সাইন্স ফিকশন:হোয়াট ইফ: অল্টারনেট রিয়ালিটি(পর্ব ২)


লেখক:শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ।


১ম পর্বের লিংক(https://www.facebook.com/share/p/1DwmRicBYE/)


গাদিরের আলোয় ভেজা সেই পবিত্র প্রান্তর, মানুষের উল্লাস, নবীজির কণ্ঠের দীপ্ত ঘোষণা — সবকিছু ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে এলো।


ChronoSeeker-এর পর্দায় আলো-আঁধারের ঝলকানি। যন্ত্রটি সতর্ক করে দিল—এই টাইমলাইনে আমার সময় ফুরিয়ে আসছে।


আমি বের করলাম এক বিশেষ রেকর্ডিং ডিভাইস — তৈরি অদৃশ্য শক্তির জটিল বিন্যাসে, যা সময়ের গভীরে শত শত বছরের ইতিহাস ধারণ করতে সক্ষম।

যা মালহামার যুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে এই ডকুমেন্ট টি আমার ভবিষ্যতে প্রয়োজন পড়বে।আমি সেটি নির্দিষ্ট তরঙ্গবেগে ছড়িয়ে দিলাম, যেন ভবিষ্যতের কেউ এটি আবিষ্কার করতে পারে।


এরপরে আমি চোখ বন্ধ করলাম।

হৃদয়ের গভীরে দুঃখের সাথে জড়িয়ে রইলো সেই বিকল্প পৃথিবীর স্মৃতি।

সেই পৃথিবী, যেখানে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল... কিন্তু এখন আমি ফিরছি আমার বাস্তবতায় — যেখানে সত্য হারিয়ে গেছে।


হঠাৎ!টাইম মেশিন স্টার্ট হলো।ওয়ার্ম হোল খুলে গেল।আমি প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে নিজের ইউনিভার্সের আপন টাইমলাইনে ফিরে আসছি।এক প্রচণ্ড টান আমাকে সময়ের করিডোরে ছুঁড়ে দিল।

আশপাশের দৃশ্যগুলো তীব্র গতিতে পেছনে সরে যাচ্ছিল —

মহাবিশ্বের সময় রেখা, ইতিহাসের নদী, ভুল সিদ্ধান্তের ছায়া আমার চারপাশে নাচছিল।


দ্রুত টাইম মেশিন কাজ করছে।আমি অনুভব করলাম — সময়ের স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছে এক একটি সভ্যতা, হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের গহ্বরে।


এক সাথে অনেকগুলো ডাইমেনশন কোয়ান্টাম মিরর আমার সামনে ভেসে উঠল।এ যেন এক ঘোরের মতো।


আর ঠিক সেই মুহূর্তে —

আমি আছড়ে পড়লাম আমার নিজস্ব সময়কালে — মালহামার যুদ্ধের ধ্বংসপ্রাপ্ত ধূসর ভবিষ্যতে।


বাঁহাতে ChronoSeeker, ডান হাতে বুকের উপর ভর দিয়ে আমি উঠে দাঁড়াই।

চোখ খুলতেই দেখি —


ধুলো।

ছাই।


ভাঙাচোরা ভবনের করোটির মতো দাঁড়িয়ে থাকা দালান।

একটি মৃত শহর।

একটি থেমে থাকা ইতিহাস।


আমি হাঁটি।

পায়ের নিচে খসখসে শব্দ — কাচ, ধাতু, মানুষের ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন।


সূর্য ছিল, কিন্তু তার আলো যেন নিকষ ধোঁয়ার নিচে দমবন্ধ হয়ে গেছে।

চারদিকে শুধু কমলা ধোঁয়াটে আভা।

দূরে এক ধ্বংসপ্রাপ্ত মিনার এখনো দাঁড়িয়ে আছে — মাথা নুয়ে আসা এক বৃদ্ধের মতো।

তার পাশ দিয়ে ছুটে যায় ঠান্ডা বাতাস।

বাতাসে ঘুরে বেড়ায় পোড়া লাশের গন্ধ।


প্রতিটি পদক্ষেপে বুকের ভেতরে একটা ভারি পাথরের মতো অনুভূতি।

আমার মনে পড়ে যায়...

কিছুক্ষণ আগে আমি সেই পৃথিবীতে ছিলাম — যেখানে  হযরত আলীকে মাওলা ঘোষণা করে মানুষ আনন্দে কাঁদছিল।আর একে একে সবাই ওনার বায়াত নিচ্ছিল।

আর এখন?

এখানে কোনো চোখে জল নেই।

এখানে কেবল ছাইয়ের মতো শুকনো বেদনা।


এক ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে আমি আকাশের দিকে তাকাই।

ধোঁয়ার আড়ালে হালকা নক্ষত্রেরা জ্বলজ্বল করে।

তারা যেন প্রশ্ন করছে —


"তুমি ফিরে এলে কেন?"

"তুমি কি সত্যি কিছু পাল্টাতে পারবে?"


ChronoSeeker যন্ত্রটি বেজে ওঠে।

তথ্য সংগ্রহের জন্য  প্যারালাল ইউনিভার্স এর ঐখানের টাইমলাইনে রেকর্ডিং শুরু হয়।


ধীরে ধীরে এগিয়ে যাই।

ধুলোর দেশে, মৃত শহরের নিঃশ্বাসের ভেতর, আমি খুঁজি এক হারানো আলোকে।জানি না সেই আলো ফিরে পাবো কিনা।কিন্তু আমি সেই হারানো আলো ফিরে পাওয়ার আশায় প্রত্যাশি। 


 তখনই দূরে, একদম দিগন্তের কিনারায়, আমি দেখতে পাই কালো ধোঁয়ার গম্বুজ।

সেখানে আজও যুদ্ধের আগুন জ্বলছে।

মালহামার যুদ্ধ — এখনো শেষ হয়নি।


আর আমি, একজন ক্লান্ত সময় পর্যটক ও পদার্থবিজ্ঞানী , হাঁটি সেই অনন্ত ধ্বংসের দিকে।


ধুলোর মেঘের নিচে আমি এগিয়ে চলি।

প্রতিটি শ্বাস যেন ফুসফুসের ভেতর ছাইয়ের তিক্ততা ছড়িয়ে দেয়।


বাতাসের গায়ে চেপে আছে ধ্বংসের করুণ সংগীত।

মাঝে মাঝে বাতাসের ভেতর ভেসে আসে ছিঁড়ে যাওয়া পতাকা...

পতাকার কোনায় ক্ষয়ে যাওয়া অক্ষরে লেখা,

সত্যের  বিজয় আসন্ন।কিন্তু চারপাশে শুধু পরাজয়ের নীরব আর্তনাদ।


আমি আশেপাশে তাকিয়ে দেখি,ধূলিভরা রাস্তায় ভেঙে পড়া মসজিদের মিনার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

বিস্ফোরণের চিহ্ন, ছিন্ন মসজিদের কারুকাজ, আর পোড়া ইটের গন্ধ মিশে গেছে বাতাসে।


হঠাৎ।

একটি সংকেত ধরা পড়ে আমার ChronoSeeker যন্ত্রে।

মৃদু শব্দ —

মৃতপ্রায় সুরের মতো।

কোনো একটি নির্জন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আসছে স্পন্দন।


আমি থমকে দাঁড়াই।

হৃদপিণ্ডের স্পন্দন বেড়ে যায়।

অদ্ভুত অনুভূতি হয় — যেন সময় নিজেই আমাকে আহ্বান করছে।


ধীরে ধীরে আমি সেই শব্দের উৎসের দিকে এগিয়ে যাই।একটি পুরোনো মসজিদের মেহরাবের ধ্বংসস্তূপ।

ইটের নিচ থেকে জ্বলজ্বল করছে এক ক্ষুদ্র নীলাভ আলো।


আমি হাত দিয়ে ইট সরাতে থাকি।

ধুলোয় ভরে যায় নখের ভাঁজ।

হাত কেটে যায় ভাঙা ধাতুর ধারালো অংশে।

কিন্তু থামি না।

অবশেষে, ধুলোর নিচে খুঁজে পাই একখানা অদ্ভুত বস্তু 

একটা ছোট্ট "Noor Capsule"।


এটা সময়ের Capsules-এর মতো, কিন্তু সাধারণ Capsule নয় —

এটা তৈরী করা হয়েছিল মালহামার আগে,

ভবিষ্যতের জন্য হয়তো কোনো গোপন বার্তা রেখে যেতে।


ক্যাপসুলের গায়ে আঙ্গুল বুলাতেই ময়লা সরে গিয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। আমি ধীরে ধীরে Capsuleটা হাতে তুলে নিই। Capsule-এর লক খুলি।

ভেতর থেকে বের হয় একটি ক্ষুদ্র হোলোগ্রাফিক চিপ।

আর সাথে একটি হাতে লেখা নোট।সেখানে 

প্রাচীন কাগজে কুরআনের আয়াত খোদাই: 'وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ' (সূরা ইবরাহিম, ৪২)। নিচে একটি অজানা হস্তাক্ষরে লেখা: 'তারা মিথ্যাকে জয়ী মনে করলেও, আলোর দরজা এখনো খোলা।


আমার আয়াতটি দেখে বহুদিন আগের কথা মনে পড়ে গেল। আয়াতটা বাবা আমাকে শিখিয়েছিলেন, যেদিন প্রথম সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করতে শিখি। সেই বাবার কথা কথা মনে পড়ে যাচ্ছে যাকে মালহামার প্রথম দিনের যুদ্ধে হারিয়েছিলাম।উনি আমাকে ধর্মতত্ব,দর্শন ও পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ামানুবলী শেখার জন্য উৎসাহ দিতেন।


এটিতে আরোও একটি নিদর্শন পাই।আমার ই ছবি।কিন্তু এখানে যেই আইডি সেটা অন্য মহাবিশ্বের।আমাদের মহাবিশ্বে যারা জন্ম হয় তাদের প্রত্যেকের শনাক্ত করার জন্য ইউনিক আইডি থাকে।

আমি বুঝতে পারি এটিতে যত সাইন রয়েছে এই capsule টি আমার ই প্যারালাল ইউনিভার্স এর আরেক কপি।কোনো অজানা কারণেই হোক, মনে হচ্ছে—আমার সেই আরেক সত্ত্বা, আমাকে কোনো বার্তা পৌঁছে দিতে চায়।


আমি নিঃশ্বাস নিয়ে আকাশের দিকে তাকাই।

ধোঁয়ার আড়াল থেকে হালকা আলোর রেখা ফুঁটে উঠেছে।

একটি আশ্বাসের রেখা.


ChronoSeeker যন্ত্রে সংকেত সেভ করি।

হোলোচিপ সুরক্ষিত করি।

এগিয়ে চলি —সামনে একটি ফ্ল্যাইং কার এ উঠে আমার ল্যাবরেটরি তে যাই।আমার এসিস্টেন্ট কে নিয়ে ঠিকানা দেওয়া আমার সেই কপির সন্ধানে যাব।


ফ্ল্যাইং কার উড়ে চলতে থাকে।

ধ্বংসের মাঝে, আমি এগিয়ে চলি।

ছাইয়ের নিচে কিছু অদৃশ্য রহস্য লুকিয়ে আছে।

এবং এখন, আমি সেই রহস্য উন্মোচন করতে যাচ্ছি।


Capsule-এর সংকেত আমার হাতে।

এটা ছিল এক কষ্টকর বার্তা, যা কেউ কেউ জানতো, আবার কেউ কেউ জানত না।


আমি খেয়াল করি,চারপাশে কেমন একটা অদ্ভুত শীতলতা ঢুকে পড়েছে।

আমার পায়ের নিচে মাটি, বাতাসের গতিপথ, সবকিছু যেন পাল্টে যাচ্ছে।

এখানে যে কিছু অস্বাভাবিক ঘটছে, তা বুঝতে পারি।


মাথার ভেতরে ঝনঝন শব্দ।

হঠাৎ, ChronoSeeker যন্ত্রে এক নতুন সংকেত দেখতে পাই।

একটি কম্পিউটারাইজড শব্দে ওঠে আলোর রেখা।

"One Eye "।


আমার মন গুলিয়ে যায়।

এটা কি সেই প্রযুক্তি?

যা আমাদের বিপর্যস্ত করেছে?

যা পুরো পৃথিবীকে নিজের অধীনে নিতে চায়?

এটি সেই দাজ্জাল প্রযুক্তি —

এই শক্তি, এই গোপন প্রযুক্তি, যা দিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


উড়ন্ত গাড়িকে কিছুক্ষণের জন্য থামাই।নিচে নেমে আসি।পথের এক পাশে দাঁড়িয়ে, আমি দেখতে পাই বিশাল এক ভেঙে পড়া ভবন,

যার ভেতর দিয়ে রেডিও ওয়েভের মতো সিগনাল ছড়িয়ে পড়ছে।আমি দেখতে পাই-ভাঙা যন্ত্রপাতির গায়ে লেগে থাকা এক চোখবিশিষ্ঠ স্টিকার: 'নিউরাল লিংক  One Eye।


মেশিনগুলো মানুষের মস্তিষ্কে ইলেক্ট্রোড ঢুকিয়ে 'সুখের সিমুলেশন' দিত, কিন্তু আসলে তা ছিল চিন্তার স্বাধীনতা হরণের হাতিয়ার।


এটি সম্ভবত একটি পুরোনো দাজ্জাল প্রযুক্তির কোন  গোপন প্রকল্প, যা পৃথিবীকে একত্রিত করার নামে মানুষের মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিচ্ছিল এক ভয়ংকর সিস্টেম।এই মালহামার যুদ্ধে প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে।আমি বুঝতে পারি এই যুদ্ধ শেষ হবার পরে অল্প সংখ্যক মানুষকে ঘিরে অনেক বড় কিছু ঘটতে চলেছে।ভবিষ্যতের সকল টেকনোলজি শেষের দ্বারপ্রান্ত্র পৌছাবে।


আমি কাছাকাছি পৌঁছাই, এবং ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দেখি 

একটি  হার্ডডিস্ক — যা মেমরি স্টোর করে রাখে।

আমি স্পষ্টভাবে অনুভব করি, মালহামার যুদ্ধের পূর্বের যুগের পলিটিক্যাল রেকর্ড।আমি এটি হাতে নিয়ে পরীক্ষা করতে থাকি।পরিশেষে আমি এটি নিয়ে নেই।


এর ই মাঝে  হঠাৎ আমার যুলফিকার অস্ত্র 2.0 সবুজ হয়ে উঠল।এটি সেই অস্ত্র যা আমাকে আমার অ্যাসিস্টেন্ট দিয়েছিল।এই রঙিন হওয়া একটি সংকেত কোড।যার অর্থ হলো অ্যাসিটেন্ট আমার সাথে দেখা করতে চায়।


আমি  ফ্ল্যায়িং কার চালিয়ে আমার ল্যাবরেটরিতে পৌছালাম।আমার কেন জানি মনে হচ্ছে —কেও আমাকে নিশ্চিত নজরে রাখছে।কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য খারাপ।আমি কোনভাবেই

তাদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেব না।


এসব চিন্তা করতে করতে আমার ল্যাবে পরিশেষে পৌছালাম।ল্যাবে আমার এসিস্টেন্টের সাথে দেখা।


আমি তার সাথে দেখেই আমি আমার আলাপচারিতা শুরু করলাম।আমার সাথে যা যা হয়েছে তা এভাবে বলা শুরু করলাম:-


অ্যাসিস্টেন্ট : এর মুখে চিন্তার ছাপ।দেখে মনে হচ্ছে খুব দুশ্চিন্তায় আছে।আমাকে দেখে সে যেন সস্তির নি:শ্বাস ফেলল।আর বলল,


অ্যাসিস্টেন্ট:আপনাকে অনেকক্ষণ ধরে খুজে চলেছি।কোনভাবেই পাচ্ছি না।আমি মাল্টিভার্স অল্টারনেট রিয়ালিটি মেশিনটি থেকে দেখেছি কোন এক নিহিলিস্ট আপনাকে ক্ষতি করতে বিকৃত মহাবিশ্বে ফেলে দিয়েছিল।এর থেকে বের হওয়ার যত সম্ভাবনা আছে তা  AI Super Computer দিয়ে চেক করাই।সবচাইতে বেস্ট সম্ভাবনা আমাকে দিয়েছে আর্টিফেক্ট সিমুলেশন সেই মহাবিশ্বে তৈরী করতে আপনার কাছে উপস্থাপন করতে।আমি এর পেছনের যুক্তি খুজে পাই নি।কিন্তু তারপরেও করলাম।এই মায়াজাল থেকে উদ্ধার করতে আমি একটি  সিমুলেশন আর্টিফেক্ট সেখানে প্রবেশ করাই।


আমি: তুমি যা করেছ অনেক ভালো কাজ করেছ।


অ্যাসিস্টেন্ট:সেটা ব্যবহারের পরে আপনি কোথায় গিয়েছেন সেটা আমার ডিটেক্ট করা সম্ভব হয় নি।আপনি কোথায় গিয়েছেন কিছুই বুঝতে পারি নি।এজন্য অনেক চিন্তিত ছিলাম।


আমি:আর বলো না এটা ছিল আমার জন্য

এটা ছিল এক  শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত।

আমি যখন সেই নিহিলিস্ট ইঞ্জেকশন নিয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম, তখন কল্পনাও করতে পারিনি, আমার অস্তিত্বকেই কেউ বিপর্যস্ত করতে চায়।

সে অন্ধকার মহাবিশ্ব — যেখানে আমার অনুভব হয় যেন আত্মা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

সবকিছুই ছিল অদ্ভুত। কিছুই বাস্তব ছিল না।

এমন এক জায়গা, যেখানে অস্তিত্বের মানে অদৃশ্য হয়ে যায়।

কেবল শূন্যতা।


এবার, সেই অন্ধকারের ভেতর থেকে এক একটি উজ্জ্বল রেখা ভেসে উঠলো।

একটা আর্টিফেক্ট আমার হাতে আসে,

যা ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরিয়ে দেয়, আমাকে আবার পৃথিবীতে ফেরাতে সাহায্য করে।

আমি বুঝেছি কেও না কেও এটা সাহায্যের জন্য পাঠিয়েছে জানতাম না এটা তুমি ছিলে।


আমি এটা খুলে দেখা শুরু করি।হঠাৎ এটি আমাকে অন্য মহাবিশ্বের অল্টারনেট রিয়ালিটিতে পাঠিয়ে দেয়।

আমার চোখ যখন খুলল, তখন আমাকে খেলাফতের যুগে ফেরানো হয়েছিল,


অ্যাসিসটেন্ট:- আপনি সেই যুগে কিভাবে গেলেন? আমি তো এরকম কিছুই সেট করি নি।আর  আমার মনে হচ্ছে আমাদের যে উন্নত Ai সুপার কম্পিউটার অন্য কেও নিয়ন্ত্রণ করছে।


আমি: হতে পারে।আমি কিছুক্ষণ একটি ক্যাপসুল পেয়েছি।যা নির্দেশ করছে যে অন্য মহাবিশ্ব থেকে আমার কাছে কেও সাক্ষাৎ করতে চায়।সে হয়তো প্ল্যান করে সেই যন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে আমাকে ওখানে পাঠিয়েছে।আমার ঠিকানা অনুযায়ী সেখানে পৌছাতে হবে।তুমিও আমার সাথে চলো।


আমি আর এসিস্টেন্ট একটি ফ্লায়িং সসার নিয়ে।ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা ঠিকানাতে যেতে থাকি।

ফিলিস্তিন—সেখানে 'ওয়ান আই'-এর মূল সার্ভার লুকানো। ইহুদিরা ভাবে এটি মাসিহাহ কে আনার প্রচেষ্ঠা, কেও ভাবে এটি বিজনেস অর্গানাইজেশন।এখানে অনেক সিক্রেট কাজ কারবার হয়ে থাকে।


আমরা খুব দ্রুত গন্তব্যের দিকে যেতে থাকি।


এসিস্টেন্ট আমার পাশে বসেছে।  আমি অনুভব করি তার পদক্ষেপে এক অদ্ভুত সঙ্গতি আছে। যেন সে কোনো স্থির লক্ষ্যবস্তু দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তবে কখনো তার মুখাবয়বে কোনো দৃঢ়তা আমি দেখতে পাই না। প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত দৃশ্যের মাঝে, সে যেন কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে মনোযোগী।তবে হ্যা, সে সবসময় আমাকে সাহায্য করার জন্য পাশে থেকেছে।


অ্যাসিস্টেন্ট আমার দিকে তাকাল। তার চোখে সেই দিনের ছায়া, যেদিন আমি তাকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করেছিলাম। সে এখনো রাতে চিৎকার করে জেগে ওঠে—'বাবা - মা !' বলে। আজও আমার জ্যাকেটের পকেটে সে সেই ছেঁড়া ফটোটি রাখে, যেখানে তার পরিবার হাসছে।


এই বিধ্বংশী মালহামার যুদ্ধে যখন তার পিতামাতা ও পরিবারের সবাই মারা যায়।তখন আমি তাকে প্রতিপালন করি।সে আর আমি একসাথে থাকি।


 ধূসর-নীল আকাশে হঠাৎ ঝিরঝির বৃষ্টি শুরু হয়। আমাদের ফ্লায়িং কার এর উপরে থাকা আয়নাতে প্রতিটি ফোঁটা পড়ছে যেন ভেঙে পড়া  প্রিজম। জীর্ণ গ্রন্থাগারের জানালার ওপারে সূর্য ডুবে যাচ্ছে রক্তাক্ত এক আকাশে।মনে হয় মহাবিশ্ব কোনো ব্যথায় রক্তক্ষরণ করছে। ক্রোনোসিকার (Chronosicar) নীলাভ আলো বাতাসে রণক্ষেত্রের মতো রেখাচিত্র আঁকে।


আমি (হলোগ্রামে একটি মৃত নক্ষত্রের মৃত্যুকালীন স্নায়ু-স্পন্দন পর্যবেক্ষণ করতে করতে):

"এই শ্বাসটা... শেষ এক্সপ্লোশনের আগে যেন নক্ষত্রটা বলছে—'আমি ছিলাম'।


আমরা কি সত্যিই ভাবি পৃথিবী চিরন্তন? নাকি এই ক্ষণস্থায়ীত্বই আমাদের এত খুঁজে ফিরতে বাধ্য করে অর্থ আর উদ্দেশ্য?"


(এক ফোঁটা বৃষ্টিতে আঙুল ছুঁয়ে লিখে আবার মুছে দিই)।আবার বলতে শুরু করি


আমি:"নিহিলিস্টদের ধ্বংসযজ্ঞ কি কেবল ঈশ্বরে অবিশ্বাসের ফল?নাকি এটা এমন এক অন্তরের শূন্যতা—যেখানে হারিয়ে ফেলা হয় নিজেকে, মহাবিশ্বকে... সবকিছু?"


অ্যাসিস্টেন্ট (জানালার কাচে বৃষ্টির রেখা গুনতে গুনতে):"তারা ভাবে, ঈশ্বর নেই মানেই নৈতিকতারও ভিত্তি নেই।এই মহাবিশ্বের সবকিছুই অণু পরমাণু ও শক্তির খেলা মনে করে।তারা হয়তো অন্তরের মধ্যে কোন আশা খুজে পায় না।সেই বোধ থেকে এমন করতে পারে।"


(এক ফোঁটা কাচে পড়ে বিকৃত হয়ে যায় প্রতিচ্ছবি)

"যন্ত্রাংশ যখন নিজেকে 'যন্ত্র' ভাবতে শুরু করে... তখন সে আর দ্বিধা করে না ধ্বংসে, কারণ সে ভাবেই, অর্থ এমনিতেই মরেছে।"


আমি (শান্ত ভঙ্গিতে যন্ত্র বন্ধ করি):

"কিন্তু এখানেই তো ভুল—'অর্থ' মরে না, যদি কেউ খুঁজে নিতে চায়।

তারা বলে মাল্টিভার্স চিরন্তন।এর কোন শুরু ও শেষ নেই।তাই এর কোন সৃষ্টিকর্তার ও প্রয়োজন নেই।সমগ্র জগৎ চিরকালই বিদ্যমান ছিল।কিন্তু গাণিতিক অসীম আর বাস্তব অসীম এক নয়।ব"BGV থিওরি—Borde-Guth-Vilenkin।

ওটা স্পষ্ট বলেছে—যে কোনো সম্প্রসারণশীল ইউনিভার্সের শুরুর বিন্দু থাকতেই হবে!"


আমি (একটি 4D হোলো-প্রজেকশন চালু করি, অসংখ্য বুদবুদের মতো ইউনিভার্স ফুটে ওঠে):

"ইনফ্লেশনারি মাল্টিভার্সও অনন্ত নয়।

প্রতিটি ইউনিভার্স একেকটা বুদবুদের মতো—তাদের জন্ম আছে, বিস্তার আছে... কিন্তু অমরত্ব নেই।"


[প্রজেকশনে এক ইউনিভার্স হঠাৎ কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়]


অ্যাসিস্টেন্ট (শব্দ স্তব্ধ করে):

"সীমাহীন আর অসীম এক জিনিস না...

একটা মহাসাগর বিশাল হতে পারে, কিন্তু তারও তো একটা তীর আছে।

তাহলে... কেউ কি এই তীরটা আঁকেনি?"


---


আমি (এবার ক্রোনোসিকারে তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্রের গ্রাফ দেখাই):

"এনট্রপি সবকিছুকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়।

একমাত্র যদি বাইরের থেকে শক্তি না আসে—সকল ব্যবস্থা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়।


একটা ইউনিভার্স শুরু হয় কম এনট্রপি দিয়ে—যেখানে শক্তি সংগঠিত, কাজ করার উপযোগী। কিন্তু সময় যতই এগোয়, সেই শক্তি ছড়িয়ে পড়ে।আমরা সর্বক্ষেত্রেই দেখতে পাই যে শক্তি সর্বদাই উচ্চ হতে নিম্নস্তরে প্রভাবিত হয়।


 শক্তির অন্তিম যেই অবস্থা, যেখানে আর কোনো কাজ করা সম্ভব না—এটাই ‘হিট ডেথ’। যদি মাল্টিভার্স চিরন্তন হত, তাহলে বহু আগেই সে মৃত্যু এসে যেত। কোনো নক্ষত্র থাকত না, আলো থাকত না, প্রাণ থাকত না। "


অ্যাসিস্টেন্ট (চোখ বড় বড় করে):

"হিট ডেথ!

যদি মাল্টিভার্স অনন্ত হতো, তাহলে সবই তো এখন শুন্যতায় বিলীন হবার কথা ছিল।

কিন্তু আমরা এখনো আলো দেখি... জীবন দেখি। অর্থাৎ—এই মাল্টিভার্স সসীম!"


আমি (চোখে তাকিয়ে): তাই তো বলছি। তুমি যদি এখনও আলো দেখো, তবে বুঝতে হবে—এই সিস্টেমের বয়স সীমিত। এটা চিরন্তন নয়। শুরু ছিল, অর্থাৎ স্রষ্টাও ছিল। এমন এক সত্তা, যিনি স্পেস-টাইমকেও সৃষ্টি করেছেন।


অ্যাসিস্টেন্ট (চুপচাপ): “মানে, এমন কেউ ছিলেন, যিনি শুরুতে এনার্জির স্পার্ক জ্বালিয়েছিলেন? সব ইউনিভার্সের জন্ম সেই পয়েন্ট থেকে?"


আমি : “যা শুরু হয়, তা শেষ হয়। আর যার শুরু আছে, তার পেছনে থাকে পরিকল্পনা।"


অ্যাসিস্টেন্ট: “তাহলে অর্থহীনতা নয়, বরং এই অস্তিত্ব—একটি গল্প, একটি উদ্দেশ্যের অংশ?”


আমি: “ঠিক তাই। এই মহাবিশ্ব, এই মাল্টিভার্স—সবই একটি উদ্দেশ্যপূর্ণ সৃষ্টি। এর পেছনে রয়েছে বুদ্ধিমত্তা। এবং সম্ভবত… ভালোবাসাও।”


অ্যাসিস্টেন্ট (চোখে জল): “তবে কি আমি ভুল ছিলাম? আমাদের অস্তিত্ব অর্থহীন নয়?”


আমি তার দিকে তাকিয়ে হাসলাম, "তুমি আজ নতুনভাবে জন্মালে।"


আমার মনে হল, তার প্রশ্ন শুধুমাত্র ভবিষ্যতের দিকে না, বরং নিজেকে নিজের মধ্যে অনুসন্ধান করতে বলছে। কিছু একটা ছিল তার কণ্ঠে, যা আমাকে একটু আরও গভীরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “তোমার প্রশ্ন কি শেষ, এসিস্টেন্ট? ”সে সোজা চোখে আমার দিকে হ্যা সূচক মাথা নাড়ল। একটু দাঁড়িয়ে, হালকা হাসির সাথে সোজা পথের দিকে উড়ন্ত গাড়িকে ড্রাইভ করছে।


আমি আমার আমার cronoseekar বের করলাম।যন্ত্র নিয়ে সময়কে আবার নরমালাইজ করে দিলাম।চারপাশের সব সাধারণ এগিয়ে চলল......


[বাইরের আকাশ আরোও কালো বর্ণ ধারণ করে।আকাশে বিজলী চমকাচ্ছে।হয়তো বড় কোন ঘুর্নিঝড় আসতে চলেছে]


 চারদিকে অদ্ভুত একটা শূন্যতা, পৃথিবী যেন মৃত, নীরব। চারপাশে একটি অদ্ভুত ভৌতিক পরিবেশ— কোথাও কোন প্রাণের শব্দ নেই, এমনকি বাতাসও যেন শ্বাসরুদ্ধকর, চাপা অনুভূতির মতো। একদিকে কালচে আকাশ ছুঁয়ে গেছে বিভিন্ন রকমের ধ্বংসস্তূপ। বাকি পৃথিবী, যেমনটা আমরা জানতাম, সে ছিল আর এখন নেই। ঘরের দেওয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা ছবির মতো সব কিছু আলগা হয়ে গেছে, বিলীন হয়ে গেছে।


আমরা বিকৃত ভবনের পাশ দিয়ে যাচ্ছি। এসিস্টেন্ট আমার দিকে তাকিয়ে বলল, 


অ্যাসিস্টেন্ট: “এটা একসময় ছিল বিশাল সভ্যতা, কিন্তু এখন এই জগতটি একের পর এক ধ্বংসের মাধ্যমে একটি ভয়ংকর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ— আমাদের হাতে সীমিত সময় রয়েছে।”


বিকৃত ভবনের মধ্যে কাচের টুকরো ছড়িয়ে পড়ে ছিল, এবং তা আমাদের চলার পথে শিকারের মতো জিভে শব্দে শব্দে ভেঙে পড়ছিল। চারপাশে পুরনো নগরীর এক গভীর শোক ঝুলছিল, যেন এখানে কোনো এক মহাযুদ্ধের কালো ছায়া অবশিষ্ট ছিল। 


চলতে চলতে, আমাদের পথের দিক পরিবর্তন হচ্ছে, এক জায়গায় পুরনো কীর্তির অবশিষ্টাংশ দেখা গেল। সেখানে যে একটি রক্তাক্ত তলভূমি, আমি জানলাম, এটাই ধ্বংসের চিহ্ন। এটি সম্ভবত পুরনো যুদ্ধের স্মৃতি হতে পারে, যেটি এখন আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যেন আমাদের কাছে এক বার্তা পৌঁছাতে চায়।


অ্যাসিস্টেন্ট: আমরা ফিলিস্তিনে গন্তব্যের ঠিকানাতে পৌছে গিয়েছি।কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের উড়ন্ত গাড়ি ল্যান্ড করবে।


আমি (ক্রোনোসিকার স্ক্রিন বন্ধ করতে করতে):

"চলো বেরই।"


অ্যাসিস্টেন্ট: 'আচ্ছা।'


আমরা পরিশেষে আমার প্যারালাল ইউনিভার্সের কপির বলা ঠিকানাতে পৌছূলাম।এসিস্টেন্ট আমার পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ স্তব্ধ রইল। তার চোখের মাঝে যে অন্ধকার, তা আমি স্পষ্টভাবে অনুভব করতে পারছিলাম। সে এরপর কথা বলল, “এখন আমাদের যুদ্ধ হবে নিজের অস্তিত্ব বাঁচানোর জন্য, কিন্তু মূল যুদ্ধ আসবে ফিলিস্তিনে।”


এই সময়, বাতাসের একটি তীব্র ঝড় এল, যেন মহাবিশ্বের সমস্ত আবেগ একযোগে বিস্ফোরিত হতে চায়। আকাশে এক ধরনের অদ্ভুত আলোর দানবীয় দোলন শুরু হলো। আমরা একটু পিছিয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম, আমাদের চারপাশের ধ্বংসস্তূপ যেন এক অন্ধকার মহল হয়ে উঠেছিল। কোথাও কোথাও দূরের একটুকু আলো অনুপ্রবেশ করছিল, তবে সব কিছু যেন অন্তহীন শূন্যতায় ডুবে যাচ্ছিল।


ঝড়ের তীব্রতা এক মুহূর্তে আরও বৃদ্ধি পেল। বাতাস যেন এক ভয়ংকর ভূমিকম্পের শব্দ তৈরি করছিল, প্রতিটি ঝলকে মনে হচ্ছিল পৃথিবী নিজেকে টুকরো টুকরো করে ফেলবে। আকাশের রঙ বদলে অদ্ভুত সব আকারে বিপরীত ধরণের মেঘ জমে উঠছিল, এবং এক ভয়াবহ অন্ধকার পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছিল।


এসিস্টেন্ট এবং আমি একে অপরের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের মাঝে, কিছু একটা অস্বাভাবিক অনুভূতি আমাকে ঘিরে ধরেছিল। আমি চোখ বন্ধ করে গভীরভাবে শ্বাস নিলাম, কিন্তু অদ্ভুত এক ঘোর, এক অদৃশ্য সত্ত্বা যেন চারপাশে ঘুরছিল। এবং ঠিক তখনই, ঝড়ের মাঝে এক রহস্যময় ঝলক দেখা গেল— এক ধোঁয়াশা ভরা আকৃতির সিলুয়েট!


এটা কি? আমার হৃদযন্ত্র দ্রুত ধিক ধিক করছিল। আস্তে আস্তে ধোঁয়ার মধ্যে একটি পরিচিত কণ্ঠ শুনলাম, “তুমিই হলাম আমি ?”


এটি ছিল আমার কপি— অন্য মহাবিশ্বের আমি, যেটি আমি প্রথমে উপলব্ধি করতে পারিনি। তার চোখের দিকে তাকালে, আমি বুঝতে পারলাম— এ আমার প্রতিচ্ছবি, কিন্তু কিছুটা ভিন্ন। কণ্ঠে কিছু পরিবর্তন ছিল, কিন্তু মুখাবয়ব একেবারে আমার মতো।আমার সামনে এগিয়ে আসল।


সে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর বলল, “আমি তোমার কপি, তবে আমি একজন জীববিজ্ঞানী। আমাদের মহাবিশ্বে নিহিলিস্টরা সিমুলেশনের জগতে ঢুকে গেছে, এবং তারা এখন বাস্তব জগতে প্রবেশ করতে চায় না। তারা শীঘ্রই মানুষদেরকে একটা সিমুলেশন ম্যাট্রিক্সে প্রবেশ করাতে যাচ্ছে।


এজন্য আমি তোমাদের সাহায্যের জন্য এসেছি।কেননা তোমার কাছেই এমন এক যন্ত্র আছে যা প্যারালাল ইউনিভার্সের ভিন্ন ভিন্ন রিয়ালিটিতে যেতে সাহায্য করে।এটা আমার দরকার মানুষকে সিমুলেশন জগত থেকে আসল রিয়ালিটে জাগিয়ে তোলার জন্য।আমি এমন একটা কেমিকেল বানাতে চাচ্ছি।


এ কথা শুনে, আমার মাথায় এক বিশাল চরম প্রশ্ন উঠে গেল। “কীভাবে সম্ভব? আমাদের মহাবিশ্বে তোমার কি প্রবেশাধিকার রয়েছে?


সে এক গভীর নিঃশ্বাস নিল, তার চোখগুলো আরও গম্ভীর হয়ে উঠল।আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, 'তুমিই একমাত্র ব্যক্তি যার কোয়ান্টাম সিগনেচার এই যন্ত্রের সাথে মেলে। আমাদের মহাবিশ্বে তোমার মতো কেউ নেই... অথবা ছিল না


এটা শুনে আমার সারা শরীরে একটা অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেল। আমি একটু পেছনে হেঁটে গেলাম, যেন তার কথাগুলো পুরোপুরি ধরতে পারছিলাম না।


সে  এগিয়ে বলল, “তোমাদের মহাবিশ্ব সহ আমাদের মহাবিশ্বেও নিহিলিজম গ্রাস করেছে।যারা জীবনের কোন উদ্দেশ্য খুজে পায় না।তবে এদের উদ্দেশ্য কিছুটা ভিন্ন। তারা জানে, সিমুলেশন তাদেরকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। তাদের সিমুলেশনের জগতের মধ্যে অনিয়ম ঘটেছে।  তাদের ভবিষ্যৎ এই মহাবিশ্বের ওপর নির্ভর করছে।এখন তুমিই এমন এক রহস্যময়ী ব্যক্তি যে সেভিয়ার হিসেবে টাইমলাইনে হওয়া বিকৃতি থেকে রেহাই দিতে পারবে।আমি তোমাকে বিস্তারিত সব পরে খুলে বলব।


আমার মনে গভীর প্রশ্নের সঞ্চয় হয়।আমি বলি:


আমি: তাহলে আপনিই কি আমাকে এমন  অল্টারনেট ইউনিভার্সে নিয়ে গিয়েছিলেন যেখানে আহলে বাইতগণ খলিফা হয় এবং ন্যায়ের সাথে শাসক চালায়।? 


প্যারালাল সেলফ:"হ্যা একদম সঠিক।ইমাম মাহদি আসতে খুব অল্প সময় বাকী।ইমাম মাহদি আহলে বাইত থেকেই হবেন।তুমি এমন এক সেভিয়ার যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বে এবং ইমাম মাহদির আগমণকে ত্বরাণ্বিত করতে সাহায্য করবে এই মালহামার যুদ্ধে।"


আমি ওর কথায় হতভম্ব হয়ে থাকি।কথার মূলভাব বুঝতে পারি না।হা করে দাঁড়িয়ে রইলাম।


প্যারালাল সেলফ: "তুমি মনে করো এটা নিহিলিস্ট বনাম ন্যাচারালিস্ট দের যুদ্ধ? ভুল। এটা আমাদেরই ভুলের ফল! তার জ্যাকেটের ভেতর থেকে একটি বিকৃত কোয়ান্টাম চিপ বের করে। চিপের গায়ে খোদাই করা—**خَيبر** (খায়বার)।  


আমি: "খায়বার? এটা কী?"  


প্যারালাল সেলফ:একটি প্রোজেক্ট.। আমরা ভেবেছিলাম 'গড জিন' খুঁজে পেয়েছি।যার মাধ্যমে আমরা অমর হয়ে উঠতে পারব। কিন্তু এতে এক্সিডেন্টলি মানুষের DNA পরিবর্তিত হয়ে মানুষকে নিজেদের গোলামে পরিবর্তিত করা যাচ্ছে।এটাকেই অনেকে খারাপ কাজে ব্যবহার কছে।


হঠাৎ দূরে বিস্ফোরণের শব্দ। আকাশে কালো ড্রোনের ঝাঁক।  


প্যারালাল সেলফ:ওরা চলে আসছে! তুমি এখনই পালাও। ফিলিস্তিনের সেই মসজিদে যাও... যেখানে 

আল-আকসা'র নিচে  সব উত্তর আছে!

"কিন্তু তুমি—?"  


প্যারালাল সেলফ:"আমি আপাতত থাকব না। তবে তোমাদের সাথে অবশ্যই যোগাযোগ রাখব।আমি কেন এখানে এসেছি সেখানে গেলে আরোও ভালোভাবে বুঝতে পারবে।কিন্তু আপাতত আমাকে প্রস্থান করতে হবে।"


তার শরীর অস্পষ্ট হতে শুরু করে, টাইমলাইন যেন তাকে গ্রাস করেছে। তবু শেষ মুহূর্তে চোখে বিদ্যুৎচমকের মতো দৃঢ়তা নিয়ে সে বলল—

"মনে রেখো... শুধু তুমিই শেষ আশা। কারণ, তুমিই একমাত্র টাইম ট্রাভেলার যাকে অল্টারনেট ইউনিভার্স মেনে নিয়েছে।"


হঠাৎ করে আকাশে বিকট এক বজ্রপাত—মুহূর্তেই ঝলসে উঠল চারপাশ।

নীরবতা নেমে এলো। শুধু বাতাসের গর্জন।


আমি পেছনে তাকালাম—সে আর নেই।


আমরা মসজিদের দিকে এগিয়ে চললাম—অজানা এক ভবিষ্যতের দিকে।


_____________________________


টিকা:-

এখানে গল্পের মধ্যে ব্যবহার করা শব্দগুলোর টিকা  দেয়া হলো, যাতে পাঠকরা সহজেই বুঝতে পারেন:


সাই-ফাই যন্ত্র :


1. ChronoSeeker: একটি কালভ্রমণ প্রযুক্তি, যা সময়ের রেখা ধরে যাত্রা করতে সক্ষম। "Chrono" (সময়) এবং "Seeker" (অনুসন্ধানকারী) শব্দের মিশ্রণ।


2. Noor Capsule: একটি ঐশ্বরিক শক্তি ধারণকারী ক্যাপসুল, যা "নূর" বা আলোর শক্তি ধারণ করে, যা ধ্বংসপ্রাপ্ত বাস্তবতা পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।


3. One Eye: একচোখা ডিভাইস বা সিস্টেম, যা নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ইসলামিক বিশ্বাসের দাজ্জালের প্রতীকের সাথে সম্পর্কিত।


4. Temporal Rift: সময়ের বিকৃতি বা ফাটল। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সময় ভেঙে যাওয়ার মুহূর্ত, যা কাল্পনিক বা সাই-ফাই বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


5. Silicon Messiah: প্রযুক্তি-নির্ভর ত্রাণকর্তা, যা সাধারণত AI বা রোবোটিক মহামানব হিসেবে প্রকাশ পায়।


6. Genetic Memory Linker: এমন একটি যন্ত্র যা পূর্বপুরুষের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের মস্তিষ্কে ধারণ করে, যাতে পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতাগুলি পাঠ করা যায়।


7. Dust Reclaimer: ধ্বংসপ্রাপ্ত পরিবেশ বা বস্তু পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র।


তাপগতিবিদ্যা এবং প্যারালাল ইউনিভার্স বা অল্টারনেট রিয়ালিটি সম্পর্কিত কিছু শব্দের টিকা :


তাপগতিবিদ্যা (Thermodynamics) সম্পর্কিত টিকা:


1. তাপগতিবিদ্যা: এটি পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা তাপ এবং শক্তির রূপান্তর এবং ব্যবহারের সম্পর্ক অধ্যয়ন করে। তাপগতিবিদ্যার মূল নিয়মগুলি শক্তির সংরক্ষণ, তাপের প্রবাহ এবং তাপগতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে।


2. এনট্রপি (Entropy): এটি একটি সিস্টেমের অর্ডার বা বিশৃঙ্খলার পরিমাপ। তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় আইন অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতিটি সিস্টেমের এনট্রপি সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়, অর্থাৎ পৃথিবী স্বাভাবিকভাবে বিশৃঙ্খলার দিকে চলে যায়।


3. তাপের প্রবাহ (Heat Transfer): তাপগতিবিদ্যায় এটি তাপের স্থানান্তরকে বোঝায়। তাপ উত্তরণ তিনটি উপায়ে হতে পারে—পর্যাপ্ত তাপপ্রবাহ, কনভেকশন (তরল বা গ্যাসের মাধ্যমে তাপের পরিবহন), এবং বিকিরণ (তাপের রেডিয়েশন মাধ্যমে স্থানান্তর)।


4. প্যারালাল ইউনিভার্স (Parallel Universe): এটি এমন একটি তত্ত্ব যা অনুযায়ী, আমাদের মহাবিশ্বের পাশাপাশি আরও একাধিক মহাবিশ্ব অস্তিত্ব রাখে, যেখানে বিভিন্ন বাস্তবতা বা পরিস্থিতি আলাদা আলাদা হতে পারে। এই ধারণা কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং মহাবিশ্বের একাধিক সংস্করণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়।


5. অল্টারনেট রিয়ালিটি (Alternate Reality): এটি এমন একটি বাস্তবতা যা আমাদের অভিজ্ঞতায় নেই বা অন্যভাবে হতে পারে। এটি সাই-ফাই, কাল্পনিক বা দার্শনিক গল্পের মধ্যে প্রায়ই ব্যবহৃত হয়, যেখানে একাধিক বাস্তবতা বা পৃথিবী একে অপরের সাথে পরস্পর সম্পর্কিত থাকে বা অদৃশ্যভাবে আলাদা হয়ে থাকে।


6. কোয়ান্টাম রিলেটিভিটি (Quantum Relativity): কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সমন্বিত পর্যালোচনা, যা প্যারালাল ইউনিভার্স ধারণার সপক্ষে প্রমাণ বা ব্যাখ্যা হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বের সাথে কোয়ান্টাম পদ্ধতির সামঞ্জস্যের বিষয়ে আলোচনা করে।


7. মাল্টিভার্স (Multiverse): মাল্টিভার্স তত্ত্ব অনুযায়ী, একাধিক মহাবিশ্বের অস্তিত্ব থাকতে পারে। এই মহাবিশ্বগুলি ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম, শক্তি, এবং বাস্তবতার তত্ত্বের অধীনে চলতে পারে।


8. টাইম লুপ (Time Loop): টাইম লুপ বা সময়ের লুপ এমন একটি ধারণা যা অনুযায়ী, সময়ের একটি সাইক্লিক চক্রের মধ্যে একজন ব্যক্তি বা ঘটনা বারবার একই অবস্থায় ফিরে আসে।এটি গল্পতে হিডেন বার্তা হিসেবে রাখা হইছে।


ইসলামিক শব্দ


1. মালহামা: ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি হলো কিয়ামতের আগে চূড়ান্ত মহাযুদ্ধ, যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সংঘর্ষ হিসেবে ঘটে।


2. নূর: ঐশ্বরিক আলো বা সত্যের আলোকধারা, যা আল্লাহর নির্দেশনাকে প্রকাশ করে।


3. ইমাম মাহদি (আ.): ইসলামে বিশ্বাস করা হয় যে, শেষ সময়ে আহলে বাইত হতে একজন ত্রাণকর্তা আগমন করবেন, যিনি পৃথিবীতে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন।


4. আহলে বাইত: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র পরিবার—ইমাম আলি (আ.), ফাতিমা (আ.), হাসান (আ.), হুসাইন (আ.) সহ অন্যান্য সদস্য।

Comments

Popular posts from this blog

আজকের বিষয়:- খেলাফত রাজতন্ত্রে রুপান্তর।ইমাম হাসান(রা:) কে বিষ দিয়ে হত্যা।

১২ ইমাম নিয়ে শিয়া ও সুন্নীদের রায়।(১ম পর্ব)

আজকের বিষয়:-মুয়াবিয়ার শাসনামল