যদি আমি হতাম মহাভারতের মহারথি(পর্ব:৪)
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আজ থেকে প্রায় ৪ বছর আগে এই লেখাটি শুরু করেছিলাম।৩ য় পর্ব লিখে আর লিখি নি।কিন্তু অনেক মানুষ আমাকে অনুরোধ করেছে যেন এই লেখাটা শেষ করি।কিন্তু ব্যস্ততার জন্য ধরবো ধরবো বলে ধরাই আর হলো না।আজ ভাবলাম পুরনো লেখায় আবার শুরু করি।আপনারা এই গল্পকে শুধু হিন্দুধর্ম বিষয়ে ভাবলে ভুল করবেন।এখানে তার পাশাপাশি আমি ইসলামের তাওহীদ ও শিরক নিয়ে গল্পের ছলে বিষয়গুলো তুলে ধরেছি।এছাড়া এখানে আমি কিছু সায়েন্স ফিকশনের কনসেপ্ট ব্যবহার করেছি।আজ পর্যন্ত মহাভারত নিয়ে এমন ইউনিক চিন্তাধারার লেখা কেও লিখে নি।আমিই প্রথম লিখছি।
এখানে আমি শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষার সাথে যা যা দ্বিমত তা গল্পের ছলে তুলে ধরেছি।পর্ব ৩ যেখান থেকে শেষ হয়েছিল;সেখান থেকেই গল্প শুরু করছি।
গল্প:-যদি আমি হতাম মহাভারতের মহারথি(পর্ব ৪)
লেখক:-শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ।
এখন সূর্যাস্ত হচ্ছে।প্রচন্ড ক্ষীপ্র যুদ্ধে শেষ হতে যাচ্ছে দিনটি।দিনটি শেষ হয়ে ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে আকাশ কালো হয়ে যাচ্ছে।এদিকে কৃষ্ণের রথ ধাওয়া করতে গিয়ে আমাদের রথ মাটিতে ডেবে গিয়েছে(আমি রথের চালক আর কর্ণ মহারথি)।তাই কর্ণ ডেবে যাওয়া রথের চাকাকে উঠানোর চেষ্টা করছে।তার সাথে আমিও করছি।
এই মুহুর্তেই কৃষ্ণ অর্জুনকে আদেশ করলো,"হে পার্থ,এখন ই সময়। এখনই কর্ণের দিকে তীর নিক্ষেপ করো।আর ওকে হত্যা করো।"
অর্জুন:- কিন্তু মাধব এখন তো কর্ণ এর হাতে ধনুক নেই।বিনা অস্ত্রে যোদ্ধাকে হত্যা করা কি অন্যায় নয়?
শ্রীকৃষ্ণ:- যা আদেশ করছি তাই করো।তুমিই না সকল আদেশ মানবে বলেছিলে।
এইসব আলোচনা হচ্ছিল।আর এদিকে কর্ণ তার ধনুক নিয়ে তার রশিতে টান দিল।কর্ণ মন্ত্র পড়া শুরু করল।তীর অদৃশ্য হতে দৃশ্যমান হবে হবে এই অবস্থা।আবার হুট করে তীর অদৃশ্য(গায়েব) হয়ে গেল।
এটি দেখেই আমার মনে পড়ে গেল কর্ণকে দেয়া সেই অভিশাপের কথা।তার গুরু পরশুরাম কর্ণকে অভিশাপ দিয়েছিল যে যখনই কর্ণের সবচাইতে বেশী দিব্যশক্তির দরকার পড়বে,তখনই দিব্যশক্তির সকল গুণাগুন যা সে রপ্ত করেছিল তা সব ভুলে যাবে।
সর্বনাশ।মূল মহাভারতে এই মুহুর্তেই কর্ণের মৃত্যু ঘটে।আর সবাই পরবর্তীতে জানতে পারে যে কর্ণ শুদ্রপুত্র নয় বরং কুন্তিপুত্র।অর্থাৎ পান্ডবদের বড় ভাই।আর এর পরের দিন দূর্যোধন ও ভীমের লড়াই দ্বারা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।কিন্তু এখানে তো আমি আছি।নাহ কর্ণকে মোটেও মরতে দেয়া যাবে না।নয়তো আমার মূলশিক্ষা বাস্তবায়ন হবে না।তাছাড়া কর্ণ যেহুতু পান্ডবদের বড় তাই তার ইন্দ্রপ্রস্থের অধিকার আছে।তাছাড়া সে দূর্যোধনের ও মিত্র।
এসব বিষয় ভাবতে ভাবতেই বললাম যে তাড়াতাড়ি রথের উপরে উঠো।আমি এই মুহুর্তে ফোর্থ ডাইমেনশন(১) হতে যন্ত্র বের করলাম।কর্ণ বললেন এটি কি সাজ্জাদ?
আমি:একটি ডাইমেনশনাল ডিভাইস. যা কাজ করে "আয়াতুল কুরসি"র শক্তিতে। ডিভাইসটি ব্যাখ্যা করে: *এই মহাবিশ্বের প্রতিটি কণায় আল্লাহর গুণাবলী বিরাজ করে—যারা ঈমান দিয়ে তা পড়তে পারে, তারাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কোয়ান্টাম ফিল্ড(২)!"কর্ণ বুঝতে পারে কিভাবে সূরা ফাতিহার vibrational frequency দিয়ে শত্রুর অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করতে হয়।
সাথে সাথে একটা ওয়ার্ম হোল (৩)তৈরী হলো।তখন মহাকাশে এক রহস্যময় নীল আলোর সর্পিল খোলনলচে সৃষ্টি হলো, যা কর্ণকে তার অস্তিত্বের সীমা ছড়িয়ে নিয়ে গেল এক অদৃশ্য স্তরে।আমরা রথ চালিয়ে এর ভেতরে ঢুকে পড়লাম।সাথে সাথে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলাম।
কর্ণ যেন এক বিশাল, অজানা মহাজাগতিক উপত্যকার মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেলেন—সেখানে তাঁর চারপাশে একে একে অতীতের স্মৃতি, শৈশবের কষ্ট ও অতীতের নীরব কষ্টের চিত্র ফুটে উঠলো।
কর্ণ (চোখে মহাজাগতিক ধূলির প্রতিফলন, কণ্ঠে কষ্ট ও বিস্ময়ের সুর):
"এ কি... আমার চেতনা কি মহাবিশ্বের সীমানা ছাড়িয়ে যাচ্ছে? কোথা থেকে এই আলো—এ কি আমার অতীতের ছায়া, নাকি ভবিষ্যতের সুরভি?"
আমি তখন নিযে থেকে আর্টিফিসশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বের করলাম।এটি মানুষকে খুব ভালোভাবে বোঝাতে পারে।এটি এমনভাবে বোঝায় যেন মনে হয় এটি নিজ অন্তর থেকে কথা বের হয়।তাই আমি একে নাম দিয়েছি পরিকথাকার।
এটি অন করার পরে এক রহস্যময়, অন্তরের কোণে বাজতে থাকা এক অতিপ্রাকৃত সুরে কর্ণের মস্তিষ্কে অনুরণিত হলো:
পরিকথাকার:
"তোমার জীবন বৃথা যায়নি, রাধেয়। আজ তোমার অদৃশ্য জন্মরহস্যের পর্দা উঠবে, তুমি জানবে—সত্য কি, আর তুমিই সেই সত্যের অংশ।"
এই মুহূর্তে কর্ণের চোখে এক বিস্ময়কর ভিন্ন জগতের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠলো। চারপাশে ভেসে উঠলো তাঁর শৈশবের দৃশ্যাবলী—একটি ছোট্ট শিশু, সূর্যের কাছে প্রার্থনায় মগ্ন, দ্রোণাচার্যের অস্ত্রশালায় অবমাননার কষ্ট, কুন্তীর গোপনে ফেলে আসা চিঠির খণ্ডচিত্র। তাকে অস্ত্রশিক্ষা নিতে না দেয়া।পরশুরামের কাছ থেকে ধনুক বিদ্যা শেখা কিন্তু তারপরেও পরশুরাম তাকে অভিশাপ দিল।এসব স্মৃতির মাঝে মিশে গেল এক রকম ঐকান্তিক আবেগ, যখন তাঁর মনে শব্দমালা বাজলো,
ঋগ্বেদ ৬.৪৫.১৬
একং সত্য বিপ্রা বহুধা বদন্তি।
অর্থ: সত্য (সৃষ্টিকর্তা) একজনই, তবে জ্ঞানীরা তাঁকে বিভিন্ন নামে ডাকেন।
যজুর্বেদ ৩২.১১
ন তস্য প্রতিমা অস্তি।
অর্থ: তাঁর কোনো প্রতিমা (মূর্তি) নেই।
শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৬.৯
ন তস্য কশ্চিত জনিতা ন চাধিপঃ।
অর্থ: তাঁর কোনো জনক বা প্রভু নেই।
ঋগ্বেদ ১০.৪৮.৫
ন দ্বিতীয়ো ন তৃतीयশ্চুতুর্থঃ।
অর্থ: তিনি দ্বিতীয় নন, তৃতীয় নন, চতুর্থ নন (অর্থাৎ, এক ও অদ্বিতীয়)।
শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৬.৮
স যথা পুরুষঃ কেশলোমানি তথাক্ষরং বেদস ॥
অর্থ: যেমন একজন মানুষের চুল ও লোম স্বতঃস্ফূর্তভাবে গজায়, তেমনি ব্রহ্মান্ডও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর ইচ্ছায় সৃষ্টি হয়।
শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৪.১৯
ন তস্য প্রতিমা অস্তি।
অর্থ: তাঁর কোনো প্রতিমা নেই, কোনো উপমা নেই।
যজুর্বেদ ৩২.৩
ন তস্য প্রতিমা অস্তি।
অর্থ: তাঁর কোনো আকৃতি বা মূর্তি নেই।
ঋগ্বেদ ৮.১.১
মহাদেবো ন ভজতে কশ্চন।
অর্থ: মহাদেব (সৃষ্টিকর্তা) কোনো ভাস্কর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন।
শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৪.২০
ন চাক্ষুষা পশ্যতি কশ্চনৈনম্।
অর্থ: তাঁকে চাক্ষুষভাবে (প্রতিমা বা মূর্তির মাধ্যমে) দেখা যায় না।
পরিশেষে কোরআনের আয়াত পড়া হলো
"আমরা শুধু তোমার ই ইবাদত করি ও তোমার ই কাছে সাহায্য চাই।"
(সূরা আল-ফাতিহা :৪)
এ আয়াতের প্রতিধ্বনি কর্ণের অন্তরে এক নতুন আলোর সঞ্চার করলো।
কর্ণ (চোখে জল, কণ্ঠে গভীর ব্যথা ও স্বীকারোক্তি):
"আমি এতদিন ভুল পথে যুদ্ধ করেছি—অহংকারের জন্য, প্রাপ্তির জন্য। কিন্তু প্রকৃত যুদ্ধ তো আত্মার!
নিজেকে সে আবিষ্কার করে এক কোয়ান্টাম মিরর ডাইমেনশনে(৩)—যেখানে অসংখ্য মহাবিশ্বের অসংখ্য কর্ণ একসাথে প্রতিধ্বনিত হয়। প্রতিটি ভার্সনে তার ভিন্ন ভিন্ন জীবন: কোথাও সে রাজা, কোথাও সাধক, আবার কোথাও নিঃস্ব। এই দৃশ্যাবলির কেন্দ্রে এক নূরানি আলোয় ভেসে ওঠে সূরা ইখলাসের আয়াত: **"লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ... (তিনি জন্ম দেননি, তাকে জন্ম দেয়াও হয়নি)। কর্ণের চোখে জল এসে যায় যখন সে উপলব্ধি করে, সত্যিকার "অজর-অমর" শক্তি কেবল এক আল্লাহর। সে তার বর্মের উপর খোদাই করা সূর্য প্রতীকটি ছিঁড়ে ফেলে, আর তার বদলে লিখে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"।
আমি সারাজীবন নিজেকে সূর্যের পুত্র মনে করেছি, কিন্তু আজ বুঝলাম—সূর্য তো শুধু একটি নিয়মের অধিন!" পরশুরাম (৪)আমাকে শিখিয়েছিলেন, অস্ত্রই ভাগ্য বদলায়।তোমার জিদকে অস্ত্রে পরিণত করো। কিন্তু এই কোয়ান্টাম মিরর দেখালো, প্রকৃত ভাগ্য পরিবর্তন হয় তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে!"
আমি:হে কর্ণ, এতদিন তুমি যাকে ইশ্বর ভাবতে,(কৃষ্ণ)।সে আসলে ইশ্বর নয়।সে নিজেকে দাবী করে যে সে প্রত্যেক কণায় কণায় আছে(৫)।কিন্তু সে বাস্তবে একজন মিথ্যাবাদি।সে এই শক্তি নেগেটিভে এনার্জি থেকে নিচ্ছে।এমনকি তার বর্ননাতে গীতাতে প্রচুর ভুল রয়েছে।
অর্জুনকে যখন কৃষ্ণ গীতা জ্ঞান দেন তখন প্রচুর ভুল করেছেন।
এই বলে আমি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বের করলাম।পরিকথাকার কর্ণ কে গীতার ভুলগুলো খুলে বলল(৬)
কর্ণঃসে যদি আসলেই ইশ্বর না হয়ে ধোকাবাজ হয়ে থাকে তবে মানুষ তাকে কেন বিশ্বাস করে।আর কেনই বা তার এত শক্তি।
আমি:এই ব্যাপারে আমি এলিয়েনের সাথে কথা বলব।তারা চতুর্মাত্রিক জীব। যখন ফোর্থ ডাইমেনশনের প্রাণীদের সাথে কথা বলব তখন ই তুমি তা বুঝতে পারবে।তুমি অর্জুনের সাথে যুদ্ধ করার সময় তোমার সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করবে। তোমার দৈব অস্ত্র তে এমন শক্তি রয়েছে যা তৃতীয় মাত্রিক মহাবিশ্ব কে ভেদ করতেও সক্ষম।তোমার এত শক্তি রয়েছে যা তুমি নিজেও জানো না।আমি শুধু তোমাকে তোমার নিজের ব্যাপারেই পরিচয় করাতে এসেছি। কৌরবের পক্ষে থেকেছিলে কারণ তুমি দুর্যোধনের উপরে ঋনী।কেননা তোমাকে শুদ্র বলে যখন সবাই দূরে সরিয়ে দিয়েছিল।তখন দুর্যোধন তোমায় আগলে রেখেছিল।কিন্তু আমি চাচ্ছি তুমি যুদ্ধ করো এক ইশ্বর এর নীতি প্রতিষ্ঠায়।এই কৃষ্ণ যে নিজেকে এই ধর্মযুদ্ধ বলে এই অহংকার তার মধ্য হতে ভাঙতে হবে।
কর্ণ:-এই যুদ্ধ কি তাহলে ধর্মযুদ্ধ নয়?পান্ডবরা তো আসলেই তাদের জমি পায়।আমি তো এই কৌরবদের পক্ষে লড়ে জানি অধর্মের পথে লড়ছি।তাও লড়ছি শুধু আমার বন্ধুর ঋণ পরিশোধের জন্য।
আমি:-কিভাবে পান্ডবরা ধর্মের উপরে থাকে হে কর্ণ? মনে আছে? সেইদিন দুর্যোধন কে ইন্দ্রপ্রস্থে(৭) ডেকে এনে তার পা যখন পানিতে পড়ে যায়।তখন এই দ্রপোদি তাকে অন্ধের পুত্র অন্ধ বলে অপমান করেছিল।আজ যদি এসব না হতো তবে দূর্যোধন রাগান্বিত হতো না।আর না শকুনি পান্ডবদের সাথে পাশা খেলত।শুধু কি তাই,পান্ডবরা প্রায়ই কৌরবদের আঘাত দিয়ে কথা বলত।এইজন্যই পরিশেষে দুর্যোধন পান্ডবদের উপরে এত রাগান্বিত হয়।তোমার কি মনে নেই তোমাকে ভীম সর্বদাই সুত পুত্র বলত?
কর্ণ নিজে ভাবনার মধ্যে পড়ে গেল।এই অভিজ্ঞতা কর্ণকে বদলে দিয়েছিল। তাঁর অস্তিত্বে এখন এক নতুন শক্তি সঞ্চারিত হচ্ছিল—এক শক্তি যা শুধুমাত্র যুদ্ধের অস্ত্র নয়, বরং আত্মার মুক্তির অস্ত্র।তার অন্তরে এখন এক স্রষ্টার প্রতি প্রেম জাগ্রত হয়েছে।এইবার তার সব শক্তি দৈব বলে প্রভাবিত নয়।বরং আজ কর্ণ মনের আত্নিক শক্তিতে বলিয়ান।সে এখন নিজেকে জানে।যার জন্য তার উপরে অভিশাপ কাজ করবে না।এবার সে তার দৈব শক্তির পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে।
আমি আমার নিদর্শন চক্র দ্বারা ফ্রিজ হওয়া টাইম আবার স্বাভাবিক করে দিলাম।
ওয়ার্মহোল থেকে প্রত্যাবর্তনের পর, কর্ণের বর্মে ও অস্ত্রের শিখায় এখন জ্বলজ্বল করছে। সময় ঠিক তখন থেকেই শুরু হয়েছে।যখন যাওয়ার আগে ছিল।
সূর্য এখন পশ্চিমে ঢলে পড়েছে, রক্তিম আকাশে যুদ্ধের ধোঁয়া মিশে এক অদ্ভুত ভয়ঙ্কর দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে। কুরুক্ষেত্র যেন এক অগ্নিসাগর! সৈন্যরা দূরে সরে গেছে। এখন যুদ্ধ হবে কেবল দুজনের মধ্যে—দুই অপ্রতিদ্বন্দ্বী যোদ্ধা, কর্ণ ও অর্জুন।
এটি কোনো সাধারণ যুদ্ধ নয়। এটি এক মহাযুদ্ধ, যেখানে একদিকে কর্ণের বসব শক্তি, নাগাস্ত্র, ব্রহ্মাস্ত্র, আর অন্যদিকে অর্জুনের পাশুপতাস্ত্র, নারায়ণাস্ত্র, ইন্দ্রাস্ত্র! অস্ত্রের প্রতিটি আঘাত মহাবিশ্বকে কাঁপিয়ে দেবে, প্রতিটি সংঘর্ষ সময়ের প্রবাহকে থামিয়ে দিতে পারে!
কর্ণ তাঁর রথে দাঁড়িয়ে, সূর্যদেবের তেজে দীপ্ত। মুখে এক অপার শান্তি, কিন্তু চোখে অসীম প্রতিজ্ঞা। তিনি জানেন, আজ তাঁর শেষ সুযোগ। তিনি রথকে শক্ত করে ধরলেন, আর এক ধাপে অগ্রসর হলেন অর্জুনের দিকে।
অর্জুনের পাশে দাঁড়িয়ে কৃষ্ণ গান্ডিব ধনুর ছিলিম ধরে আছেন। কৃষ্ণ বললেন,
— "অর্জুন, সামনে যা আসছে, তা এক সাধারণ যুদ্ধ নয়। কর্ণ শুধু একজন যোদ্ধা নন, তিনি এক মহাযোদ্ধা, একজন অসাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বী। সাবধান হও!"
অর্জুন মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন। তাঁর ধনুক টানটান, চোখে আগুন, মুখে যুদ্ধের দৃঢ় সংকল্প!
হঠাৎই কর্ণ গর্জন করে প্রথম আক্রমণ করলেন!
তিনি ছুঁড়লেন ভীষ্মপ্রসাদিত বিষ্ণুচক্র। তীব্র গতিতে চক্রী বেগে ছুটে আসছে সেই চক্র, যেন সূর্যেরই টুকরো! অর্জুন সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা নিক্ষেপ করলেন ইন্দ্রাস্ত্র। বজ্রপাতের মতো বিদ্যুৎ বিকিরণ ঘটিয়ে দুই অস্ত্রের সংঘর্ষ হলো!
ধ্বংসাত্মক আলোয় চারদিক আলোকিত হয়ে উঠল!এ দেখে আমরা সবাই ভয় পেয়ে গেলাম!
এক মুহূর্তের জন্য সময় স্থির হয়ে গেল। রণক্ষেত্রের মাটিতে বিশাল কম্পন ছড়িয়ে পড়ল, যেন পৃথিবীই বিভক্ত হয়ে যাবে!
কর্ণ এবার হাসলেন। "এইবার দেখো!"
তিনি নাগাস্ত্র নিক্ষেপ করলেন। এক বিশাল সর্প আকৃতির অস্ত্র বজ্রের মতো শূন্যে উঠে অর্জুনের দিকে ছুটে গেল! নাগাস্ত্রের শক্তি এতটাই তীব্র যে, আকাশে যেন অগণিত সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে!
অর্জুন সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা ছুঁড়লেন তাঁর নিজের নাগাস্ত্র।
দুই বিশাল সর্পমূর্তি একে অপরকে আক্রমণ করল!
এদের সংঘর্ষে মুহূর্তের জন্য কুরুক্ষেত্রের পুরো মাটি ফেটে গেল! সর্পের হুঙ্কার, বিদ্যুতের গর্জন—সেনারা দূরে বসে এক ভয়াবহ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করল। এক অগ্নিবলয় তৈরি হলো, যা মুহূর্তের জন্য পুরো আকাশ ঢেকে দিল!
অবশেষে, দুটি অস্ত্র একে অপরকে ধ্বংস করল। কিন্তু যুদ্ধে সময় নষ্টের কোনো সুযোগ নেই!
কর্ণ এবার শূন্যে নিক্ষেপ করলেন তৈলাধার অস্ত্র—যা এক বিশাল অগ্নিশিখার মতো শত্রুর দিকে ধেয়ে যায়!
"অর্জুন! যদি তুমি বাঁচতে চাও, তাহলে এখনই এর মোকাবিলা করো!"
আগুনের বিশাল ঢেউ ছুটে এল! পুরো রণক্ষেত্র যেন রক্তিম হয়ে উঠল!
অর্জুন বুঝলেন, পাল্টা কিছু না ছুঁড়লে এই আগুন পুরো যুদ্ধক্ষেত্রকে ধ্বংস করে দেবে!
তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছুঁড়লেন বরুণাস্ত্র!
আগুন আর জল—দুই শক্তির মহাসংঘর্ষ হলো!
উভয়ই তীব্র গতিতে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হলো। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও জল একে অপরকে প্রতিহত করল! প্রচণ্ড বেগে এক বিস্ফোরণ ঘটল, এবং তারপর আগুন নিভে গেল।
কর্ণ এবার সত্যিই রেগে গেলেন!
তিনি ঘোষণা করলেন, "অর্জুন, এইবার শেষ যুদ্ধ!"
তিনি তাঁর সর্বশেষ এবং সর্বশক্তিশালী অস্ত্র ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ করলেন!
অর্জুনও জানতেন, এখন তিনিও যদি ব্রহ্মাস্ত্র না নিক্ষেপ করেন, তবে তিনি ধ্বংস হয়ে যাবেন!
তিনিও তাঁর ব্রহ্মাস্ত্র ছুঁড়লেন!
সমস্ত মহাবিশ্ব থমকে গেল!
ব্রহ্মাস্ত্রের সংঘর্ষ মানে শুধুমাত্র দুই যোদ্ধার মধ্যে যুদ্ধ নয়—এটি মানে মহাবিশ্বের ভারসাম্যের ওপর আঘাত!
এই দুই অস্ত্রের প্রভাব এতটাই ভয়ংকর ছিল যে, সূর্য ও চন্দ্র থমকে গেল, দেবতারা ভয় পেয়ে দেখলেন কুরুক্ষেত্রের দিকে!
ব্রহ্মাস্ত্রের প্রভাবে চারপাশের সমস্ত জীব জ্বলে উঠল, সময়ের গতি রুদ্ধ হয়ে গেল!
ঠিক তখনই কৃষ্ণ হস্তক্ষেপ করলেন।
ঠিক তখন ই কৃষ্ণ অর্জুনকে বলল "পশুপাতাস্ত্র ছোড়ো,পার্থ !
কিন্তু কর্ণের উত্তর ছিল এক দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা:
অর্জুন পশুপাতাস্ত্র ছেড়ে দিল।যা সে ধ্যান করে শিব থেকে পায়।(বাস্তবে এই শিব ও একটা অসুরি শক্তি যা পরবর্তি পর্বে দেখব)।
এই অস্ত্রকে কাটতে কর্ণ ব্রহ্মশির অস্ত্র ছেড়ে দিল।
এই মহা দৈব শক্তির প্রভাবে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে গেল।এ থেকে নির্গত আলোতে চোখ ধাধাল হয়ে গেল।
এতগুলো অস্ত্র মুহুর্তের মাঝে ছোড়ার ফলে, দুই মহাজাগতিক অস্ত্রের সংঘর্ষে মহাবিশ্বের গভীর স্তরে স্ট্রিংগুলো যেন ছিঁড়ে গেল। কালপুরুষের বাহু থেকে বিচ্ছিন্ন হলো নীহারিকা, আর ব্ল্যাক হোলের অন্তরে ঢুকে গেল সময়ের পাতাল।
মহাবিশ্ব ধ্বংসের কেটে যায় এক মুহূর্তের জন্য, যখন সবকিছু এক নতুন অবস্থায় প্রবেশ করে। এই অবকাশে, কৃষ্ণ নিজেকে খুঁজতে শুরু করলেন এক শূন্য, নিস্তব্ধ প্রান্তরে। সেখানে, এক গম্ভীর কণ্ঠস্বর—তাঁকে ঘিরে ধরলো, যেন সময় থেমে গেছে।
মহা দৈব অস্ত্র এর সংঘর্ষে থার্ড ডাইমেনশনের মাত্রা কিছুক্ষণের জন্য ছিড়ে গেল।এইখানে থাকা কোন প্রাণী বিভিন্ন ইউনিভার্সের অল্টারনেট রিয়ালিটি(৮) দেখতে পারে।কর্ণের মৃত্যু না হওয়া এবং ফিরে আসা একটি অন্য ইউনিভার্সের অল্টারনেট রিয়ালিটি।যা এইখানে সংমিশ্রণ ঘটেছে।
ফোর্থ ডাইমেনশনের প্রাণি (নির্মম, অথচ গভীর মায়ায়):
"হে কৃষ্ণ, তুমি যদি সত্যিকারের নারায়ণ হও, তাহলে কেন আজ তুমি এসেছ? তোমার ক্ষমতার জ্বালানি কি শুধুই অহংকার, নাকি তা থেকে শিখতে পারবে তুমি?"
কৃষ্ণের অন্তরে দ্বন্দ্বের ঝড় উঠলো। তাঁর হাতে সুদর্শন চক্র ঝলমল করলো, কিন্তু তা যেন হঠাৎ এক অজানা দুঃখের প্রতিচ্ছবি হয়ে গেল।
কৃষ্ণ (কম্পিত কণ্ঠে, অথচ প্রশ্নাত্মক):
"এ সুদর্শন কি মিথ্যা? এ শঙ্খধ্বনি কি শুধুই অতীতের ছায়া? আমি কি সত্যিই ঈশ্বরত্বের প্রদর্শন করছিলাম, নাকি শুধুই এক নশ্বর অস্তিত্ব ছিলাম?"
হঠাৎ নির্দিষ্ট জবাব উঠলো:
ফোর্থ ডাইমেনশনের প্রাণী:
"ক্ষমতা কেবল অস্ত্রে নয়, কৃষ্ণ। যেই অস্ত্র হৃদয় বিদীর্ণ করে, সে-ই সত্যের অস্ত্র।তুমি নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের শক্তিশালি মনে করেছিলে।অথচ তোমার থেকেও শক্তিশালী সত্তা বিরাজমান।এভাবে আমাদের থেকেও শক্তিশালী সত্তা রয়েছে।কিন্তু এটা ইনফিনিট পর্যন্ত যাবে না।এইভাবে একটা পর্যায়ে সেই সত্তা যার শুরু ও শেষ নেই।তিনিই হলেন জগতের সৃষ্টিকর্তা।
এই কথায় কৃষ্ণের অন্তরে প্রশ্নের ছাপ মুছে গেল না। তাঁর মনে গীতার ১১শ অধ্যায়ের স্মৃতি ভেসে উঠলো—সেখানে বিশ্বরূপ দর্শনে তাঁর নিজেকেও ধ্বংসপ্রাপ্ত দেখেছিল, যেন অহংকারের মূর্তি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। মহাকাশের অজস্র নক্ষত্রের মাঝে তাঁর আত্মসমালোচনার ছোঁয়া স্পষ্ট হয়ে উঠলো, যা তাঁকে পুনঃবিবেচনার এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করাল।
ফোর্থ ডাইমেনশনের প্রাণী:-তুমি ভেবেছ যে জগতের সব যায়গাতেই ইশ্বর। আসলে প্রত্যেক কণায় কণায় ইশ্বর নয়।আর সেটিই হলো তুমি।কিন্তু এটিই মিথ্যা ধারণা।একথা সুস্পষ্ট যে, যাবতীয় গুণাবলি এবং ক্ষমতা প্রকৃত প্রস্তাবে একমাত্র সেই সৃষ্টিকর্তার। তবে সৃষ্টজীবদের ভেতর যাকিছু ক্ষমতা বা গুণ পরিদৃষ্ট হয়, তা তাদের নিজস্ব নয়, অন্যের নিকট হতে ধার করা।
অর্থাৎ তার কৃপায় আমরা অস্তিত্ব পেয়েছি। তাঁর অনুগ্রহে বর্তমান আছি, ভবিষ্যতেও তিনি ইচ্ছা করলে রাখতে পারেন বা যখন ইচ্ছা করেন বিনাক্লেশে কাল বিলম্ব না করে ধ্বংস করে দিতে পারেন। তবে ‘তিনিই সব’ এর অর্থ এই নয় যে, মানুষ, পশু, বৃক্ষ, পর্বত সবই খোদা । এই অর্থ সম্পূর্ণ ভুল।তুমি এই অর্থ দিয়েই মানুষকে এক স্রষ্টা থেকে দূরে সরিয়ে মাখলুকের পূজা শিখিয়েছ।
কৃষ্ণ:(অন্তরে এক তীব্র দ্বন্দ্ব, কৃষ্ণ হকচকিয়ে গেল।বলল)—"আমি কি তাহলে সত্যিই ঈশ্বর নই!আমি কি শুধুই একটি শক্তিশালী অস্তিত্ব?"—আমি ধ্যান মগ্ন হয়ে অনেক অলৌকিক শক্তি অর্জন করেছিলাম।সেসব কি আসলেই নেগেটিভ এনার্জি বা শয়তান হতে এসেছিল!
আর তুমি কে যে কিনা আমার ইশ্বরত্ব অস্বীকার করছ?
ফোর্থ ডাইমেনশনের প্রাণি:তোমরা শুধুমাত্র দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা পর্যন্ত চিন্তা করতে পার।মানে তোমরা তিন মাত্রার প্রাণী।আর আমি চতুর্মাত্রিক।যেখানে স্পেস-টাইম এর ডাইমেনশন অবস্থান করে।এইজন্য তুমি আমাকে দেখতে পাচ্ছ না।তুমিও নেগেটিভ শক্তি এই ডাইমেনশন থেকে অর্জন করো কিন্তু নেগেটিভ এনার্জি হতে।আমরা পরম শুন্যতায় অবস্থান করি।তোমরা ধ্যানের মাধ্যমে এই পরম শুন্যতা অর্জন এর চেষ্টা করো।
কৃষ্ণ:-তুমি একজন মিথ্যাবাদি।
ফোর্থ ডাইমেনশনের প্রাণী:-তুমি কি কখনো চিন্তা করেছ কেন তোমার বিষ্ণুরুপের পেছনে সাপ দেখানো হয়?
কৃষ্ণ:-এটা আমার নাগরাজ।
ফোর্থ ডাইমেনশনের প্রাণী:-এটিই তো আসলে শয়তানি শক্তি প্রদর্শন করে।শয়তান সাপরুপে এসে তোমাকে ধোকা দিয়ে এরকম পথভ্রষ্ট বানিয়েছে।সেই তোমাকে দৈব শক্তি দিয়ে থাকে সাপরুপে এসে।
বাইবেলেও এই কথা রয়েছে।বাইবেলের রেফারেন্স:
পুরাতন নিয়ম (ওল্ড টেস্টামেন্ট), সৃষ্টি (জেনেসিস) ৩:১-৫
"সাপ ছিল মাঠের সব প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে ধূর্ত, যেগুলো প্রভু ঈশ্বর সৃষ্টি করেছিলেন। সে নারীর কাছে এসে বলল, ‘ঈশ্বর কি সত্যিই বলেছেন যে, তোমরা বাগানের কোনো গাছের ফল খেতে পারবে না?’"
নারী সাপকে বলল, ‘আমরা বাগানের গাছের ফল খেতে পারি।
কিন্তু ঈশ্বর বলেছেন, “বাগানের মাঝখানে যে গাছ আছে, তার ফল তোমরা খাবে না, তাকে ছোঁবেও না, নইলে তোমরা মরবে।”’
সাপ তখন নারীর কাছে বলল, ‘তোমরা নিশ্চয়ই মরবে না!...
কৃষ্ণ:এসব কিছু আমি মানি না।আমি শক্তি অর্জন করে নিয়ে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করব।এ সবই মায়া।
আরোও কিছু বলতে নিয়েছিল।কিন্তু তা আর বলার সুযোগ হলো না। কোন রহস্যময় কারণে ইউনিভার্সে
ফোর্থ ডাইমেনশন থেকে আমরা আবার থার্ড ডাইমেনশনে পদার্পন করলাম।পৃহিবী হঠাৎ আগের মতো হয়ে উঠল।অন্ধকার দূর হয়ে গেল।ফোর্থ ডাইমেনশনের প্রাণী হতে আর কোন আওয়াজ আসল না।প্রকৃতিই হয়তো শুন্যস্থান পছন্দ করে না।তাই শুন্যতার কন্ঠ বেশীক্ষণ বোধহয় অক্ষত থাকে না।
ইতিমধ্যে দুর্যোধনের উল্লাসিত চিৎকারে মাটি কাঁপছে, কিন্তু পান্ডবদের পালানোর পথে রহস্যময় আলোর রেখা তার দৃষ্টিতে ধরা পড়ে।
কর্ণের বর্মে এখন শুধু যুদ্ধের চিহ্ন নয়, বরং অতীতের কষ্ট, পরিত্যাগ ও আত্মার মুক্তির গল্পগুলো জ্বলে উঠেছে। তাঁর চোখে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা, এক নতুন সংকল্প স্পষ্ট:
কর্ণ (গভীর ও আবেগময় কণ্ঠে, যেন এক নতুন যুগের আহ্বান জানাচ্ছেন):
"আমি সত্যের পথে পদক্ষেপ বাড়াচ্ছি—আমার অস্ত্র আর অন্তর এখন নতুন শক্তিতে সঞ্চারিত। অতীতের ভুল, কষ্ট ও অহংকারকে পেছনে ফেলে, আমি স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করছি। মৃত্যুই শেষ কথা নয়, কারণ সত্যের সৈনিকরা পুনর্জন্ম নেয় ঈমানের বর্মে!"
কর্ণের এই শপথ তাঁর অস্ত্র ও আত্মাকে এক নতুন রূপে রূপান্তরিত করে। তাঁর অস্ত্রের প্রতিটি শিখা এখন যেন এক নতুন আলো জ্বালিয়ে দেয়, যা শুধু শারীরিক যুদ্ধ নয়, বরং আত্মার মুক্তির জন্য এক ধর্মযুদ্ধের আহ্বান।
অন্তরের দ্বন্দ্বে ক্লান্ত হয়ে, কৃষ্ণ অবশেষে যুদ্ধক্ষেত্রের আওয়াজ থেকে নিজেকে অদৃশ্য করে ফেলেন। কিন্তু তাঁর পালানো মানে ছিল—শুধু হালকা ভয় নয়, বরং ভবিষ্যতের বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য শক্তি সঞ্চয়ের সংকল্প।
কৃষ্ণের চোখে স্পষ্ট ছিল এক অদ্ভুত আতঙ্ক, অথচ তার মনে এক প্রতিজ্ঞা জ্বলে উঠলো:
কৃষ্ণ :আমি এই মহাজাগতিক সত্যকে এখনই গ্রহণ করতে পারছি না। আমি পালিয়ে যাচ্ছি—না, বরং যাচ্ছি শক্তি সঞ্চয়ের জন্য। আমি অন্য মহাবিশ্বে যাব, যেখানে আমার মত আরও শক্তিশালী সত্তা বিরাজ করছে। সেখানে আমি নতুন করে শক্তির মোহনায় সঙ্কলিত হবো, যাতে পরবর্তী মহাযুদ্ধে ফিরে এসে তোমাদের দেখে নিতে পারি।আবার এক যুদ্ধ হবে আমার মহাযুদ্ধ।আমি প্রমাণ করেই ছাড়ব যে এই জগতের ইশ্বর শুধুই আমি।এই বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণই ভগবান।আমিই সেই যে কিনা ছোটবেলা বৃন্দাবনে গোপীদের সাথে লীলা করতাম।রাধার সাথে লীলা করেছি।আমিই সেই মাখনচোর কৃষ্ণ যে কিনা গোবর্ধন পর্বতকে এক আঙ্গুলে উঠিয়ে ফেলেছিল।আমিই সে যে কিনা আমার মামা কংস কে হত্যা করেছি।আমিই কণায় কণায় বিরাজ করি।
কৃষ্ণ বাঁশি বাজিয়ে পালানো শুরু করল।কৃষ্ণের কাজ ই তা।যখন ই উনি কাওকে মোহিত করতে চান তখন ই বাঁশি বাজান।তার মাথায় থাকে ময়ুরের পাখা।মুখে হাসি।কেও যাতে তাকে ধরতে না পারে তাই সে এই মায়ার আশ্রয় নিল।সে হঠাৎ তার সুদর্শন চক্র বের করে।সুদর্শন চক্র ঘুরতে ঘুরতে এক ব্ল্যাকহোলে পরিণত হয়।এই ব্ল্যাক হোলের গহ্বরে, যেখানে সময় অচল। সেখানে তিনি মুখোমুখি হন এক শয়তানী শক্তির—যা তার চোখে ভেসে তোলে শয়তানি দৃশ্য।ঠোটে ধ্বনিত হয়: "তুমিও তো তাদের মতোই! তুমি মানুষকে তোমার মূর্তি বানিয়েছ, নিজেকে ঈশ্বর বলেছ। এই মুহূর্তে গীতার ১৮:৬৬ গীতার শ্লোক ("সর্বধর্মান পরিত্যজ্য...") তার কানে বাজে বিকৃতভাবে—যেন শয়তানের প্ররোচনা। (৮)
কৃষ্ণ (মনে মনে):আমি কি সত্যিই বিশ্বরূপের অধিকারী, নাকি আমি নিজেই এক মায়ার জাল বুনেছি?নাহ শিয়তানি শক্তি হোক আর যাই হোক আমাকে জিততে হবেই।
কৃষ্ণের ঠোঁটে ধীরে ধীরে ফুটে উঠলো একটি অন্ধকার প্রতিশ্রুতি:
"আমি ফিরব... পরবর্তী যুদ্ধে... 'মহাকাল চক্র' নিয়ে!এ সুদর্শন চক্র থেকেও শক্তিশালী হবে।এ বলে সে পান্ডবদের ও নিয়ে গেল।আবার সে শকুনির পাশাকেও নিয়ে গেল।কেন নিয়ে গেল জানা নেই।
শকুনি: আমার পাশা কেন নিয়ে যাচ্ছেন?
কৃষ্ণ :আপনি পাশা খেলায় জিতেছিলেন, কিন্তু এতে এক টাইম লুপের গাণিতিক সম্ভাবনা আছে।আমি তা খুজে বের করবো।
(আর কিছু না বলেই কৃষ্ণ চলে গেল)
আমিঃকৃষ্ণ ভিন্ন মাল্টিভার্সের অল্টারনেট রিয়ালিটিতে যাচ্ছে।(৯)
দুর্যোধন(খুশিতে):আমরা জিতে গিয়েছি কর্ণ।
কর্ণ: আমরা জিতে গেলেও সামনে ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে।
কর্ণ আকাশে একটি তীর মারে।তীরের মধ্যে Ai প্রোগ্রাম করা।এতে মহাকাশে ভেসে বেড়ায় সূরা আন-নাসরের আয়াত—'যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়...'। কর্ণ আজাদির খুশি হয়, আর কুরুক্ষেত্রের মাটি কেঁপে ওঠে তাওহীদের জয়ধ্বনিতে। কিন্তু দূর মহাকাশে, কৃষ্ণ ডার্ক ম্যাটার(১০) দিয়ে গড়ে তোলে নতুন বাহিনী—যারা ঈমানের আলোকে গিলে খায়!দেখা যাক পরে ভবিষ্যতে কি হয় কৌরবদের রাজ্যে!
-------------
টিকাঃ
১. ফোর্থ ডাইমেনশন (চতুর্থ মাত্রা)
আমরা সাধারণত তিনটি মাত্রা (দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা) বুঝতে পারি। কিন্তু সময়কে ধরা হয় চতুর্থ মাত্রা হিসেবে। এটি এমন একটি বাস্তবতা যেখানে সময় কোনো নির্দিষ্ট গতিতে বয়ে যায় না, বরং ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এটি পরিবর্তিত হতে পারে। বিজ্ঞান ও কল্পবিজ্ঞানে চতুর্থ মাত্রা ব্যবহার করে অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে ভ্রমণের ধারণা তৈরি করা হয়।
২. কোয়ান্টাম ফিল্ড (Quantum Field)
পার্থিব বস্তু কেবল কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ নয়, বরং প্রতিটি কণা কোয়ান্টাম ফিল্ডের অংশ। এই ফিল্ডের মাধ্যমেই শক্তি ও পদার্থ পরস্পরের সাথে মিশে থাকে। এটি এমন এক স্তর, যেখানে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাগুলো একে অপরের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পর্কিত থাকে, যা পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে রহস্যময় অংশগুলোর একটি।
৩. ওয়ার্ম হোল (Wormhole)
ওয়ার্মহোল হলো মহাবিশ্বের দুটি দূরবর্তী স্থানকে সংযুক্তকারী একটি কাল্পনিক সুড়ঙ্গ বা টানেল, যা স্থান ও সময়কে বাঁকিয়ে ফেলে। যদি এটি বাস্তবে সম্ভব হয়, তাহলে এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মুহূর্তের মধ্যে যাওয়া সম্ভব হতে পারে, যা কার্যত টাইম ট্রাভেলের ধারণার সাথে সম্পর্কিত।এই গল্পে মূলত মাল্টিভার্সে ট্রাভেল হয়েছে।
৪. পরশুরাম
পরশুরাম ছিলেন একজন মহান ঋষি ও যোদ্ধা, যিনি বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার বলে পরিচিত। তিনি কর্ণকে যুদ্ধবিদ্যা শিখিয়েছিলেন, কিন্তু যখন জানতে পারেন কর্ণ একজন ক্ষত্রিয়, তখন তাকে অভিশাপ দেন যে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার শিক্ষা ব্যর্থ হবে। এই অভিশাপই কর্ণের জীবনে এক ভয়ংকর পরিণতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৫. সে প্রত্যেক কণায় কণায় আছে (গীতার রেফারেন্স)
ভগবদ গীতায় বলা হয়েছে—
"ময়ি সর্বমিদং প্রোতং সূত্রে মণিগণা ইব।" (গীতা ৭:৭)
অর্থাৎ, "আমি প্রতিটি কণার মাঝে আছি, যেমন মালার সুতোয় একের পর এক পুঁতি গাঁথা থাকে।"
এটি বুঝায় যে, সৃষ্টির প্রতিটি অংশেই এক রহস্যময় সত্তার অস্তিত্ব বিদ্যমান, যা পরম শক্তিকে প্রকাশ করে।
৬. নক্ষত্রের মধ্যে চন্দ্র:
গীতার ১০ম অধ্যায়ের ২১তম শ্লোকে বলা হয়েছে:
"আদিত্যানাম অহং বিষ্ণুর্ জ্যোতিষাং রবিরংশুমান্।
মরীচির্ মরুতামস্মি নক্ষত্রাণাম্ অহং শশী।।"
(শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা ১০:২১)
অনুবাদ: "আদিত্যদের মধ্যে আমি বিষ্ণু, জ্যোতিষ্কদের মধ্যে আমি কিরণশালী সূর্য, মরুতদের মধ্যে আমি মরীচি এবং নক্ষত্রদের মধ্যে আমি চন্দ্র।"
এখানে চন্দ্রকে নক্ষত্রদের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে, যা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাথে অসঙ্গত। বিজ্ঞান অনুসারে, চন্দ্র একটি উপগ্রহ, নক্ষত্র নয়।
সৃষ্টির চক্রাকার ধারণা:
গীতার ৮ম অধ্যায়ের ১৭তম শ্লোকে উল্লেখ রয়েছে:
"সহস্রযুগপর্যন্ত যঃ ব্রহ্মণো দিব্যন্।"
অনুবাদ: "ব্রহ্মার এক দিন সহস্র যুগের সমান।"
এখানে মহাবিশ্বের সৃষ্টিকে চক্রাকার সময়ের সাথে বর্ণনা করা হয়েছে, যা আধুনিক মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্বের (যেমন বিগ ব্যাং তত্ত্ব) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
৭)ইন্দ্রপ্রস্থ
ইন্দ্রপ্রস্থ ছিল পান্ডবদের রাজধানী, যা শ্রীকৃষ্ণ ও বিষ্ণুকর্মার পরিকল্পনায় গড়ে উঠেছিল। এটি বর্তমান দিল্লির অংশ বলে ধারণা করা হয়। এই শহরটি ছিল স্বপ্নের নগরী, কিন্তু কৌরবদের ষড়যন্ত্রের কারণে পান্ডবদের এখান থেকে নির্বাসনে যেতে হয়েছিল।
৮ গীতা ১৮:৬৬ শ্লোক
"সর্বধর্মান পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।
অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ॥"
(গীতা ১৮:৬৬)
৯।অল্টারনেট রিয়ালিটি (বিকল্প বাস্তবতা) হল মাল্টিভার্সের অংশ, যেখানে আমাদের চেনাজানা বাস্তবতার বাইরে আরও অসংখ্য ভিন্ন বাস্তবতা থাকতে পারে। এই বাস্তবতাগুলোর প্রতিটিতে ঘটনার ধরণ, আইন, এমনকি আমাদের অস্তিত্বও আলাদা হতে পারে।
অর্থ: "সব ধর্ম ত্যাগ করে একমাত্র আমার শরণাগত হও। আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি দেবো, চিন্তা করো না।"
১০. ডার্ক ম্যাটার (Dark Matter)
মহাবিশ্বের ৮৫% অংশই হলো ডার্ক ম্যাটার, যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু মহাবিশ্বকে একত্রে ধরে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোনো আলো বিকিরণ করে না, কিন্তু এর মহাকর্ষীয় টান মহাবিশ্বের বস্তুকে প্রভাবিত করে। এটি এক রহস্যময় শক্তি, যা মহাবিশ্বের জন্ম, সম্প্রসারণ ও অস্তিত্বের পিছনে লুকিয়ে আছে।

Comments
Post a Comment