পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সাইন্স ফিকশন: হোয়াট ইফ: অল্টারনেট রিয়ালিটি(পর্ব :১)
লেখক:- শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ।
[
এই সাইন্স ফিকশন প্যারালাল ইউনিভার্স এর আমার এক কপি কে নিয়ে আমি লিখেছি।সেখানে ইমাম মাহদির পূর্ব মালহামার যুদ্ধ(১) হচ্ছে।এই যুদ্ধে বিশ্বের সকল টেকনোলজি শেষ হয়ে যায়।এরপরে আমি কোন রহস্যজনক কারণে নানা অল্টারনেট রিয়ালিটিতে চলে যাই ও তথ্য সংগ্রহ করি।নবীর আহলে বাইত ই যে সর্বোত্তম ও যোগ্য তা দেখানো হবে।এরপরে এক অন্তিম মহাযুদ্ধে অংশ নেই।পরিশেষে একটা টুইস্ট আছে টাইম লুপের।
এখানে তিনটা মূল টাইমলাইন চলবে:-
১) মালহামার যুদ্ধের টাইমলাইন।
২) ইমাম মাহদির পরবর্তি সময়।
৩) খেলাফতের সময়কাল(তবে অল্টারনেট রিয়ালিটি)
]
চতুর্দিকে যুদ্ধের রমরমা পরিবেশ।আমেরিকা,রাশিয়া,ব্রিটেন আরব দেশগুলো সবাই একে অপরের সাথে যুদ্ধ করছে।তারা একটি গোপন আর্টিফেক্ট এর সন্ধানে আছে যা খুবই দামী পদার্থ।এর দ্বারা পৃথিবীতে যে ক্ষতি হয়েছে পরিবেশের তার পুনরুদ্ধার সম্ভব।এটা এক ধরণের দাজ্জালি শক্তি যা দ্বারা পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।এই ক্ষমতা কার হাতে থাকবে এ নিয়ে দেশগুলোর মাঝে যুদ্ধ।
ইহুদিরা ফিলিস্তিনের গাজাকে দখল করে এখন তারা মাসিহাহ(দাজ্জাল) এর অপেক্ষা করছে।কেননা এমন পৃথিবী উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে প্রবেশ করেছে এই যুদ্ধের পরে পৃথিবীর ভিন্ন রুপ প্রকাশ পাবে।অপরদিকে হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা মনে করছে তাদের কল্কি অবতার খুব শীঘ্রই আসছে।কল্কি অবতার হলো হিন্দু বিশ্বাসমতে বিষ্ণুর সর্বশেষ অবতার,যে অন্যায় কে দমন করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে।আর বিশ্বে কলি যুগ(শেষ যুগ) এর অবসান হয়ে আবার নতুন সত্য যুগের উদ্ভব হবে।
নিহিলিস্ট রা মনে করে এই জীবনের কোন অর্থ নেই।নিহিলস্ট দের একটি অংশ নিজেরা সিমুলেশনের মাঝে বাস করে।কেননা তারা বাস্তব জীবনে কোন অর্থ খুজে পায় না।তাই পরিশেষে এরা সিমুলেশনের জগতকে নিজের জীবনে থাকার জন্য বেছে নিয়েছে।
চতুর্দিকে উন্নত টেকনোলজি দিয়ে বিধ্বংশী যুদ্ধে আমিও অংশ নিয়েছি।আমি হলাম একেশ্বরবাদি।আমি এক স্রষ্টায় বিশ্বাসী।আমি মনে করি এই সমগ্র মহাবিশ্বের স্রষ্টা একজন আর আমাদের তাকে মান্য করা উচিৎ।আর জীবনের অর্থ নেই এমন ধরণের নিহিলিস্ট চিন্তাভাবনা মানুষকে ধ্বংশের দিকে নিয়ে যায়।তাই নিহিলিস্ট নাস্তিকেরা আমার বিরুদ্ধে লেগেছে।কেননা তারা মনে করে আমি তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছি।
ইহুদিরা ফিলিস্তিন দখল করে একদম প্রস্তুত তাদের মাসিহাহ(দাজ্জাল) এর জন্য।কিন্তু মুসলমানদের আরোও অবনতি হয়েছে।তাদের মধ্যে নীতি নৈতিকতা কমে গেছে।বহু লোক নিহিলস্ট এর দলে যোগ দিয়েছে।
আমি এসব এর কোন মতাদর্শ গ্রহণ করি নি।আমি আমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি।আর সকল ধর্ম নিয়ে গবেষণা করেছি।পড়েছি ইতিহাসের নানা উথান পথন।আমার গবেষণার মূল বিষয় মাল্টিভার্স এবং স্থান-কাল।আমি একজন পদার্থবিজ্ঞানি হিসেবে এক সিক্রেক্ট সংস্থায় কাজ করি।আমি এক সংস্থার গোপন সদস্য যে টাইম ট্রাভেলিং ও মাল্টিভার্স এর অল্টারনেট রিয়ালিটি নিয়ে কাজ করি।মাল্টিভার্স হলো এই মহাবিশ্বের মতো আরোও অনেক মহাবিশ্ব যেখানে একেক যায়গায় একেক ঘটনা চলছে।আমি বেশীরভাগ সময় ল্যাবরেটরি তে গিয়ে আমি আমার টাইম মেশিন নিয়ে কাজ করি।
আজকে বাহিরে গিয়ে দেখি আজকে হঠাৎ কোন রহস্যের জন্য যুদ্ধ আরোও প্রকট আকার ধারণ করেছে।আজ আমার যুদ্ধে অংশ নিতে হবে।আজ সকালে আলো ফুটতেই আমার ঘুম ভেঙে গেল—কিন্তু তা ক্যানোনের গর্জনে, ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া আকাশের নিচে। বাতাসে গন্ধ বারুদের, পোড়া ধাতুর। শহরের প্রতিটি কোণেই আগুনের লেলিহান শিখা, ধ্বংসস্তূপের মাঝে উড়ন্ত ড্রোনগুলো অগ্নিবৃষ্টি ঝরিয়ে চলেছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে খবর পেলাম আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন—সবাই একে অপরের কোয়ান্টাম ডিসরাপ্টর দিয়ে মহাদেশগুলোকেই খণ্ডিত করছে। এই প্রযুক্তি অস্ত্র কেবলমাত্র যুদ্ধের ময়দানকেই ধ্বংস করছে না, বরং বাস্তবতার কাঠামোকেই বদলে দিচ্ছে।
বুঝলাম আজ আমাকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
আমার হাতকাঁপানো আঙুলগুলো আমার নিজ অজান্তেই কোয়ান্টাম ব্লেড দিয়ে তৈরী সুপারসিক অস্ত্র (২)এর ট্রিগারে চাপ দিচ্ছে।এই অস্ত্রের আমি নাম দিয়েছি যুলফিকার।এই অস্ত্রটা আমারই ডিজাইন—একেশ্বরবাদের প্রতীক, যার ফলায় খোদাই আছে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"। অস্ত্রটি শুধু কেটে ফেলে না, বরং শত্রুর তথ্য-প্রবাহ মুছে ফেলে।
বাহির বের হয়ে দেখতে পাচ্ছি যে উপর থেকে আগুণের গোলা পড়ছে।এক দল অপর দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।এত বিভৎস যুদ্ধ যেন স্পেস টাইম কার্ভেচার ছিড়ে যাচ্ছে।আমাকে শত্রুরা আক্রমণ করছে
নিহিলিস্ট:তোমার ধ্বংস হোক!
এই বলে আমাকে আক্রমণ করল।সে এক অস্ত্র নিক্ষেপ করল।এটি আগুণের গোলার মতো আমার দিকে ধেয়ে আসল।এতে সাথে সাথে আকাশ আলোকিত হয়ে উঠল।পৃথিবী বিকট শব্দে কেপে উঠল।
আমি কোয়ান্টাম ব্লেড তার দিকে ফিকে মারলাম।সেটিও অদ্ভুত আলো উৎপন্ন করল।দুটো সংঘর্ষ করে একে অপরকে শেষ করে দিল।
হঠাৎ নিহিলিস্ট দের নেতা সামনে আসল সোশ্যাল হোলোগ্রামে: "বিশ্ব ধ্বংস হোক! স্রষ্টা নেই, জীবনের সবকিছুই অর্থহীন!জীবজগতে যে শক্তিশালী সেই টিকে থাকবে" এ বলে একটা শ্লোগান দিল।এটা তাদের নিত্যদিনের ডায়লগ।
তাদের সাইবার-আই আমার অবস্থান ট্র্যাক করছে। হঠাৎ, আকাশে ভেসে এলো একটি হাইপারসনিক মিসাইল—আমি এর থেকে বাঁচতে লাফ দিলাম ফ্লাইং কার-এ, যা ধ্বংস হওয়ার আগেই আমাকে টেনে নিয়ে গেল ল্যাবের দিকে।
আমার এইভাবেই দিন চলছিল।কিন্তু হঠাৎ ঘটল একটা বিপত্তি।একদা কোন এক অজ্ঞাত কারণে আমার ঘাড়ে হঠাৎ এক ইঞ্জেকশন প্রবেশ করানো হয়।আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি....
আপনি কে?
দুনিয়ার বাস্তবতা আসলে তা না হয় আপনি যা জানেন।আপনাকে এমন যায়গায় পাঠিয়ে দেয়া হবে যাতে আপনি কখনো আর আসতে না পারেন।
আমি জ্ঞান হারালাম।হঠাৎ আমার জ্ঞান ফিরল।এ কি! আমি এক গুহায় অবস্থান করছি। গুহা থেকে বের হয়ে দেখি যে পৃথিবী একেবারে বদলে গেছে।সুন্দর শ্যামল পৃথিবী।এত উন্নত টেকনোলজি এর কারণে যে পৃথিবীর অনেক ক্ষতি হয়েছিল, বাতাসে সেই বিষাক্ত পদার্থ অনুভব করছি না।গুহাটা চারদিকে পর্যবেক্ষণ করলাম।
গুহার মুখে আলো ঝিলিক দিচ্ছে। বেরিয়ে দেখি—এ কি আমাদের পৃথিবী? না, এ যেন এক রহস্যময় সময়ের নকশা! আকাশে তাকিয়ে দেখি সেখানে ভাসছে স্ফটিকের মেঘ, নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে তরল আলো। কিন্তু মাটিতে পড়ে আছে প্রাচীন টেকনোলজির ধ্বংসাবশেষ—কোয়ান্টাম কোড খোদাই করা পাথর। গুহার গভীরে একটি দরজা, যার উপর আরবিতে লেখা: "যে জ্ঞান চায়, সে ঝুঁকি নেয়।"
দরজা খুলতেই আমার চোখ আলোতে ঝলসে গেল—ভেতরে একটি মসজিদ, কিন্তু এর মিনারগুলো তৈরি ন্যানো-কার্বনে, মিহরাবে জ্বলছে হোলোগ্র্রাফিক কুরআন! মসজিদের কেন্দ্রে একটি আয়না—যার ভেতর অসংখ্য মহাবিশ্ব ঘূর্ণায়মান।
আমার মনে এখন অনেক প্রশ্ন।আমাকে যে ইঞ্জেকশন দিল সে কি ছিল? আর কেন ই বা আমি এখানে আসলাম? আমি টাইম ট্রাভেল কি প্যারালাল ইউনিভার্স(৩) নিয়ে কাজ করছি বলে হয়তো আমাকে ষড়যন্ত্র করেই এখানে আনা হয়েছে।কেননা অনেকেই এটির থেকে তথ্য সংগ্রহ করে খারাপ কাজে ব্যবহার করতে চাচ্ছিল
এই মসজিদটি পরিত্যাক্ত মনে হচ্ছে।আয়নার পাশেই এখানে ঘড়ির মতো এক ধরণের উন্নত টেকনোলজি লাগানো।কৌতুহল বশত আমি এর সামনে যাই।গিয়ে একে স্পর্শ করি।সাথে সাথেই আমার সামনে কোয়ান্টাম মিররে নানা ধরণের অল্টারনেট রিয়ালিটি দৃশ্যমান হয়(৪)।আমি দেখতে পাচ্ছি নানা মহাবিশ্ব থেকে কোন এক কারণে আমার কপি কে এরকম যায়গায় পাঠানো হচ্ছে।আর তারা নানাভাবে এই আর্টিফেক্ট (৫)কে খুজে পাচ্ছে।কোন কারণে তারা টাইম ট্রাভেল করছে।এ যেন অল্টারনেট রিয়ালিটির ভেতরে আবার অল্টারনেট রিয়ালিটি চলছে।কোনটা আল্টিমেট রিয়ালিটি সেটা বোঝা যাচ্ছে না।
আমি এ দেখে চলছি।কোয়ান্টাম মিরর হঠাৎ গায়েব হয়ে গেল।তারপর আমার চারপাশ দ্রুত বদলাতে থাকল।আরে এ কি! আমি কোথায় যাচ্ছি।সাথে সাথে একটা ওয়ার্ম হোল খুলে গেল।আর ওয়ার্ম হোল টেনে আমাকে ভেতরে নিয়ে গেল।এরপরে কি হলো তখন আমার জ্ঞান ছিল না।
চোখ খুলে দেখি আরবের কোন মরুভুমির এলাকায় এসে পড়ছি।চতুর্দিক থেকে দেখছি লোক জড়ো হচ্ছে কোনখানে।আমি আশেপাশে হাটতে লাগলাম।ঐতো খেজুরের গাছ দেখা যায়।মানুষের মাটির তৈরী ঘর।কুপ থেকে পানি নামাচ্ছে।মানুষ আরবীতে কথা বলছে।আমার কাছে একটা Ai ট্রান্সলেটর মেশিন ছিল।ওটা অন করলাম।একজনের সামনে গেলাম।জিজ্ঞাসা করলাম।
আপনাদের এত তাড়াহুড়া কেন? কোথায় যাচ্ছেন?
গাদিরে খুমে রসুলুল্লাহ(সা:) আমাদের দাড়াতে বলেছেন।এখানে অনেক বড় ভাষণ দেবেন।
গাদিরে খুম!আমি মনে মনে বলি এটা কি সেই যায়গাই না যেখানে রসুল সা: লাখো সাহাবীর সামনে ঘোষণা দিয়েছেন তোমাদের কাছে ভারি দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি কোরআন ও আহলুল বাইত।এরপরে হযরত আলির হাতে হাত উচু করে ঘোষণা দেন আমি যার মাওলা(অভিভাবক) আলিও তার মাওলা!
আমার সব মনে পড়ে গেল।আরেহ এ তো বেশ খুশীর খবর।আমি বুঝে ফেললাম আমি কোন টাইমলাইনে এসে পড়লাম।কিন্তু এখানেএ রিয়ালিটিতে কিছু প্রার্থক্য দেখতে পাচ্ছি।
আমিও জনগণের সামনে হাঁটতে হাটতে সেখানে গেলাম।গিয়ে দেখি আমি যা ভাবছিলাম সেই ভাষণ দেয়া হচ্ছে।তবে আমি তাদেরকে দেখতে পাচ্ছি না ভালোভাবে।শুধু দেখলাম তাদের মুখ থেকে নুর বের হচ্ছে।আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম।তাহলে আমি কি ১৮ ই জিলহজ্ব,৬৩১ খ্রিস্টাব্দে এসে পড়লাম? নাকি এটা প্যারালাল ইউনিভার্স এর অন্য কোন রিয়ালিটি? আমাকে বের করতে হবে।অন্য রিয়ালিটি হলে নিশ্চয়ই এখানে সুক্ষ্ণ প্রার্থক্য পাবো।যেহুতু এটা অতিত তাই হয়তো আমি একে পরিবর্তন করতে পারব না।আর পরিবর্তন করলেও আসল মহাবিশ্বে কোন প্রভাব পড়বে না।
আমি এসব গভীর মনে ভাবছিলাম আর ভাষণ শেষ করলাম।ভাষণ শেষ করার পরে আমাকে এক কালো মানুষ হাত ধরল।আমি এই মহাবিশ্বে আসার পরে কারোও চেহারা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি না।অপষ্ট দেখছি।এই যেন এক স্বপ্ন।
আমাকে উনি বললেন
আপনি কি ভাবছেন।
কিছু না।
চলুন আমার বাসায় চলুন।আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে অন্য কোথাও থেকে এসেছেন।
হ্যা।
চলুন আমার বাসাতে।
আচ্ছা ঠিকাছে চলুন।
আমি চুপ করে তার বাসাতে হাটতে লাগলাম।
আমি তার বাসাতেই ঘুমালাম।সবাই যে সময় ঘুমিয়ে পড়ল,
হঠাৎ, একজন রহস্য মানুষ—যার চেহারা আমারই মতো!—আমাকে ঘুমের মধ্যে ডাক দিল।সে আমাকে টেনে নিয়ে গেল পাথরের ঘরে। সে খুলে দিল একটি টাইম ক্যাপসুল।আর বলল "তুমি আসলে 'সীড ইউনিভার্স'-। মালহামার যুদ্ধের পরে ইমাম মাহদির আগমণ ত্বরান্বিত করা এবং সত্য মানুষকে জানানোর জন্য তোমাকে পাঠানো হয়েছে।নিহিলস্ট রা তোমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল।এখন আমি তোমায় উদ্ধার করেছি।
কিন্তু কেন?
তুমি এখন এতকিছু বুঝবে না।এখন শোন তোমাকে যেতে হবে,বিভিন্ন প্যারালাল ইউনিভার্সে।যেখানে একেক যায়গায় একেক রিয়ালিটি চলছে।। কিন্তু সাবধান! এখানে ইতিহাসের প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে আছে কোয়ান্টাম ট্র্যাপ...!।তোমাকে বিভিন্ন মহাবিশ্বে গিয়ে অল্টারনেট রিয়ালিটিতের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। আহলুল বাইত যদি রাজনৈতিক ও আধ্যাতিক ইমাম হতো, তবে মুসলিম উম্মাহের কি উপকার হতো সেসব মহাবিশ্বে যাবে।
কিন্তু আপনি কে?
তুমি শিঘ্রই জানতে পারবে।
বলে লোকটি গায়েব হয়ে গেল।
বাইরে থেকে ভেসে এলো ফজরের আযানের ধ্বনি—আসসলাতু খউরুম মিনান নাউম....
সেই কালো মানুষটি আজান দিচ্ছিল কিন্তু তার চেহারা নুরের আলোতে জ্বলমান।
--------
টিকা:=>>>
১)মালহামার যুদ্ধ:-ইসলামী হাদিসগ্রন্থে মালহামার যুদ্ধ (الملاحم, আল-মালাহিম) নিয়ে বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে। এটি মূলত শেষ যুগের এক ভয়াবহ যুদ্ধ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যা ইমাম মাহদির আগমনের সময় সংঘটিত হবে।
---
দাবিক বা আল-আমাকের যুদ্ধে মুসলমান বনাম রোমান বাহিনী
📖 সাহিহ মুসলিম:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"রোমানরা (বাইজেন্টাইনরা) দাবিক বা আল-আমাক নামক স্থানে একত্র হবে, এবং মুসলমানদের এক বিশাল বাহিনী তাদের মোকাবিলা করতে যাবে। সে দিনে মুসলমানদের সর্বোত্তম সৈন্যদল শাম (সিরিয়া, জর্ডান, ফিলিস্তিন) থেকে আসবে।"
📚 (সাহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ২৮৯৭)
💡 বিশ্লেষণ:
এই হাদিসে বলা হয়েছে, মুসলমানদের সঙ্গে রোমানদের (খ্রিস্টানদের) এক ভয়ানক যুদ্ধ হবে।
দাবিক এবং আল-আমাক হচ্ছে সিরিয়ার দুটি জায়গা, যেগুলো মালহামার মূল যুদ্ধক্ষেত্র হবে।
রোমানদের সঙ্গে মুসলমানদের শান্তিচুক্তি ও পরে বিশ্বাসঘাতকতা
📖 আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তোমরা রোমানদের (খ্রিস্টানদের) সাথে শান্তিচুক্তি করবে, পরে তারা তোমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে ও তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে। এটি হবে মালহামা আল-কুবরা।"
📚 (সুনান আবু দাউদ, হাদিস নম্বর: ৪২৯২)
💡 বিশ্লেষণ:
হাদিসটি ইঙ্গিত করছে যে, মুসলমান ও খ্রিস্টানদের মধ্যে প্রথমে শান্তি স্থাপিত হবে।
পরে রোমানরা চুক্তি ভঙ্গ করে মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করবে, এবং এটি মালহামার সূচনা হবে।
---
মুসলমানদের তিন দল ও ৯৯ ভাগ সৈন্যের মৃত্যু
📖 সাহিহ মুসলিম:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"মালহামার যুদ্ধে মুসলমানদের এক-তৃতীয়াংশ পালিয়ে যাবে, এবং আল্লাহ তাদের কখনো ক্ষমা করবেন না। এক-তৃতীয়াংশ শাহাদাত বরণ করবে, তারা হবে শ্রেষ্ঠ শহীদ। আর বাকি এক-তৃতীয়াংশ বিজয়ী হবে এবং তারা কখনো বিপথগামী হবে না।"
📚 (সাহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ২৮৯৭)
💡 বিশ্লেষণ:
মুসলমানরা এই যুদ্ধে তিন ভাগে বিভক্ত হবে।
এক দল কাপুরুষের মতো পালিয়ে যাবে, যাদের জন্য ক্ষমা নেই।
এক দল শহীদ হবে, এবং তারা জান্নাতি হবে।
তৃতীয় দল বিজয়ী হবে এবং তারা সঠিক পথে থাকবে।
মালহামার পরে কনস্টান্টিনোপল বিজয়
📖 সুনান আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"মালহামার পরে মুসলমানরা কনস্টান্টিনোপল (বর্তমান ইস্তাম্বুল) জয় করবে, এবং তখন দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে।"
📚 (সুনান আবু দাউদ, হাদিস নম্বর: ৪২৯৪)
💡 বিশ্লেষণ:
মালহামার যুদ্ধে বিজয়ের পর মুসলমানরা কনস্টান্টিনোপল জয় করবে।
এরপর দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং নতুন ফিতনার সূচনা হবে।
দাজ্জাল ও ঈসা (আ.)-এর আগমনের সম্পর্ক
📖 সুনান তিরমিজি:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"যখন মালহামা শেষ হবে, তখন দাজ্জাল বের হবে। এরপর ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) নেমে আসবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন।"
📚 (সুনান তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ২২৩১)
২)কোয়ান্টাম ব্লেড দিয়ে তৈরি সুপারসিক অস্ত্র:
এটি একটি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি।
কোয়ান্টাম ব্লেড কোনো সাধারণ তরবারি নয়, এটি এমন এক অস্ত্র যা কোয়ান্টাম মেকানিক্স, অ্যান্টি-ম্যাটার ফিজিক্স, এবং মেটাফিজিক্যাল এনার্জি-এর সংমিশ্রণে গঠিত।এটির নাম যুলফিকার রেখেছি কেনবা এটি বানানো হয়েছে হযরত আলি আলাহিস সালামের তরবারী যুলফিকার এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সেই আদর্শকে সামনে রেখে।যুলফিকার যেভাবে অন্যায়কে দমন করে ন্যায় ও জ্ঞান কে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা হয়।তেমনি এই সুপারসনিক অস্ত্রের উদ্দেশ্য ও তাই।সামনে এটির ব্যাপারে আলোচনা হবে।
এই ব্লেডের শক্তি ও কার্যকারিতা:-
"টাইম স্ল্যাশ" – এক কোপে সময়ের প্রবাহ কেটে ফেলা যায়, ফলে শত্রুর শরীর বর্তমান টাইমলাইন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়!
"সিঙ্গুলারিটি কাট" – কোপ দেওয়ার সাথে সাথে ছোটখাট ব্ল্যাকহোল তৈরি হয়, যা শত্রুকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য টাইম-স্পেস কনটিনিউমে টেনে নিয়ে যায়!
"ডাইমেনশনাল ফেইজিং" – এটি একসাথে তিনটি বাস্তবতায় অস্তিত্ব রাখতে পারে, ফলে আক্রমণ আসার আগেই ভবিষ্যত বুঝতে পারে।এইজন্যই এখানে তিনটি টাইমলাইন তৈরী হয়েছে।যা সামনে দেখব।
৩)প্যারালাল ইউনিভার্স: একাধিক মহাবিশ্বে ভিন্ন বাস্তবতা:-পৃথিবীতে যা ঘটছে, তার অসংখ্য সম্ভাব্য ফলাফল থাকতে পারে। কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুসারে, প্রতিটি সিদ্ধান্ত বা ঘটনা থেকে নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে, যাকে "মাল্টিভার্স" তত্ত্ব বলা হয়। এর মানে, এমন কিছু পৃথিবী থাকতে পারে যেখানে ইতিহাস আমাদের জানা পথের থেকে আলাদা।
---
📖 কোরআনে প্যারালাল ইউনিভার্সের ইঙ্গিত
কোরআনে এমন আয়াত রয়েছে, যা প্যারালাল বাস্তবতার ধারণার সাথে মিলে যায়:
"সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সমস্ত জগতের প্রতিপালক।" (সূরা আল ফাতিহা ১:২)
এখানে "আল-আলামীন" (العالمين) শব্দটি এসেছে, যার অর্থ একাধিক জগত। এটি শুধু আমাদের মহাবিশ্ব নয়, বরং অন্যান্য অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিতে পারে।
"আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীর সমপরিমাণ (ভিন্ন) সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা তালাক ৬৫:১২)
এখানে "পৃথিবীর সমপরিমাণ" উল্লেখ আছে, যা মাল্টিভার্স বা প্যারালাল ইউনিভার্সের ধারণার সাথে মেলে।
---
📜 হাদিস ও ইসলামিক বর্ণনায় প্যারালাল ইউনিভার্স।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত(সুন্নি উৎস) বিভিন্ন জ্ঞানী আলেমগণ এই ব্যাপারে কথা বলেছেন।অপরদিকে আহলে তাশায়্যু(শিয়া উৎস) তে আহলে বাইত(নবীর পরিবার) থেকে হাদিস নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।কেননা আহলে বাইতের হাদিস প্রকাশ্যে নেয়া শাসকদের জুলুমের জন্য নিষিদ্ধ ছিল।শাসকের পৃষ্ঠপোষমতায় কিতাব লেখা হতো বলে আহলে নাইতের ফাযায়েল আলোচনা করাতেই অনেক আহলে সুন্নাতের আলেমকে যুলুম করা হয়েছে।শাসকেরা আহলে বাইতকে একের পর এক হত্যা করে।যাই হোক এখানে দুই উৎস থেকেই কথা বলা হবে।
🔹 সুন্নি উৎস থেকে:
=>> রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:
"আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে এমন অনেক সৃষ্টি আছে, যেগুলো তোমাদের দৃষ্টিতে অদৃশ্য, কিন্তু তারা অস্তিত্বশীল।"
📖 (মুসনাদ আহমদ, ৩৯০৫)
=> ইমাম তাবারি বলেন:
"পৃথিবীর সমপরিমাণ আরও অনেক সৃষ্টি আছে, যেখানে হয়তো আমাদের মতো মানুষ আছে বা অন্য কোনো সৃষ্টির বসবাস রয়েছে।"
📖 (তাফসির আত-তাবারি, ২৭:৮০)
=> ইমাম ইবনে কাসির তার তাফসীরে বলেন:
"আল্লাহ সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের প্রতিটিতে এমন সৃষ্টি আছে, যাদের ব্যাপারে আমাদের কোনো জ্ঞান নেই।"
📖 (তাফসির ইবনে কাসির, ৩:৪৭২)
🔸 শিয়া উৎস থেকে:
ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) বলেন:
"আল্লাহ এমন বহু জগত সৃষ্টি করেছেন, যা এই জগত থেকে পৃথক। মানুষের জ্ঞান সেখানে পৌঁছায়নি। সৃষ্টির সীমা নেই, কারণ আল্লাহর কুদরত সীমাহীন।"
(বিহার আল-আনওয়ার, খণ্ড ৫৪, পৃষ্ঠা ৩৩৬)
ইমাম আল-বাকির (আ.) বলেন:
"তোমরা কি মনে করো যে আল্লাহ শুধুমাত্র এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? না, আল্লাহ এরকম আরও এক হাজার দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেকটিতেই এক হাজার আদম (আঃ) এসেছেন।"
(বিহার আল-আনওয়ার, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৩৭৫)
ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) আরও বলেন:
"এই মহাবিশ্বের বাইরেও আরও বহু সৃষ্টি আছে, যারা আমাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানে না, যেমন আমরা তাদের সম্পর্কে জানি না।"
(আল-তাওহীদ, শেখ সাদুক, পৃষ্ঠা ২৭৮)
ইমাম মুসা আল-কাজিম (আ.) বলেন:
"আল্লাহর বহু সৃষ্টি রয়েছে, যারা আমাদের মতো নয়, এবং আমাদের এই জগৎ তাদের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তারা আল্লাহর দাসত্ব করে, কিন্তু আমাদের সম্পর্কে কিছুই জানে না।"
📖 (আল-ইকতিসাদ, শেখ তুসি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৮০)
ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) বলেন,
"আল্লাহর আরও সৃষ্টি রয়েছে, যাদের সম্পর্কে মানুষ জানে না। যদি তারা জানতে পারত, তবে তাদের চিন্তাধারা বদলে যেত।" (বিহার আল-আনওয়ার, খণ্ড ৫৪, পৃষ্ঠা ৩৩৬)
---
উপরোক্ত হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায় যে, ইসলামিক সূত্রেও মাল্টিভার্স বা বহু জগতের ধারণা বিদ্যমান। আজকের আধুনিক স্ট্রিং থিওরি, কোয়ান্টাম ফিজিক্স, এবং মাল্টিভার্স তত্ত্ব এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করছে।বিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও স্ট্রিং থিওরির মাধ্যমে মাল্টিভার্সের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছেন। বিশেষ করে "ইভারেটের মাল্টিভার্স" তত্ত্ব বলে, প্রতিটি সিদ্ধান্ত নতুন বাস্তবতা সৃষ্টি করতে পারে।
৪)অল্টারনেট রিয়ালিটি: এটি বলতে এমন একটি বাস্তবতাকে বোঝায়, যা আমাদের পরিচিত বাস্তবতা (Reality) থেকে ভিন্ন, কিন্তু সেটি এক বা একাধিক সম্ভাব্য ইতিহাস, বিজ্ঞান বা কল্পনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি সাধারণত "প্যারালাল ইউনিভার্স", "টাইমলাইন ব্রাঞ্চিং", বা "স্পেকুলেটিভ ফিকশন" ধারণার সাথে সম্পর্কিত।
৫)আর্টিফেক্ট:
এই গল্পে "আর্টিফেক্ট" হলো একটি রহস্যময় ও উন্নত প্রযুক্তির বস্তু, যা টাইম ট্রাভেল, মাল্টিভার্স, এবং অল্টারনেট রিয়ালিটির সাথে সম্পর্কিত। এটি কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন মহাবিশ্বের সংযোগ ঘটাতে পারে এবং ব্যবহারকারীর সামনে বিভিন্ন টাইমলাইনের দৃশ্যমান বাস্তবতা উন্মোচন করতে সক্ষম।
গল্পের প্রধান চরিত্র (প্যারালাল ইউনিভার্স এর আমার কপি) যখন এটি স্পর্শ করে, তখন তার সামনে বিভিন্ন অল্টারনেট রিয়ালিটি ভেসে ওঠে এবং সে অনুভব করে যে, বিভিন্ন মহাবিশ্বে তার অস্তিত্বের কপি রয়েছে, যাদের সবাই কোনো না কোনোভাবে এই আর্টিফেক্টের সন্ধান পেয়েছে। এটি এমন এক বস্তু, যা সময় ও স্থানের বাঁধাকে অতিক্রম করতে পারে।এই আর্টিফেক্ট রহস্যে আবৃত, এবং গল্পে এটি মূল চরিত্র 'আমি' কে এক মহাজাগতিক যাত্রায় ঠেলে দেয়, যেখানে বাস্তবতা ও কল্পনার সীমারেখা মুছে যায়।

Comments
Post a Comment