বি:দ্রি:- মহাভারতের কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।তাই আমার কাছে এটি শুধু একটি সাহিত্যকর্ম মাত্র।মহাভারত হলো আজ পর্যন্ত লিখিত সবচেয়ে বড় মহাকাব্য(বিশাল কবিতা)।
মহাভারতের মধ্যে আমার সবচাইতে প্রিয় চরিত্র হলো Karna.বাংলাতে তাকে কর্ণ(হিন্দিতে কার্ন) বলা হয়।আমি তার পুরো জিবনী এখানে লিখব না।সামান্য কিছু কথা বলব।
কর্ণ যখন জন্ম হয় তখন তার মা কুন্তি তাকে নদীতে ভাসিয়ে দেয়।এই কর্ণ কে শুদ্র দম্পত্তি লালন পালন করে তাই সে বড় হয় সমাজের সবচেয়ে নিচু জাত পরিচয় হিসেবে।কিন্তু বাস্তবে যদিও সে রাজপুত্র।
তার ধনুক /তীর চালানোতে অনেক আগ্রহ ছিল।কিন্তু হিন্দু সমাজ অনুযায়ী নিচু জাত কখনো তীরন্দাজ হতে পারবে না।এগুলো শুধুই ক্ষত্রিয় দের জন্য।তাকে নানা যায়গায় অপমান করা হয়।এমনকি কর্ণের যে গুরু (পরশুরাম) ও তাকে অভিশাপ দেয় যখন জানতে পারে সে যে নিচু জাত এর অথচ সে তীরন্দাজ এ দক্ষতা অর্জন করেছে তার হতে।
এইভাবে সে সর্বদাই নিপীরিত হতে থাকে।তার নিজের যোগ্যতার সমাজে কোন মূল্য ই নেই।সবাই শুধু জাত পাত নিয়ে ব্যস্ত।এইসময় রাজপুত্র দুর্যোধন(Doryodhan) তার পাশে দাঁড়ায়।তাকে একটা অঙ্গরাজ্য দান করে দেয়।আর বলে যে আজ হতে ক্ষত্রিয়(রাজ পরিবার) সকল কাজ এর অধিকার তোমার আছে।এটি শুনে কর্ন সারাজীবন দুর্যোধন এর পাশে থাকবে বলে প্রতিজ্ঞা করে।
সর্বদা সবাইকে শেখানো হয় যে পান্ডবরাই ধর্মের পথে ছিল।আর কৌরবরা ছিল অধর্মের পথে।পান্ডবরাই যদি ধর্মের পথেই থাকত তবে এই যুথিষ্ঠির নিজের ভাই সহ বউকে পাশাতে লাগাত না।এরা ধর্মের পথে থাকলে যেদিন কর্ণ কে সুত পুত্র বলে অপমান করছিল একজন না একজন দাড়াত।কেও সেদিন দাড়ায় নি।
অথচ সেই অধর্মী বলা দুর্যোধন(Doryodhan) ই দাড়িয়েছিল। অনেকে বলতে পারে যে Doryadhan এর নির্দেশে ই দ্রপোদির বস্ত্রহরণ হয়েছে।কিন্তু এর পেছনেও কারণ রয়েছে।দ্রোপদি একবার তাকে অন্ধের পুত্র অন্ধ বলে অপমান করেছিল।
আসলে দুর্যোধন অতোটাও খারাপ না।যতোটা সে খারাপ কাজ করেছে সেটা হয়েছে তার মামাশ্রি শকুনির পরামর্শের জন্য।
তবে আমার কাছে কর্ণ ই হলো পুরো মহাভারতের হিরো।যে কিনা জাত পাত এর বিরুদ্ধে গিয়ে প্রত্যেকে নিজ কর্মগুণে বড় হয় বলে বিশ্বাস করতেন।যে কিনা অনেক বড় দানশীল ছিলেন।তাকে তার রক্ষাকবচ চাইলেও দান করে দেন।বন্ধুত্ব কিভাবে রক্ষা করতে হয় তাও এই চরিত্র দেখিয়েছে।
অথচ তাকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৃষ্ণের আদেশে অর্জুন(Arjun) ছল করে মারে।যখন তার রথ ডেবে যায় ঐ নিরস্ত্র অবস্থায় মারে।
আমি যদি হতাম(ধরে নিচ্ছি যদি সত্যই মহাভারত হতো আর আমি থাকতাম/আমাকে এই গল্প লিখতে দেয়া হলে) তবে আমি এই কর্ণের সারথি হতে চাইতাম।সারথি মানে হলো রথের চালক(যে একজন যোদ্ধার ঘোড়ার গাড়ি চালায় )।অর্জুনের সারথি ছিল শ্রীকৃষ্ণ।আমি হতে চাইতাম কর্ণের সারথি।সারথি যেভাবে যোদ্ধাকে তার প্রকৃত গন্তব্যে পৌছে দেয়,সেভাবে আমি হতে চাইতাম আলোর দিশারী।
Comments
Post a Comment