যদি আমি হতাম মহাভারতের মহারথি(পর্ব ১)

 



পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু করছি।


বিঃদ্রিঃ-আপনাদের এই লেখাটি পড়ার জন্য আগে এই লিংকের দেয়া ছোট্ট লেখাটি পড়ে আসতে হবে।বিশেষ করে যারা মহাভারত সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না তাদের পড়াটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ।নয়তো মহাভারতের কিছুই না জানলে আমার লেখা বোঝাটা কঠিন হতে পারে।তাছাড়া এই গল্পটি লেখার পেছনে আমার মূল উদ্দেশ্য কি তা এখানে আলোচনা রয়েছে।---->>>


https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=808096416801134&id=100028023496377


তো শুরু করি---->>> 


 গল্পের নামঃ-যদি আমি হতাম মহাভারতের মহারথি(পর্ব ১)


লেখক ও কল্পদ্রষ্টাঃ-Shohedul Islam Sajjad


মহাভারতের কাহিনীটা অসাধারণ।বিশেষ করে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময়টা।অনেক ছোটবেলায় যখন আমার বয়স ১১(২০১৪ সালে) স্টার প্লাস চ্যানেলের এক সিরিয়ালের মাধ্যমে এই মহাকাব্যের সাথে পরিচয়।টিভিতে শুরু হলেই মহাভারত দেখতাম।আর এই কাহিনীটা আমার কাছে সেই লাগতো!তখন অবশ্য এখনকার মতো এতকিছু বুঝতাম না।তবে এখন ব্যক্তিগত অধ্যয়ন করে অনেক কিছু জানতে পেরেছি আর আজ আমি মহাভারতের এক নতুন রুপ দিতে যাচ্ছি।


কেমন হতো যদি আমি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম?আপনাদের কি মনে হয় বেশ মজার হতো না?আপনারা হেসে হয়তো ভাবছেন ''আরে ব্যাটা সাজ্জাদ এটাতো কাল্পনিক।তাছাড়া যদি ধরি তুমি যুদ্ধে গেলে তবে তো তোমাকে তাদের  অস্ত্র দিয়ে মেরেই ফেলবে।''হুম এটা ঠিক।পুরো মহাভারতটাই কাল্পনিক।কিন্তু আমি এই যুদ্ধে তো যাব কল্পনাতেই।তো এখন আমরা কল্পনার জগতের ভ্রমণ করতে যাচ্ছি।উক্ত ভ্রমণটি আপনাদের নিয়েই আমি শুরু করলাম।আপনাদের নিয়ে যাব এক নতুন জগতে।আপনারা তৈরী তো?


Ready---->>>10...9...8...7...6...5...4....3....2....1>>Go💥💥💥


মনে মনে কল্পনা করুণ আমার কাছে টাইম মেশীন আছে।চারদিকে এখন ঘন অন্ধকার।নিরব ও নিস্তব্ধ।হুট করে কোথা হতে যেন বাতি জ্বলে উঠল।দেখলাম গোলাকার চাকতির মতো একটি বেশ বড় বস্তু।এর বাইরে কাঁচ দিয়ে ঢাকা।যেটি আসলে ছিল টাইম মেশীন!আমি সামনে আসাতে সেটি খুলে গেল।


আমি ভেতরে প্রবেশ করলাম। প্রবেশ করে দেখলাম আমার কাছে অদ্ভুত মেশিন।সেখানে নীল আলো বিচ্ছুরণকারী এক স্ক্রিন ভেসে উঠল।সেখানে এক যায়গায় অপশন আছে Past আর আরেক যায়গায় Future.আর আরেক যায়গায় Reality/Imagination লেখা।আমাকে তো যেতে হবে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের কালে।এটা তো কাল্পনিক যুদ্ধ।তাই আমি Imagination অপশনে ক্লিক করলাম।এরপরে স্ক্রিনে আরো বিভিন্ন অপশন আসল।আমি এরপরে Indian Mythology তে ক্লিক করলাম।তারপরে ক্লিক করলাম Dapar yuga>>>Mahavarata>>>kurusetra war এ।


ইঞ্জিন স্টার্ট হয়ে গেল।জিং.... একটা শব্দ হচ্ছে।টাইম মেশিন ঘুরতে লাগল।ঘুরতে চারপাশ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।আরো দ্রুত ঘুরতে লাগল।ঘুরতে লাগল..... ঘুরতে লাগল.....ঘুরতে লাগল.......আর চারপাশ অদৃশ্য হতে লাগল।পরে হুট করে সব অদৃশ্য হয়ে গেল।এত দ্রুত ঘুরার ফলে আমার চেতনা হারালাম।


চেতনা ফিরে এলো আমার।এখন আমি অদৃশ্য অবস্থায় চতুর্থ ডাইমেনশনে আছি ।তাই আমি সবাইকে দেখতে পাচ্ছি কিন্তু আমাকে কেও দেখতে পারছে না।যখন প্রয়োজন হবে তখন সবার সামনে দৃশ্যমান হবো আপাতত থাক।


আমি চতুর্দিকে তাকালাম।আজ যুদ্ধের প্রথম দিন।দেখলাম দুইদিকে দুই বিশাল সেনা।এক দলে পান্ডব।আর আরেক দলে কৌরব।পান্ডবদের দলে বিশাল সেনা। কৌরবদের সেনা তো আরো বড়।বিশাল বড় এক যুদ্ধে দেখতে যাচ্ছি আজ।এখানে কথা বলা হচ্ছে  সংস্কৃততে। আমি তো সংস্কৃত ভাষা বুঝি না।তাই আমার টাইম মেশীন থেকে আমার সাথে কানেক্ট করে অদ্ভুত ধরণের এক তরঙ্গ চতুর্দিকে নিঃস্বরণ করে দিলাম।যাতে শব্দ আমার কানে পৌছাতেই তা আমার মাতৃভাষা বাংলার মতো শোনায়।অন্যদিকে আমি যদি কথা বলি তবে শোনাবে সংস্কৃত ভাষায়!


আমার তো জানা যে এখন কি ঘটবে!আর তাই ঘটল।পান্ডবদের একজন তীরন্দাজ অর্জুন যুদ্ধ করতে চাচ্ছে না।বিপক্ষে যে তারই ভাই।তারই পিতামহ তারই গুরু।কিভাবে সে যুদ্ধ করবে?অর্জুনের সারথি(১)এখানে শ্রীকৃষ্ণ।কৃষ্ণ মনের কথা বুঝে গেল।তখন কৃষ্ণ সময় থামিয়ে দিল।(আমি যেহুতু ফোর্থ ডাইমেনশনে তাই আমার উপর সময় থামানোটা কাজ করছে না।তাই দেখতে পারছি সব।)


সময় থামিয়ে কৃষ্ণ রথটিকে(২)চালিয়ে কৌরব ও পান্ডব সেনার মাঝামাঝি দাড় করালো।তখন কৃষ্ণ অর্জুনকে বলল,''তোমার মনের কথা বলো পার্থ (৩)।''


অর্জুন বললো, ''আপনিই তো বলেন যে সারথি মন পড়ে ফেলতে পারে।তাহলে মাধব(৪)আপনিই বলুন আমার মনে কি চলছে।"


কৃষ্ণ বলল,"কিন্তু পার্থ আমি যে তোমার মুখ থেকেই শুনতে চাই।"


অর্জুন বলল" মাধব আমার এই যুদ্ধ করা সম্ভব না।কিভাবে আমার পরিবারের রক্তের পিপাসু আমি হবো?''লাগবে না আমার এই ইন্দ্রপ্রস্থ(৫)


কৃষ্ণ বলল,"পার্থ যেই যুদ্ধের জন্য তুমি এত বছর পরিশ্রম করেছ।দ্রোপদির(৬)বস্ত্রহরণের প্রতিশোধের জন্য নিজেকে তৈরী করেছ এখন এই যুদ্ধ যখন সামনে তখন এই ধর্মযুদ্ধ করতে চাইছো না?"


আমি দেখতে লাগলাম অর্জুন দুঃখে ভারাক্রান্ত। তখন কৃষ্ণ এই অবস্থা দেখে বলল,''হে পার্থ,তুমি মোহে বিমর্ষ।তুমি মোহ ত্যাগ করো। তোমায় আজ যা জ্ঞান দিব সেই জ্ঞান সহজে দেবকুল ও সহজে প্রাপ্ত হয় না।তুমি তা তা সাদরে গ্রহণ করো''


এটা বলে এক লম্বা ভাষণ দেয়া শুরু করল। যেটা ভগবত গীতা নামে পরিচিত।আমি খুব অবাক হলাম যে যুক্তির মারপ্যাচে কৃষ্ণ কিভাবে অর্জুনকে বোকা বানাচ্ছে আর অর্জুন ও সব ভক্তি নিয়ে শুনছে!


দেখলাম আগে অর্জুনের দুঃখ দূর করল।কর্ম ও কর্ম বন্ধনের কথা বলল।যা শুনে বেশ ভালো লাগল।বেশ জরুরী কথা।এভাবে চলতে থাকল শ্রীকৃষ্ণের কথা।


একটা সময় অর্জুন কৃষ্ণের আসল রুপ দেখতে চাইল।তখন কৃষ্ণ অবতার রুপ থেকে বিরাট রুপ ধারণ করল।বিশেষ করে তখন থেকেই কথাগুলো অনর্থক হওয়া শুরু হলো।শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বিষ্ণুরুপ(৭) দেখিয়ে নিজেকে ঈশ্বর প্রমাণ করতে লাগল। জগতের সবকিছুকে(বিশেষ করে শ্রেষ্ঠ জিনিসকে) আমি দাবী করতে লাগল কৃষ্ণ।


এদের মধ্যে নক্ষত্রের মধ্যে চন্দ্র (গীতা১০ঃ২১)এই অবৈজ্ঞানিক কথাটা শুনে তো আমি হাসতে হাসতে শেষ।


তারপরে নিজেকেই জগতের সবকিছুর পরিচালক দাবী করে ভক্তিযোগের মাধ্যমে কিভাবে ঈশ্বরপ্রাপ্তি হয় এসব বলল।সংক্ষেপে বললে মোটামুটি এইসব বলেই গীতার পরিসমাপ্তি টানল কৃষ্ণ।


শেষে অর্জুন বলল, "আমি এখন যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।আমার মোহ এখন দূর হয়েছে।"


এটা বলে অর্জুন তার গান্ডীব ধনুক হাতে নিল।


নাহ!এভাবে এইসব যে আর দেখতে ভালো লাগছে না।এবার যে আমাকে দৃশ্যমান হতেই হয়!নাহ!এখন হবো না।আমার ইচ্ছা মহা দানশালী অঙ্গরাজ কর্ণ(৮) যখন যুদ্ধে নামবে তখন আমি তার সারথি হবো।


তাই আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম।আর নিরপেক্ষভাবে যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম।


যুদ্ধ শুরু হলো।বিশাল বড় যুদ্ধে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠল।একদল আরেক দলের উপর দিব্য অস্ত্র প্রয়োগ করে যাচ্ছে।এইদিন অর্জুনের পুত্র অভুমন্যুর বিরত্ব দেখে অবাক হলাম।


দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে ভীষ্মের বীরত্ব দেখে।তৃতীয় দিনে দেখলাম ছলিয়ে কৃষ্ণ নিজে এই যুদ্ধে অস্ত্র নেবে না এটা বলেও শপথ ভেঙ্গে ভীষ্মের দিকে তার সুদর্শন চক্র নিক্ষেও করতে চাইল।কিন্তু অর্জুনের অনুরোধে বেঁচে গেল ভীষ্ম(৯)।


চতুর্থদিনে ভীম(পঞ্চ পান্ডবের একজন)আর কৌরবদের তুমুল যুদ্ধ দেখলাম।এভাবে কৌরব পক্ষের সেনাপতি ভীষ্ম এবং পান্ডব পক্ষের  ধৃষ্টদ্যম্ন সেনাপতির দায়িত্ব পালন করে তুমুল যুদ্ধ চলতে লাগল।একে অপরকে এভাবে চরম আঘাত করে দিন অতিক্রান্ত হতে লাগল।আমিও কর্ণের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।কারণ কর্ণের মতো উদারমনা ছাড়া ধর্মের প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।তাকে নিয়েই যুদ্ধের ময়দানে আমার নামতে হবে।


যুদ্ধের দশম দিনটি অনেক কষ্টের ছিল।পিতামহ ভীষ্ম কে হত্যা করা দুর্বোধ্য ছিল।কেননা তিনি ইচ্ছামৃত্যু আশীর্বাদপ্রাপ্ত। তার উপরে অনেক বড় যোদ্ধা।উনি ক্রমাগত শত্রুপক্ষ পান্ডবদের দলদের পরাস্থ করতে থাকেন। কিন্তু শিখন্ডি(যে পূর্বজন্মে মেয়ে ছিলেন) সামনে থাকলে ভীষ্ম আক্রমণ করবে না তা পান্ডবেরা জেনে যায়।তাই তাকে সামনে রেখে পান্ডবেরা তার পিতামহ এর উপর অস্ত্র নিক্ষেপ করতে থাকে।মূলত এই ছলের মূলে ছিলে কৃষ্ণ।এই কৃষ্ণের ছল দেখে আমি মহা বিরক্ত।তো যাই হোক উনি ইচ্ছামৃত্যু প্রাপ্ত বলে দেহে তীরের আঘাত নিয়ে শয্যাশায়ী হয়ে রইলেন।


ভীষ্ম চেয়েছিল উনি বেচে থাকা পর্যন্ত কর্ণ যেন রণক্ষেত্রে না নামে।কেননা পান্ডবদের মা কুন্তি অর্জুন আর কর্ণ সহোদর ভাই একে অপরের সাথে লড়াই করুক এটা চাইতেন না।এমনকি পিতামহ ভীষ্ম নিজেই চাইতেন না।(কেননা কর্ণ ও পান্ডবদের বড় ভাই।যেটা কর্ণের মৃত্যুর আগে কিছু লোক ছাড়া মূলত কেও ই জানত না।কর্ণ জন্মের পরে কর্নকে ভাসিয়ে দেন ওনার মা কুন্তি।এটা আবার অনেক আগের কাহিনী।যে মহাভারত জানে না তাকে এগুলো বলে লেখা বড় করতে চাচ্ছি না)।


ভীষ্মের মৃত্যুর পরে কর্ণ এবার রনক্ষেত্রে নামবে।আমার সময় এবার এসে গিয়েছে।এবার আমি ফোর্থ ডাইমেনশনের মধ্যে অদৃশ্য রুপ থেকে পন্দ্রাক বাসুদেবের রুপ নিলাম(১০)।


পন্দ্রাকের রুপ নিয়ে আমি কর্ণের পেছনে ধাওয়া করলাম।কর্ণকে দেখলাম ধনুক নিয়ে রথের দিয়ে যাচ্ছে।আজ সে প্রথম বিশাল কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ময়দানে নামবে।তার যে ভাব সাব ই অন্যরকম।আর এটা তো হবেই।পুরো ভারতবর্ষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ধনুক যোদ্ধাই হলো কর্ণ আর অর্জুন!


আমি কর্ণকে ডাক দিলাম।হে দানশীল কর্ণ.....


কর্ণ পেছনের দিকে ফিরে তাকালো।পেছনে ফিরে আমাকে পন্দ্রাক রুপে দেখে কৃষ্ণ রক্তে লাল হয়ে গেল।কেননা পন্দ্রাককে কর্ণ আগে থেকেই ঘৃণা করে।


কর্ণ বলল,''নকল কৃষ্ণ পন্দ্রাক!!!তুই না মরে গিয়েছিলি।বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ তোকে যখন সুদর্শন চক্র দিয়ে দেয় তখন তুই ভার সইতে না পেরে মরে যাস।তুই নিজে একটা ছালিয়ে আর বাসুদেব কে ছালিয়ে বলিস!তুই কিভাবে আবার জীবিত হয়ে গেলি?''কর্ণ রাগান্বিত কন্ঠে বলল।


আমি বললাম,''দেখ কর্ণ তুমি নিজে তোমার বন্ধু দূর্যোধন(১১)এর পক্ষে।তুমি কৌরবদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করছ।এখানে তোমার বিপক্ষের পক্ষে সাহায্যকারী কৃষ্ণের প্রতি এত ভক্ত ও দূর্বল থাকবে তা মানা যায় না।এটাই তোমার মৃত্যুর কারণ হবে।আর দেখ আমি পন্দ্রাক না।আমি হলাম সাজ্জাদ।আমার আসল রুপে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে যাওয়া সম্ভব না।তাই পন্দ্রাকের রুপ ধারণ করেছি।পান্ডবদের পক্ষে থাকবে কৃষ্ণ।আর আমিও কৌরবের পক্ষে থাকব পন্দ্রাক কৃষ্ণ।একই চেহারা আমাদের।যুদ্ধ হবে সমান সমান।মজার না!আর বাস্তবে আমি সাজ্জাদ।আমার ব্যাপারে কিছু বলি। আমি এসেছি টাইম মেশীন থেকে।কারণ.........


কথা শেষ করতে দিল না আমায় কর্ণ।কর্ণ ক্রোধান্বিত হয়ে তার ধনুক ধরে টান দিল।ধনুক হতে বর্জ্যের মতো আওয়াজ করতে লাগল।উপর থেকে বর্জ্যপাতের মতো বস্তু কর্ণের ধনুকে শক্তি যোগাতে লাগল।মুহুর্তের মধ্যে সেটি তীরে পরিণত হয়ে গেল। আর সেই তীর আমার উপরে নিক্ষেপ করল।


তীর অতিদ্রুত বেগে আমার কাছে আসতে লাগল।আমি শুধু গভীর ধ্যানে আল্লাহর নাম নিয়ে তীরকে হাত দিয়ে থামার ইশারা করলাম।সাথে সাথে তীর আমার পায়ের সামনে পড়ে গেল।


এটা দেখে কর্ণ বিস্ময়ে হতবাক!কর্ণের মতো মহান যোদ্ধা যার কোনদিন তীর নিক্ষেপে কোন কমতি হয় না সেখানে আমার মতো সাধারণ মানুষের কাছে তীর হেরে গেল!


কর্ণ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে বলল কে আপনি?


আমি বুঝলাম সময় এসে পড়েছে এবার।আমি আশেপাশের সময় থামিয়ে দিলাম।যেমন কৃষ্ণ অর্জুনকে জ্ঞান দেয়ার সময় থামিয়ে দিয়েছিল।আমি কর্ণের চতুর্দিকে ঘুরতে  লাগলাম আর আয়তুল কুরসী পড়তে লাগলাম।


কর্ণ এইসব কীর্তি দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে মুগ্ধ নয়নে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।যেন চোখের পলক পড়ছে না।চোখ হতে কর্ণের অশ্রু নির্গত হতে লাগল.....


কর্ণ বলল,''এটা কি শোনালেন আপনি?এই সুমহান এত বিস্ময়কর এত সৌন্দর্যের সমাহারে সমৃদ্ধ বানীটার অর্থ কি।এ আমি কি শুনলাম!এটা যে কৃষ্ণের বাশির সুর হতেও লক্ষ্য কোটিগুণ সুন্দর।আপনি কে? কি করেন?কেন এলেন?


আমি তার কাধে হাত রেখে বললাম,আমাকে তুমি করে বলো দাতাকর্ণ।তোমাকে সব বলব।যে আমি কেন এসেছি।আমি কি চাই।আজ আমি তোমায় এমন এক জ্ঞান দিব যা মহাভারতের এই দ্বাপর যুগ পার হয়ে কলি যুগেও (১২) স্মরণীয় হয়ে থাকবে।যেটা হবে ভগবত গীতার ২য় ভার্সন।


কর্ণ বলল, '' আমি তোমার কাছে সোর্পদ করলাম সাজ্জাদ।কি বলতে চাও তা আমি শুনতে প্রস্তুত।''


[[[আজ এ পর্যন্তই। পর্ব ২ শীঘ্রই আসছে।]]]


(১)সারথিঃ-রথের যে চালক তাকে সারথী বলে।


(২)রথঃ- ঘোড়ার গাড়ি


(৩)পার্থঃ- অর্জুনকে কৃষ্ণ পার্থ বলে ডাকত।


(৪)মাধবঃ-কৃষ্ণ কে বলা হয়।


(৫)ইন্দ্রপ্রস্থঃ-পান্ডবদের রাজ্য।


(৬)দ্রোপদিঃ-পঞ্চ পান্ডবদের স্ত্রী।


(৭)বিষ্ণুরুপঃ- কৃষ্ণের মূল রুপ।রাম ও বিষ্ণুর ই অবতার।ভগবান বিষ্ণু মানুষ রুপে পৃথিবীতে জন্ম নিলে অবতার বলা হয়।তবে মূলরুপ বিষ্ণু। গীতার ভাষায় ---

''সাধুদের পরিত্রান ও দুষ্কৃতিকারীদের বিনাশের জন্য আমি যুগে যুগে জন্ম নেই।''(ভগবত গীতা,চতূর্থ অধ্যায় ৮নং শ্লোক)


(৮)কর্ণঃ- পর্ব ২ এ আলোচনা করব।


(৯)ভীষ্মঃ- পান্ডব ও কৌরবদের পিতামহ।


(১০)পন্দ্রাক বাসুদেবঃ-পন্দ্রাক রাজ্যের রাজা।সে সর্বদা কৃষ্ণের মতো হতে চাইতো।


১১)দূর্যোধনঃ-হস্তিনাপুরের রাজা ধৃতরাষ্ট্রের প্রথম পুত্র।১০০ কৌরবদের মধ্যে সবার বড়।কৃষ্ণ এবং তার পান্ডব চাচাতো ভাইয়েরা তার শত্রু অন্যদিকে কর্ণ তার প্রিয় বন্ধু।


১২)দ্বাপর ও কলিঃ-সনাতন ধর্মমতে চারযুগ।যথাঃ- সত্য,ক্রেতা,দ্বাপর ও কলি।


Comments

Popular posts from this blog

আজকের বিষয়:- খেলাফত রাজতন্ত্রে রুপান্তর।ইমাম হাসান(রা:) কে বিষ দিয়ে হত্যা।

১২ ইমাম নিয়ে শিয়া ও সুন্নীদের রায়।(১ম পর্ব)

আজকের বিষয়:-মুয়াবিয়ার শাসনামল