একেশ্বরবাদীতা থেকে বহুশ্বেরবাদীতায় যাওয়া হিন্দু ধর্ম

 









লেখার বিষয়ঃএকেশ্বরবাদীতা থেকে বহুশ্বেরবাদীতায় যাওয়া হিন্দু ধর্ম


লেখকঃShohedul Islam Sajjad


বন্ধুরা,চলুন আগে কিছু জেনে নেয়া যাক।পরে আলোচনা শুরু করব।কেননা এসব নিয়ে কারোর একেভারেই ধারণা না থাকলে লেখা বুঝতে পারবেন না।


একেশ্বরবাদ(Monotheism):- সৃষ্টিকর্তা এক।তার কোন আদি নেই। নেই কোন অন্ত।এমনকি তার সমকক্ষ কেও নেই।এরুপ বিশ্বাসকে বলে একেশ্বরবাদ।


আব্রাহামিক ধর্মমত(ইসলাম,ইহুদি ও খ্রিস্টান)মূলত এই বিশ্বাস লালন করে।


বহুশ্বেরবাদ(Polytheism)-একের বদলে অধিক ঈশ্বর মানাকে বহুশ্বেরবাদ বলে।তাদের মত হলো সৃষ্টিকর্তা তথা ঈশ্বর তো একই কিন্তু তার কাছে আমাদের বার্তা পৌছানো সম্ভব নয়।তাই তার থেকে ছোট ঈশ্বর তথা পরিচালকদের কে উপাসনা করলে তাদের উক্ত কথা ঈশ্বরের কাছে পৌছাবে।এমন করতে করতে মূল ঈশ্বরকে কে ভুলেই হয়ে যায় আর তাতে মানুষ পালনকর্তা আরেকজন,সৃষ্টিকর্তা আরেকজন,জগতের ধবংশকর্তা আরেকজন ইত্যাদি করে ফেলে।


আরবের পৌত্তলিক যুগে এই এমনকি মক্কাতেই এই ধারণা প্রচলিত আছে।এমনকি আরো বিভিন্ন যায়গায় এই বিশ্বাস প্রচলিত আছে।বর্তমানে হিন্দু ধর্ম একে আকড়ে বসে আছে।যাই হোক এই ব্যাপারটিতে পরে আসছি।


সর্বশ্বেরবাদ(Pantheism)-জগতের সবকিছুই হলো ঈশ্বর।এই মতাবাদের মূল কথা হলো আমি আপনি, আকাশ বাতাস সবই ঈশ্বর।সাগরের পানির কণা যেমন সাগর থেকে আলাদা নয় বরং ঐ কণাটিই সাগর।মানে কণাটি ভাবতে পারে সে পানির কণা।আবার ভাবতে পারে সে সাগর!এই ঠুনকো ধারণার উপর ভিত্তি করে কিন্তু ভারতবর্ষের অনেক মানুষ আগে সর্বশ্বেরবাদ মানত এবং মেনে চলেও।খুব অবাক হচ্ছেন বন্ধুরা?অবাক হওয়ারই কথা!অনেক দর্শনেও পর্যন্ত এই মতবাদ দেখা যায়।এমনকি হিন্দুদের ভগবত গীতাতে একেশ্বরবাদ বা বহুশ্বেরবাদের বদলে সর্বশ্বেরবাদকেই বেশী প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।তো যাই হোক এখন মূল আলোচনা শুরু করি।


হিন্দুরা বেদকে ব্রহ্মার মুখ থেকে নিসৃত বাণী বলে মানেন।আর ব্রহ্মা হলো ত্রিদেব(ব্রহ্মা,বিষ্ণু ও শিব)এর মধ্যে একজন।অথচ বেদেই বলা হয়েছে ঈশ্বরের মূর্তি নেই।


বন্ধুরা,মহাভারত বিশাল এক মহাকাব্য।প্রাচীনকালের সাহিত্য।(কিন্তু সাহিত্যিক কল্পকাহিনীকে বাস্তব ধরলে যা হয় আর কি!)এতটাই বিশাল যে শেষ ই হয় না।গ্রিক কবি হোমারের ইলিয়াড ও ওডিসির বিস্তার মহাভারতের তুলনায় একটা ছোট পোকা মাত্র।মানে বুঝতেই পারছেন কত বড়!তাই আমরা এই এই কাহিনীতে না যেয়ে সাদামাটা ভাবে আলোচনা করব! 


হিন্দু ধর্মমতে,মহাভারতে বর্নিত দ্বাপর যুগে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময় কুন্তিপুত্র অর্জুন তার আপন ভ্রাতা, পিতামহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে না চাইলে তার সারথি ভগবান কৃষ্ণ  তাকে ভাষনের মতো বিশাল বক্তৃতা দিতে থাকে। আর এই বক্তৃতা গীতা নামে পরিচিত।(মানে গীতা মহাভারতেরই ছোট্য একটি অংশ।)


অথচ এখানেই বলা হয়েছে যে  যারা বিবেক বুদ্ধি হারিয়েছে তারাই মুর্তি পূজা করে।এবার দেখুন তো বন্ধুরা, মূর্তি পূজা না করতে বলাটা এখানে কি প্রমোট করা হলো?


নিশ্চয়ই বহুশ্বেরবাদ না।কেননা বহুশ্বেরবাদ মানেই ঈশ্বরের অভাব নেই!


হ্যা,বন্ধুরা আসলে বহুশ্বেরবাদ তো নয়!ইসলাম,খ্রিস্টান বা ইহুদি ধর্মের মতো একশ্বরবাদ ও নয় বরং সর্বেশ্বরবাদ প্রমোট করা হয়েছে।


কিভাবে? দেখাবো?চলুন বন্ধুরা দেখি।চলুন,আপনাদের নিয়ে যাই ভগবত গীতার ১০ম অধ্যায় একেবারে পুরোটাই আপনার সামনে তুলে ধরছি।(বিঃদ্রিঃগীতার অধ্যায় মোট ১৮ টি।)নয়তো প্রমাণ হবে না যে গীতায় সর্বেশ্বরবাদ আছে।


তো Ready! 3....2.....1......GO.......


Srimad bhagvad gita in bengali 


Main Menu

গীতা-দশম-অধ্যায়-বিভূতি-যোগ-Srimad bhagavad gita in bengali-Chapter-10

Krishna Das মার্চ ২৪, ২০১৯ 

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা যথাযথ

 অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ

(মূল সংস্কৃত শ্লোক ও অনুবাদ)


দশম অধ্যায়-বিভূতি-যোগ-(Bangla Gita)

 শ্রীভগবানুবাচ

ভূয় এব মহাবাহো শৃণু মে পরমং বচঃ।

যত্তেহহং প্রীয়মাণায় বক্ষ্যামি হিতকাম্যয়।।১।।

অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে মহাবাহো! পুনরায় শ্রবণ কর। যেহেতু তুমি আমার প্রিয় পাত্র, তাই তোমার হিতকামনায় আমি পূর্বে যা বলেছি, তার থেকেও উৎকৃষ্ট তত্ত্ব বলছি।


 ন মে বিদুঃ সুরগণাঃ প্রভবং ন মহর্ষয়ঃ।

অহমাদির্হি দেবানাং মহর্ষীণাং চ সর্বশঃ।।২।।

অনুবাদঃ দেবতারা বা মহর্ষিরাও আমার উৎপত্তি অবগত হতে পারেন না, কেন না, সর্বতোভাবে আমিই দেবতা ও মহর্ষিদের আদি কারণ।


যো মামজমনাদিং চ বেত্তি লোকমহেশ্বরম্।

অসংমূঢ়ঃ স মর্ত্যেষু সর্বপাপৈঃ প্রমুচ্যতে।।৩।।

অনুবাদঃ যিনি আমাকে জন্মরহিত, অনাদি ও সমস্ত গ্রহলোকের মহেশ্বর বলে জানেন, তিনিই কেবল মানুষদের মধ্যে মোহশূন্য হয়ে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হন।


বুদ্ধির্জ্ঞানমসংমোহঃ ক্ষমা সত্যং দমঃ শমঃ।

সুখং দুঃখং ভবোহভাবো ভয়ং চাভয়মেব চ।।৪।।

অহিংসা সমতা তুষ্টিস্তপো দানং যশোহযশঃ।

ভবন্তি ভাবা ভূতানাং মত্ত এব পৃথগবিধাঃ।।৫।।

অনুবাদঃ বুদ্ধি, জ্ঞান, সংশয় ও মোহ থেকে মুক্তি, ক্ষমা, সত্যবাদিতা, ইন্দ্রিয়-সংযম, মনঃসংযম, সুখ, দুঃখ, জন্ম, মৃত্যু, ভয়, অভয়, অহিংসা, সমতা, সন্তোষ, তপস্যা, দান, যশ ও অযশ- প্রাণীদের এই সমস্ত নানা প্রকার ভাব আমার থেকেই উৎপন্ন হয়।


মহর্ষয়ঃ সপ্ত পূর্বে চত্বারো মনবস্তথা।

মদভাবা মানসা জাতা যেষাং লোক ইমাঃ প্রজাঃ।।৬।।

অনুবাদঃ সপ্ত মহর্ষি, তাঁদের পূর্বজাত সনকাদি চার কুমার ও চতুর্দশ মনু, সকলেই আমার মন থেকে উৎপন্ন হয়ে আমা হতে জন্মগ্রহণ করেছে এবং এই জগতের স্থাবর-জঙ্গম আদি সমস্ত প্রজা তাঁরাই সৃষ্টি করেছেনে।


এতাং বিভূতিং যোগং চ মম যো বেত্তি তত্ত্বতঃ।

সোহবিকল্পেন যোগেন যুজ্যতে নাত্র সংশয়ঃ।।৭।।

অনুবাদঃ ‍যিনি আমার এই বিভূতি ও যোগ যথার্থরূপে জানেন, তিনি অবিচলিতভাবে ভক্তিযোগে যুক্ত হন। সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।


অহং সর্বস্য প্রভবো মত্তঃ সর্বং প্রবর্ততে।

ইতি মত্বা ভজন্তে মাং বুধা ভাবসমন্বিতাঃ।।৮।।

অনুবাদঃ আমি জড় ও চেতন জগতের সব কিছুর উৎস। সব কিছু আমার থেকেই প্রবর্তিত হয়। সেই সত্ত্ব অবগত হয়ে পন্ডিতগণ শুদ্ধ ভক্তি সহকারে আমার ভজনা করেন।


মচ্চিত্তা মদগতপ্রাণা বোধয়ন্তঃ পরস্পরম্।

কথয়ন্তশ্চ মাং নিত্যং তুষ্যন্তি চ রমন্তি চ।।৯।।

অনুবাদঃ যাঁদের চিত্ত ও প্রাণ সম্পূর্ণরূপে আমাতে সমর্পিত, তাঁরা পরস্পরের মধ্যে আমার কথা সর্বদাই আলোচনা করে এবং আমার সম্বন্ধে পরস্পরকে বুঝিয়ে পরম সন্তোষ ও অপ্রাকৃত আনন্দ লাভ করেন।


তেষাং সততযুক্তানাং ভজতাং প্রীতিপূর্বকম্।

দদামি বুদ্ধিযোগং তং যেন মামুপযান্তি তে।।১০।।

অনুবাদঃ যাঁরা ভক্তিযোগ দ্বারা প্রীতিপূর্বক  আমার ভজনা করে নিত্যযুক্ত, আমি তাঁদের শুদ্ধ জ্ঞানজনিত বুদ্ধিযোগ দান করি, যার দ্বারা তাঁরা আমার কাছে ফিরে আসতে পারেন।


তেষামেবানুকম্পার্থমহজ্ঞানজং তমঃ।

নাশয়াম্যাত্মভাবস্থো জ্ঞানদীপেন ভাস্বতা।।১১।।

অনুবাদঃ তাঁদের প্রতি অনুগ্রহ করার অনুগ্রহ করার জন্য আমি তাঁদের হৃদয়ে অবস্থিত হয়ে, উজ্জ্বল জ্ঞান-প্রদীপের দ্বারা অজ্ঞান-জনিত অন্ধকার নাশ করি।


 অর্জুন উবাচ


পরং ব্রহ্ম পরং ধাম পবিত্রং পরমং ভবান্।

পুরুষং শাশ্বতং দিব্যমাদিদেবমজং বিভুম্।।১২।।

আহুস্ত্বামৃষয়ঃ সর্বে দেবর্ষিনারদস্তথা।

অসিতো দেবলো ব্যাসঃ স্বয়ং চৈব ব্রবীষি মে।।১৩।।

অনুবাদঃ অর্জুন বললেন- তুমি পরম ব্রহ্ম, পরম ধাম, পরম পবিত্র ও পরম পুরুষ। তুমি নিত্য, দিব্য, আদি দেব, অজ ও বিভু। দেবর্ষি নারদ, অসিত, দেবল, ব্যাস আদি ঋষিরা তোমাকে সেভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং তুমি নিজেও এখন আমাতে তা বলছ।


সর্বমেতদ্ ঋতং মন্যে যন্মাং বদসি কেশব।

ন হি তে ভগবন্ ব্যক্তিং বিদুর্দেবা ন দানবাঃ।।১৪।।

অনুবাদঃ হে কেশব! তুমি আমাকে যা বলেছ, তা আমি সত্য বলে মনে করি। হে ভগবান! দেবতা অথবা দানবেরা কেউই তোমার তত্ত্ব যথাযথভাবে অবগত নন।


স্বয়মেবাত্মনাত্মনং বেত্থ ত্বং পুরুষোত্তম।

ভূতভাবন ভূতেশ দেবদেব জগৎপতে।।১৫।।

অনুবাদঃ হে পুরুষোত্তম! হে ভূতভাবন! হে ভূতেশ! হে দেবদেব! হে জগৎপতে! তুমি নিজেই তোমার চিৎশক্তির দ্বারা তোমার ব্যক্তিত্ব অবগত আছ।


বক্তুমর্হস্যশেষণ দিব্যা হ্যাত্মবিভূতয়ঃ।

যাভির্বিভূতিভির্লোকানিমাংস্ত্বং ব্যাপ্য তিষ্ঠসি।।১৬।।

অনুবাদঃ তুমি যে সমস্ত বিভূতির দ্বারা এই লোকসমূহে পরিব্যাপ্ত হয়ে আছ, সেই সমস্ত তোমার দিব্য বিভূতি সকল তুমিই কেবল বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করতে সমর্থ।

কথং বিদ্যামহং যোগিংস্ত্বাং সদা পরিচিন্তয়ন্।

কেষু কেষু চ ভাবেষু চিন্ত্যোহসি ভগবন্ময়া।।১৭।।

অনুবাদঃ হে যোগেশ্বর! কিভাবে সর্বদা তোমার চিন্তা করলে আমি তোমাকে জানতে পারব? হে ভগবন্! কোন্ কোন্ বিবিধ আকৃতির মাধ্যমে আমি তোমাকে চিন্তা করব?


বিস্তরেণাত্মনো যোগং বিভূতিং চ জনার্দন।

ভূয়ঃ কথয় তৃপ্তির্হি শৃণ্বতো নাস্তি মেহমৃতম্।।১৮।।

অনুবাদঃ হে জনার্দন! তোমার যোগ ও বিভূতি বিস্তারিতভাবে পুনরায় আমাকে বল। কারণ তোমার উপদেশামৃত শ্রবণ করে আমার পরিতৃপ্তি হচ্ছে না; আমি আরও শ্রবণ করতে ইচ্ছা করি।


শ্রীভগবানুবাচ

হস্ত তে কথয়িষ্যামি দিব্যা হ্যাত্মবিভূতয়ঃ।

প্রাধান্যতঃ কুরুশ্রেষ্ঠ নাস্ত্যস্তো বিস্তরস্য মে।।১৯।।

অনুবাদঃ পরমেশ্বর ভগবান বললেন-হে অর্জুন, আমার দিব্য প্রধান প্রধান বিভুতিসমূহ তোমাকে বলব, কিন্তু আমার বিভূতিসমূহের অন্ত নেই।


অহমাত্মা গুড়াকেশ সর্বভূতাশয়স্থিতঃ।

অহমাদিশ্চ মধ্যং চ ভূতানামন্ত এব চ।।২০।।

অনুবাদঃ হে গুড়াকেশ! আমিই সমস্ত জীবের হৃদয়ে অবস্থিত পরমাত্মা। আমিই সর্বভূতের আদি, মধ্য ও অন্ত।


আদত্যানামহং বিষ্ণুর্জ্যোতিষাং রবিরংশুমান্।

মরীচির্মরুতামস্মি নক্ষত্রাণামহং শশী।।২১।।

অনুবাদঃ আদিত্যদের মধ্যে আমি বিষ্ণু, জ্যোতিষ্কদের মধ্যে আমি কিরণশালী সূর্য, মরুতদের মধ্যে আমি মরীচি এবং নক্ষত্রদের মধ্যে আমি চন্দ্র।


বেদানাং সামবেতোহস্মি দেবনামস্মি বাসবঃ।

ইন্দ্রিয়াণাং মনশ্চাস্মি ভূতানামস্মি চেতনা।।২২।।

অনুবাদঃ সমস্ত বেদের মধ্যে আমি সামবেদ, সমস্ত দেবতাদের মম্যে আমি ইন্দ্র, সমস্ত ইন্দ্রিয়ের মধ্যে আমি মন এবং সমস্ত প্রাণীদের মধ্যে আমি চেতনা।


রুদ্রাণাং শঙ্করশ্চাস্মি বিত্তেশো যক্ষরক্ষসাম্।

বসূনাং পাবকশ্চাস্মি মেরুঃ শিখরিণামহম্।।২৩।।

অনুবাদঃ রুদ্রদের মধ্যে আমি শিব, যক্ষ ও রাক্ষসদের মধ্যে আমি কুবের, বসুদের মধ্যে আমি অগ্নি এবং পর্বতসমূহের মধ্যে আমি সুমেরু।


পুরোধসাং চ মুখ্যং মাং বিদ্ধি পার্থ বৃহস্পতিম্।

সেনানীনামহং স্কন্দঃ সরসামস্মি সাগরঃ।।২৪।।

অনুবাদঃ হে পার্থ! পুরোহিতদের মধ্যে আমি প্রধান বৃহস্পতি, সেনাপতিদের মধ্যে আমি কার্তিক এবং জলাশয়ের মধ্যে আমি সাগর।


মহর্ষীণাং ভৃগুরহং গিরামস্ম্যেকমক্ষরম্।

যজ্ঞানাং জপযজ্ঞোহস্মি স্থাবরাণাং হিমালয়ঃ।।২৫।।

অনুবাদঃ মহর্ষিদের মধ্যে আমি ভৃগু, বাক্যসমূহের মধ্যে আমি ওঁকার। যজ্ঞসমূহের মধ্যে আমি জপযজ্ঞ এবং স্থাবর বস্তুসমূহের মধ্যে আমি হিমালয়।


অশ্বত্থঃ সর্ববৃক্ষাণাং দেবষীণাং চ নারদঃ।

গন্ধর্বাণাং চিত্ররথঃ সিদ্ধানাং কপিলো মুনিঃ।।২৬।।

অনুবাদঃ সমস্ত বৃক্ষের মধ্যে আমি অশ্বত্থ, দেবর্ষিদের মধ্যে আমি নারদ। গন্ধর্বদের মধ্যে আমি চিত্ররথ এবং সিদ্ধদের মধ্যে আমি কপিল মুনি।


উচ্ছৈঃশ্রবসমশ্বানাং বিদ্ধি মামমৃতোদ্ভবম্।

ঐরাবতং গেজেন্দ্রাণাং নরাণাং চ নরাধিপম্।।২৭।।

অনুবাদঃ অশ্বদের মধ্যে আমাকে সমুদ্র-মন্থনের সময় উদ্ভত উচ্চৈঃশ্রবা বলে জানবে। শ্রেষ্ঠ হস্তীদের মধ্যে আমি ঐরাবত এবং মনুণ্যদের মধ্যে আমি সম্রাট।


আয়ুধানামহং বজ্রং ধেনূনামস্মি কামধুক্।

প্রজন্শ্চাস্মি কন্দর্পঃ সর্পাণামস্মি বাসুকিঃ।।২৮।।

অনন্তশ্চাস্মি নাগানাং বরুণো যাদসামহম্।

পিতৃণামর্যমা চাস্মি যমঃ সংযমতামহম্।।২৯।।

 অনুবাদঃ সমস্ত অস্ত্রের মধ্যে আমি বজ্র, গাভীদের মধ্যে আমি কামধেনু। সন্তান উৎপাদনের কারণ আমিই কামদেব এবং সর্পদের মধ্যে আমি বাসুকি। সমস্ত নাগদের মধ্যে আমি অনন্ত এবং জলচরদের মধ্যে আমি বরুণ। পিতৃদের মধ্যে আমি অর্যমা এবং দন্ডদাতাদের মধ্যে আমি যম।


প্রহ্লাদশ্চাস্মি দৈত্যানাং কালঃ কলয়তামহম্।

মৃগাণাং চ মৃগেন্দ্রোহহং বৈনতেয়শ্চ পক্ষিণাম্।।৩০।।

অনুবাদঃ দৈত্যদের মধ্যে আমি প্রহ্লাদ, বশীকারীদের মধ্যে আমি কাল, পশুদের মধ্যে আমি সিংহ এবং পক্ষীদের মধ্যে আমি গরুড়।


পবনঃ পবতামস্মি রামঃ শস্ত্রভৃতামহম্।

ঋষাণাং মকরশ্চাস্মি স্রোতসামস্মি জাহ্নবী।।৩১।।

অনুবাদঃ পবিত্রকারী বস্তুদের মধ্যে আমি বায়ু, শস্ত্রধারীদের মধ্যে আমি পরশুরাম, মৎস্যদের মধ্যে আমি মকর এবং নদীসমূহের মধ্যে আমি গঙ্গা।


সর্গাণামাদিরন্তশ্চ মধ্যং চৈবাহমর্জুন।

অধ্যাত্মবিদ্যা বিদ্যানাং বাদঃ প্রবদতামহম্।।৩২।।

অনুবাদঃ হে অর্জুন! সমস্ত সৃষ্ট বস্তুর মধ্যে আমি আদি, অন্ত ও মধ্য সমস্ত বিদ্যার মধ্যে আমি অধ্যাত্মবিদ্যা এবং তার্কিকদের বাদ, জল্প ও বিতণ্তার মধ্যে আমি সিদ্ধান্তবাদ।


অক্ষরাণামকারেহস্মি দ্বন্দ্বঃ সামাসিকস্য চ। 

অহমেবাক্ষয়ঃ কালো ধাতাহং বিশ্বতোমুখঃ।।৩৩।।

অনুবাদঃ সমস্ত অক্ষরের মধ্যে আমি অকার, সমাসসমূহের মধ্যে আমি দ্বন্দ্ব-সমাস, সংহারকারীদের মধ্যে আমি মহাকাল রুদ্র এবং স্রষ্টাদের মধ্যে আমি ব্রহ্মা।


মৃত্যুঃ সর্বহরশ্চাহমুদ্ভবশ্চ ভবিষ্যতাম্। 

কীর্তিঃ শ্রীর্বাক্ চ নারীণাং স্মৃতির্মেধা ধৃতিঃ ক্ষমা।।৩৪।।

অনুবাদঃ সমস্ত হরণকারীদের মধ্যে আমি সর্বগ্রাসী মৃত্যু, ভাবীকালের বস্তুসমূহের মধ্যে আমি উদ্ভব। নারীদের মধ্যে আমি কীর্তি, শ্রী, বাণী, স্মৃতি,  মেধা, ধৃতি ও ক্ষমা।


বৃহৎসাম তথা সাম্নাং গায়ত্রী ছন্দসামহম্। 

মাসানাং মার্গশীর্ষোহহমৃতূনাং কুসুমাকরঃ।।৩৫।।

অনুবাদঃ সামবেদের মধ্যে আমি বৃহৎসাম এবং ছন্দসমূহের মধ্যে আমি গায়ত্রী। মাসসমূহের মধ্যে আমি অগ্রাহয়ণ এবং ঋতুদের মধ্যে আমি বসন্ত।

দ্যূতং ছলয়তামস্মি তেজস্তেজস্বিনামহম্। 

জয়োহস্মি ব্যবসায়োহস্মি সত্ত্বং সত্ত্ববতামহম্।।৩৬।।

অনুবাদঃ সমস্ত বঞ্চনাকারীদের মধ্যে আমি দ্যূতক্রীড়া এবং তেজস্বীদের মধ্যে আমি তেজ। আমি বিজয়, আমি উদ্যম এবং বলবানদের মধ্যে আমি বল।


বৃষ্ণীনাং বাসুদেবোহস্মি পান্ডবানাং ধনঞ্জয়ঃ। 

মুনীনামপ্যহং ব্যাসঃ কবীনামুশনাঃ কবিঃ।।৩৭।।

অনুবাদঃ বৃষ্ণিদের মধ্যে আমি বাসুদেব এবং পান্ডবদের মধ্যে আমি অর্জুন। মুনিদের মধ্যে আমি ব্যাস এবং কবিদের মধ্যে আমি শুক্রাচার্য।


দন্ডো দময়তামস্মি নীতিরস্মি জিগীষতাম্। 

মৌনং চৈবাস্মি গুহ্যানাং জ্ঞানং জ্ঞানবতামহম্।।৩৮।।

অনুবাদঃ দমনকারীদের মধ্যে আমি দন্ড এবং জয় অভিলাষীদের মধ্যে আমি নীতি। গুহ্য ধর্মের মধ্যে আমি মৌন এবং জ্ঞানবানদের মধ্যে আমিই জ্ঞান।


যচ্চাপি সর্বভূতানাং বীজং তদহমর্জুন। 

ন তদস্তি বিনা যৎ স্যান্ময়া ভূতং চরাচরম্।।৩৯।।

অনুবাদঃ হে অর্জুন! যা সর্বভূতের বীজস্বরূপ তাও আমি, যেহেতু আমাকে ছাড়া স্থাবর ও জঙ্গম কোন বস্তুরই অস্তিত্ব থাকতে পারে না।


নাস্তোহস্তি মম দিব্যানাং বিভূতীনাং পরন্তপ। 

এষ তূদ্দেশতঃ প্রোক্তো বিভুতের্বিস্তরো ময়া ।।৪০।।

অনুবাদঃ হে পরন্তপ! আমার দিব্য বিভুতি-সমূহের অন্ত নেই। আমি এই সমস্ত বিভুতির বিস্তার সংক্ষেপে বললাম।


যদ্যদ্বিভূতিমৎ সত্ত্বং শ্রীমদূর্জিতমেব বা। 

তত্তদেবাবগচ্ছ ত্বং মম তেজোহংশসম্ভবম্।।৪১।।

অনুবাদঃ ঐশ্বর্যযুক্ত, শ্রী-সম্পন্ন ও বল-প্রভাবাদির আধিক্যযুক্ত যত বস্তু আছে, সে সবই আমার তেজাংশসম্ভূত বলে জানবে।


অথবা বহুনৈতেন কিং জ্ঞাতেন তবার্জুন। 

বিষ্টভ্যাহমিদং কৃৎস্নমেকাংশেন স্থিতো জগৎ।।৪২।।

অনুবাদঃ  হে অর্জুন! অথবা এই প্রকার বহু জ্ঞানের দ্বারা তোমার কি প্রয়োজন? আমি আমার এক অংশের দ্বারা সমগ্র জগতে ব্যাপ্ত হয়ে অবস্থিত আছি।


সমাপ্ত(১০ম অধ্যায়)

----------------


মানে বুঝলেন?যত কিছু লেখকের জানা আছে তার মধ্য থেকে যা যা শ্রেষ্ঠ হিসেবে লেখকের কাছে উপনীত হয়েছে ঠিক তা তা বলেই কাব্যিক ছলে কৃষ্ণ কে শ্রেষ্ঠ বোঝানো হয়েছে।


তো আপনারা বলতে পারেন যে এখানে  উনি কৃষ্ণ যে শ্রেষ্ঠ তা অর্জুনকে বুঝাচ্ছেন।সর্বশ্বেরবাদ মানে সবই ঈশ্বর তথা আমিই ঈশ্বর এটা কোথায়? আরে,শেষ অংশটুকু আবার চোখ বুলান।বুঝলেন কিছু?�


তো যাই হোক বন্ধুরা,বুঝাই যাচ্ছে যে এখানে সর্বশ্বেরবাদ সাপোর্ট করছে।এখন আমার হিন্দুদের কাছে প্রশ্ন যে ভগবত গীতা যা আপনারা আসলেই ভগবানের বাণী বলে থাকেন এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ হয়েছে বলেই দাবী করে থাকেন তারা বলুন যে সবই যদি ঈশ্বর হয় তবে আমিও তো ঈশ্বর তবে তো কারোও কাছে কোন কিছু চাওয়ার প্রয়োজন নেই।আমরা নিজেরাই তো স্বয়ংসম্পূর্ন। তাই নয় কি।?


এখন হিন্দু ভাই/বোনেরা  নিশ্চয় ১৮০° কোণে ঘুড়ে গিয়ে  বলবে না না!বরং অনেক যায়গায় দেব দেবীদের উপাসনা করাকে ভালো বলা হয়েছে।


তো আমার হিন্দু ভাই/বোনেরা এখন একদিকে থাকবে যে সবই আমি! একবার বলা হবে আমার মধ্যেই ঈশ্বর বিরাজমান আর ঈশ্বরের মধ্যে আমি।আবার আরেকদিক দিয়ে আমরা অসুম্পূর্ন এবং চাওয়া লাগবে মূর্তি কে?এখন তো পূজা চলছে!মানে দূর্গা কে।তাই তো!তো আপনারা বলবেন যে দুর্গা তো সামনে নেই তাই আমরা দূর্গার মুর্তি বানিয়ে পূজা করি আর সবকিছু মিলে তো এক ঈশ্বর।তো আমরা তো একই ঈশ্বরকেই মানি।মানে একেশ্বরবাদ বহুশ্বেরবাদ,সর্বশ্বেরবাদ মিলেমিশে একেবারে জগাখিচুরী!কিন্তু এখানে যে প্যারাডক্স সৃষ্টি হয়েছে ভেবে দেখেছেন?


এখন আপনারা গ্রহণ করেন কোনটা?যখন যেটা দরকার তখন সেটাই গ্রহণ করেন।একসাথে তো সব সত্য হয় না তাই না!যেকোন একটা সত্য হবে।২+২=৩ সঠিক নয় ৪ সঠিক সঠিক নয়তো ৫ সঠিক!কোনটি যে সঠিক তা তো যুক্তি প্রমাণ দিয়ে বের করতে হবে।


থাক!সে কথায় আর না যাই। আর গীতায় যে নক্ষত্রের মধ্যে চন্দ্র (শ্লোক ২১)ও মাছের মধ্যে কুমির (শ্লোক ৩১ ; এখানে  উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে মকরকে কুমির বা অনেকে একে ডলফিনের স্বরুপ জলজ প্রাণী মনে করা হয়ে থাকে) নামে অবৈজ্ঞানিক ভুল করেছে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাও আর নাই বলি।নক্ষত্র হলো জ্বলন্ত জ্যোতিষ্ক।একে কেন্দ্র করে গ্রহেরা ঘুরতে থাকে।স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর অবতার!যে কিনা সবকিছু লালন করেন ;উনি এই সামান্য বিজ্ঞানটুকুও জানতেন না?


সত্যি কথা হলো কৃষ্ণ নামক এক কাল্পনিক চরিত্র এবং পান্ডব ও কৌরবদের মধ্যে ঘটা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ নামক এক কাল্পনিক যুদ্ধাবস্থা তৈরী করে  গীতার লেখক তার নিজের ধারণা লিপিবদ্ধ করেছেন।আর কিছুই না।


 আসলে চন্দ্র যে নক্ষত্র না তা উক্ত লেখকের জানা ছিল ন।প্রাচীনকালের মানুষ তো!রাতের আকাশের মধ্যে চাঁদ কে দেখতে পেয়ে আর তারা কে ছোট দেখে ভেবেছে এটি বুঝি নক্ষত্র আর তার মধ্যে চাঁদ বড় দেখা যায় বলে এটি হলো শ্রেষ্ঠ!।এমন হাজারো ভুল গীতার মধ্যে পাওয়া যায়।


চলুন বেসিকটা আরো ক্লিয়ার হওয়া যাক।তাই আমাদের যতে হবে আরবের বুকে।মক্কায় ৫৭০-৬১০ সালের আশেপাশের সময়ে!!!


বন্ধুরা,পরের পর্বে আমরা আরবের তৎকালীন দেবী লাত,মানাত ও ওজ্জা নিয়ে কথা বলে আর সূরা নাযমের আয়াত সহ আরো বিভিন্ন আয়াত থেকে বহুশ্বেরবাদীতা বিষয়ক কিছু বিষয়বস্তু দেখাব।তাছাড়া এর সাথে হিন্দু ধর্মের কি মিল?কিভাবে এমন মতামত  আমাদের ভারতবর্ষের হিন্দু ধর্মরুপে ও আরবে পৌত্তলিক রুপে উৎপন্ন হলো, মোহাম্মদ (সাঃ) এর বিরুদ্ধে কিভাবে সংগ্রাম করেছিলেন  আর সর্বশেষে ইসলাম বহুশ্বেরবাদ নিয়ে যা বলে এসব নিয়ে একদিন অন্য কোন লেখায় আলোচনা করা যায়।

Comments

Popular posts from this blog

আজকের বিষয়:- খেলাফত রাজতন্ত্রে রুপান্তর।ইমাম হাসান(রা:) কে বিষ দিয়ে হত্যা।

১২ ইমাম নিয়ে শিয়া ও সুন্নীদের রায়।(১ম পর্ব)

আজকের বিষয়:-মুয়াবিয়ার শাসনামল