খেলাফত ও রাজতন্ত্র বই নিয়ে আলোচনা
মাওলানা মওদুদির খেলাফত ও রাজতন্ত্র বই নিয়ে কেন এত সমালোচনা হয়? কেন হুজুররা ওনাকে দেখতে পারে না?
আপনি যদি এই তথাকথিত হুজুরদের মূলনীতি নিয়ে খুব ভালো করে পড়াশোনা করেন তাহলে দেখবেন যে এদের মতে ইয়াজিদই ঠিক ছিলেন আর হুসাইন আলাইহিস সালাম বাগী বিদ্রোহী ছিলেন!এদের কাছে জান্নাতের যুবকদের সরদার ইমাম হুসাইন এর শেখানো আদর্শের কোন মুল্য ই নেই।
কিন্তু তারা একথাটি সরাসরি বলতে পারে না কারণ, হুসাইন আলাইহিস সালাম শুধু সাহাবী ছিলেন না। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাতিও ছিলেন। এজন্য তারা প্রকাশ্যে না পারলেও পরক্ষভাবে এটাই সবসময় বলতে চায় যে, হুসাইন আলাইহিস সালাম বাগী ছিলেন আর ইয়াজিদ মহান আমীর। কিন্তু এরা এটা বলে বেড়ায় ঠিকই যে ইমাম হুসাইন ভুল করেছে।ইয়াজিদ ই হলো সঠিক।
এই কথা জামাতের প্রতিষ্ঠাটা আবুল আলা মওদুদি তার বই খেলাফত ও রাজতন্ত্র বইতে তুলে ধরেছিলেন।যে কেন ইমাম হুসাইন সঠিক ছিলেন।কেন মুয়াবিয়া তার ছেলে ইয়াজিদকে বসানোটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।আর মুয়াবিয়া যাই করবে সেটাই যে সত্যের মাপকাঠি হতে হবে এইসব কথার কোন কথা নেই।মওদুদি সাহেব এটাই দেখিয়ে গেছেন।
ইমাম হুসাইন যে সঠিক ছিলেন এই প্রমাণগুলো সহিহ হাদিস থেকে উপস্থাপন করলে নাকি মওদুদি সাহাবা বিদ্বেষী হয়ে গেছে।এই হুজুররা মুয়াবিয়ার ভুলের দায়ভার যে ইমাম হুসাইন এর উপরে চাপিয়ে তাকে দোষারোপ করে। অথচ তখন এরা সাহাবা বিদ্বেষী হওয়ার কথা বলে না!
এইটার কারণ ই হলো বনু উমাইয়ারা শাসক ছিল।তারা অর্থ দিয়ে পেইড মৌলবি রাখত।এরা এদেরকে পালত।এজন্য এদের উত্তরসূরিরা বনু উমাইয়ার বিরুদ্ধে বললে ক্ষেপে যায়।
মুফতি তাকি ওসমানি একটি বই লিখেছে মুয়াবিয়ার দিফা তে।নাম ইতিহাসের কাঠগড়ায় মুয়াবিয়া(রা:)। সে এটাতে দেখাতে চেয়েছে যে মুয়াবিয়া তার ছেলেকে দ্বীনের স্বার্থেই ক্ষমতায় বসিয়েছে।সেই নাকি(ইয়াজিদ) আসলে খেলাফতের যোগ্য এটা তারা বোঝাতে চাইল যে ইমাম হুসাইন ই সঠিক ছিল না তার বায়াত না নিয়ে।
তাছাড়া তিনি সেই বইটি লিখেছেন মাওলানা মওদুদী সাহেবের খিলাফত ও মুলুকিয়াত বইটির জবাবে। মাওলানা মওদুদী তার কিতাবে শুধুমাত্র খিলাফত ও রাজতন্ত্রের পার্থক্য দেখিয়েছেন। কিন্তু মুফতি সাহেবের গায়ে কেনো লাগলো তা জানা নাই। শুধু মুফতি সাহেব নন যারা রাজতন্ত্র প্রেমী, নাসেবী ও ইয়াজিদি তাদের গলার কাটা এই বইটি। আর তারা দুজনেই দলিল প্রমাণ এনেছেন তারীখের গ্রন্থ থেকে। আমি দলিল প্রমাণ দিবো হাদীসের গ্রন্থ, তারীখের গ্রন্থ এবং তাদের কিতাব থেকে।
মওলানা মওদুদী বলেছেন মুয়াবিয়া বিদাত চালু করেছেন এবং মুফতি সাহেব প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন মুয়াবিয়া বিদাত করেনি। তো বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাক---
নবী (সা:) বলেছেনঃ মুসলিম কাফেরের উত্তারাধিকারী হয় না আর কাফিরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হয় না। (সহীহ বুখারী ৬৭৬৪)
রাসুল (সা:) স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন মুসলিম কাফেরদের উত্তরাধিকার হয়না আর কাফিরও মসলিমের উত্তরাধিকার হয়না। কিন্তু ময়াবিয়া তার রাসুল (সা:) স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন মুসলিম কাফেরদের উত্তরাধিকার হয়না আর কাফিরও মুসলিমের উত্তরাধিকার হয়না। কিন্তু মুয়াবিয়া তার আমলে মুসলিমদের কাফিরদের উত্তরাধিকার করেন। যা স্পষ্ট রাসুল (সা:) এর সুন্নাহ বিরোধী। শুধু তাই নয় মুফতি সাহেব ইনিয়ে বিনিয়ে এটাকে ফিকাহ-শাস্ত্রের মতবিরোধ মাসালা বলে তাকে বাচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এটা কোনো মতবিরোধ মাসালা নয়। এটা মুফতি সাহেব নিজেও স্বীকার করেছেন। তিনি তার কিতাবে লিখেছেন পরবর্তী ফকিহগণ তার মত গ্রহণ করেনি এবং মুফতি সাহেবের কাছেও এটা গ্রহণযোগ্য নয়। শেষে তিনি এটা বলেছেন যে এটা মুয়াবিয়ার ইজতিহাদ আর এটাকে বিদাত বলা যাবেনা। এই রকম ইজতিহাদ মুয়াবিয়া তার খিলাফতে অহরহ করেছেন। কুরআন ও হাদীস বিরোধী কাজ ইজতিহাদ হলে ইসলামে হারাম বলে কিছু থাকবেনা।শুধু এটাই নয় মুয়াবিয়ার ভয়ে লোকেরা সুন্নাহ পালন করতে ভয় পেতো। যার প্রমাণ নিচের
হাদীস:-
সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) বলেনঃ আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর সঙ্গে আরাফায় ছিলাম। তিনি বললেনঃ কী হলো লোকদেরকে তো তালবিয়া পাঠ করতে শুনছি না? আমি বললামঃ মুআবিয়া (রাঃ)-এর ভয়ে। এরপর ইবন আব্বাস (রাঃ) তাঁর তাঁবু হতে বের হলেন এবং বললেনঃ (আরবি) তারা তো আলী (রাঃ)-এর প্রতি বিদ্বেষবশত সুন্নত ছেড়ে দিয়েছে। (সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩০০৬ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)।
এখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মুয়াবিয়ার ভয়ে লোকেরা তালাবিয়া পাঠ করতোনা। আর এই হাদীস দ্বারা আর একটি বিষয় স্পষ্ট মুয়াবিয়া আলী (রা:) এর প্রতি বিদ্বেষ ছিলো। সামনে এই ব্যাপারে আরো আলোচনা আসবে।
অন্য এক হাদীসে এসেছে মুয়াবিয়া লোকদের হুকুম করতো তারা জেনো নিজেদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে এবং নিজেরা হানাহানি করে। যা কুরআনের সুরা নিসার ২৯ নং আয়াতের বিরুদ্ধে। যার প্রমাণ নিচের হাদীস:-
তিনি বলেন, আমি একদা মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর ইবনু 'আস (রাঃ) কা'বার ছায়ায় বসেছিলেন। লোকজন তাকে চারপাশ থেকে ঘিরেছিল। আমি তাদের নিকট গেলাম এবং তাঁর পাশেই বসে পড়লাম। তখন তিনি বললেন, কোন সফরে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে ছিলাম। আমরা একটি অবস্থান গ্রহণ করলাম। আমাদের মধ্যেকার কেউ তখন তার তাঁবু ঠিকঠাক করছিল, কেউ তীর ছুঁড়ছিল, কেউ তার পশুপাল দেখাশুনা করছিল। এমন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নকীব হাঁক দিল নামাযের ব্যবস্থা প্রস্তুত! তখন আমরা গিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পাশে মিলিত হলাম। তিনি বললেন, আমার পূর্বে এমন কোন নবী অতিবাহিত হননি যাঁর উপর এ দায়িত্ব বর্তায়নি যে, তিনি তাদের জন্য যে মঙ্গলজনক ব্যাপার জানতে পেরেছেন তা উম্মাতদেরকে নির্দেশনা দেননি এবং তিনি তার জন্য যে অনিষ্টকর ব্যাপার জানতে পেরেছেন, সে অংশে তার কল্যাণ নিহিত এবং এর শেষ অংশ অচিরেই নানাবিধ পরীক্ষা ও বিপর্যয়ের এবং এমন সব ব্যাপারের সম্মুখীন হবে, যা তোমাদের নিকট অপছন্দনীয় হবে। এমন সব বিপর্যয় একাদিক্রমে আসতে থাকবে যে, একটি অপরটিকে ছোট প্রতিপন্ন করবে। একটি বিপর্যয় আসবে তখন মু'মিন ব্যক্তি বলবে- এটা আমার জন্য ধ্বংসাত্মক, তারপর যখন তা দূর হয়ে অপর বিপর্যয়টি আসবে তখন মুমিন ব্যক্তি বলবে, আমি তো শেষ হয়ে যাচ্ছি ইত্যাদি। সুতরাং যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে চায় এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চায়-তার মৃত্যু যেন এমন অবস্থায় আসে যে, সে আল্লাহ্ ও আখিরাতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে এবং সে যেন মানুষের সাথে এমনি আচরণ করে যে আচরণ সে নিজের জন্য পছন্দ করে। আর যে ব্যক্তি কোন ইমাম (বা নেতার) হাতে বাই'আত হয়-আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করে তার হাতে হাত দিয়ে এবং অন্তরে সে ইচ্ছা পোষণ করে, তবে সে যেন সাধ্যনুসারে তার অনুগত্য করে যায়। তারপর যদি অপর কেউ তার সাথে (নেতৃত্ব লাভের অভিলাষে) ঝগড়ায় প্রবৃত্ত হয় তবে ঐ পরবর্তী জনের গর্দান উড়িয়ে দেবে। (রাবী বলেন) তখন আমি তাঁর নিকটে ঘেঁষলাম এবং তাঁকে বললাম, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি সত্যিই আপনি (নিজ কানে) কি তা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট থেকে শুনেছেন?
তখন তিনি তাঁর দু'কান ও অন্তঃকরণের দিকে দু'হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, আমার দু'কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তঃকরণ তা সংরক্ষণ করেছে। তখন আমি তাঁকে লক্ষ্য করে বললাম, ঐ যে আপনার চাচাতো ভাই মু'আবিয়্যাহ (আল্লাহ্ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন) তিনি আমাদেরকে আদেশ দেন যেন আমরা আমাদের পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করি আর নিজেদের মধ্যে পরস্পরে হানাহানি করি অথচ আল্লাহ্ বলেছেন, "হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, ব্যবসার মাধ্যমে পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ব্যতীত এবং তোমরা পরস্পরে হানাহানি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান" -(সূরা আন নিসা ৪: ২৯)। রাবী বলেন, তখন তিনি কিছুক্ষণের জন্য চুপ থাকলেন। তারপর বললেন, আল্লাহ্র অনুগত্যের ব্যাপারসমূহে তুমি তার আনুগত্য করবে এবং আল্লাহর অবাধ্যতার বিষয়গুলোতে তার অবাধ্যতা করবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৬৭০ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
এগুলোকেও কি মুফতি সাহেব ইজতিহাদ বলবেন? এরকম অনেক কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কাজ করেছেন যেগুলো মুফতি সাহেবরা তার ইজতিহাদ বলে চালাতে চান। আবু দাউদের একটি হাদীস আছে যেখানে বলা হয়েছে তার ঘরে পুরুষেরা স্বর্ণ, রেশমী পোশাক ব্যবহার করতো এবং হিংস্র পশুর চামড়া ব্যবহার করতো। যা সম্পূর্ন হারাম। নিচে হাদীসটি দেওয়া হলো:-
খালিদ (রহ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একদা আল-মিক্বদাম ইবনু মা'দীকারিব (রাঃ), 'আমর ইবনুল আসওয়াদ ও কিন্নাসিরীনবাসী বনী আসাদের এক লোক মু'আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর নিকট গেলেন। মু'আবিয়াহ (রাঃ) মিক্বদাম (রাঃ)-কে বললেন, জানতে পারলাম, হাসান ইবনু 'আলী মারা গেছেন। একথা শুনে মিকদাম (রাঃ) "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইসিওয়া সাল্লাম) যাকে নিজের কোলে নিয়ে বলতেনঃ হাসান আমার এবং হুসাইন 'আলীর। আমাদী বললো, তিনি ছিলেন এক জ্বলন্ত কয়লা যাকে আল্লাহ নিভিয়ে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী, অতঃপর মিক্বদাম (রাঃ) বলেন, আজ আমি আপনাকে অসন্তুষ্ট না করে ছাড়বোনা। তিনি বললেন, হে মু'আবিয়াহ! আমি যদি সত্য বলি তবে আমাকে সমর্থন করবেন আর মিথ্যা বললে আমাকে মিথ্যাবাদী বলাবেন। তিনি বললেন, ঠিক আছে। তিনি বলেন, আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বর্ণ (পুরুষদের) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। তিনি আবার বললেন, আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপিন কি জানেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রেশমী পোশাক (পুরুষদের) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। তিনি আবারও বললেন, আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করছি, আপনি কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিংস্র জন্তুর চামড়া ব্যবহার করতে এবং এর চামড়ার তৈরী আসনে আরোহী হতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হাঁ।
তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি আপনার প্রাসাদে এসবের কিছুই দেখছি না। মু'আবিয়াহ (রাঃ) বলেন, হে মিক্বদাম! আমি জানতাম যে, তোমার কাছ থেকে রক্ষা পাবো না। খালিদ (রহ) বলেন, অতঃপর মু'আবিয়াহ (রাঃ) তার জন্য এত পরিমাণ সম্পদ দেয়ার আদেশ দেন, যা অপর দু'জন সাথীর জন্য দেননি। আর তার ছেলের জন্য দুইশো দীনার প্রদান করেন। মিক্বদাম (রাঃ) এগুলো তার সাথীদের মাঝে বন্টন করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আসাদী এখানে যা পেয়েছে তা থেকে কাউকে কিছু দেয়নি। এ সংবাদ মু'আবিয়াহ্র নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, মিক্বদাম হলো লম্বা হাতের দানশীল লোক, আর আসাদী নিজের জন্য আটকিয়ে রাখার লোক (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪১৩১, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
উক্ত হাদীসে স্পষ্ট তার প্রাসাদে এসব হারাম বস্তু ব্যবহার করা হতো। এখন অনেকে বলতে পারে প্রাসাদে ব্যবহার হতো মুয়াবিয়া বা তার পরিবার ব্যবহার করতো এর প্রমাণ নাই। তাদের বলতে চাই তাহলে কারা এগুলো ব্যবহার করতো? যদি তার পরিবার ব্যবহার না করে অন্য কেউ করতো।তাহলে তার সামনে হারাম বস্তু ব্যবহার করা হয় সে বাধা দেয়না কেনো? এ-থেকে স্পষ্ট তার পরিবার অর্থাৎ সে নিজে অথবা তার ছেলে এসব ব্যবহার করতো। আর সে বাধাও দিতোনা।
এসবকে ইজতিহাদ বলে তাকে বাচানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে যায় মুফতি সাহেবের মত কিছু মুর্খ লোকেরা।শুধু সে নয় তার নিযুক্ত গভর্নর মারওয়ান বিন হাকাম ঈদের খুতবা নামাজের আগে দিতো। এই ব্যাপারে সাহাবারা তার বিরোধিতা করলে তাদের বলে নবীর সুন্নাহ বাতিল। এই ব্যাপারেও মুয়াবিয়া কোনদিন কিছু বলেছে প্রমাণ পাওয়া যায়না। নিচে উক্ত হাদীসটি দেওয়া হলো:~
মারওয়ান ঈদের দিন সলাতের পূর্বে খুতবাহ দেয়ার (বিদ'আতী) প্রথা প্রচলন করে। এ সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, "খুতবার আগে সলাত" মারওয়ান ঈদের দিন সলাতের পূর্বে খুতবা দেয়ার (বিদ'আতী) প্রথা প্রচলন করে। এ সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, "খুতবার আগে সলাত" (সম্পন্ন করুন)। মারওয়ান বললেন, এখন থেকে সে নিয়ম পরিত্যাগ করা হলো। সাথে সাথে আবু সা'ঈদ আল খুদরী (রাঃ) উঠে বললেন, ঐ ব্যক্তি তার কর্তব্য পালন করেছে। আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ গর্হিত কাজ হতে দেখলে সে যেন স্বহস্তে (শক্তি প্রয়োগে) পরিবর্তন করে দেয়, যদি তার সে ক্ষমতা না থাকে, তবে মুখ (বাক্য) দ্বারা এর পরিবর্তন করবে। আর যদি সে সাধ্যও না থাকে, তখন অন্তর দ্বারা করবে, তবে এটা ঈমানের দুর্বলতম পরিচায়ক। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৮১ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
যাই হোক উক্ত হাদীসগুলো দ্বারা স্পষ্ট মুয়াবিয়া ও তার অনুসারীরা বিদাত করতো কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কাজ করতো এবং লোকদের সুন্নাহ পালনে বাধা প্রদান করতো।
মাওলানা মওদুদী সাহেব বলেছেন মুয়াবিয়া দিয়তের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। মুফতি সাহেব প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে মুয়াবিয়া আত্মসাৎ করেন নি। বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো---
তো সুন্নাহ ছিলো এই যে অমুসলিমের দিয়ত বা রক্তপণ হবে মুসলমানের বরাবর। কিন্তু মুয়াবিয়া প্রথম ব্যক্তি যিনি তা অর্ধেক করে বাকি অর্ধেক নিজের জন্য নেওয়া শুরু করলেন। (আল বিদায়া খন্ড:৮, পৃষ্ঠা:- ১৩৯) মুফতি সাহেবের বইয়ের ৩৮ নং পৃষ্ঠায় পাবেন।
মাওলানা মওদুদী সাহেব তার কিতাবে লিখেছেন দিয়তের ক্ষেত্রেও মুয়াবিয়া সুন্নতের হস্তক্ষেপ করেছেন। তো মুফতি সাহেব তার বিরোধিতা করেন এবং মুয়াবিয়ার পক্ষ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বিভিন্নভাবে বোঝাতে চান যে তিনি অর্ধেক হ্রাস করে অর্ধেক নিজের কাছে রাখেন নাই, রেখেছেন বাইতুল মালে। তিনি আবার সেই আগের মত করে বলতে চেয়েছেন এটা তার ইজতিহাদ। অর্থাৎ মুয়াবিয়া তার মনমত কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক কাজ করবে এবং মুফতি সাহেবরা বলবে ইজতেহাদ। কিন্তু তারা সেই ইজতিহাদের পক্ষে নয়। যেমনটি এর আগে আলোচনা করা হয়েছে। আর এই দিয়তের ব্যাপারে মাওলানা মওদুদীর আগে ইমাম যুহরী মুয়াবিয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। এটা মুফতি সাহেবের কিতাবেই পাবেন। সেখানে তিনি লিখেছেন যে, এখানে আর একটি কথা বলে রাখা ভালো যে, ইমাম যুহরী মুয়াবিয়াকে দিয়তের বিধান পরিবর্তনসাধন রুপে চিণহিত করেছেন বটে তবে তার সাথে ভিন্ন মত পোষণের যথেষ্ট অবকাশ আছে।
এখানে মুফতি তাকি ওসমানি সাহেবদের দুমুখো নীতি দেখা যায়। একই কথা ইমাম যুহরী বলেও তাদের কাছে সম্মান শ্রদ্ধার পাত্র আর মাওলানা মওদুদী সাহেব বলায় তিনি তাদের কাছে ভ্রান্ত।
মাওলানা মওদুদী সাহেব বলেছেন মুয়াবিয়া মাওলানা মওদুদী সাহেব বলেছেন মুয়াবিয়া গণিমতের মাল আত্মসাৎ করেছেন এবং মুফতি সাহেব প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন তিনি আত্মসাৎ করেন নি। বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো---
প্রথম কথা এই বলা হয় মাওলানা মওদুদী সাহেব বলেছেন আসলে এসব মওদুদী সাহেবের কথা নয়। কারণ তিনি নিজে থেকে কিছুই তার কিতাবে লিখেন নাই। তিনি সব তারীখের কিতাব থেকেই লিখেছেন। গণিমতের মালের ব্যাপারে যা বলেছেন সেটাও বিভিন্ন তারীখের কিতাবে পাওয়া যায়। যার মধ্যে অন্যতম ইবনে কাছীরের আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া। তো আল বিদায়ায় কি আছে দেখে নেওয়া যাক।
হিজরি ৪৫ সনের ঘটনা, যিয়াদের পক্ষ থেকে নিযুক্ত খোরাসানের উপ-গভর্নর "জাবাল আল আসাল" যুদ্ধ পরিচালনা করেন। এই যুদ্ধ থেকে অনেক ধন সম্পদ অর্জন করেন। তো প্রসাশক যিয়াদ তাকে তাকে বলেন, আমীরুল মুমিমীন মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে লিখিত নির্দেশ এসেছে, জেনো যুদ্ধলব্ধ মালামাল থেকে সোনা রুপা সরকারী কোষাগার বাইতুল মালে রাখা হয়। তো হাকাম জবাবে বলেন যে আল্লাহর হুকুমের উপর মুয়াবিয়ার হুকুম চলতে পারেনা। সে আল্লাহকে ভয় করে এবং বাকী সব কিছুকে তুচ্ছ করে এবং বলেন আল্লাহ এ সংকট হতে আমাকে রক্ষা করবেন। পরের দিন সে সকলের সামনে গণিমতের মাল যথাযথ ভাবে সকলের মাঝে ভাগ করে দেন। এবং ১/৫ ভাগ বাইতুল মালের জন্য রাখেন। (খন্ড:৮, পৃষ্ঠা: ৬৬-৬৭)
তো এখানে গণিমতের মাল আত্মসাৎ করেছে তা বলবোনা। এটা বলবো যে গণিমতের মাল আত্মসাৎ করতে চেয়েছিলো। যা আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে উদ্ধতি দ্বারা বোঝা যায়। তো এখানেও মুফতি সাহেব ইজতিহাদের দোহাই দিয়ে তাকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। তো আপনারাই এখন ভেবে দেখুন কুরআনের বিধানের বিরুদ্ধে নিজের বিধান করতে চাওয়া কেমন ইজতিহাদ? এমন হলে ইসলামে হারাম বলে কিছুই থাকবেনা। কাল কেউ মদ খাওয়া, গালাগালি করা, জুয়া খেলা সব হালাল হয়ে যাবে।
মাওলানা মওদুদী তার কিতাবে লিখেছেন যে মুয়াবিয়ার শাসন-আমলে আলী (রা:) কে গালাগালি ও লানত করা হতো এবং মুয়াবিয়ার নির্দেশে তা হতো। মুফতি তাকি উসমানীর মতে এটা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা। তিনি লিখেছেন মুয়াবিয়ার আমলে এসব কিছুই হতোনা। এগুলো সব মনগড়া কথা ও মাওলানা মওদুদীর ভিত্তিহীন কথা। তো চলুন দেখে নেই আসলেই কি এগুলো ভিত্তিহীন ও মনগড়া কথা। তো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো---
মুয়াবিয়ার সামনে আলী (রা:) কে গালাগালি ও লানতের প্রমাণ হাদীসের কিতাবেই সহীহ সনদে পাওয়া যায়। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম ছাড়া সকল হাদীসের কিতাবেই পাওয়া যায়।
বুখারীর ৩৭০৩ নং হাদীসে দেখা যায় মদিনার এক আমীর (মারওয়ান) আলী (রা:) সম্পর্কে অপ্রিয় কথা বলতে। এখানে অনেকেই সাফাই গাইতে সহীহ মুসলিম ৬১১৪ নং হাদীস মুয়াবিয়া, সাদ (রা:) কে আমীর নিযুক্ত করেন এবং বলেন তুমি আলী (রা:) কে মন্দ কেনো বলোনা। তিনি মন্দ বলবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন। জানান উলটো আলী (রা:) ফজিলত শুনিয়ে দেন।
সহীহ মুসলিম ৬১২৩ নং হাদীস মারওয়ান মদিনার আমীর নিযুক্ত হয় এবং সাহল (রা:) কে ডেকে আলী (রা:) কে গালি দিতে বলেন। তিনি অস্বীকার জানান।
সুনানে ইবনে মাজাহ ১২১ নং হাদীস মুয়াবিয়া হজ্জ করতে আসেন এবং সাদ (রা:) সামনে লোকেরা আলী (রা:) সম্পর্কে অশোভন ও কুটক্তি মুলক বাক্য বলেন। এতে সাদ (রা:) অসন্তুষ্ট হয়ে তাদের আলী (রা:) ফজিলত শুনিয়ে দেন।
জামে আত তিরমিজি ৩৭২৪ নং হাদীস মুয়াবিয়া, সাদ (রা:) কে আমীর করেন এবং বলেন আবু তুরাবকে মানে আলী (রা:) কে গালি দিতে কিসে বাধা দিলো? তিনি অস্বীকার জানান গালি দিতে উলটো তাকে আলী (রা:) ফজিলত শুনিয়ে দেন। অনেকে মুয়াবিয়ার সাফাই গায় বলে এখানে তো গালি দিতে বলে নাই। বলেছে গালি দিতে বাধা কিসে দিলো? ভাই তাদের বলি প্রশ্ন কেনো করলো? হয়তো সাদ (রা:) কে কেউ বলেছে আলী (রা:) কে গালি দিতে? সে হয়তো গালি দেয় নাই। তাই মুয়াবিয়া জিজ্ঞেস করছে আলীকে গালি দিতে কিসে বাধা দিলো তাই নয় কি? এখন কার এতো সাহস যে আলী (রা:) কে গালি দিতে বলবে? কে বলবে সামনের হাদীসগুলো দেখলেই বুঝবেন।
আবু দাউদ ৪৬৪৮ নং হাদীস মুয়াবিয়া যখন কুফায় আসেন তখন মুগীরা ইবনে শুবা ভাষণ দেন। ভাষণে আলী (রা:) সমালোচনা করেন। সাহাবা সাইদ ইবনে যাইদ (রা:) শুনে কষ্ট পেয়ে মুগীরাকে বলে এই জালিম তার ভাষণে কি বলছে? এরপরের হাদীসেও সমালোচনার কথা আছে। তারপরের হাদীসটিতে আলক্বামাহ নামে এক ব্যক্তি মুগীরার সামনে আলী (রা:) কে গালাগালি করে। সাইদ ইবনে যায়েদ বলেন আপনার সামনে রাসুল (সা:) এর সাহাবাকে গালি দিচ্ছে আপনারা নিষেধও করেছেন না তাকে থামাচ্ছেনও না। শুধু গালাগাল লানত নয় তারা আলী (রা:) কে খলিফা মানতোনা। আবু দাউদের ৪৬৪৬ নং হাদীস।
মুয়াবিয়া আলী (রা:) কে গালি দিতো এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়না। তবে উক্ত হাদীসগুলো থেকে প্রমাণিত তার সামনে আলী (রা:) কে গালাগালি, লানত, কটুবাক্য ও সমালোচনা করা হতো। তিনি গালি দিতেন এর যেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়না এই প্রমাণও পাওয়া যায়না যে তিনি কখনো কাউকে নিষেধ করেছেন। উলটো এইটার প্রমাণ পাওয়া যায় তিনি সাহাবাদের গালি দিতে বলতেন এবং তার পোষা গভর্নরা ও তার অনুসারীরা আলী (রা:) কে গালি দিতো, লানত দিতো ও সমালোচনা করতো তার সামনেই। এটা প্রায় ৫০ বছর এভাবেই চলে উমার ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ:) এটা বন্ধ করেন তার খিলাফতের সময়। তারিখুল খুলাফার উমার ইবনে আব্দুল আজিজ অধ্যায়ে তা পাবেন। আর একটা কথা মুয়াবিয়ার প্রধান গভর্নর মারওয়ান মদিনায় আলী (রা:) কে মিম্বরে উঠে গালাগালি লানত করতো।অনুসারীরা আলী (রা:) কে গালি দিতো, লানত দিতো ও সমালোচনা করতো তার সামনেই। এটা প্রায় ৫০ বছর এভাবেই চলে উমার ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ:) এটা বন্ধ করেন তার খিলাফতের সময়। তারিখুল খুলাফার উমার ইবনে আব্দুল আজিজ অধ্যায়ে তা পাবেন। আর একটা কথা মুয়াবিয়ার প্রধান গভর্নর মারওয়ান মদিনায় আলী (রা:) কে মিম্বরে উঠে গালাগালি লানত করতো। মদিনার সাহাবারা ও মুসলিমরা তার খুতবা শুনতোনা কারণ খুতবায় আলী (রা:) কে গালাগালি করতো। ঈদের খুতবা নামাজের পরে দেয় সবাই জানেন। কিন্তু এই মারওয়ানের খুতবা মানুষ শুনতোনা তাই সে খুতবা নামাজের আগে প্রদান করেন। এক লোক উঠে বলে এটা সুন্নাহ বিরোধী তখন মারওয়ান বলেন যে এটাই এখন থেকে সুন্নাহ আর পুর্বের সুন্নাহ বাতিল। এটা সহীহ মুসলিমের ৮১ নং হাদীস ছাড়াও বুখারীসহ অনেক কিতাবেই পাবেন। তো মুয়াবিয়া এই সকল লোকদের গভর্নর করেছিলো।
যাই হোক এতক্ষণ কোনো ইতিহাসের কিতাব থেকে প্রমাণ দেই নাই। মাওলানা মওদুদী যা প্রমাণ দিয়েছেন বেশীরভাগ ইতিহাস গ্রন্থ থেকে। মুফতি তাকি উসমানী ও তার অনুসারীরা একটা কথা বলে থাকে ইতিহাসের কিতাবে অনেক ভুল-ভ্রান্তি দিয়ে ভরা থাকে। যাই হোক আমি এখানে ইতিহাসের কিতাব থেকে দেই নাই। সব হাদীস গ্রন্থ থেকে। সহীহ বুখারী মুসলিম সহ সুনানে আরবা থেকে। আমি জানি এরপরেও তারা মানবেনা। কারণ তারা অন্ধ, মুক ও বধির। যেমনটি আল্লাহ কুরআনে বলেছেন। ইতিহাসের কিতাবে এর থেকেও খারাপ খারাপ জিনিস পাওয়া যায়। তো কথা সেটা নয়। কথা হচ্ছে মুফতি তাকি উসমানী এত বড় একজন আলেম সে এই সকল হাদীস পাইলোনা সেটা মানতে পারলাম না। হয়তো সে পেয়েও সত্যটা লুকিয়েছে নয়তো সে কোনোদিন হাদীসের কিতাব খুলেও দেখেনি।
সর্বশেষ একটা কথা তারা বলে থাকে যে শিয়ারা মুয়াবিয়া মুগীরা এদের গালি দেয় লানত দেয় তাই তারা কাফির। তাহলে যারা আলী (রা:) কে গালি দিতে বলতো গালি দিতো তারা কি? নাকি তিনি সাহাবা নন? নাকি আলী (রা:) বেলায় তারা সব ভুলে যান? যাকে তারা গালি দিতো, তাকে আল্লাহ ও তার রাসুল (সা:) ভালোবাসতো। রাসুল (সা:) বলেছেন মুমিনরা আলীকে ভালোবাসবে মুনাফিকরা বিদ্বেষ করবে। তিনি খুলাফায়ে রাশেদ। তিনি আহলে বাইয়াত। তিনি জান্নাতের যুবকদের সর্দারের বাপ, তাদের থেকেও তিনি উত্তম। তিনি সর্বপ্রথম ইসলা। কবুল করেন। রাসুল (সা:) মৃত্যু পর্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন। আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ: বলেন মর্যাদার দিক থেকে তার ধারে কাছেও কেই নাই। তাকে যারা গালি দিতো গালি দিতে বলতো তাদের উপর আল্লাহর লানত এবং তাদের পক্ষে যারা সাফাই গায় সেই সকল নাসেবী জালিমদের উপরও লানত।এখন মুফতি সাহেব কি এগুলোকেও ইজতিহাদ? বলতেও পারেন। ইজতিহাদ বলে হারামটাকে নেকীতে পরিণত করে দিবেন।
মাওলানা মওদুদী বলেছেন মুয়াবিয়ার প্রসাশকদের স্বৈরাচার বলেছেন। মুফতি সাহেব মাওলানা মওদুদী বলেছেন মুয়াবিয়ার প্রসাশকদের স্বৈরাচার বলেছেন। মুফতি সাহেব তাদের স্বৈরাচার না হওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। তো চলুন বিস্তারিত দেখা যাক---
এখানে আমি বলে নেই, মুয়াবিয়ার গভর্নররা তোস্বৈরাচার। মুয়াবিয়াও স্বৈরাচার ছিলেন। এটা আমার কথা বা মওদুদী সাহেবের কথা নয়। এটা বলেছেন হযরত হোসাইন (রা:)। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়ার ৮ম খন্ডের ২৭৮ পৃষ্ঠায় পাবেন। মুয়াবিয়ার মৃত্যুর খবর জানতে পারলে তারা বলেন যে স্বৈরাচার শাসকের মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। এথেকে বোঝা যায় তার গভর্নরা কেমন হতে পারে। পূর্বের আলোচনাতেও গভর্নরদের কুকর্ম তুলে ধরা হয়েছে যেমন মারওয়ান বিন হাকামের ঈদের খুতবা নামাজের আগে দেওয়ার মত সুন্নাহ বিরোধী কাজ। মুগীরা ইবনে শুবা দ্বারা আলী (রা:) কে গালাগালি করা ইত্যাদি।
মারওয়ান বিন হাকাম একবার ইয়াজিদের বাইয়াতের কথা মদিনাবাসীর সামনে বার বার বলতে থাকে। তখন আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা:) তার বিরোধিতা করলে তাকে পাকড়াও করেন। ইবনে আবু বকর (রা:) দৌড়ে পালিয়ে আয়েশা (রা:) ঘরে আশ্রয় নেয়। নিচে হাদীসটি দেওয়া হলো।
মারওয়ান ছিলেন হিজাযের গভর্নর। তাকে নিয়োগ করেছিলেন মু'আবিয়াহ (রাঃ)। তিনি একদা খুতবা দিলেন এবং তাতে ইয়াযীদ ইব্দু মু'আবিয়ার কথা বারবার বলতে লাগলেন, যেন তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তার বায়'আত গ্রহণ করা হয়। এ সময় তাকে 'আবদুর রহমান ইবনু আবু বাকার কিছু কথা বললেন। মারওয়ান বললেন, তাঁকে পাকড়াও কর। তৎক্ষণাৎ তিনি 'আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরে চলে গেলেন। তারা তাঁকে ধরতে পারল না। তারপর মারওয়ান বললেন, এ তো সেই লোক যার সম্বন্ধে আল্লাহ্ অবতীর্ণ করেছেন, "আর এমন লোক আছে যে, মাতাপিতাকে বলে, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব যদিও আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়েছে, তখন তার মাতাপিতা আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার জন্য। বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহর প্রতিশ্র"তি অবশ্যই সত্য। কিন্তু সে বলে এ তো অতীতকালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়।" (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৮২৭, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
তো এখানে দেখা যায়, ইমাম বুখারী বলেছেন তিনি কিছু বললেন। কি বললেন তা অন্যান্য হাদীসের কিতাব ও তারীখের কিতাবে পাওয়া যায়। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়ার ৮ম খন্ডের ১৮০ পৃষ্ঠায় আছে, মারওয়ান মদিনায় এসে ইয়াজিদের বাইয়াতের নির্দেশ দিলে ইবনে আবু বকর (রা:) তাদের বলেন আপনারা তো খিলাফতের বিষয়টি রোমান ও পারস্যের রাজতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। সাথে সাথে মারওয়ান তাকে চুপ করতে বলে এবং পাকড়াও করে।
তো দেখলেন মুয়াবিয়ার গভর্নররা কতটা ভালো ছিলো। এই মারওয়ান উসমান (রা:) সচিব ছিলো। তখন সে উসমান (রা:) সিলকে জাল করে ফেতনার সৃষ্টি করে যার ফলে উসমান (রা.) শহীদ উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদের সামনে হুসাইন (রাঃ)- এর মস্তক আনা হল এবং একটি বড় পাত্রে তা রাখা হল। তখন ইবনু যিয়াদ তা খুঁচাতে লাগল এবং তাঁর রূপ লাবণ্য সম্পর্কে কটূক্তি করল। আনাস (রাঃ) বললেন, হুসাইন (রাঃ) গঠন ও আকৃতিতে নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর অবয়বের সবচেয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। তাঁর চুল ও দাড়িতে ওয়াসমা দ্বারা কলপ লাগানো ছিল। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৭৪৮, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
এরাই ছিলো মুয়াবিয়ার গভর্নর। এসব তো হাদীসের কিতাবে পাওয়া যায়। আর তারীখের কিতাবে তাদের চরিত্র আরো খারাপ। যা মাওলানা মওদুদী সাহেব তার কিতাবে তুলে ধরেছেন। এদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বললেই তার হাত কাটা, হত্যা করা হতো। এরা কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কাজ করতো আর এদের বিরুদ্ধে কিছু বললেই তাদের হত্যা। এর থেকে স্বৈরাচারীতা আর কি হতে পারে?মাওলানা মওদুদী তার কিতাবে লিখেছেন মুয়াবিয়া হুজুর বিন আদীকে বিনা কারণে হত্যা করেছেন। মুফতি সাহেবও স্বীকার করেছেন যে তাকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু তিনি মুয়াবিয়ার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো---
হুজুর বিন আদী (রা:) কারো কারো মতে সাহাবা
আবার কারো কারো মতে তিনি তাবেই। সে যাই হোক তারীখের কিতাবে স্পষ্ট তিনি একজন নেককার লোক ছিলেন সৎ লোক ছিলেন। এখন মুফতি সাহেব ব্যাখ্যা করে তাকে সাহাবা নয় তাবেই প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। আমাদের কথা তিনি সাহাবা হোক তা তাবেই সেটা কথা নয়। কথা হচ্ছে তাকে হত্যা করা কি ঠিক হয়েছে কিনা সেটাই। মুফতি সাহেব হুজুর বিন আদীর ঈমান আমল নিয়ে কটাক্ষ করেন। আগেও যেমনটা বলেছি হুজুর বিন আদী একজন সৎ ও নেককার ব্যক্তি ছিলেন। আর মুয়াবিয়া ও তার গভর্নররা আলী (রা:) কে গালাগালি করতো এবং কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কাজ করতো এর প্রমাণ আগেই দিয়েছি। হুজুর বিন আদী (রা:) তাদের এসকল কাজের বিরোধিতা করার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়। বিস্তারিত আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে পাবেন। খন্ড ৮ম পৃষ্ঠা ১০৪-১১৪ পৃষ্ঠায় বিস্তারিত পাবেন। হুজুর বিন আদীর যখনই অযু নষ্ট হতো তখনই তিনি অযু করতেন আর অযু যখনই করতেন তখনই দু রাকাত নামাজ আদায় করতেন। তাকে যখন মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয় তখন সে দু রাকাত নামাজ আদায় করতে চায়। সে নামাজ অনেক দীর্ঘ করে পড়তো। কিন্তু মৃত্যুর আগে সে নামাজকে সংক্ষিপ্ত করে আদায় করেন। কারণ হিসেবে বলেন যে যাতে সবাই এটা না ভাবে যে মৃত্যুর ভয়ে সে নামাজ দীর্ঘ করেছেন।
যাই হোক মুফতি সাহেবও স্বীকার করেছেন যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু মুফতি সাহেব মুয়াবিয়াকে বাচানোর জন্য হুজুর বিন আদীকে কটাক্ষ করেন এবং তাকে বিদ্রোহী বানাতে চেয়েছিলেন। তাকে হত্যার একমাত্র কারণ সে ছিলো আহলে বাইয়াত প্রেমী। তার সামনে আলী (রা:) সমালোচনা ও গালি দিলে সে প্রতিবাদ দিতো। মুহাম্মদ ইবনে আবু (রা:) কে হত্যা করে দুর্গন্ধময় গাধার পিঠে উঠিয়ে দেয় তারপরে লাশসহ গাধাকে আগুনে পুরিয়ে দেয়। যা ৭ম খন্ড ৫৬১ পৃষ্ঠায় পাবেন আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে। এছাড়া আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা:) কে হত্যা করে। রাসুল (সা:) বলেছেন আম্মারের পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঈমানে ভরা। আবার বলেছেন তাকে
বিদ্রোহীদল হত্যা করবে সে তাদের জান্নাতের দিকে ডাকবে আর ঐ দল তাকে জাহান্নামের দিকে। তো তাকেও হত্যা করে। করার পর আমর ইবনে আস যখন হাদীসের কথা জানতে পারে তখন বলে এটা ঘটার ২০ বছর আগেই যদি মারা যেতাম। এসব শুনে মুয়াবিয়া বলে আমরা কি তাকে হত্যা করেছি নাকি? তাকে আলী (রা:) হত্যা করেছে এই কথা বলে। যা ৭ম খন্ড ৫৫৫-৫৬ পৃষ্ঠায় আল বিদায়া ওয়ান নিহায়ায় পাবেন। অর্থাৎ যারা আলী (রা:) সঙ্গী ছিলো তাদের হত্যা করতো। যারা তাদের বিরুদ্ধে ছিলো তাদের হত্যা করতো। যারা কুরআন ও সুন্নাহর কথা বলতো তাদের শাস্তি দিতো।
মাওলানা মওদুদী সাহেব বলেছেন মুয়াবিয়ার আমলে বাক স্বাধীনতা ছিলোনা। কিন্তু মুফতি সাহেবের মতে বাক স্বাধীনতা ছিলো। আসলেই কি বাক স্বাধীনতা ছিলো? নিচে আলোচনা করা হলো---
এখানে মুফতি সাহেব তারীখের কিতাব থেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন বাক স্বাধীনতা ছিলো।
আমরা হাদীসের কিতাব থেকে প্রমাণ দিবো বাক স্বাধীনতা ছিলোনা। একবার মুয়াবিয়া মদিনায় আসে। মিম্বরে খুৎবা দিতে গিয়ে ইবনে উমার (রা:) কে লক্ষ্য করে বলে খিলাফতের ব্যাপারে আমিই তার ও তার বাবার চেয়ে বেশী হক্কদার। মানে ইবনে উমার (রা:) ও উমার (রা:) থেকে নাকি বেশী হক্কদার মুয়াবিয়া। পরে এক লোক ইবনে উমার (রা:) কে বলেন যে আপনার নামে এসব বললো আপনি উত্তর দিলেন না যে? তিনি উত্তরে বলেন আমি চেয়েছিলাম উত্তর দিতে। কিন্তু ফেতনা হবে বিধায় আমি চুপ হয়ে যাই। তিনি বলতে চেয়েছিলেন তোমার থেকে বেশী খিলাফতের হক্কদার তিনি, যিনি তোমার বাপ দাদাকে মেরে তোমাদের ইসলামের দিকে নিয়ে এসেছেন। বিস্তারিত হাদীসে দেখুন।
একবার আমি হাফসাহ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। সে সময় তাঁর চুলের বেণি থেকে ফোঁটা পানি ঝরছিল। আমি তাঁকে বললাম, আপনি দেখছেন, (নেতৃত্বের ব্যাপারে) লোকজন কী সব করছে। নেতৃত্বের কোন অংশই আমার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়নি। তখন তিনি বললেন, আপনি তাদের সঙ্গে যোগ দিন। কেননা তাঁরা আপনার অপেক্ষা করছে।
আপনি তাদের থেকে পৃথক থাকলে বিচ্ছিন্নতা ঘটতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করছি। হাফসাহ (রাঃ) তাঁকে বলতেই থাকলেন। শেষে তিনি গেলেন। এরপর লোকজন ওখান থেকে চলে গেলে মু'আবিয়াহ (রাঃ) বক্তৃতা করে বললেন, ইমারতের ব্যাপারে কারো কিছু বলার ইচ্ছা হলে সে আমাদের সামনে মাথা তুলুক। এ ব্যাপারে আমরাই তাঁর ও তাঁর পিতার চেয়ে অধিক হাকদার। তখন হাবীব ইবনু মাসলামাহ (রহঃ) তাঁকে বললেন আপনি এ কথার জবাব দেননি কেন? তখন 'আবদুল্লাহ (ইবনু 'উমার) বললেন, আমি তখন আমার গায়ের চাদর একবার আমি হাফসাহ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। সে সময় তাঁর চুলের বেণি থেকে ফোঁটা পানি ঝরছিল। আমি তাঁকে বললাম, আপনি দেখছেন, (নেতৃত্বের ব্যাপারে) লোকজন কী সব করছে। নেতৃত্বের কোন অংশই আমার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়নি। তখন তিনি বললেন, আপনি তাদের সঙ্গে যোগ দিন। কেননা তাঁরা আপনার অপেক্ষা করছে।
আপনি তাদের থেকে পৃথক থাকলে বিচ্ছিন্নতা ঘটতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করছি। হাফসাহ (রাঃ) তাঁকে বলতেই থাকলেন। শেষে তিনি গেলেন। এরপর লোকজন ওখান থেকে চলে গেলে মু'আবিয়াহ (রাঃ) বক্তৃতা করে বললেন, ইমারতের ব্যাপারে কারো কিছু বলার ইচ্ছা হলে সে আমাদের সামনে মাথা তুলুক। এ ব্যাপারে আমরাই তাঁর ও তাঁর পিতার চেয়ে অধিক হাকদার। তখন হাবীব ইবনু মাসলামাহ (রহঃ) তাঁকে বললেন আপনি এ কথার জবাব দেননি কেন? তখন 'আবদুল্লাহ (ইবনু 'উমার) বললেন, আমি তখন আমার গায়ের চাদর ঠিক করলাম এবং এ কথা বলার ইচ্ছা করলাম যে, এ বিষয়ে ঐ ব্যক্তি অধিক হাকদার যে ইসলামের জন্য আপনার ও আপনার পিতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তবে আমার এ কথাই ঐক্যে ফাটল ধরবে, রক্তপাত ঘটবে এবং আমার এ কথার অন্য রকম অর্থ করা হবে এ আশঙ্কা করলাম এবং আল্লাহ জান্নাতে যে নি'আমাত তৈরি করে রেখেছেন তা স্মরণ করলাম ব'লে কথা বলা থেকে বিরত থাকলাম। তখন হাবীব (রহঃ) বললেন, আপনি (ফিতনা থেকে) রক্ষা পেয়েছন এবং বেঁচে গেছেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪১০৮, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
তো বাকস্বাধীনতা কেমন ছিলো এই হাদীস দ্বারা পরিস্কার। ইবনে উমার তার কথার জবাব দেয়না এটা ভেবে যে তিনি জবাব দিলে রক্তপাত ঘটবে। কেমন বাকস্বাধীনতা? আর এই হাদীসেই উমার (রা:) চেয়েও বেশী খিলাফতের হক্কদার মুয়াবিয়া নাকি ছিলো। এটা কি মুফতি সাহেব মানেন? আর এর আগেও ইবনে আবু বকর (রা:) ঘটনা উল্লেখ করেছি। তিনি মারওয়ান বিন হাকামের সামনে সত্য কথা বললে তাকে পাকড়াও করেন। এরকম অনেক ঘটনাই আছে যা থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় মুয়াবিয়ার আমলে বাকস্বাধীনতা ছিলোনা।
ইয়াজিদের খলিফা মনোনয়নের ইতিকথা। মাওলানা মওদুদী ইয়াজিদের ব্যাপারে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছেন যেগুলোর কিছুটার সাথে মুফতি সাহেব একমত আর কিছুটার সাথে একমত নয়। নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো---
মুফতি সাহেব তার কিতাবে স্বীকার করেছেন যে ইয়াজিদকে খলিফা মনোনয়ন করা ছিলো মুয়াবিয়ার ভুল সিদ্ধান্ত। সাথে মুয়াবিয়ার সাফাই
গেয়ে বলেছেন তিনি ইয়াজিদকে খলিফা মনোনয়ন করেছেন উম্মাহর সার্থে এবং শরীয়তের গন্ডির ভিতরে থেকে।
প্রথম কথা তারা উম্মাহর স্বার্থে কি কি করেছেন এর পুর্বে আমি তা উল্লেখ করেছি তাই নতুন করে কিছু বলতে চাইনা। দ্বিতীয়ত শরীয়তের কোন গন্ডির ভিতরে থেকে নিজের সন্তানকে খলিফা মনোনয়ন করেছেন তা আল্লাহই ভালো জানেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই মুফতি সাহেব শরীয়তের গন্ডির কথা বলেছেন। যেখানে রাসুল (সা:) গান্ডর কথা বলেছেন। যেখানে রাসুল (সা:) কাউকে খলিফা মনোনয়ন করেন নি। আবু বকর (রা:) খলিফা মনোনয়ন করেছেন উমার (রা:) কে কিন্তু তার সাথে তার আত্মীয়ের কোনো সম্পর্ক ছিলোনা। আবু বকর (রা:) সন্তান ছিলো তিনি তাদের মনোনয়ন করেন নি। আবার উমার (রা:) শুরা গঠণ করেন। সেখানে সাফ বলে দেন তার ছেলেকে জেনো খলিফা মনোনয়ন না করা হয়। সেখানে কোন শরীয়ত এর গন্ডিতে মুয়াবিয়া নিজের অযোগ্য সন্তানকে খলিফা মনোনয়ন করেন তা তারাই ভালো জানে। তবে আমি এটুকু জানি তারা শরীয়তের বিধান লঙ্গন করে মনোনয়ন করেছে। হাসান (রা:) সাথে মুয়াবিয়ার যেই সন্ধি হয়েছিলো সেখানে বলা হয়েছিলো তিনি উম্মাহকে শুরার উপর ছেড়ে যাবেন। সেই সন্ধি ভঙ্গ করে সে তার ছেলেকে মনোনয়ন করেন। সেটাকে আবার মুফতি সাহেবরা শরীয়তের গন্ডির কথা বলে। তাও মেনে নেওয়া যায় যদি সেই ছেলে যোগ্য হতো। মুফতি সাহেব অবশ্য বলেছেন ইয়াজিদ তার পিতার নিকট যোগ্য ছিলো তাই খলিফা মনোনয়ন করেছেন। ইয়াজিদ ৩ বছর বাদশাহী করেন, প্রথম বছর হোসাইন (আ:) সহ আহলে বাইয়াতের ৭২ জনকে হত্যা করা হয়। আহলে বাইয়াতদের হত্যার খবর মক্কা ও মদিনায় পৌছালে মক্কা ও মদিনার সবাই তার বাইয়াত প্রত্যাখান করেন। ফলে সে মদিনাকে ৩ দিনের জন্য হালাল ঘোষণা করে। মদিনায় সাহাবাদের হত্যা করে, মহিলাদের ধর্ষণ করে তার বাহীনি এবং লুটপাট করে। পরে তার বাহীনি মক্কায় আক্রমণ করে এবং কাবায় কামান দাগায়। এই হলো যোগ্য বাবার যোগ্য সন্তান। হারার ঘটনা ও কাবা ধংসের ঘটনা বুখারী মুসলিমের গ্রন্থেই পাবেন।মুয়াবিয়া শুধু খলিফা মনোনয়ন করে যায় নি। সে খলিফা থাকা অবস্থায় তার সন্তানের জন্য বাইয়াত নেওয়া শুরু করে দেয়। অথচ এটা হাদীস বিরোধী
কাজ। নিচের হাদীস দেখুন---
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যদি দু'খলীফার জন্য বাই'আত গ্রহণ করা হয় তবে তাদের শেষোক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৬৯৩, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
মুয়াবিয়া খলিফা থাকা অবস্থায় ৪ বছর আগেই ইয়াজিদের জন্য বাইয়াত নেওয়া শুরু করে। হাদীস অনুযায়ী ইয়াজিদের বাইয়াত যখন নেওয়া হয় তখনি তাকে হত্যা করা উচিত ছিলো। হাদীসের কথা কাদের বলবেন? যাদের কাজ ছিলো কুরআন হাদীস বিরোধী তাদের? এটাকেও তারা ইজতিহাদ বলে চালিয়ে দিবে।
ইয়াজিদের যখন বাইয়াত নেওয়া হয় অনেক সাহাবা বিরোধিতা করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা:)। মারওয়ানের মাধ্যমে মদিনায় মুয়াবিয়া বাইয়াতের খবর পাঠালে আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা:) বলে আপনারা খিলাফতের বিষয়টিকে পারস্য ও রোমান রাজতন্ত্রের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।
এই কথা শুনে মারওয়ান তাকে পাকড়াও করেন। পরে মুয়াবিয়া মদিনায় আসলে তাকে বাইয়াতের কথা বললে সে অস্বীকার করে বাইয়াত করতে। তখন মুয়াবিয়া তাকে ১ লাখ দিরহাম ঘুষ দিতে চায়। ইবনে আবু বকর বলেন দুনিয়ার জন্য আমি দ্বীনকে বিক্রি করতে পারবোনা। মাওলানা মওদুদী (রা:) বলে আপনারা খিলাফতের বিষয়টিকে পারস্য ও রোমান রাজতন্ত্রের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।
এই কথা শুনে মারওয়ান তাকে পাকড়াও করেন। পরে মুয়াবিয়া মদিনায় আসলে তাকে বাইয়াতের কথা বললে সে অস্বীকার করে বাইয়াত করতে। তখন মুয়াবিয়া তাকে ১ লাখ দিরহাম ঘুষ দিতে চায়। ইবনে আবু বকর বলেন দুনিয়ার জন্য আমি দ্বীনকে বিক্রি করতে পারবোনা। মাওলানা মওদুদী ঘুষের অভিযোগ এনেছেন এটা সত্য। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে বিস্তারিত আছে। খন্ড ৮ পৃষ্ঠা ১৮০।
শুধু তাই নয়। মুয়াবিয়ার অন্তিম সময় পর্যন্ত কিছু সাহাবা বাইয়াত করেনি। তাদের মধ্যে, আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের, ইমাম হোসাইন, ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমার (রা:)। মুয়াবিয়া মারা যাওয়ার আগে ইয়াজিদকে পরামর্শ দেয় এদের মধ্যে কেউ বাইয়াত না করলে হত্যা করতে। শুধু তাই নয়। মুয়াবিয়া মারা গেলে ইয়াজিদের বাইয়াতের জন্য কঠোর হয়ে যায়। মদিনার গভর্নর ওয়ালীদকে চিঠি পাঠায় বাইয়াতের জন্য। মারওয়ান বিন হাকাম বলে তারা বাইয়াত না করলে তাদের হত্যা করতে। বিস্তারিত আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খন্ড ৮ পৃষ্ঠা ২৭৮।
তো আমার লিখনী এখানেই শেষ করেছি। খিলাফত ও মুলুকিয়াত কিতাবে যা যা মাওলানা মওদুদী লিখেছেন সবই সত্য। হয়তো তিনি তারীখের কিতাব থেকে সকল রেফারেন্স টেনেছেন। কিন্তু আমি বেশীর ভাগ রেফারেন্স কুরআন হাদীস থেকে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন মানা না মানা মুফতি সাহেবদের ইচ্ছা। আল্লাহ ও তার রাসুল (সা:) কে যদি ভালোবাসে তাহলে সত্য মেনে নিবে আর যদি মুয়াবিয়া ও ইয়াজিদের প্রতি মোহাব্বত হয় তাহলে সত্য গ্রহণ করবেনা। অনেকে বলে আমরা সাহাবা বিদ্বেষী। না ভাই সাহাবা বিদ্বেষী আমরা নই। আমরাই সাহাবা প্রেমী। আমরা তো আবু বকরের বিরুদ্ধে বলিনা, উমারের বিরুদ্ধে, উসমানের বিরুদ্ধে, বদরী সাহাবা বাইয়াতে রিদওয়ানের সাহাবাদের কিছু বলিনা। আমরা বলি তাদের বিরুদ্ধে যারা বাধ্য হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসুল (সা:) এর ইন্তিকালের পর তারাই ইসলামের ক্ষতি করেন। তাদের কাছে শুধু মুয়াবিয়াই সাহাবা। বাকীরা সাহাবা নয়। তাই আলী (রা:) কে গালি দেয় তাদের কষ্ট লাগেনা, আম্মারকে হত্যা করে কষ্ট লাগেনা,
আদী বিন হুজুরকে হত্যা করে কষ্ট লাগেনা উলটো কটাক্ষ করে। উমার (রা:) কে কটাক্ষ করে তাদের কষ্ট লাগেনা। কষ্ট শুধু মুয়াবিয়ার জন্য।
Comments
Post a Comment