ভাইরাস এন্ড ম্যাট্রিক্স (পর্ব ৩)

 


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


লেখাটা লিখেছিলাম ২০২০ সালে।যখন করোনা ভাইরাসে পুরো পৃথিবীর মানুষ ঘরের ভেতরে আবদ্ধ ছিল।আজ পুনার্মাজন করে আবার দিলাম।কারণ এই সায়েন্স ফিকশনকে আমার সামনে এগনোর ইচ্ছা আছে।


সায়েন্স ফিকশন:- ভাইরাস এন্ড ম্যাট্রিক্স (পর্ব ৩)


কল্পদ্রষ্টাঃ- Shohedul Islam Sajjad


এভাবে করোনা ভাইরাসটি আমায় কোরআনের বিভিন্ন যায়গা থেকে আমায়  এর মর্ম বোঝাতে লাগল।আর virtual 3 D content এ নাস্তিকেরা যতগুলো দাবী কোরআনের বিরুদ্ধে উথাপন করেছে তা সবগুলো আমাকে খন্ডন করে দিল।কখনো সূরা ইয়াসিন ৪০ নং আয়াত, সূরা আম্বিয়া ৩০ ও ১০৪ নং আয়াত থেকে মহাবিশ্ব সম্পর্কিত।কখনো বা সূরা রুম এর ১৯ নং আয়াতে জীবিত বা মৃত সম্পর্কিত বিষয়ে আবার কখনো সূরা আনফালের ৬৫, ৬৬  নং আয়াতের যুদ্ধ বিষয়ক বিষয়গুলো সহ আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাকে বোঝাতে লাগল। এতে ধীরে ধীরে আমার অন্তর নরম হতে লাগল। বুঝতে পারলাম ওসব মানুষেরা এই প্রযুক্তিটিতে যেসব বিষয় কোরআনের বিরুদ্ধে উথাপন করেছে তার কোন ভিত্তি নেই।বরং তারা যাতে যা মন চায় তাই করতে পারে সেজন্য এসব মনগড়া কথা লিখে দিয়েছে।কেননা ইসলাম আমাদের শৃঙ্কলা শেখায়। যেটি তারা চায় না। আমার মনে হতে লাগল আমরা যে এসব ভৌত জগৎ এর সুখের জন্য নিয়ে এত পাগলের মতো ছুটে চলছি তাতে কোন লাভই নেই।মৃতু তো নিশ্চিত।'জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।অতএব তোমরা আমারই(আল্লাহ)কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে'(সূরা আনকাবুত ৫৭)


আমি জীবনে কখনো ধর্ম নিয়ে ভাবি নি। কখনো ভাবার প্রয়োজন বোধ ও করি নি।সারাজীবন আমার গিয়েছে অনুজীব নিয়ে গবেষনা করে।আর এখন এই অনুজীবই যার কোন নেই ব্রেন যা দিয়ে চিন্তা করবে নেই কোন ভোকাল কর্ড যা দিয়ে কথা বলবে। তার কাছে এমন ধর্মের বাণী শুনছি তার থেকে আশ্চর্যের বিষয় আর কি ই বা হতে পারে!এসব কি থেকে কি হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না!!!! আমার মন ধীরে ধীরে আরো ইসলামের প্রতি ঝুঁকতে থাকে এ দিক দিয়ে কোথা থেকে কি যেন আরবীতে এক আশ্চর্য সুন্দর স্বর ভেসে আসছে যার অর্থটা অনুধাবন করতে পারলাম এমন----


অতএব তোমরা কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে।(সূরা রহমান)


কেমন যেন আমার এক অসাধারণ আনন্দ অনুভূত হলো যা কোনদিন ই আমি পাই নি।আমার এখন আর জীবনে কিছুই করতে মন চাচ্ছে না। মন চাচ্ছে সারাটি জীবন ইসলামের বিষয়গুলোকে নিয়েই পড়ে থাকি।


এদিক দিয়ে যখন আমি আনন্দের সাগরে ভাসছি সেখানে করোনা ভাইরাসের কথায় আমার কথায় আমার হুশ ফিরে এল।


করোনা ভাইরাসঃ দেখলে তো ইসলামের মধ্যে কত শান্তি!!!


আমিঃ হুম।


ভাইরাসঃ তোমাদের এই যুগে মানুষ প্রযুক্তিতে কতই না উন্নত।আর তাই মানুষ আরো লোভী হয়ে উঠেছে যে তাদের আরো চাই।আর তারা ভাবছে এর মাধ্যমেই তারা আনন্দ পাবে।কিন্তু তা নয়।যতই মানুষ উন্নত হচ্ছে ততই মানুষ ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছ।তুমি তো নিশ্চয়ই দেখেছ যে তারা যা মন চায় তাই করছে।কিছু মানুষ ছাড়া কেও ই ইসলাম কে মানছে না।আর তাই  সমাজে নিয়ম শৃঙ্গলা ভেঙ্গে গিয়েছে। যার ফলে তারা অশান্তিতে ভুগছে।এলিয়েনের সাথে ঘোরার সময় কিভাবে তারা তার পেচিয়ে গেমসের ভার্চুয়াল দুনিয়ায় থাকার চেষ্টা করছে একটু শান্তির জন্য(পর্ব ২ এ দ্রষ্টব্য)।


আমিঃআচ্ছা এর থেকে বাঁচার করণীয় কি?


ভাইরাসঃ বাঁচার উপায় খুবই সরল।ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে হবে।কিন্তু তারা তা কখনোই করবে না।আর তাই তো তোমাকে এখানে আনা হয়েছে।


আমিঃআমাকে এখানে আনা হয়েছে মানে? ব্যাপারটা বুঝলাম না।আমি তো নিজ উদ্যেগেই তোমার দেহ কে নিয়ে গবেষনা করার জন্য অতি ক্ষুদ্র হলাম।অথচ এখানেই যত অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে।যার কিছুই আমি বুঝতে পারছি না!


 ভাইরাসঃ এই ২১২০ সালের অতি উন্নতীর যুগে যেখানে মানুষ প্রযুক্তি ছাড়া আর কিছুই বুঝে না।। সেখানে তোমার ছোটবেলা থেকেই এসবে আগ্রহ কম।তোমার অনেক আগে থেকেই আগ্রহ ছিল  যে জীবের প্রাণ কি এর উৎপত্তি কিভাবে হলো এসব বিষয়ে তাই না! আর এজন্যই তো তুমি........


আমিঃতুমি এসব কিভাবে জা জা জা জানো।


 ভাইরাসঃ কিন্তু  তুমি এই secret বিষয়টি কখনো শোন বা জান না

যে প্রতিটি জীবেরই একটি বোধ থাকে। আর সেটি দিয়ে তারা আল্লাহর জিকিরে ব্যস্ত থাকে।বলতে গেলে অনুগত থাকে(সূরা রহমান ৬)।কিন্তু মানুষ আর জ্বীনেরা তা শুনতে পারে না।সেটি ভৌত জগতে নয়।বরং আধ্যাতিক জগতে বিচরণ করে।


আমিঃএর মানে কি এখন বর্তমানে আমি ভৌত জগতে নেই?


ভাইরাসঃ তোমার কাছে কি মনে হয়।তুমি কি কখনো আশা কর যে ভৌত জগতে যার কোন ব্রেন নেই সে কোন চিন্তা বা কারো সাথে কথা বলতে পারে?


তুমি তো বিজ্ঞানের মানুষ।তো তোমাকে বিজ্ঞান দিয়েই বোঝাই। তো ভৌত জগতের সবচেয়ে ক্ষুদ্র বস্তু স্ট্রিং।তো স্ট্রিং থিউরী অনুযায়ী আমরা যতই পৃথক হই না কেন।বরং আমরা সবাই এক।এই মহাবিশ্বের সবকিছুই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্ট্রিং দ্বারা তৈরী।কিন্তু  সবাইকে আলাদা আলাদা দেখতে মনে হয় কারণ প্রতিটি জিনিসের ভাইব্রেশন আলাদা।


অতএব আসলে আমরা সবাই এক।তুমি যদি তোমার ভৌত জগতের সবকিছুর উপরে গিয়ে দেখতে পাও তবে তোমার সবকিছুকেই এক মনে হবে।যেমন উদাহারণ হিসেবে বলা যায় যে সাগরের প্রতিটি ঢেও একটি আরেকটিকে আলাদা দেখতেই পারে।যেটিকে ভৌত জগত হিসেবে ধরতে পার।কিন্তু আসলে সবাই পানি দিয়েই তৈরী। আদতে সবাই এক(এটাই আধ্যাতিক জগতের মূল প্রতিপাদ্য)।শধুমাত্র তার কর্মের কারণে সে নিজেই  সিদ্ধন্ত নেয় যে সে জান্নাতে যাবে না জাহান্নামে(তা মানুষ ও জ্বীনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)।


আমিঃদেখ আমি অনুজীব বিজ্ঞানী হিসেবে এটা ভালো করে জানি যে বিশ্ব জগতের সব জীবের উৎপত্তি পানি থেকে হয়েছে।এমনকি জীব উৎপত্তির আদি স্থান সমুদ্র।যা A bio genesis থেকে Details এ study করলে বুঝতে পারি।তুমি কি এই বিষয়ে কথা বলছ?


 ভাইরাসঃহ্যা তোমার কথাও আমার এই কথাতে খাটে কারণ দেহগতভাবে আমরা সবাই পানি দিয়ে তৈরী।এমনকি সূরা আম্বিয়ার ৩০ নং  আয়াতে এই কথাও বলা আছে।এমনকি এই আয়াতেই বিশ্ব জগতের কথাও বলা আছে।যেখানে বলা আছে যে মহাবিশ্বের সবকিছু একই বিন্দুতে মিলিত ছিল। পরে তা থেকে বিস্ফোরণের মাধ্যমে সবকিছু হয়।যাতে বিজ্ঞানের ভাষায় বিগ ব্যাং বলে।এইদিক দিয়েও আমরা একই ।


কিন্তু আমি এটি বোঝাতে চাচ্ছি না আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে আমরা সবকিছুই সব দিক দিয়ে এক।একে অপরের সাথে connected । 


আমিঃএটা তো বুঝলাম।তোমার কথা অনুযায়ী যে আমরা সবাই এক। তাহলে আমি জা জানি তুমি তাই জান তাই তো!এর মানে তো এমন হয়ে গেল যে কেও যদি ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার এসব কিছু হয় তবে আমিও তাই হয়ে যাব। এবং এ বিষয়ে সবকিছু জেনে যাব।আসলে তোমার কথাগুলো খুবই হাস্যকর!


তাতে আমরা প্রতিটি বস্তুকে আলাদা আলাদা না দেখতে পেয়ে একই দেখতে পেতাম।


 ভাইরাসঃ আসলে তুমি আমার কথা বুঝতে পারছ না।আসলে তা ঠিকই হতো।(যেমন কিয়ামতের দিন ভৌত জগতের পর্দা সড়িয়ে ফেলা হবে আর বস্তুগুলো সেসব মানুষের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে যারা আল্লাহর নাফরমানি করেছে।) কিন্তু মানুষ তো (৯৯.৯৯% লোক)আধ্যাতিক জগতে বিরাজ করে না।।কিন্তু আমি তো আর মানুষ নই তাই এ ব্যাপারটা বুঝতে পারছি। এটি তো আগে তোমাকে বুঝতে হবে।আমি বলছি আধ্যাতিক জগতের কথা আর তুমি বলছ ভৌত জগতের কথা।আর যে দেখার কথা বললে এটিও তো ভৌতিক উপাদনই মাত্র। মানুষ আর জ্বীনেরা ততক্ষন পর্যন্ত আধ্যাতিক জগতে ঢুকতে পারে না। যতক্ষণ না সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন না করে।সে যতটুকু আল্লাহর সন্তুষ্টি  অর্জন করে ঠিক ততটুকুই তার জন্য ভৌত জগতের পর্দা সড়ে যায়।যার ফলে সে আধ্যাতিক জগতে তার level up হয়।আর সে ধীরে ধীরে দেখতে পায় যে এই দুনিয়ার জীবনে কিছুই নেই।এ সকল সুখ মায়া। সবকিছুই বৃথা।তখন সে দুনিয়ার জীবনে তার জীবনধানের জন্য কিছু রুটি রোজগার করতে পারলেই  সন্তুষ্ট থাকে ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে।আর সে পরকালের জন্য কর্ম করে। এতে সে পরকালে তো শান্তি লাভ করেই আর ইহকালেও অর্জন করে এমন কিছু যা শুধু উপলদ্ধি করেই বোঝা সম্ভব।


আমিঃ হুম সবই বুঝলাম।আর এও বুঝলাম যে আমি খানিকটা আধ্যাতিক জগতে প্রবেশ করেছি যার ফলে এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে।আচ্ছা ভাইরাস ভাই! আমাকে বলেন তো আমি তো আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার মতো তেমন কিছুই করি নি। তবে আমার থেকে খানিকটা ভৌত জগতের পর্দা সড়ে গেল কেন?


 ভাইরাসঃ তোমার কথার মধ্যেই তো তোমার উত্তর আছে।তুমি নিজেই দেখ! এই দ্বাবিংশ [ (২১০০-২১৯৯)সাল ] শতাব্দিতে মানুষের কতো অহংকার! তার বিজ্ঞান প্রযুক্তি নিয়ে এই করেছে সেই করেছে! আর সারাটি জীবন নিরর্থক সুখের পেছনে দৌড়াচ্ছে তারা। কিন্তু তাদের জীবনে কোন সুখ নেই।আর এখন গেমসের  দুনিয়ায় থেকে সুখে থাকার ব্যর্থ প্র‍য়াস চালাচ্ছে তারা।কিন্তু তুমি ! তোমার মধ্যে এমন অহংকার নেই।বরং তুমি সত্য অনুসন্ধানকারী। আর কিছু কিছু মানুষ এমন আছে এখনো যার প্রকৃত সত্যের খুবই কাছাকাছি থাকে।আর তা  পেতে কিছু ধাক্কার প্রয়োজন পড়ে।যেটুকু দিয়ে দিলেই তারা Enlightened  হয়ে যায়।আর সেইসমস্ত কিছু কিছু মানুষের মধ্যে তুমি একজন।


আমিঃ হয়েছে আমার এত প্রশংসা করতে হবে না।(খুশীর ভঙ্গীতে তাকিয়ে)আচ্ছা এর মানে আল্লাহরই নির্দেশে আমার থেকে খানিকটা ভৌত জগতের পর্দা সড়ে গেছে নাকি ভাইরাস ভাই?


ভাইরাসঃ সবকিছু আল্লাহরই নির্দেশে হয় সাজ্জাদ!তিনি চান তুমি যেন ইসলামের প্রকৃত সত্য অনুধাবন করে সবাইকে দ্বীনের দাওয়াত দাও।তাই তিনি এই ব্যবস্থা করেছেন তোমাকে ধার্মিক বানানোর জন্য।বর্তমান এই উন্নত দুনিয়ার নৈতিকতার খুবই বেহাল অবস্থা।তাই সবাইরই এখন প্রয়োজন ইসলামী দাওয়াত দেয়ার।  বিশেষ করে যেন তাদেরকে দ্বীনি দাওয়াত দাও যারা এখন ইউরেনাস এবং নেপচুন গ্রহতে ডিপ্রেশনের দরুণ একটু সুখের জন্য তার পেঁচিয়ে রেখেছে(পর্ব ২ এ তা ইতিপূর্বেই দেখিয়েছি)।ভার্চুয়াল দুনিয়ায় থেকে ব্রেনে ডোপামিন রিলিজ করে সুখ পাওয়ার পাওয়ার জন্য।তাদেরকে ইসলামী দাওয়াত দাও যারা যা মন চায় তাই করে সমাজে ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলেছে।


আমিঃ আচ্ছা এইবার ব্যাপারটা আমি পুরোপুরী বুঝতে 

পারলাম। এর মানে তুমি আগে আমার মনটা কোরআনের বিভিন্ন বিষয় টেনে এনে আমার মনকে শীতল করেছ। virtual 3D content এ উথাপিত সকল দাবীকে খন্ডন করেছ।আমাকে ইসলামের যাবতীয় বিষয় বুঝিয়েছ।প্রশ্ন করার পর উত্তর না দিলেও(পর্ব ৪ এ দ্রষ্টব্য) এর পরে আমার প্রশংগুলোর উত্তর দিয়েছ।এখন আগেই যদি উত্তর দিয়ে দিতে তবে নিশ্চয়ই আমি ভাবতাম যে এসব সবই আমার মনের ভ্রম(hallucination) ।কেননা কোন ভাইরাসের তো আর চিন্তা করারই ক্ষমতা নেই।আর তাই......


ভাইরাসঃ হ্যা, তুমি ঠিক ধরেছ।তোমার কিন্তু এখন থেকে অনেক দায়িত্ব।


আমিঃ আরেকটা বিষয় ও আমি বুঝতে পারছি যে আমাকে যখন তোমার দেহ কে নিয়ে গবেষনা করার জন্য স্যুট দিয়ে পাঠানো হলো তখন কেন ওসব ল্যব্রেটরির মানুষদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়(এটি পর্ব ৩ এ দ্রষ্টব্য)???এটি এ কারণেই কারণ তাদের অন্তর তালাবদ্ধ হিয়ে গিয়েছে।যার ফলে এতটুকু আধ্যাতিক সক্ষমতা তাদের অর্জিত হয় নি।যার ফলে এই মহাবিশ্বেরর গুপ্ত চাবী সম্পর্কে তাদের খবরই নেই।যেমন উদাহারন হিসেবে কেও ১ থেকে এক লাফে ১০ এ যেতে পারে না বরং ১,২,৩,৪......এভাবে যেতে হয়।তো তাদের তো আগে ১ থেকে ২ এ অতিক্রম করতে হবে।নয়তো আল্লাহর তৈরীকৃত ভারসাম্য থাকবে না। তারা(ল্যাব্রেটরির মানুষগুলো) অনেক বুদ্ধিমান হলে কি হবে? একেজন বড় বড় প্রযুক্তিবিদ, পদার্থবিজ্ঞানী,ঐতিহাসিক এসব হলেই বা কি হবে?তাদের মধ্যে ধরতে গেলে কোন নৈতিকতাই নেই। আমি অনেকদিন যাবৎ তাদের সাথে কাজ করেছি।আর তা আমি জানি।


ভাইরাসঃ তুমি কিন্তু এই  কল্পিত স্কেলে ৮ নং  এ ছিলে।এলিয়েনের সাথে কথা বলার সময় মানুষগুলোর দুঃখ দেখে যখন আসল সত্য কে তুমি ভাবার চেষ্টা করেছ তখন তুমি ছিলে ৯ নং স্কেলে।আর আমার সাথে কথা বলার সময় তুমি ১০ং আধ্যাতিক স্কেলে পৌছিয়েছ।তো যাই হোক এটি বড় কথা নয়।মূলকথা হলো আল্লাহ তা'য়ালা এটি চান যে সবাই যেন হেদায়েত প্রাপ্ত হয়।আর তিনি মানুষকে কোন না কোন মাধ্যমে রাস্তাও দেখান।অনেকময় সে কারও মাধ্যমে রাস্তা দেখান।যেটি তোমার কাছে দায়িত্ব অর্পন করা হচ্ছে।আবার কেও কর্মক্ষেত্র থেকেও রাস্তা  পেয়ে যায়।যেমিন তুমি অনুজীব বিজ্ঞানী আর অনুজীবের সাথে বোধ এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে রাস্তা পেয়েছ।খেয়াল করবে আমার কিন্তু কোন নিউরন নেই।আমি এক সাধারণ সরল অনূজীব।কিছু  ডিএনএ নিউক্লিওপ্রোটিন এসব ছাড়া তেমন কিছুই নেই।আমি কথা বা চিন্তা করতে পারি না।কিন্তু তুমি আমার বোধ কে ধরতে পেরেছ।আর তাই তুমি আমার বোধ কে তোমার ব্রেন দিয়ে কথায় রুপান্তর করে তুমি আমার সাথে যোগাযোগ করছ।


আমিঃ এর মানে কি এই জগতের সবকিছুরই একটি বোধ আছে?(আধ্যাতিক প্রেক্ষাপটে)


 ভাইরাসঃ হ্যা।


আমিঃ এর মানে কি আমার বোধ আরো উন্নত হলে তোমার চিন্তাকে আরো দ্রুত দেখতে পাব? আবার বোধ খুবই দুর্বল হলে আমি মানুষ ছাড়া কোন প্রানীর সাথে কথাই বোলতে পারব  না!মানে আমার কাছে মনে হবে যে একমাত্র ভাষা বা কথার মাধ্যমেই যোগাযোগ করতে পারব তাই তো?আর এজন্যই মানুষেরা মানুষ ছাড়া আর কোন প্রাণীর কথা বোঝে না।বোলতে গেলে তাদের প্যাটার্ন ধরতে পারে না।


ভাইরাসঃ বোললাম তো কথা বোললে ভুল হবে। কারণ ভাষা তো তুমি তোনার ব্রেন দিয়ে রুপান্তর করছ। বলো বোধ।


আমিঃআচ্ছা বুঝলাম বোধ।হয়েছে? আচ্ছা আমার একটা প্রশ্ন ছিল। তা হলো আমি কিভাবে ইসলামের দাওয়াত দিব।


তাছাড়া আগে তো আমরা ভাবতাম ব্যাক্টেরিয়া ভাইরাস এসব খারাপ। এরা বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে।তাদেরকে খারাপ চোখেই আমরা দেখি।অথচ তুমি দেখি অনেক জ্ঞানের জ্ঞানের কথা বলো।আচ্ছা বলতো কেন তুমি আরো ১০০ বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালে এত বড় মহামারী নিয়ে এলে? তোমার জন্য কত মানুষ মারা গিয়েছে।বাইরে থেকে ভয়ে মানুষ বের হতে পারে নি। চারদিকে ছিল মৃত্যুর লীলা।কেন? তুমি এখন আমাকে বলো ইসলামের দাওয়াত দিতে অথচ তুমি যে এসব ধবংশ চালিয়েছিলে এসব কি খুব ভালো ছিল।আর এখন তো তোমার কোন মূল্যই নেই।সামান্য এক্সপেরিমেন্টের বস্তু তুমি।এত ধবংশের এসব দ্বায়ভার কে নিবে?


এই কথাটি আমি এই কারণে বলছি যে অন্য মহাবিশ্বে অবস্থারত আমার এক কপি।যে আমার বিষয়গুলোকে নিয়ে ভাবছে।আর সেই যুগের মানুষের জন্য এই উত্তর টা জাবা খুবই গুরুত্বপূর্ন। যেখানে এখন ২০২০ সাল চলে।অবশ্য প্রথম প্রথম ব্যাপারটা আমি বুঝতে পারি নি যে কিভাবে আমার মধ্যে আমার কপির এত তথ্য এলো।বরং বুঝতে না পেরে আমি আর তার মধ্যে চিন্তার  গোলমাল পাকিয়ে ফেলেছিলাম(পর্ব ১ এ দ্রষ্টব্য)।আমার এই অস্তিত্ব আছে কি না সেটা নিয়েই সন্দেহে পড়ে গিয়েছিলাম পরে এলিয়েনের সাথে কথা বলে বুঝলাম যে এটি তার ভাবার কারণে হয়েছে।তাও ব্যাপারটা আমার কাছে পরিষ্কার না।কিভাবে সেই ছেলের তথ্য আমার মাথায় ঢুকে গেল আর আমার সাথে ঘটা অদ্ভুত ঘটনাগুলো সেই ১৭ বছরের পিচ্ছি ছেলে পাচ্ছে?এটিকে তুমি আধ্যাতিক ও ভৌতিক দুই নজর দিয়ে কিভাবে দেখ?


ভাইরাসঃ দেখ তুমি দু'টি বিষয়ের প্রশ্ন আমার কাছে উথাপন করেছ।প্রথমত প্যারালাল ইউনিভার্স বিষয়টা নিয়ে।দেখ তোমার কাছে ঐ ২০২০ সালে বসবাসরত ছেলে যেমন একটি সম্ভাবনা।ঠিক তেমনই ওর কাছেও তুমি একটি সম্ভাবনা।আর তাই তোমাদের একে অপরের সাথে কখনো কোন যোগাযোগ করা সম্ভব নয়।শুধুমাত্র এই বিশ্বের সকল সম্ভাবনা কে উপলদ্ধি করা সম্ভব।


তোমার আপাতত এসব বিষয় নিয়ে ভাবার দরকার নেই।তুমি এখন ইসলাম ও আধ্যাতিক বিষয় নিয়ে মনোযোগ দাও।আর তাতে তুমি যখন আধ্যাতিক লেভেলে উপরে উঠতে থাকবে তখন এই ভৌত বিষয় গুলোও সাধারণ মনে হবে।খেয়াল করে দেখবে তুমি যখন ছোট হচ্ছিলে(পর্ব ৩ এ দ্রষ্টব্য)তখন ভাইরাস লেভেল থেকেও তোমাকে ছোট করা হয়।আর তোমার স্যুটের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।আর তোমাকে পরমাণু(Atom) এর উপাদান ইলেক্ট্রন,প্রটোন ও নিউট্রন থেকেও ছোট অর্থাৎ কোয়ান্টাম দুনিয়ায় সফর করানো হয়।আর warm hole এর মাধ্যমে তোমার তৈরীকৃত কপির সকল সম্ভাবনা দেখানো হয়।(পর্ব ৩ এ দ্রষ্টব্য)।কেননা এগুলো ও ভৌত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত এটা ঠিক।কিন্তু এসব এতটাই অদ্ভুত যে কারণে তোমাদের মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানীরাও এটিকে এখনো ভালোভাবে ব্যখ্যা দিতে পারে নি।এইসব তোমাকে এই কারণে করা হয়েছে যে যাতে তুমি  বুঝতে পার তোমরা মানুষেরা এতই দূর্বল যারা ভৌত জগৎ কেও ভালোভাবে উপলদ্ধি করতে পারে নি আর সেখানে তারা যায় ইসলাম ও আধ্যাতিক বিষয়গুলোকে নিয়ে ভুল ধরতে।এসব বিষয়কে নিয়ে কটাক্ষ করতে।তুমি যদি এই আধ্যাতিক বিষয়গুলো যা এখন হচ্ছে তা দেখার জন্য আগে থেকেই তৈরী হতে পার আর যেন বুঝতে পার এসব সৃষ্টিকর্তার আদেশেই হয়েছে ও হচ্ছে।নয়তো এসব অদ্ভুত বিষয় না হলে তোমার মনে অনেক প্রশ্ন ও উঠত না আর ইসলাম নিয়ে জানার ব্যপারটিও আর হয়ে উঠত না।


আমিঃ হুম,আমার স্যুটের তো এখনো কার্যকারিতা বন্ধ।কতক্ষণ ধরে ল্যব্রেটরিতে থাকা মানুষগুলোর সাথে যোগাযোগ হচ্ছে না।আচ্ছা ২০২০ সালে তোমার দ্বারা তৈরীকৃত মহামারি বিষয়টি নিয়ে তো প্রশ্ন করলাম।এই ব্যাপারটি  নিয়ে তো কিছু বলো!!!


করোনা ভাইরাসঃহুম তোমার প্রশ্নটি আমার মনে আছে। তোমার ঐ virual 3D content টি খোল।যেটি ঐ এলিয়েনটি দিয়ে ছিল(পর্ব ২ এ দ্রষ্টব্য)আর ওখান থেকে সূরা ব্বাকারার ১৫৫ নং আয়াত বের করো।


[আমি মনে মনে ভাবছি কোন দুনিয়াতে যে এসে পড়লাম।এখন মস্তিষ্কহীন সমান্য ভাইরাস থেকে জ্ঞান আহরণ করা লাগছে।ও কোথা থেকে যে কি বলে কে জানে।যাই হোক আমি বের করলাম ওটি।virtual 3D content প্রযুক্তি টি।ওটি আসলে ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি।নীল রঙের আলো বিচ্ছুরণ ঘটে।খোলার পর উক্ত আয়াত টি সার্চ করায় উক্ত আয়াতের তেলাওয়াত করার স্বর এবং অর্থসহ লেখা ভেসে উঠল]


virtual 3d content : এখানে আল্লাহ বলেছেন ''আমি অবশ্যই তোমাদের কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলবই।মাঝে মাঝে তোমাদের বিপদের আতন্ক, ক্ষুধার কষ্ট দিয়ে,সম্পদ,জীবন,পুন্য ফল-ফসল হারানোর মধ্য দিয়ে।আর যারা কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা করে তাদেরকে সুখবর দাও।(সূরা বাকারাঃ ১৫৫)


করোনা ভাইরাসঃ এই আয়াতই তোমাকে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে।তাও চলো ব্যাপার টা বোঝার চেষ্টা করি।


আল্লাহ মানুষ ও জ্বীন জাতিদের কে নিয়মিত পরীক্ষা নিয়ে থাকেন।ঐ মহাবিশ্বে অবস্থানরত ঐ পৃথিবীতে ২০২০ সালের দিকে এমন একটি সময় যাচ্ছে যেখানে মানুষ ইসলাম থেকে দূরে  সরে যাচ্ছে।তাই এটি একধরনের সতর্কবার্তা যাতে মানুষ এই কারণে প্রকৃত সত্য একটু হলেও অনুধাবন করতে পার।তারা যেন বুঝতে পারে আল্লাহ চাইলে সবকিছু করতে পারে।যতই কোয়ারেন্টাইন পালন বা ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের চেষ্টা করা হোক না কেন।সৃষ্টিকর্তা না চাইলে কখনো কোন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব না।কারও জন্য এটি গজবের নমুনা।আবার কারও জন্য এর দ্বারা মৃত্যু দিয়ে শহিদী মরণ দিতে চান(যারা নেককার)।আবার কার ও জন্য এটি জীবন কে পুনর্বার একধরনের restart করা।


এখানে প্যারালাল ইউনিভার্সে  অন্য মহাবিশ্বে অবস্থানরত যেখানে তোমার মতো আমার ও কপি আছে যার সাথে আমিও ভাবনায় connected আছি সেখানে আমি(করোনা ভাইরাস) আল্লাহর আদেশে এসব কাজ করছি।তাই বিজ্ঞানীরা সহজে এর ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করতে পারছে না।তাই তাদের উচিৎ আল্লাহ কে বেশী নেশী স্বরণ করা।নবিজী তো হাদীসে বলেছিলেন যে কোন মহামারি এলে সেই এলাকার মানুষ অন্য এলাকাতে আর অন্য এলাকার মানুষ সেই এলাকায় ঢুকতে না।(বুখারী শরিফঃ৫৩৯৬)।এখানে চীনের ওহান শহরে থাকা মানুষগুলো বাইরে গিয়েছে বলেই এই রোগ এখন পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে।এসব নবিজীকে না মানারই কুফল।আমার কপিরা কি আর করবে।তারা সহ আমরা সবাই তো আল্লাহর সৈনিক ছাড়া কিছুই নেই।


আমিঃহুম আমি সবই দেখতে পারছি।ঐ মহাবিশ্বে অবস্থানরত ঐ ছেলেটির(আমি সাজ্জাদ) সাথে connected তো। তাই আমার ভাবনা ও চারপাশের পরিবেশ সে এবং তার ভাবনা ও  চারপাশের পরিবেশ আমি অনুধাবণ করতে পারছি।তাই ওখানে তোমার কপি কি কি করছে তাও অনুধাবন করতে পারছি।তোমার কপির কারণে পুরো পৃথিবী এখন মহামারী তে আক্রান্ত।


আমিঃ আচ্ছা, তবে এখন এখানে তুমি মহামারী ফেলছো না কেন?


করোনা ভাইরাসঃ আল্লাহর আদেশ তাই।তাছাড়া ওখানে মানুষের নৈতিকতা  এখান থেকে অনেক ভালো।এখানে মহামারী হলেও মানুষের অন্তরে আঘাত হানার মতো কিছুই হবে না।কারণ তাদের অন্তর তালাবদ্ধ এখন মানুষ এমন হয়ে গিয়েছে যা কোরানের ভাষায় বলা যায় ''কখনো না বরং তারা যা করে, তাই তাদের হৃদয় মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।''(সূরা মুতাফফিফীন:১৪)


আমিঃআচ্ছা, আমাদের এই মহাবিশ্বের এই পৃথিবীতে তো কবেই সেই ২০২০ সাল চলে গিয়েছে।আচ্ছা ঐ মহাবিশ্বে অবস্থানরত পৃথিবীতে ২০২০ এর পরবর্তীতে তোমার কপির কোন প্ল্যান আছে কি না।মানে আবার এরকম কোন ভাইরাস ফেলানোর আশন্কা আছে কি না।আমার কপি কে যেমন আমি অনুধাবন করতে পারি ঠি তোমার কপিকেও তো তুমি নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পার।তো খোজ নিয়ে 

দেখ তো....


[এই কথাটি বলতে না বলতেই তার সাথে সাথে দেখতে পেলাম যে ভৌত জগৎের খানিকটা পর্দা আমার জন্যে সড়ে গিয়ে যে কিছুটা যথাকিঞ্চিত আধ্যাতিক জগতের ঝলক দেখতে পেয়েছিলাম।তার সাথে সাথেই ধবংশ হয়ে গেল।দেখতে পেলাম যে আমি  আবার সেই ভৌত জগতেই প্রবেশ করেছি।ল্যব্রেটরির মানুষেরা ছোট করে যে আমায় virus infected cell এ প্রবেশ করিয়েছিল এখন আমি ছোট হয়ে সেই ভাইরাসের জগতেই আছি।সেই দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন ধরণের নিউক্লিওপ্রোটিন, DNA আর দেখতে পাচ্ছি কাঁটা কাঁটা যুক্ত করোনা ভাইরাস কে।কিন্তু প্রার্থক্য হলো যে আমি শুধু দেখতে তো পারছি কিন্তু কোন বোধ আর এখন অনুধাবন করতে পারছি না।কেন এই ব্যাপারটা হলো???আমি কি এমন কোন ভুল করলাম? দেখলাম যে আমার স্যুট টি ও কাজ করছে।এদিক দিয়ে ল্যব্রেটরির মানুষগুলোর সাথে যোগাযোগ করাও সম্ভবপর হচ্ছে।আমার স্যুটের সাথে নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে তাদের সাথে connet করা বলে তাদের বলা কথা এখন আমি শুনতে পারছি।তারা বলছে]


ল্যব্রেটরির মানুষগুলোঃ কি ব্যাপার, আপনার কাজ তো শুরু করেন।


[বুঝতে পারলাম আমি আধ্যাতিক জগৎে এতক্ষণ পরিভ্রমণ করছিলাম বলে সময় অতিক্রান্ত হয় নি।বরং আমি এই মুহুর্তে কাজ না করে বসে বসে ভাবছি বলে দেরী হচ্ছে। যার ফলে তারা বিরক্ত হচ্ছে।আবার তাদের আওয়াজ পেলাম]


ল্যব্রেটরির মানুষগুলোঃকি ব্যাপার এইভাবে ভাইরাসের দুনিয়ায় ভ্যাবলার মতো দাঁড়িয়ে আছেন কেন? আপনি তো কত আগে থেকেই আমাদের এখানে কাজ করেন।কোথায় আপনাকে তো এমন করতে কখনো দেখি নি।(বিরক্তি প্রকাশ করে বলল)


[[[তাদের কথাগুলো যেন আমার কানেই যাচ্ছে না।বরং তাদের কথা তোয়াক্কা না করে আমি ভাবতে লাগলাম যে কেন এমনটি হলো?আমি গভীর চিন্তার সহীত ভাবতে লাগলাম....


পরে ব্যাপারটি বুঝতে পারলাম।ব্যাপারটি অনেকটা এমন যে অনিশ্চয়তা তত্ব যাকে বলা হয় uncertainty principle অনুযায়ী আমরা জানি যে কোন বস্তুর অবস্থান ও প্রকৃত বেগ আমরা সুম্পূর্ন ১০০%  Aqqurately আমরা কখনো বলতে পারি না।বরং বেশী হলে ১০০% এর কাছাকাছি আমরা বলতে পারি।যদি এমনটি না  হতো অর্থাৎ সবকিছুই আমরা Aqqurately বলতে পারতাম তবে আমরা বর্তমানে চলা সকল ঘটনা সম্পূর্ন রুপে জেনে যেতাম ও বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা ও করতে পারতাম।আর বর্তমানে ঘটা মুহুর্তগুলো যেহুতু ভবিষ্যতে প্রভাব ফেলে তাই ভবিষ্যতে কি হবে তাও আমরা সম্পুর্নরুপে বলে দিতে পারতাম। 


কিন্তু এটি আর এখন সম্ভব নয়।কেননা আমরা বর্তমানই ঘটা পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মগুলো ১০০% Aqqurately বলে দিতে পারি না। সেখানে ভবিষ্যত তো দূরে থাক।কিন্তু যেহুতু বর্তমানে ঘটা সর্বোচ্চ ৯৯.৯৯....% ব্যখ্যা করা সম্ভব তাই আমরা সেই পরিপ্রেক্ষিতে calculation করে বলতে পারি যে ভবিষ্যতে এমন এমন হতে পারে।হবে তা বলা সম্ভব নয়।অর্থাৎ শুধু সম্ভাবনা দাড় করানো সম্ভব মাত্র।


মূলকথা হলো আমরা কখনো ভবিষ্যত জানতে পারব না।এটি কোন জ্ঞান বা প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা নয়।বরং প্রকৃতির নিয়মই এমন আর এই জগৎ সৃষ্টিকর্তার আদেশে এভাবে তৈরী করা।তো প্রশ্ন উঠতে পারে এর সাথে এর কি সম্পর্ক? সম্পর্ক যে আছে বৈ কি!!!


আমি ভুলে ভুলে করোনা ভাইরাস কে প্রশ্ন করে ফেলেছি যে ২০২০ সালের পরে কি হবে?হ্যা, আমার এখানে ২০২০ সাল কবেই অতিক্রম হয়ে গিয়েছে এটা ঠিক।কিন্তু ঐ প্যরালাল ইউনিভার্সের ঐ পৃথিবীতে ২০২০ সাল মাত্র চলছে।অর্থাৎ ২০২০ সালের পরে কি হবে  আমার কপির প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন করা মানে হলো ওকে ভবিষ্যত জানিয়ে দেওয়া।কেননা সেই তথ্য আমার মাইন্ডের সাথে ও connected বলে আমার কপিও পাবে।অর্থাৎ সে ভবিষ্যত জেনে যাবে।আর যা কখনোই সম্ভব নয়।কেননা আল্লাহ  নিশ্চিত ভবিষ্যত কাওকে জানতে দেয় না।অবশ্য আমার জগৎ এ ২১২০ সাল চললেও মনে হতে পারে যে আমার কপি বুঝি ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছে।যেহুতু ওটা ২০২০ সাল। আসলে তা নয়।বরং আমার জগতের অনুযায়ী ওদের কোন প্রভাব ফেলবে না।কেননা দুইটা দুই জগতের একে অপরের প্রেক্ষাপটে সম্ভাবনা !!!আমার ভুলটা হয়েছে ওদের প্রেক্ষাপটে ২০২০ এর পরে কি হবে এটি প্রশ্ন করা। তাই এই ভুলের কারণে যে আধ্যাতিক জগটির পর্দা তৈরী হয়েছিল ভৌত জগতের পর্দা সরে তা এখন নষ্ট হয়ে গেছে।অর্থাৎ বোধের একস্তরে নাম চে নেমে গেলাম ধ্যাত!ব্যাপারটা এতটাই জটিল যে আমি তখন ভালো করে বুঝেই উঠতে পারলাম না।ধ্যাত😫থাক! আবার চেষ্টা করব এমন গুণ অর্জন করার।যদিও তা সহজে অর্জন করা যায় না।


ওহ এদিক দিয়ে আবার আমায় disturb করছে ঐ ল্যব্রেটরির মানুষগুলো।তারা বলে উঠল ]]]


ল্যব্রেটরির মানুষগুলোঃ কি ব্যাপার আপনার কাজ আপনি করছেন না কেন?


[[[তাও আমি তাদের কথায় কর্ণপাত করছি না।আসলে এই একদিনে আমার সাথে যা যা ঘটে গেল তার জন্য আমি খুবই অভিভূত।তাই এখন আর মন চাছে না যে ভাইরাসের DNA decode করা মিউটেশন করা  বা এই ভাইরাসের বৈশিষ্ঠ ইত্যাদি ওসব ল্যব্রেটরির মানুষগুলোকে জানাব।


আর এই মুহুর্তে আমার কেন জানি এমন মনে হতে লাগল যে ওসব ল্যব্রেটরির মানুষগুলো যাদের সাথে আমি এতদিন কাজ করেছি।আমরা রসার্চ করেছি।সেখানে তারা আমার সাথে কোন প্রতারণা করছে না তো।হুম হতেও পারে। কারণ তারা এতই লোভী ও স্বার্থপর যে স্বার্থের জন্য তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।আর তারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতী এজন্যই করছে যে যাতে তারা আরামে থাকতে পারে।আর  তারা জীবনকে মনে করে survival of the fittest। অর্থাৎ যে এই জীনবনযুদ্ধে টিকে থাকবে, যে শক্তিশালী প্রতিপত্তিযুক্ত ও যারা অনেক বুদ্ধিমান তারাই জগতে টিকে থাকবে। আর বাকীরা কি করবে তাদের কোন যায় আসে না।


এমনকি আমি এই কনসেপ্টে বিশ্বাস করতাম না।আমি মনে করি সবাই সমান।জগতের সবাই যেন সুখে থাকুক।আমার মধ্যে এমন রেসিজম নেই।


আমি এসব ভাবরে ভাবতে আরো গভীর চিন্তায় চলে গেলাম। আচ্ছা তারা তো আমায় এটা বলল না যে কেন আমাকে এই ভাইরাস লেভেল পর্যন্ত ছোট হয়ে এসব কাজ করতে হবে।মানে এটি করার উদ্দেশ্যই বা কি? আর আমিই কতো বোকা তাদের এই ইন্টেলিজেন্স গ্রুপে রিসার্চ করি বলে তারা ডাক দিল আর আমি কিছু না বিচার করেই কাজ করতে চলে আসলাম।সারাজীবন তো এটিই করে আসলাম।হয়তো তারা এটা দিয়ে কোন বায়োলজিক্যাল উইপন বানাবে না তো!যার দ্বারা তারা হয়তো এমন better কিছু হতে চাচ্ছে।যেহুতু করোনা ভাইরাস কে তারা ব্যবহার করছে তার মূল কারণ হলো এটি দ্রুত ছড়াতে পারে এমনকি এর গঠন ও দ্রুত  বদলেও যেতে পারে।এর মানে তারা (ল্যব্রেটরির মানুষগুলো) এর দ্বারা অনেক ভয়ংকর কিছু করতে পারে যা কল্পনা করাও দুঃসাধ্য।যার দ্বারা হয়তো তারা এমন কিছু বানাবে যাতে যার দ্বারা হয়তো তারা সাধারণ মানুষকে ধবংশের কাঠগোড়ায় দাড় করিয়ে পুজিবাদী সমাজব্যবস্থা করতে পারবে।যাতে তারাই হবে এই সমাজব্যবস্থার রাজা।অবশ্য অনেকটা হয়েও গেছে।কেননা আমরা আমাদের রিসার্চ চালানোর জন্য কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করি যা সাধারণ মানুষের নেই।তার উপর দুনিয়ায় যদি শুধু তাদেরই বিভিন্ন রুপ ধরণের ক্ষমতা, ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা এসব অর্জন করতে থাকে তবে যে তারা কি করবে তা আসলেই বোঝা যায় ।


আমি সাধারণ মানুষের জন্য ও চিন্তা করি বলে হয়তো এই ব্যাপারটি আমার কাছে গোপন রাখছে তারা।কারণ কিছু দিন যাপৎ অনেক কিছুই তারা আমাকে বলছে না। ব্যপারটি কি।কি ভয়ানক!!!]]]


[নাহ! মানুষ এমনিতেই ইসলাম থেকে দূড়ে সরে যাওয়ায় ডিপ্রেশনে জর্জরিত।তার উপর এমন আমি হতে দিতে পারি না।ভাগ্যিস আমার আধ্যাতিক ক্ষমতা অর্জন হয়েছে বলে দ্রুতই এই বোধ এর ফলে বুঝতে পারছি।তো এখন আর ভাইরাসের লেভেলে ছোট থেকে লাভ নেই।কারণ এখন এসব গবেষনা করার ও আমার একটুও ইচ্ছা  করছে না।যদিও তাদের কথার চাপে কিছু কাজ করেছি।


আমার এখন একটাই চিন্তা তাহলো মানুষকে এখন বাঁচাতে হবে।মানুষকে আবার ইসলাম ও শান্তির পথে নিয়ে যেতে হবে।


ওসব ল্যব্রেটরির মানুষগুলোর কথা না শুনেই শুরু করলাম আমার journey.এবার আমার বড় হওয়ার পালা।আমার স্যুট টি এখন কাজ করছে।যা আধ্যাত্মিক জগৎ আমার জন্য সৃষ্টি হওয়ার সময় কাজ করে নি।তো যাই হোক আমি এখন আমার স্যুট টি বিভিন্ন অপশনে পরিপূর্ন। কেননা এটি যে সাধারণ কোন জামা নয়।বরং তা দ্বারা এক নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ছোট ও বড় হওয়া যায়।


আমি ঐ অপশনটিতে ক্লিক করলাম।আমার এই স্যুটটিতে একটি বোতাম আছে।যেটাতে ক্লিক করার সাথে সাথেই রোবটিক স্টাইলে(এটি দ্বাবিশ শতাব্দির রোবটদের দ্বারা নির্মিত একটি প্রযুক্তি যা আমার স্যুটে অনেক ধরনের প্রযুক্তির মধ্যে একটি যা এখানে ফিট করা হয়েছে) দু'টি লেখা উঠে ভেসে উঠল।small/big. তো আমি big অপশনটিতে ক্লিক করলাম।তার সাথেই সাথেই আমি ক্রমাগত বড় হতে লাগলাম।আমার হাড়, মাংস ক্রমাগত প্রসারিত হতে লাগল।আমি এখন বড় হওয়ার যেন এক অসীম যাত্রাপথের যাত্রী হলাম।]


আমি ক্রমাগত বড় হতে লাগলাম। বড় হতেই আছি আর হতেই আছি।বড় হতে হতে আমি ভাইরাস থেকে ব্যক্টেরিয়ার লেভেল পর্যন্ত বড় হয়ে গেলাম।কিন্তু বেশীক্ষন এই লেভেল স্থায়ী হলো না। ভালো করে observe করার আগেই আরো বড় হতে লাগলাম।দেখতে দেখতে আমি রাইবোজম পর্যন্ত বড় হয়ে গেলাম। অথচ এর প্রোটিন সংশ্লেশনের কাজ ভালো করে দেখতে না দেখতে আরো বড় হতে লাগলাম।খুব দ্রুততার সাথে।এখন আমি কোষের মধ্যে অবস্থিত জিনিসগুলো কে দেখতে পেলাম।দেখতে পাচ্ছি নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, এনড্রোপ্লাজমিক জালিকা,গলজি বডি সহ আরো নানা জিনিস।এগুলো সব মিলিয়ে একটি কোষ তৈরী হয়।যা দিয়ে আমাদের জীবদেহ তৈরী হয়।কি সুন্দর! একেকটার একেকটা কাজ।আমি ক্রমাগত ছোট হওয়ার সময়েও এসব দেখেছি।আবার দেখছি।যতবারই দেখছি ততই সৃষ্টিকর্তার এমন ডিজাইন দেখে অভিভূত হচ্ছি। আর আমরা এখন মানুষেরা স্রষ্টাকেই ভুলে গেলাম!ভাবতে ভাবতে অভীভূত হচ্ছি আর বড় হচ্ছি! বড় হচ্ছি আর বড় হচ্ছি।বড় হতেই আছি তো বড় হতেই আছি।


এইতো আমি এখন কোষের বাইরের স্তরটি ভেদ করলাম।যদি এটি উদ্ভিদের কোষ হতো তবে হয়তো কোষপ্রাচীর দেখতে পেতাম।যাই হোক আমি খুব দ্রুত গতিতে বড় হচ্ছি।হতেই আছি তো হতেই আছি।এখন আমি একটি কোষ থেকেও অনেক বড়।এখন আমি দেখতে পেলাম অনেকগুলো কোষ একসাথে কাজ করছে।মানে বোঝাই যাচ্ছে যে এটি টিস্যু।কোন ধরনের টিস্যু (কিউবয়ডাল,স্কোয়ামাস ইত্যাদি) তা বোঝার আগেই দ্রুত গতিতে বড় হতে লাগলাম।


এতক্ষনে আমি অনেকটা অনুর সমান হয়ে গেছি।এদিকে আমি বড় হতেই আছি আর হতেই আছি।বড় হতে হতে এখন আমাকে খালি চোখে দেখা যায় এমন বড় হয়ে গেলাম।অর্থাৎ আমায় দেখতে এখন আর অনুবীক্ষন যন্ত্র লাগে না এমন বড় হয়ে গেলাম।অর্থাৎ বড় হতে হতে আমি এখন লবনের ছোট একটি দানার সমান বড় হয়ে গেলাম।পরে নোখের সমান।পরে হাতের আংগুনের সমান।পরে ধীরে এক হাত সমান হয়ে পরবর্তীতে আমি আমার আসল রুপ পর্যন্ত বড় হলাম।যা একজন মানুষের সাধারণ হাইট হয়ে থাকে।যা আমার আসল রুপ।এতটুকু হয়ে যন্ত্রটি অফ হয়ে গেল।আর যেই কোষের মধ্যে ঢুকেছিলাম তা একটি বাদুড়ের কোষ ছিল(পরবর্তী তে জানতে পারলাম কেননা তারা আমার সাথে একটি প্রতারণা করার চেষ্টা করেছিল যার কারণে অনেক কিছু আমাকে তারা বলে নি)


তো যাই হোক আমি সম্পূর্ন গবেষনা না করে কেন আমি যন্ত্র কে অন করে বড় হয়ে গেলাম।তা তারা তখন বুঝতে পারল না।এটি জানার জন্য তারা দৌড়িয়ে আসল।তারা বলল----


ল্যব্রেটরির মানুষগুলোঃ - কি ব্যাপার কাজ ফেলে রেখে আপনি এমন করলেন কেন?


আমিঃ দেখুন আমার মন মেজাজ শরীর স্বাস্থ বেশী ভালো না।আমার খুব খারাপ লাগছে।(আসলে যে কতকিছু হয়ে গেছে তা তাদের বললাম না হয়তো তাতে হীতে বিপরীত হতে পারে)


ল্যব্রেটরির মানুষগুলোঃ- (তাদের মধ্যে একজন কে দেখিয়ে)ঐ যে ও ওতো সাইকেট্রিস।সাইকোলজি (মনোবিজ্ঞান) সম্পর্কে খুব ভালো বুঝে।(তাকে হাত দিয়ে ইশারা করে) এই তুমি একটু দেখ তো ব্যাপারটা কি হয়েছে।


আমিঃ (হাসির ছলে বললাম) দেখুন আমার একটু বিশ্রামের প্রয়োজন।আপনারা না হয় অন্য Micro biologist(অনুজীব বিজ্ঞানী) দ্বারা আমার বাকী কাজটুকু সম্পন্ন করুন।আমি এই ভাইরাসের DNA এর প্যাটার্ন কে Decode করে আপনাদের পাঠিয়েছি।এখন না হয় অন্যকে ছোট করে কাজে পাঠান।আমি কিছুদিনের জন্য বিরতি চাচ্ছি।


[[[আসলেই এতকিছু হওয়ার পরে আমি মানসিক ভাবে বিদ্ধস্থ এবং রোমাঞ্চিত। দুটো একসাথেই।মানে অতিরিক্ত সুখে মানুষ যেমন কান্না করে অনেকটা তেমনই। এত আধ্যাতিক ও ভৌত জগতের এত আজব অনুভূতি ও বিষয়গুলো আমার সাথেই ঘটবে তা কখনো ভাবি নি।যাই হোক ভেবেছিলাম যে কিছুদিন কাজ থেকে অব্যাহত নিয়ে আবার কাজ শুরু করব।তাই আমি সেখান থেকে ধীরে ধীরে হেটে বের হতে চাচ্ছিলাম।ভেবেছিলাম বাসায় গিয়ে আরাম করব।কিন্তু না।তারা যেতে নেওয়ার সময় সামান্য একটু পা বাড়াতেই চারদিকে গোলাকার লেজারের ব্যারিয়ার(২১২০ সালের একধরনের উন্নত প্রযুক্তি) বানিয়ে দিল।মানে তারা আমাকে আটক করল।ব্যাপারটি কি ? ]]]


[[[তারা যদি আমার সাথে বন্ধুত্বসুলভই হতো।তবে তো আমার মনের কথাগুলো  বুঝতে চেষ্টা করত।এতবছর কাজ যে তাদের সাথে করেছি।কিন্তু না তারা হুট করে এমন ধৃষ্টতা প্রদর্শন করছে যা শত্রুর সাথেই শুধু করা হয়ে থাকে।আগে তো তাদের নৈতীকতাহীনতা নিয়ে সন্দেহ হচ্ছিল।এখন অনেকটা নিশ্চিত প্রতীয়মান হলো।তাও আমি আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।আসলে তারা আমায় কিছু করতে পারবে না কেননা আমার এর থেকে বাঁচার গুপ্ত গ্যাজেট আছে]]]


ল্যব্রেটরি মানুষগুলোঃ( তারা আমাকে ধরে আবদ্ধ করে বলতে লাগল)কি ব্যাওয়ার সাজ্জাদ সাহেব আপনার কাছে কি আমার অপকর্ম নিয়ে কিছু জানতে পেরেছেন নাকি! আপনি তো আবার সাধু মানুষ।কিছু করেন না আবার করতেও দেন না।(দুষ্টামী,টিককারী অর্থাৎ নেহায়েত ঠাট্যার ছলে বলল)


[[[আমার সাথে কথা বলতে বলতেই আমি দেখলাম তারা memory dismis machine নামক একটি প্রযুক্তি বের করেছে।আমি জানি এর কাজ হলো কোন নির্দিষ্ট সময়ের স্মৃতি মানুষের  ব্রেন থেকে মুছে ফেলা।কিন্তু কেন তারা এমনটি আমার সাথে করতে চাইছে।তাদের মনে কি চলছে?আমাকে নিয়ে খারাপ কিছু করবে না তো।কারণ তারা হয়তো সত্যি সত্যি ভাবছে যে আমি তাদের সব কথা বুঝে ফেলেছি আর আমি বিদ্রোহ করতে পারি জনসাধারণের কাছে গিয়ে তাই তারা হয়তো আমার স্মৃতি মুছে ফেলতে চায়।


অথবা আমি ডিপ্রেশনে আছি এইভেবেও আমার খারাপ স্মৃতি মনে করে কিছু স্মৃতি মুছে ফেলতে পারে।


কিন্তু আমি এটি কিছুতেই চাই না।বিশেষ করে আজ এলিয়েনের সাথে UFO তে চড়ে কথা বলার ব্যপারগুলো ।প্যারালাল ইউনিভার্সের অন্য আমারই

 কপির সাথে চিন্তার সংযোগ (পর্ব ১ এ দ্রষ্টব্য)। এমনকি সামান্য ভাইরাসের কাছ থেকে আধ্যাতিক জ্ঞান পাওয়া  এসব আমি কখনো চাই না যে আমার স্মৃতি থেকে এসব মুছে যাক।


তারা আমার দিকে ধেয়ে আসছে।এখন কি করা যায়?মনে মনে ভাবতে লাগলাম।আমি মাইক্রো বাইয়োলজিস্ট তাদের থেকে কিন্তু বুদ্ধিতে কোন দিক দিয়ে কম নই।হ্যা, একটা জিনিস করা যায় তাহলো আমি গোপনে আমার দেহে আমি একটি জেনেটিক মিউটেশন ঘটিয়েছিলাম।যা তাদেরকে বলি নি।সেটি হলো আমার খুব প্রয়োজন পড়লে আমি এক যায়গা থেকে আরেক যায়গায় টেলিপোর্ট হতে পারব।যেই যায়গায় আমি থাকতে চাই না সেখান থেকে অদৃশ্য হয়ে যেখানে আমি যেতে চাই সেখানে ধুপ করে দৃশ্যমান হয়ে যাওয়াকে টেলিপোর্টেশন বলে বন্ধুরা।তো আমি এটি কে এপ্লাই করলাম।


তারা আমার দিকে ধেয়ে আসছে।আর আবদ্ধ করে রেখেছে লেজার দিয়ে।যা ধরলেই আমি শক খাব।তো তারা আমার সামনে আসতে আসতে আমি আমার পকেট থেকে একটি ইন্ডেকশন আমার বাহুতে পুশ করলাম।এর ফলে সেখান থেকে সরাসরি আমি অদৃশ্য হয়ে গেলাম।আর পকেটে যেসব GPS বা আমার লোকেশন ছিল তা সেখানেই ফেলে চলে আসলাম।কেননা তারা এটার মাধ্যমে আমি কোথায় আছি তা জানতে পেরে যেতে পারে।


তো আমি ঠিক করলাম এই রিসার্চ সেন্টারের বাইরে একটি লোক আছে তার কাছে যাব।তাই সেখানে গিয়ে আমি অদৃশ্য থেকে দৃশ্যমান হলাম।সে এই রিসার্চ সেন্টার কে দেখে রাখে।ও আমার বন্ধু।ও নিতান্তই সাধারণ মানুষ।তাই ওসব ল্যব্রেটরির মানুষগুলো তাকে মূল্য দেয় না।তাতে কি হয়েছে ওকে আমার খুব ভালো লাগে।ওর সাথে আমার খুব মিল।


ও আমাকে প্রায়ই বলে যে আমরা মানুষেরা যে বিজ্ঞান প্রযুক্তির এত এত উন্নতি ঘটাচ্ছি তা শুধু মানুষের ধ্বংশই ডেকে আনছে।দিনে দিনে মানুষ নিজের জীবন কে মনে করছে নিঃস্বার্থক আর তারা ডিপ্রেশনের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে।


যেখানে সবাই নিজ স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত সেখানে ঐ ই এমন যে কিনা একমাত্র আমার মতো যে এসব চিন্তা করে।


তাই ওর কথা মনে করেই এখানে আসলাম। আমার ইচ্ছা ওর সাথেই আমি আমার দ্বীনি কাজ শুরু করব।যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে কেননা ল্যব্রেটরির মানুষগুলো দ্রুত এই ল্যব্রেটরির বাইরে এসে পড়ে আমাকে দেখে ফেলতে ও পারে।যাই হোক আমার ঐ বন্ধুটি আমাকে দেখে বলল]]] -----


আমার বন্ধুঃ কি ব্যাপার ধুপ করে অদৃশ্য থেকে দৃশ্যমান হলে! কি ব্যাপার biologist!তুমি আবার কবে তোমার gene এ মিউটেশন ঘটিয়ে এই ক্ষমতা অর্জন করলে?


আমিঃএত কথা বলার সময় নেই(হাপাতে হাপাতে বললাম)।তাড়াতাড়ি করো।আমাদের এক যায়গায় যেতে হবে।তোমাকে সব বলব।


আমার বন্ধুঃ কথা নেই বার্তা নেই কি করছ আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।


ও একজন নিতান্ত সাধারণ মানুষ।কিন্তু মন অনেক ভালো।ওর দেহে টেলিপোর্টেশন করার সক্ষমতা এখন নেই আবার মিউটেশন ঘটিয়ে ওর দেহে এসব করব তার সময় ও এখন নেই।তাই আমাদের যাত্রা করেই এক যায়গা থেকে অন্য যায়গায় যেতে হবে।তাই ওকে নিয়ে ধুপ করে এক যায়গা থেকে অদৃশ্য হয়ে অন্য যায়গায় দৃশ্যমান হওয়া সম্ভব নয়।


তাই আমার ঘড়ি থেকে একটি বাটন প্রেস করলাম।বাটন প্রেস করার সাথে সাথে দেখলাম আকাশ থেকে একটি রোবট সুপারম্যানের মতো উড়ে আসছে।ও উড়ে আমাদের সামনে land করে আমাকে ধাতব গলায় জিজ্ঞাসা করল]]] ------


রোবটঃ আপনার কি কিছু দরকার?


আমিঃ তুমি এখনই একটি উড়ন্ত গাড়ি(flying car) হয়ে যাও।


[এট বলার সাথে সাথেই রোবটটি উড়ন্ত গাড়িতে রুপান্তরিত হলো।আমি ও আমার বন্ধু এখানে বসে পড়লাম।এটি এখন উড়ত শুরু করল।আমি যেখানে যতে চাই তার লোকেশন বলে দিলাম।আমরা দুইজন উপর থেকে দেখছি যে এত এত উন্নত আমরা এখন হয়ে গিয়েছি।এর পূর্ববর্তী একবিংশ শতাব্দিতে (২০০০-২০৯৯) যা হয়তো কিছু সংখ্যক লোক বাদে কেও এসব বিষয়ে কল্পনাও করতে পারত না।]


আমি ভাবতে ভাবতে যেন এক গভীর ভাবনায় লিপ্ত হয়ে গেলাম।আমি ভাবতে লাগলাম ---- তারপর ও তখন মানুষের মনে যেই শান্তি টি ছিল।অদ্ভুত প্রশান্তি ছিল তা এখন যেন হাড়িয়ে গেছে।মানুষের মধ্যে এখন রুহানী জোশ নেই।ইসলাম কে যেন তারা ভুলেই গিয়েছে।তারা ভাবছে এইখানেই বুঝি তারা চিরজীবনই বেঁচে থাকবে। আসলে কিন্তু তা না।আর তাই ভাবছে এসব বুঝি আমাদের আনন্দ দিবে।তাই তারা দিনের পর দিন নিজেদের আরো উন্নত করছে।তারা বুঝতে পারছে না এই প্রযুক্তির উন্নয়ন যে মানুষ কে ধংশের দিকে ধেয়ে নিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে তারা বেখবর।এইসব উন্নতী মানুষকে কিছুই দিতে পারে না শুধু একরাশ বিষন্নতা ছাড়া।বরং যারা আগেকার যুগে সারাদিন প্রকৃতির মাঝে যারা থাকত! অর্থাৎ যারা কৃষক,জেলে,তাঁতি এমন সাধারণ মানুষ যারা পূর্ববর্তী শতাব্দিতে ছিল তারাই ছিল শান্তিতে।আচ্ছা মানুষ যে এখন নিজ স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই বুঝে না আল্লাহর এত নাফরমানী করে দুনিয়ার লোভ ও মোহে ছুটে বেড়াচ্ছে তারপর ও তো পৃথিবী টা টিকে আছে।হ্যা,নিশ্চয়ই এখনো কোথাও না কোথাও তো আল্লাহর নেক বান্দা আছে। যেই কয়জনই হোক যাদের জন্য পৃথিবী টিকে আছে।এখন আমাদের কাজ হলো তাদেরকে খুজে বের করতে হবে আর তাদের সাথে মিলে মানুষদের কে দ্বীনি দাওয়াত দিতে হবে।তাতে যেটাই হোক universal war ই হোক না কেন। তাতে মানুষ যেমন ইহকালের এই ডিপ্রেশন(হতাশা/বিষন্নতা)  থেকে রক্ষা পাবে তেমনই পরকালে রক্ষা পাবে জাহান্নাম থেকে।যদিও সবাই ইসলাম কে গ্রহণ করবে না।আধ্যাতিক জগৎ এ ভাইরাসটির সাথে কথা বলে ও এলিয়েনের দেয়া virtual 3 D content  এর বদৌলতে অনেক কিছুই শিখতে পারলাম। যারা এমন অর্থাৎ কোনভাবেই ইসলাম গ্রহণ করবে না তাদের কে নিয়ে আল্লাহ বলেছেন]---


''আর আমি(আল্লাহ) সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বীন ও মানুষ।তাদের অন্তর রয়েছে,তার দ্বারা বিবেচনা করে না,তাদের চোখ রয়েছে,তার দ্বারা দেখে না,তাদের কান রয়েছে,তার দ্বারা শোনে না।তারা চতুষ্পত জন্তুর মতো;বরং তার চেয়েও নিকৃষ্ট।তারাই হলো গাফেল,শৈথিল্যপিরায়ণ(সূরা আ'রাফ:১৭৯)


[এমনকি তারা যে কখনো কোরান কে নিয়েও গভীর চিন্তা করে না।এলিয়েনের দেয়া virual 3d content টিতে নাস্তিকদের দেয়া উথাপিত প্রশংগুলো তো দেখলাম যার কোন আগামাথা নেই।আল কোরানের ভাষায়]-----


''তারা কি কোরান নিয়ে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালবদ্ধ''(সূরা মুহাম্মদ:২৪)


[[[হ্যা, তাই বলছি সব মানুষ না হোক অনেকেই বুঝবে যে আমরা যে আরাম আয়েশের জন্য বিজ্ঞান প্রযুক্তির এত উন্নতি ঘটাচ্ছি শান্তিতে থাকব বলে তা সবই বৃথা।সবই মায়া।


উদাহারণ হিসেবে বলা যায় সবই কল্পনাপ্রসুত আকাশে থাকা সমুদ্রের জলরাশীর তরঙ্গের মতো।মানে কথাগুলো শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু সবই মিথ্যা, মায়া মোহ।কেননা আকাশে সমুদ্র হয় না।হয় পৃথিবীতে অর্থাৎ যুক্তিহীন সুন্দর কথা


আমাদের জগৎ কেও আমরা এখন বানিয়েছি তেমন।আর আমাদের এখান থেকে বেড়োতে হবে।সবাই নয় এই কেও বুঝলেই আমি আমার জীবনকে স্বার্থক মনে করব যে আমি তাদেরকে পরকালের নির্ঘাত জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য চেষ্টা করেছি।কারণ তারা যা করছে তার শাস্তি পরকালে জাহান্নাম।দুনিয়াতে বিষন্নতা নামক শাস্তি তো আছেই ]]]


[আমার গভীর ভাবনায় এসব ভাবছি।আর আমাকে এমন গভীর ভাবনায় মগ্ন দেখে আমার পাশে বসে থাকা আমার বন্ধুটি জিজ্ঞাসা করল]


আমার বন্ধুঃ মনে মনে কি এত ভাবছ😮😮😮?আর আমাকে তো বললে না যে কি হয়েছে আর কোথায়ই বা যাচ্ছ?


[তারপর আমি আমার বন্ধুকে সব খুলে বলতে লাগলাম।এদিক দিয়ে আমরা আমাদের ফ্লায়িং কার উড়ে চলেছে যেন এক না জানা না বলা অসীম দিগন্তে!]


---------------------


(আপাতত সমাপ্ত)


-------------------------

------------------

------------

Comments

Popular posts from this blog

আজকের বিষয়:- খেলাফত রাজতন্ত্রে রুপান্তর।ইমাম হাসান(রা:) কে বিষ দিয়ে হত্যা।

১২ ইমাম নিয়ে শিয়া ও সুন্নীদের রায়।(১ম পর্ব)

আজকের বিষয়:-মুয়াবিয়ার শাসনামল