যদি আমি হতাম মহাভারতের মহারথি(পর্ব ৩)
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু করছি।
গল্পঃ-যদি আমি হতাম মহাভারতের মহারথি(পর্ব ৩)
লেখকঃ- Shohedul Islam Sajjad
এখন সূর্যোদয় হচ্ছে।যেভাবে এখন কালো আকাশ আলোকিত হচ্ছে।সেভাবে আমিও অধর্মের অন্ধকার দূর করার জন্য যাচ্ছি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে।আমি রথের(ঘোড়ার গাড়ি)সারথি অর্থাৎ চালক হলাম।অর্থাৎ সারথি হলাম।আর কর্ণ কে বললাম রথে উঠে পড়তে।কর্ণ উঠে পড়ল রথে।আমি ঘোড়ার রশি ধরে টান দিলাম।আর দ্রুত যেতে থাকলাম কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের রণভূমিতে।
দ্রুত গতিতে রাস্তা পার হতে লাগলাম।ঐ তো দেখা যাচ্ছে বিশাল কুরুক্ষেত্র!দুই পক্ষে বিশাল সেনা!এই সেই মহাভারতের মহা যুদ্ধ।কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ।আজ হতে যাচ্ছে মহারথি কর্ণের প্রথম যুদ্ধের ময়দানে আগমণ!
যুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে।দেখলাম নকুল আর সহদেব কর্ণের বন্ধু দূর্যোধনের দিকে তার তরোয়াল ছুড়ে মেরেছে।মুহুর্তের মধ্যে কর্ণ তীর মেরে তাদের অস্ত্র কে অকেজো করে দিল।সবাই খুজতে লাগল কে সেই বলশালী যে তাদের মতো যোদ্ধার অস্ত্র নিক্ষেপ কে অকেজো করে দিল!
সাথে সাথে সবাই দেখল ধনঞ্জয় কর্ণের কুরুক্ষেত্রে প্রবেশ!আরে ঐ তো দেখা যাচ্ছে ধনঞ্জয় অর্জুন।আর তার সারথি কৃষ্ণ।গায়ের রঙ কিছুটা কালো এবং কিছুটা নীল।কৃষ্ণের মুখে সর্বদা মুচকি হাসি।মুকুট মুয়ুরের পাখনা যুক্ত।যে বাঁশি বাজিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করে।নিজেকে জগতের ভগবান( ঈশ্বর)দাবী করে।অথচ সে তা তো নয় ই বরং মায়া করে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে যাচ্ছে!
কৃষ্ণঃ-কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তোমাকে স্বাগতম অঙ্গরাজ কর্ণ।কিন্তু আমার চেহারা ধারণকারী(আমাকে দেখিয়ে)
এই লোক কে?পন্দ্রাক বসুদেব তো আমার সুদর্শন চক্রের ভার সইতে না পেরে কবেই মৃত্য হয়েছে।এ নিশ্চয়ই তার আসল চেহারা নয়।
এটি বলে সাথে সাথে কৃষ্ণ হাত থেকে এক প্রকার আলো বের করল।এটি আমার গায়ে লাগার সাথে সাথেই আমার চেহারা যা পন্দ্রাক বাসুদেবের মতো ছিল তা পরিবর্তন হয়ে আমার আসল চেহারায় রুপান্তরিত হয়ে গেল।
আমিঃ-সাজ্জাদ!সাজ্জাদ আমার নাম।আমি এই আসল রুপেও আসতে পারতাম।তারপরেও এক প্রকার প্রতিকী অর্থে পন্দ্রাক বসুদেবের রুপে আমার প্রথম আগমণ।যে বুদ্ধিমান সে এর পেছনের রুপক অর্থটি ঠিকই ধরতে পারবে।
কৃষ্ণঃ- কর্ণের সারথি হওয়ার উদ্দেশ্য কি?
আমিঃ -সত্যের প্রচারের জন্য এসেছি।ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য এসেছি।এসেছি তোমার মতো নকল ঈশ্বরের করা ছল সবার সামনে তুলে ধরতে।কর্ণ আমার মিত্র তাই আমি কর্ণের সারথি হওয়াকেই নির্বাচন করেছি।
কৃষ্ণঃ-অধর্মী কৌরবদের সাথে যে থাকবে তার বিনাশ নিশ্চিত!আর আমাকে যে দেখেও ঈশ্বর মানে না তার ও বিনাশ নিশ্চিত।শুনে রাখো হে বালক--->>
''আমি যখন মনুষ্যরূপে অবতীর্ণ হই, তখন মুর্খেরা আমাকে অবজ্ঞা করে। তারা আমার পরম ভাব সম্বন্ধে অবগত নয় এবং তারা আমাকে সর্বভূতের মহেশ্বর বলে জানে না।'' (১)
যারাই আমাকে ঈশ্বর রুপে আরাধনা করে না তারাই হলো অধর্মী।আর অধর্মীদের বিনাশের জন্যই এই যুদ্ধ।ধর্মযুদ্ধ।
আমি কিছু বলতে চাইছিলাম।কৃষ্ণের কথা যে কেন মিথ্যা তা সবার সামনে অবলীলায় প্রমাণ করতে পারব।কিন্তু এখন যুদ্ধের সময়ে বার্তালাভ করলে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাবে।তাই আমাকে থামিয়ে কর্ণ বললো--->
কর্ণঃ-এখন তর্কের সময় নয় সাজ্জাদ।এখন যুদ্ধের সময়।মাধবের সাথে তর্ক পড়ে করো।যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে।
আমিঃ-আচ্ছা কিছু এখন বললাম না।আর তা পরে দেখা যাবে যে কে অধর্মের পথে আছে আর কে ধর্মের পথে।তবে যতক্ষণ না কেও আমার বিরুদ্ধে অস্ত্র না তুলবে ততক্ষণ আমিও তুলব না।তো কর্ণ, শুরু করো যুদ্ধ।
অর্জুন ধনুকের রশি টান দিল।তার সাথে কর্ণ ও।কর্ণকে দেখলাম কিছু আস্তে আস্তে পড়ছে।পড়ার সাথে সাথে আকাশ হতে বিজলী কর্ণের ধনুক এ যুক্ত হতে লাগল।আর আকাশ হতে বজ্রপাতের শব্দ হতে লাগল!
কিছু সময়ের মধ্যে সেই বজ্রপাত তীরে রুপান্তরিত হয়ে গেল।
কৃষ্ণ তা দেখে বলল দেবরাজ ইন্দ্রের মহা শক্তিশালী বাসব শক্তি অস্ত্র!(২)
কর্ণঃ-আমি চাইলেই তোমার নাম নিয়ে এটি ছেড়ে দিলেই তোমাকে বধ করতে পারি অর্জুন।এটি সেই অস্ত্র যা আমার রক্ষাকবচ ইন্দ্রকে দান করার বদলে মিলেছে।তবে প্রথমেই যদি আমি তা ব্যবহার করে তোমায় বধ করে ফেলি তবে কেও জানবে না যে কে আমাদের মধ্যে বেশী নিপুণ ধনুকধারী ছিল।আর তা অধরাই থেকে যাবে।তাই আমি এখনই তা ব্যবহার করছি না।
এটি বলে সেই তীর কর্ণ নামিয়ে নিল এবং আবার ধনুকের রশি ধরে টান দিয়ে সাধরণ তীর উৎপন্ন করল।অনুরুপ অর্জুন ও ধনুকের রশি ধরে টান দিয়ে অদৃশ্য হতে তীর দৃশ্যমান করল।তারা দুইজন একে অপরের দিকে তীর ছেড়ে দিল এবং দ্রুতবেগে এক তীর অপর তীরকে ধ্বংশ করে দিল।
এভাবে প্রত্যেকেই একে অপরকে তীর নিক্ষেপ করে চলেছে।আর উক্ত তীর পরস্পরকে কাটাকাটি করে দিচ্ছে।যখন দুই তীর একত্রে টক্কর লাগে তখন তা বিকট শব্দ করে ধ্বংশ হয়ে যায় আর তা থেকে প্রচুর আলো নির্গত হয়।যুদ্ধটি দেখতে আমার বেশ উপভোগ্য লাগছে!
এদিকে শুনতে পেলাম দূর্যোধনের ডাক।অঙ্গরাজ কর্ণকে চিৎকার করে ডাকছে।কর্ণ তখন চলে যেতে চাইছে তখন অর্জুন আবার কর্ণের দিকে তীর নিক্ষেপ করল।
অর্জুনঃ-যুদ্ধ না করেই ভেগে যাচ্ছ প্রতারক !
কর্ণঃ-মাঝে মাঝে যুদ্ধকে থামিয়ে দেয়াটাও শ্রেষ্ঠ
আর তা আমি মাধব(কৃষ্ণ)থেকেই শিখেছি।
তখনো অর্জুন মানলো না।আবার তীর নিক্ষেপ করতে উদ্ধত হলো।ঠিক তখনি কর্ণ বলল বুঝেছি এখন কিরণাস্ত্র নিক্ষেপ করা ছাড়া উপায় নেই।এটি বলেই আস্তে আস্তে কর্ণ কি যেন বলে আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করল।এর ফলে সূর্যের আলো সরাসরি অর্জুনের রথের দিকে পড়ল।এতে অর্জুন কিছুই দেখতে পেল না।এই সুযোগে আমাকে কর্ণ আদেশ দিল ----->>>
কর্ণঃ-সাজ্জাদ রথকে দূর্যোধনের দিকে নিয়ে যাও।
আমি রথকে দূর্যোধনের দিকে নিয়ে যেতে লাগলাম।ঘোড়ার রশিতে ধরে টান দিলাম আর রথ দূর্যোধনের দিকে যেতে লাগল।
কর্ণের যায়গায় অশ্বথামা(৩) অর্জুনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে থাকল।
আর এদিকে আমি রথ নিয়ে যাওয়ার মাঝখানে শুনতে পেলাম ভীম ১০০কৌরবকে হত্যা করার জন্য তাদের বিরুদ্ধে তার গদা দিয়ে যুদ্ধ করে যাচ্ছে।কেননা ভীম প্রতিজ্ঞা করে রেখেছে সে তার চাচাতো ভ্রাতাগণ অর্থাৎ ১০০কৌরবকে হত্যা করবেই করবে।
এটি শুনে আমি বললাম।
আমিঃ-দূর্যোধন তার নিজের রক্ষা ঠিকই করতে পারবে।কেননা অর্জুনের পুত্র অভিমন্যুর বিরুদ্ধে দূর্যোধনের যুদ্ধ করাটা তেমন কিছুই না।সে তো নিতান্তই বালক।
এটি বলে আমি রথকে ভীমের দিকে নিয়ে গেলাম।দেখলাম বিশাল মোটাসোটা দানবের মতো দেখতে ভীম
তার ১০০ভ্রাতাকে বধ করার উদ্দেশ্য গদা দ্বারা প্রহার করে চলেছে।এই মুহুর্তে কর্ণ আমার রথ হতে নামল।রথ হতে নেমে ভীমকে বলল এসব বন্ধ করতে।কিন্তু ভীম এসব মানতেই রাজি নয়।ভীম কর্ণকে শুদ্রপুত্র বলে গালি দিল।আর আমাকে ভীম দেখে বলল।
ভীমঃ-আরে শুদ্রপুত্র(নিচুজাত অর্থে তাচ্ছিল্ল করে)কর্ণ।নিজের সাথে এই ছোট্ট বালক কে কেন নিয়ে এসেছিস!
একে তো আমি একটা আঙ্গুল দিয়ে টোকা দিয়েই শেষ করে দিব।হা হা হা!!!
আমাকে ভীম মারার জন্য সামনে এগিয়ে এল।তারা তো আর জানে যা সে আমি টাইম মেশিন দিয়ে বিভিন্ন উচ্চ মানের প্রযুক্তি নিয়ে এসেছি!সাথে সাথে আমি ফোর্থ ডাইমেনশন(৪)থেকে এক প্রকার অদৃশ্য পর্দা দ্বারা ভীমকে ঘেরাও করে ফেললাম।এরপরে আর ভীম আমাকে মারতে পারল না।
আমিঃ-যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাকে আঘাতের জন্য কেও এগিয়ে আসতো ততক্ষণ পর্যন্ত আমি অস্ত্র তুলতাম না।কিন্তু তা তুমি করেছ ভীম।তুমি প্রচন্ড অহংকারী।এটা তোমার শাস্তি!এখন আর পারবে না ১০০ কৌরবকে মারতে।
দেখলাম অভিমন্যুর ঘূর্ণায়মান বাতাসের চক্র থেকে দূর্যোধন ছুটে এসেছে।এসে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল।
দূর্যোধনঃ-তুমি কোথা থেকে এসেছ আমি জানি না ছোট্ট বালক।কিন্তু যা করেছ তা একেবারে ঠিক করেছ।এই ভীম এখানে বন্দি হয়ে থাকুক।
আমাকে দেখে মামাশ্রী শকুনিও(৫)বেশ খুশী হলো।সে ল্যাংরাতে ল্যাংরাতে এসে দাঁত কেলিয়ে আমার সামনে উপস্থিত হয়ে বলল---->>>
শকুনিঃ-তুমি আমার মতোই বুদ্ধিমান হয়েছ বালক।যখন এখানে এসেছই তখন কৃষ্ণের মতো ছলকারীর মায়া থেকে সাবধানে থাকবে।তার কুটনীতি অনেক জটিল হে বালক!
শকুনি আরো কিছু বলতে চেয়েছিল। দেখলাম বলার আগেই অর্জুন আর তার রথের সারথি কৃষ্ণ রথ চালিয়ে এগিয়ে আসলো।ব্যপারটি জেনে কৃষ্ণ রাগান্বিত হয়ে গেল।
কৃষ্ণ রথ থেকে নেমেই তর্জনী আঙ্গুল খাড়া করল।সাথে সাথেই অদৃশ্য থেকে সুদর্শন চক্র দৃশ্যমান হয়ে আঙ্গুলের চারপাশের ঘুড়তে লাগল।কৃষ্ণ রাগান্বিত হয়ে বলল---->>>
কৃষ্ণঃ-হে নরাধম পাপিষ্ঠ এবার তোর মৃত্যু নিশ্চিত!
আমি কৃষ্ণের এই অবস্থা দেখে বললাম---->>>
আমিঃ-হে কানাই তুমি নিজেই বলেছিলে-->>
যে বুদ্ধি অধর্মকে ধর্ম এবং সমস্ত বস্তুকে বিপরীত বলে মনে করে, তমসাবৃত সেই বুদ্ধিই তামসিকী।(৬)
অথচ তুমি নিজেই তামসিক গুণ সম্পন্ন।নিজেই ছল করে অধর্মকে ধর্ম আবার ধর্ম কে অধর্ম বানাও।নিজে অস্ত্র তুলবে না প্রতিজ্ঞা করেও পিতামহ ভীষ্মকে এভাবে মারতে চেয়েছ!এখন আমাকেও ছাড়ছ না!
এটি শুনে কৃষ্ণ আরো বেশী ক্রোধান্বিত হয়ে গেল এবং সুদর্শন চক্র আমার দিকে মারতেই নিয়েছিল। তখন সেটি দমনে আমি আমার নিদর্শন চক্র ওঠাতে যাব। তখনই সাথে সাথে অর্জুন দৌড়ে এসে কৃষ্ণের পায়ে পড়ে গেল।অর্জুন বলল-->>>
অর্জুনঃ-এটি করবেন না মাধব।আপনি প্রতিজ্ঞা করেছেন যে এই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে আপনি কোন প্রকার অস্ত্র তুলবেন না।দয়া করে এই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবেন না!এই ছোট্ট বালককে তো আমিই বধ করে ফেলতে পারব।
এটি শোনার পর কৃষ্ণের ক্রোধ শান্ত হলো আর তার সুদর্শন চক্র অদৃশ্য করে ফেলল।
আমি মনে মনে ভাবলাম এ আর কি প্রতিজ্ঞা রক্ষা করবে।তার কাজ ই তো হলো নারীভোগ করা আর যারাই তাকে মানে না,ধর্মের নাম করে তাদেরকে ছল করে বধ(হত্যা) করা।এই মাখন চোর কানাইয়া(কৃষ্ণ) তো কোন নীতিই মানে না।তার উপরে নিজেকে ঈশ্বর বলে বলে জনগনকে পথভ্রষ্ট করে যাচ্ছে!আজ শিশুপাল(৭)যদি জীবিত থাকতো তবে এই ছালিয়ে যে কত অশ্নীলতা করেছে তা দেখিয়ে দিত!
সূর্যাস্ত হচ্ছে আজকের মতো যুদ্ধ শেষ।ভীমের চারপাশের ঘেরাও খুলে দিলাম।এরপরে আমি রাতে ঘুমানো জন্য ফোর্থ ডাইমেনশনে অদৃশ্য হয়ে গেলাম।আমার টাইম মেশিনের ভেতরে অনেক সুন্দর বিছানার ও ব্যবস্থা রয়েছে।আমি সেখানে ঘুমাবো।
সকাল হচ্ছে।আমি অদৃশ্য অবস্থা হতে দৃশ্যমান হলাম।আজ ও আমি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে উপস্থিত।আবার শুরু হলো কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ ।
কর্ণ অর্জুনকে উদ্দেশ্য করে তীর ছুড়লো আবার অর্জুন ও কর্ণকে উদ্দেশ্য করে তীর ছুড়লো। অর্জুনের তীরের শক্তিতে কর্ণের রথ অনেক পেছনে চলে গেল।আর কর্ণের তীরের শক্তিতে অর্জুনের রথ মাত্র সামান্যই পেছনে হটল।
এতে কৃষ্ণ কর্ণকে খুশী হয়ে বলতে লাগল বাহ কর্ণ বাহ!তুমি আসলেই একজন কুশল ধনুকধারী!
অর্জুনঃ-আমার তীরের শক্তিতে কর্ণের রথ অনেক পেছনে গেল আর তার তীরের শক্তিতে সামান্য!তারপরেও আপনি ওর প্রশংসা করলেন!
কৃষ্ণঃ-কর্ণের রথের সারথি সামান্য একজন বালক।এ কিছু বোঝে না।কিন্তু তোমার রথের সারথি কে সেটা তো দেখতে হবে! স্বয়ং বিশ্ব জগতের পালনকর্তা বসে আছে।পুরো বিশ্বব্রহ্মান্ডের ভার এখানে রয়েছে!
কৃষ্ণের এই অহংকারী মিথ্যা কথাবার্তায় আমার খুব রাগ হলো।মন চাইছে এখনই এই ছালিয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামি।কিন্তু আমাকে কেও আক্রমণ না করা পর্যন্ত আমিও অস্ত্র তুলবো না। তাই চুপ করে রইলাম।এই দিনটা এভাবেই যুদ্ধে কেটে গেল।কর্ণ একবার সাপযুক্ত তীর(নাগ অস্ত্র) অর্জুনকে নিক্ষেপ করেছিল কিন্তু কৃষ্ণ মাটিতে তার পা দিয়ে আঘাত করে রথকে ডাবিয়ে দিল। এতে সাপ যুক্ত বিশাক্ত তীর উপর দিয়ে চলে গেল আর অর্জুন রক্ষা পেল।আমি বুঝতে পারলাম যে আমি কিছু না করলে অর্জুনকে কর্ণ কিছুই করতে পারবে না।কেননা কৃষ্ণ ক্রমাগত ছল করে অর্জুন সহ পুরো পান্ডব সেনাকে বাঁচিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে ভীম ১০০কৌরবকে হত্যা করেই চলেছে।আমি পরে কৌরব দলের সবাইকে আশ্বাস দিলাম।এখানে কোন মরণ হই নি।বরং এগুলো সবই কৃষ্ণের মায়া।কৃষ্ণের বিনাশ আমার হাতেই হবে। আর তা হওয়ার পরে সবাই জীবিত হয়ে উঠবে।
এভাবেই দিন চলতে লাগল।একদিন ভিম তার পুত্র রাক্ষস ঘটতকচ কে যুদ্ধে আহবান করলো।সে যুদ্ধে আসার পরে তার শক্তিতে কৌরব দলের সেনা কমতে লাগল।তাই দূর্যোধন আদেশ দিল সেই ইন্দ্রের বজ্র অস্ত্রটি ঘটোৎকচের দিকে নিক্ষেপ করতে যা সে অর্জুনের জন্য রেখেছিল।আর আমিও কিছু তাকে বললাম না।কর্ণ এই নিক্ষেপ করে রাক্ষস ঘটতকচ কে হত্যা করল।
আমিঃ-হে মহারথি কর্ণ,এই তীর এবং তোমার রক্ষাকবচ না থাকলেও তোমার সমস্যা নেই।তুমি অনেক শক্তিশালী।তুমি অবশ্যই এই তীর ছাড়াও
এই যুদ্ধে জয়লাভ করবে।
এভাবেই আমি কর্ণের সারথি হিসেবে ভূমিকা রাখছিলাম।কিন্তু হঠাৎ শুনতে পেলাম গুরু দ্রোন(৮) কে পান্ডবেরা হত্যা করে ফেলেছে!কিন্তু কিভাবে তাদের গুরু কে যে কিনা এত টা শক্তিশালী তাকে হত্যা করল!
গিয়ে শুনলাম যুথিষ্ঠির খবর দেয় যে তার পুত্র অশ্বথামা মারা গিয়েছে।অথচ এই কথা ছিল মিথ্যা!একটা হাতির নামে অশ্বথামা রেখে তাকে বধ করে তার পুত্র অশ্বথামা মারা গিয়েছে বলে একটা ষড়যন্ত্র করে পান্ডব প্রতারকেরা!যুথিষ্ঠির মিথ্যা বলতে পারে না এই বিশ্বাসে দ্রোণাচার্য তার পুত্রের শোকে ব্যথিত হয়ে পড়ে।এই সুযোগে তাদের গুরু কে পান্ডবেরা হত্যা করে!আমি এদিকে কর্ণের সারথি থাকা অবস্থায় এতকিছু ঘটে গেল!কুরুক্ষেত্রের রণক্ষেত্র এতটাই বড় যে তার পুরো অবস্থার খবর নেয়াটা খুবই জটিল।তারপরেও এই পুরো যুদ্ধটাই যেহুতু কৃষ্ণের মায়া;তাই সেটি দূর হলে অবশ্যই এর কোন একটা সমধান পাওয়া যাবে!
এভাবে দিন চলতে লাগল।প্রত্যেক দল ই তার শক্তি দিয়ে যুদ্ধ লড়ে যাচ্ছে।একদা কর্ণের শিষ্য পরশুরাম কর্ণের কাছে এলো।পরশুরাম কর্ণকে তার বিজয় ধনুকের আহবান(৯) করতে বলল।
দেখতে দেখতে আজ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ১৭ তম দিন।যুদ্ধের ১৫ তম দিনে গুরু দ্রোণাচার্য নিহত হলে গতকাল ১৬ তম দিনে কৌরবপক্ষের সেনাপতি নিযুক্ত হয় কর্ণ।আমি যেহুতু এই কাল্পনিক জগতে টাইম মেশীন দিয়ে ভবিষ্যত হতে এসেছি তাই আমার জানা অনুযায়ী মোট ১৮ দিনে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা।আজকের এই দিনে যুদ্ধে আমাকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে।রথ নিয়ে কর্ণের সাথে যথাসময়ে উপস্থিত হলাম।কর্ণ বিজয় ধনুক দিয়ে আজ যুদ্ধে নেমেছে।বাপরে বাপ!এর যে কি তেজ!অর্জুনের শক্তির ধারের কাছেও যাচ্ছে না।অর্জুন ধনুকের রশি ধরে টানার আগেই কর্ণের তীর অর্জুনের কাছে পৌছে যাচ্ছে।সেই তীর থেকে বজ্রপাতের মতো ধ্বণি নির্গত হচ্ছে।তার উপরে যখন এটি কর্ণের হাতে,তখন কেও ই তাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারছে না!অর্জুন ও কর্ণের মধ্যে বিশাল যুদ্ধ চলছে!তার থেকে প্রচুর শব্দ ও দিব্য আলো নির্গত হচ্ছে!
এত ভয়ংকর যুদ্ধ দেখে যেন মনে হচ্ছে যে এখানে দিব্য শক্তিহীন কোন সাধারণ মানুষ থাকলে হয়তো অন্ধ ও বধির হয়ে যেত!আমি বিভিন্ন প্রযুক্তি দিয়ে নিজ অঙ্গ নিয়ন্ত্রিত করছি বলে রক্ষা পাচ্ছি।
এ অবস্থা দেখে আমি অর্জুনকে বললাম--->>>
আমিঃ- এখন তুমি কিভাবে আমার মিত্রের সাথে পারবে কুন্তিপুত্র গান্ডিবধারী ধনঞ্জয়।এখন আমার মিত্রের বিজয় নিশ্চিত!
এরপরে কৃষ্ণ অর্জুনকে বলল---->
কৃষ্ণঃ-হে পার্থ,আমি যাই বলব তা পালন করার জন্য তৈরী আছে তো?মনে আছে তোমাকে গীতা জ্ঞান দেয়ার সময় তুমি নিজেকে আমার কাছে সমর্পণ করে দিয়েছ।মনে আছে পার্থ সমর্পনের জন্য আমি কি পন্থা তোমায় দিয়েছিলাম।
মনে আছে হে পার্থ আমি বলেছিলাম,
''যারা সমস্ত কর্ম আমাতে সমর্পণ করে, মৎপরায়ণ হয়ে অনন্য ভক্তিযোগের দ্বারা আমার ধ্যান করে উপাসনা করেন, হে পার্থ! আমাতে আবিষ্টচিত্ত সেই সমস্ত ভক্তদের আমি মৃত্যুময় সংসার-সাগর থেকে অচিরেই উদ্ধার করি।অতএব আমাতেই তুমি মন সমাহিত কর এবং আমাতেই বুদ্ধি অর্পণ কর। তার ফলে তুমি সর্বদাই আমার নিকটে বাস করবে, সেই সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নেই।''(১০)
অর্জুনঃ-অবশ্যই তৈরী আছি মাধব।আমি আপনার জ্ঞান শ্রদ্ধাভরে সর্বদা স্মরণে রাখি।আপনার যেকোন আজ্ঞা পালন করার জন্য আমি তৈরী।
এটি শুনে কৃষ্ণ রথকে চালিয়ে পেছনের দিকে ভাগতে লাগল।অর্জুন এটি দেখে বুঝতেই পারলো না যে কেন এমনটি করা হচ্ছে।এদিকে কর্ণ বলছে কেন এই মুহুর্তে চলে যাচ্ছ অর্জুন!
অর্জুনঃ-রথ থামান মাধব!এটা নিশ্চয়ই এক প্রতারণা।যুদ্ধের সময় পেছনে ভেগে যাওয়া কোন মহারথির কাজ নয়।
কৃষ্ণঃ-আমার আজ্ঞা তুমি পালন করে যাবে বলেছ।তাই এখনো আমার সহিৎ কোন প্রকার দ্বিমত হতে পারবে না।যা করছি চুপ করে দেখে যাও।
এটি বলেই কৃষ্ণ বাঁশি বাজাতে শুরু করল।আর পেছনের দিকে রথকে চালাতে লাগল। কৃষ্ণের বাঁশি বাজানোর অভ্যাস থাকলেও মূল মহাভারতে তো এই সময়ে কৃষ্ণ বাঁশি বাজায় নি।কৃষ্ণের বাঁশির শব্দে আমি মোহিত হতে থাকলাম।কেমন মাতাল অবস্থা আমার মধ্যে বিরাজ করা শুরু করল!
এখন মোহিত হওয়াকে দূর করার একটাই উপায়।আমিও কোরআন তেলাওয়াত শুরু করলাম আর রথ চালিয়ে চালিয়ে অর্জুনের রথের পেছনে ধাওয়া করলাম।
আমি সাথেই সাথেই বুঝে গেলাম এরপরে কি হতে চলেছে।আজ আমি না থাকলে এই দিনটি কর্ণের জীবনের শেষদিন হতো।কিন্তু এখন আর সেটি হওয়ার সম্ভাবনাই নেই।চলন্ত অবস্থায় পথিমধ্যে আমাদের রথ মাটির খাদে আটকে পড়ল।সর্বনাশ!যেটি ভেবেছি সেটিই হতে চলেছে!
-------------------
আজ আর নয়।শেষ পর্ব ৪ শীঘ্রই আসছে.......
-----------
----------------
-------------------------
(১)ভগবত গীতা,নবম অধ্যায়ের ১১নং শ্লোক।
(২)কর্ণের রক্ষাকবচ দান ও ইন্দ্রের বাস শক্তি অস্ত্র প্রাপ্তিঃ-কর্ণ জন্মগতভাবে রক্ষকবচ প্রাপ্ত হয়েছিল।এটি তার পিতা সূর্যদেবের দান।তাকে কেও প্রহার করলে তার শরীর সোনালী বর্ণের শক্তিশালী রক্ষাকবচ দিয়ে ঢেকে যেত।এটি থাকলে কেও তাকে পরাজিত করতে পারবে না।স্বয়ং অর্জুন ও নয়।এটা অর্জুনের পিতা দেবরাজ ইন্দ্র ভালো করেই জানতো।আর এটাও জানতো যে কর্ণ দানশীল।তার কাছে কিছু চাইলে সে কখনো ফিরিয়ে দেয় না।তাই একবার ব্রাহ্মন বেশে ইন্দ্র
তার কাছে রক্ষাকবচ দান চেয়ে বসল।তখন কর্ণ সাথে সাথে সেটি দিয়ে দিল।এরপর থেকে কর্ণ দাতাকর্ণ হিসেবে অধিক পরিচিত।
এখন এমন গর্হিত কাজের ফলে দেবরাজ ইন্দ্র পড়ল বিপদে।এখন কর্ণকে কিছু না দিলে দেবতাকূলে তাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হবে!তাই কিছু চাওয়ার জন্য ইন্দ্রকে পীড়াপীড়ি করতে লাগল।
এর পরিবর্তে কর্ণ চেয়েছিল এমন অস্ত্র যার দ্বারা কারোও নাম নিয়ে ছেড়ে দিলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত।পরে ইন্দ্র তাকে দেয় বাসব শক্তি অস্ত্র।কর্ণের ইচ্ছা ছিল তা দিয়ে অর্জুনকে হত্যা করবে।কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত এটি ভীমের পুত্র রাক্ষস ঘটোৎকচের উপরে প্রহার করতে হয়।কেননা মানুষের মধ্যে রাক্ষস ডেকে এনে পান্ডবেরা যুদ্ধের নিয়মনীতি নষ্ট করেছিল।তাই তৎক্ষনাৎ ই এই রাক্ষস বধ করে অনিবার্য ছিল।
বিঃদ্রিঃ-যারা মহাভারত ভালো জানেন না তারা অনেকে বলতে পারে যে কর্ণ তো শুদ্র।আর অর্জুন তো পান্ডব।তাহলে তাদের পিতা দেবতারা কিভাবে হয়?আসলে পান্ডু যৌনকর্ম করলে( অভিশাপের ফলবশত) মৃত্যু ঘটবে।এতে সিংহাসনে বসবে কে?তাই তার স্ত্রী কুন্তি দেবতাদের কামনা করে তার পুত্র অর্থাৎ পান্ডবদেরকে উৎপন্ন করে।তার মধ্যে সূর্যদেবের মাধ্যমে কর্ণ কে আগেই উৎপন্ন করে ফেলেছিল বিধায় চক্ষুলজ্জায় কর্ণ কে ভাসিয়ে দেয়।এর পর সেটি এক শুদ্র দম্পত্তি(নিম্ন জাতী)পেয়ে তাকে লালন পালন করে।তাই এত ক্ষমতা থাকার পরেও শুধু শুদ্র বলেই তাকে সবাই অপমান করে।
কি অবাক হচ্ছেন?আসলে হিন্দুধর্মের কাহিনীগুলো এমনই অশ্নীলতা, অনীতি ও প্রতারণায় ভরপুর।তার উপরে মহাভারত ও পুরাণে বর্ণিত হিন্দু ধর্মের উপাসক কৃষ্ণ এই বর্ণপ্রথা ও অশ্নীলতার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ ই নিতে দেখা গেল না!সে নিজে কি পদক্ষেপ নিবে?সে তো নিজেই অশ্নীলতায় নিমজ্জিত!আর তো বর্ণপ্রথা!
(৩)অশ্বথামাঃ-অশ্বত্থামা (সংস্কৃত ও হিন্দিতে:अश्वत्थामा) মহাভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। অশ্বত্থামা হল গুরু দ্রোণ এর পুত্র। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিতে দুটি ক্ষেত্রে এই নাম পাওয়া যায়। তার একজন হলেন এই অশ্বত্থামা এবং আরেকজন হলেন বনের হাতি যাকে হত্যা করে ভীম এবং হত্যার কথা যুধিষ্ঠির গুরু দ্রোণকে গিয়ে বললে তিনি যুদ্ধ ক্ষেত্রে তার অস্ত্র পরিত্যাগ করেন।
(৪)ফোর্থ ডাইমেনশনঃ-ডাইমেনশন অর্থ মাত্রা।আমরা তিন ডাইমেনশনকে নিজ প্রজ্ঞা ও অনুভব দ্বারা নির্ণয় করতে পারি।এটি হলো দৈর্ঘ্য,প্রস্থ ও উচ্চতা।তবে স্ট্রিং থিউরী অনুযায়ী মোট ১১টি ডাইমেনশন থাকা সম্ভব।তার মধ্যে চতুর্থ ডাইমেনশনে সময় অবস্থান করে।আমার কল্পনাকৃত টাইম মেশিন সময় নিয়ন্ত্রন করতে পারে বলে এটি ফোর্থ ডাইমেনশনে অবস্থিত।তো যাই হোক এটি কল্প বিজ্ঞানের বিষয়। তাই এত বিস্তারিত এখানে বলছি না।কোন সায়েন্স ফিকশন আমার এ বিষয়ে লেখার ইচ্ছা আছে।
(৫)শকুনিঃ- গান্ধাররাজ সুবলের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও গান্ধারীর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা। তিনি মহাভারতের প্রধান খলনায়ক(যদিও আমার মতে সেটি হলো কৃষ্ণ)।তাকে ধরা হয় অত্যন্ত ধূর্ত ও কপট হিসেবে। গান্ধারীর বিবাহের পর থেকে শকুনি ধৃতরাষ্ট্রের সংসারেই থাকতেন এবং ভাগিনেয় দুর্যোধনের সঙ্গে ওঁর বিশেষ বন্ধুত্ব ছিল। তাঁর কারণেই মহাভারতের বিচিত্র ঘটনাগুলো আবর্তিত হয়েছে। তিনি অস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী নন; তথাপি তাঁর কপট বুদ্ধিতেই সমগ্র কুরুবংশ ধ্বংস হয়েছিল বলে সনাতনীরা মনে করেন।
(৬)রেফারেন্সঃ-ভগবত গীতার ১৮ তম অধ্যায়,৩২ নং শ্লোক।
(৭)শিশুপালঃ-শিশুপাল ছিলেন চেদী রাজ্যের রাজা দমঘোষ এবং বসুদেব ও কুন্তীর ভগিনী শ্রুতস্রবার পুত্র৷ সম্পর্কে কৃষ্ণের আত্নীয় তবে প্রবল কৃষ্ণবিরোধী।কৃষ্ণের ছল ও অশ্নীলতা সম্পর্কে শিশুপাল খুব ভালোভাবেই অবগত ছিলেন।মহাভারতে বর্ণিত হয়েছে যে যুথিষ্ঠীরের রাজ্য অভিষেকের সময় শিশুপাল কৃষ্ণের করা অনৈতিক,অশ্নীল কার্যকলাপের বিষয়ে অভিযোগ তুলেন।অভিযোগ গুলো দেখিয়ে কৃষ্ণকে কটুক্তি করেন।এভাবে শত(১০০) অভিযোগ সম্পূর্ণ হলে কৃষ্ণ তার সুদর্শন চক্র দ্বারা শিশুপালকে হত্যা করে ফেলেন।
একটা মজার কথা,ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে শিশুপাল কৃষ্ণের অশ্লীলতা নিয়ে অনেকগুলো অভিযোগ করেছে!
অনেক হিন্দু ভাই/বোনেরা বলেন যে পুরাণ তো বিকৃত। পুরাণ অনেক পরে লিখা হয়েছে।এগুলো কাল্পনিক।তাই শিশুপাল যেসব অভিযোগ করেছেন আর কৃষ্ণের লীলার নামে যেগুলো বলা হয় তা মিথ্যা!এমনকি ভাগবত পুরাণে বর্ণিত কৃষ্ণ ১৬১০৮ টি বিয়ে ও বৃন্দাবনে গোপীদের সাথে করা লীলা ও মিথ্যা!
তাদের জন্য বলি আচ্ছা ভাগবত পুরাণের বর্ণনা মিথ্যা মানলাম।কিন্তু শিশুপাল তো অভিযোগ গুলো মহাভারতেও করেছে!আপনাদের মহাভারতকে তো না মেনে উপায় নেই।তাহলে কি সেই অভিযোগগুলো আকাশ থেকে পড়েছে?এক হাতে তো তালি বাজে না!
মূলকথা হলো আপনারা সনাতনীরা যে শুধু ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ কে কাল্পনিক বলেন শুধু এটিই কাল্পনিক নয়;বরং রামায়ন ও মহাভারত ও কাল্পনিক!কৃষ্ণ চরিত্র ও কাল্পনিক।ইসলামে অন্য ধর্মের উপাসকদের গালি দেয়া নিষিদ্ধ(সূরা আনয়ামঃ১০৮)।আর এটা দ্বীন প্রচারের মাধ্যম ও নয়।কিন্তু এক কাল্পনিক চরিত্র যার চরিত্র পর্যন্ত ঠিক নেই;কয়েকটা মিষ্টি দার্শনিক কথা বলে ছল করে যায়,সেই কাল্পনিক কৃষ্ণকে ঈশ্বর মেনে উপাসনা করাটা যে মস্ত বড় অন্যায়!এটা দেখানো আমার দ্বীনি দায়িত্ব।তার সাথে মুসলিমদেরকেও অন্যান্য ধর্ম নিয়ে অধ্যয়ন করা উচিৎ।সত্যটা মানুষের মাঝে প্রচার করা উচিৎ।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে কৃষ্ণ যেসব নিকৃষ্ট ও বিকৃত অশ্নীলতার চরম অবস্থা দেখে যায় + শিশুপাল যা অভিযোগগুলো করেছে তা আমি চাইলে রেফারেন্স দিয়ে দিয়ে বর্ণনা করতে পারব।কিন্তু বিস্তারিত লিখলে তা ১৮+ হয়ে যাবে।তাই পর্ব ৪ এ এ বিষয়ে রেফারেন্সসহ গল্পের ছন্দে শুধু হালকা ছোঁয়া দেয়া হবে।
(৮)দ্রোণাচার্যঃতিনি কৌরব এবং পাণ্ডবদের অস্ত্রশিক্ষার গুরু ছিলেন।কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে দ্রোণ কৌরব পক্ষে যুদ্ধ করেন। ভীষ্ম এর শরশয্যা গ্রহণের পর তিনি কৌরবপক্ষের সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৫ দিন কৌরবপক্ষের সেনাপতি ছিলেন।
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে দ্রোণ কৌরব পক্ষে যুদ্ধ করেন। ভীষ্ম এর শরশয্যা গ্রহণের পর তিনি কৌরবপক্ষের সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৫ দিন কৌরবপক্ষের সেনাপতি ছিলেন।
(৯)বিজয় ধনুকঃ-সূর্য পুত্র কর্ণের বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন ধনুকের নাম বিজয় ধনুক। মহাভারতের বর্ণনা অনুযায়ী কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কর্ণ তাঁর এই বিশেষ ধনুকটি হাতে নিলেই এটি থেকে বজ্রপাতের চেয়েও আরও ভয়ানক ও জোরালো ধ্বনি নির্গত হতো। পুরাণ মতে মহাদেবের নির্দেশে এই বিশেষ ধনুকটি নির্মাণ করেছিলেন দেবলোকের প্রধান স্থপতি বিশ্বকর্মা।এরপরে একটা সময় ইন্দ্র হতে এটি পরশুরামের হাতে আসে।তারপরে পরশুরাম তার শিষ্য কর্ণকে এটি দান করেন।
(১০)রেফারেন্সঃ-ভগবত গীতার ১২ তম অধ্যায়,৭-৮ নং শ্লোক।
------------------
শেষ পর্ব ৪ এ পান্ডব ও কৌরব দুই দলের ই ভুল ভ্রান্তি গুলো দেখানো হবে।আর কৃষ্ণের বাস্তব মুখোশ ও উন্মোচন করা হবে।

Comments
Post a Comment