয়াবিয়া তার ছেলে ইয়াজিদকে ক্ষমতায় বসিয়েছে।ইসলামী খেলাফত ধ্বংশ করে রাজতন্ত্র তৈরী করে দিয়েছে। ঐটা মিয়ারে হক হুজুরদের কাছে। এর মানে এটা বৈধ।


আবার ইমাম হুসাইন(রা:) সহ বড় বড় সাহাবীরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ঐটাও মিয়ারে হক।এইটা সঠিক তাদের ই বলা সংজ্ঞানুসারে।(অনেকে তো আবার মুয়াবিয়াকে বাঁচাতে ইমাম হুসাইনকেই ভুল বলে।তখন আবার মিয়ারে হক ভুলে যায়)।


তার মানে দাঁড়ায় ইয়াজিদের দল ও সঠিক ইমাম হুসাইন ও সঠিক!দুই নৌকায় পা দেয় আমাদের মোল্লা মুন্সি।দুটো বিপরীত চিন্তা একত্রে আবার কিভাবে সত্য হয়?সবাই একত্রে সত্য হতে পারে না।


ইমাম হুসাইন (রা:) কে মানুষ সত্য না মানলেও উনি সত্যের পথে ছিলেন।মানলেও উনি সত্যের পথে ছিলেন।কখনো সত্য সংখ্যার উপরে নির্ভর করে না।কারবালাতে ইমাম হুসাইনের সাথে ৭২ জন ছিল।অপরদিকে ইয়াজিদের সৈন্য ছিল অসংখ্য।মানুষ কম বলে সত্য কখনো বদলায় না।সত্য সর্বদা তার স্থানে বলবৎ থাকে।আর ইমাম হুসাইন যদি মদিনাতে থাকতেন তবেও ওনাকে মেরেই ফেলা হতো।যেভাবে তার বড় ভাই ইমাম হাসান(রা:) কে মেরে ফেলা হয়েছে।ওনাকে মেরে ফেলা নিশ্চিত এই কারণে যে ইমাম হুসাইন পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে উনি ইয়াজিদের বায়াত নিবে না।ওনার সিদ্ধান্ত পরিপূর্ণ সঠিক।কারণ ইয়াজিদের বায়াত  নেয়া অর্থ ছিল ইয়াজিদ যা ইচ্ছা তা আকাম কুকাম করে বেড়াবে আর এটাকে ভালো বলে স্বীকৃতি দেয়া।যেটা ইমাম হুসাইন কখনো করতে পারেন না।তার উপরে এই ইয়াজিদ যেই সিস্টেমে ক্ষমতায় এসেছে এটাই অবৈধ ও প্রশ্নবিদ্ধ।ও নিজেই তো অবৈধ খলিফা।কেন ই বা ইমাম হুসাইন এর বায়াত নিবে?


এটাই আবুল আলা মওদুদি বোঝাতে চেয়েছিলেন। তাকে প্রশ্ন করা হতো যে সবাই যেখানে ইয়াজিদের বায়াত নিয়েছিল সেখানে হযরত হুসাইন কেন নিলেন না? মওদুদি পালটা প্রশ্ন করতেন যে যখানে ইমাম হুসাইন ই নেন নাই সেখানে ঐ সাহাবীরা কেন নিল?? তার এই প্রশ্ন অবশ্যই যৌক্তিক।রাসুল সা: গাদিরে খুমে বলে গেছেন তোমাদের কাছে দুটি জিনিস রেখে গেলাম কোরান আর আহলে বাইত(রেফারেন্স চাইলে এখন ই সহিহ হাদিস দেখাতে পারব)।এখন আমরা কাকে মানব? নবির কথা মানবো? যিনি বলে দিয়ে গেছেন যে হাসান ও হুসাইন জান্নাতের যুবকদের সরদার! রাসুল (সা:) এর কথা অনুযায়ী নবীর নাতিদের সঠিক আর তার হত্যাকারি শত্রুদের বাতিল জানবো? নাকি হুজুরদের কথা অনুযায়ী সবাইকেই হক বলবো????


ঐ সকল হুজুরদের কথা অনুযায়ী মুয়াবিয়া তার ছেলে  ইয়াজিদ কে বসিয়েছে বলেই যদি সে এত ভালো হয় তাহলে ইমাম হুসাইন এর হত্যাকারিদের সে শাস্তি দেয় নাই কেন?? মক্কা ও মদিনার সাহাবীরা ইয়াজিদের বায়াত ভেঙ্গে দিলে ইয়াজিদ মক্কা মদিনাতে আক্রমণ চালায় কেন?? মক্কা মদিনায় সম্পদ লুট করা কি খুব ই ভালো কাজ???? এটার উত্তর চাই।


রসুল(সা:) বলেছেন, হে আম্মার তোমাকে বাগি জামাত হত্যা করবে।তুমি ডাকবে জান্নাতের দিকে।আর সেই বাগীরা ডাকবে জাহান্নামের দিকে।(বুখারী :২৮১২)।এখন এটা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে যে আম্মার(রা:) সিফফিনের যুদ্ধে হযরত আলির পক্ষে লড়তে লড়তে মারা যান।আর তার বিপরীত পক্ষ আমির মুয়াবিয়ার দল তাকে হত্যা করে।আর মুয়াবিয়া বাহিনী বাগী ছিল এটাও প্রমাণিত হয়েছে কেননা উনি ৪র্থ খলিফার বিরুদ্ধে তরোয়াল তুলেছেন।


রসুল(সা:) আল্লাহর ওহী ছাড়া কোন কথা বলেন না।উনি আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রসুল।আল্লাহ তা'য়ালা ওহীর মাধ্যমে এই খবর পৌছে দিয়েছেন।তাই উনি বলেছেন।এখন কি নবীকে মানবো? নাকি নবীকে না মেনে এই হুজুরদের কথা মানব যারা বলে সবাই সত্যের মাপকাঠি???


রাসুল(স:) বলেই গিয়েছেন যে সাহাবীদের মধ্যে ১২ জন মুনাফিক আছে।এর মধ্যে ৮ জন কখনোই জান্নাতে যেতে পারবে না।এই ১২ জন কারা এটা এখন কেও জানে না।এরা মুসলমানদের সাথেই থাকত।সুতরাং এইসব মিয়ারে হক বা সকল সাহাবী সত্যের মাপকাঠি এইসব বলতে কোন কিছুই নেই।এটা পুরোটাই ভ্রান্ত আর বিদাতি ধারণা।সুতরাং জামাতের লিডার আবুল আলা মওদুদি যে এই মিয়ারে হক কনসেপ্ট মানে না এটা ঠিকই আছে।


এখানে আরেকটা বিষয় লক্ষনীয় এই হাদিসের বর্ননাকারী হলেন আম্মার(রা:)।তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে আপনি আলি হযরত 'আলী (রা.)-এর পক্ষ নিয়েছেন এটি কি আপনার ব্যক্তিগত মতামত নাকি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোন হাদিস পেয়েছেন? তখন আম্মার(রা:) এই ১২ মুনাফিক এর হাদিস বলেছেন।


অর্থাৎ এই দ্বারা পরিষ্কার যে আলি(রা:) এর বিরুদ্ধে যারা অস্ত্র তুলেছিল এদের মাঝেই মুনাফিক আছে।আর কেনই বা থাকবে না।যেখানে রসুল (সা:) বলেছেন আলিকে মুমিন ই ভালোবাসবে।আর মুনাফিক আলির(রা:) প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে।(সহিহ মুসলিম:আন্তর্জাতিক ২৪০)।


আর আম্মার (রা:) নবীর খুব ই প্রিয় সাহাবী ছিলেন।ওনার  ব্যাপারে নবি (সা:) বলেই গেছেন যে হে আম্মার তোমাকে বাগি জামাত হত্যা করবে।তুমি ডাকবে জান্নাতের দিকে।কিন্তু সেই বিদ্রোহীরা ডাকবে জাহান্নামের দিকে।(সহিহ বুখারি:আন্তর্জাতিক ২৮১২)। এখন সিফফিনের যুদ্ধে উনি হযরত আলির পক্ষে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।রসুল(সা:) এর ভবিষ্যতবানী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়।আমিরে মুয়াবিয়ার বাহিনীর এক লোক আবুল গাদিয়া তাকে হত্যা করে যে সাহাবী ছিল।এর দ্বারাও বোঝা যায় এই মিয়ারে হক বলতে কিছু নেই।


কায়েস (রা.) বর্ণনা করেন: আমি 'আম্মার (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি যে ঘটনা ঘটিয়েছেন (হযরত 'আলী (রা.)-এর পক্ষ নেওয়ার বিষয়ে), এটি কি আপনার ব্যক্তিগত মতামত নাকি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে পাওয়া কিছু? 'আম্মার (রা.) বললেন: আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এমন কিছু পাইনি যা সাধারণ মানুষ পায়নি। তবে হুযাইফা (রা.) আমাকে বলেছেন যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সাহাবীদের মধ্যে বিশেষভাবে তাকে বলেছিলেন যে, বারোজন মুনাফিক থাকবে, যাদের মধ্যে আটজন জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না একটি উট সূচের ছিদ্র দিয়ে পার হতে সক্ষম হয়। আটজনের জন্য, একটি পুঁজপূর্ণ ক্ষতই তাদের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট হবে। চারজনের ব্যাপারে আমি শু'বার (রা.) থেকে কি শুনেছিলাম তা মনে করতে পারছি না।(সহিহ মুসলিম:আন্তর্জাতিক ৭০৩৫)

Comments

Popular posts from this blog

১২ ইমাম নিয়ে শিয়া ও সুন্নীদের রায়।(১ম পর্ব)

আজকের বিষয়:- খেলাফত রাজতন্ত্রে রুপান্তর।ইমাম হাসান(রা:) কে বিষ দিয়ে হত্যা।

ইমাম হুসাইন(রা:) কে যারা ভুল বলে তাদের মিথ্যা দাবীর খন্ডন।