ভাইরাস এন্ড ম্যাট্রিক্স।(পর্ব ২)

 



লেখার তারিখ:- (১জুন -৩ জুলাই), ২০২০ সাল।লেখাটি আমি কিছু পরিমার্জন করে এই আইডিতে দিয়েছি।


সায়েন্স ফিকশনঃ- ভাইরাসের এন্ড ম্যাট্রিক্স(পর্ব ২)


কল্পদ্রষ্টাঃ Shohedul Islam Sajjad


সময় পুরোপুরি বন্ধ।এলিয়েনটির সাথে আমি স্পেস থেকে পৃথিবীতে land করলাম।আমি দেখতে থাকলাম দুনিয়ার সবকিছুই  থেমে আছে।আমি চারদিকে দেখতে লাগলাম অবাক হয়ে।হঠাৎ করেই সময়ের উল্টো গণনা শুরু হয়ে গেল আর আমাদের ঘড়িটি থেকে বলতে লাগল


10,9,8,7,6....


আমি এলিয়েনটিকে প্রশ্ন করলাম এটি আবার কি?


এলিয়েনঃ সাজ্জাদ, আসলে সময় এতক্ষণ বন্ধ ছিল তো তাই আমাদের জন্য সব থেমে গিয়েছিল(সবার ক্ষেত্রে নয়!) তাই এখন সঙ্গে আমাদের সাথে  সবার তাল মিলিয়ে আমদের জন্য সময় চালু হতে চলেছে কিছুক্ষণ পর।


ও বলতে বলতেই দেখলাম যে যেখানে আগে মানুষ, উড়ন্ত যানবাহন,বাতাস সব থেমে ছিল সেসব আবার চালু হয়েছে।বাপরে কি আজব


এরপর এলিয়েনটি আমায় ঐ ল্যাব্রেটরির তে নিয়ে গেল যেখানে আমার ছোট হয়ে করোনা ভাইরাসের কাছে যোগাযোগ করার কথা ছিল।সেই ল্যব্রেটরিতে ও (এলিয়েন) নিয়ে গিয়ে এসব ল্যব্রেটরিরতে থাকা মানুষগুলোকে বলল -----


এলিয়েনঃ-এই নিন আপনাদের সাজ্জাদ সাহেবকে। তো আমি এখন বিদায় নিচ্ছি আবার দেখা হবে।


এটা বলতে বলতেই ও অদৃশ্য হয়ে গেল। আমি ওসব ল্যব্রেটরিতে থাকা মানুষগুলোকে জিজ্ঞাসা করলাম যে ও কোথায় গেল। এটি শুনে তারা বলল ---


ল্যাব্রেটরির মানুষগুলোঃ-ও এখন তাদের জগতে চলে গিয়েছে।তো আপনি তো বললেন না যে আপনি কেন এই সময়েই বাইরে বের হলেন।সময় অল্প ছিল আর আপনাকে এতক্ষণ ঘোরানোর জন্য নেহাত্তা আমাদেরদেরই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সময় বন্ধ করতে হলো!


 (সময় যেহুতু আপেক্ষিক তাই আপেক্ষিকভাবে আমাদের ক্ষেত্রে এটি বন্ধ হয়েছে। তাই এতক্ষণ ধরে আমি ও এলিয়েনের সৌরজগত ঘোরাফেরা করে আসার পরও ল্যব্রেটরির মানুষদের সেটি সামান্য মুহুর্ত মনে হচ্ছে। আসলে প্রকৃতপক্ষে কোন সময় বন্ধ হয় নি। তা সম্ভব ও নয়।বিস্তারিত জানার জন্ত আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা ও টাইম ডাইলেশন সম্পর্কে পড়তে পারেন)


আমিঃ আমি এটি কেন করেছি তা আমি আপনাদেরকে  করোনা ভাইরাসের সাথে সাক্ষাৎকার থেকে এসে সব বলব।এখন আমাকে যা করতে হবে তা  আপনারা বলুন।


ল্যাব্রেটরির মানুষগুলোঃ- দেখুন সাজ্জাদ (আমাকে দেখিয়ে) এটি হলো একটি covid 19 infected cell। এখানে আপনাকে ছোট করে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হবে। আর আপনি যা যা Experrience  করবেন তা আমাদের সাথে শেয়ার করার করবেন।এটি করার জন্য আপনার স্যুট এ যন্ত্র ও লাগানো আছে।আপনি আশেপাশে যা যা দেখবেন, বলবেন ও করবেন তা আমরা কম্পিউটার দিয়ে detect করতে থাকব।তো আপনি এই স্যুট টি পড়ে নিন।


আমি তারপর তাদের কথা শুনে সুটটি পড়ে নিলাম।স্যুট এ যন্ত্র ফিট করা আছে। ওটা তারা চালু করে দিল। চালু করার সাথে সাথেই আমি ক্রমাগত ছোট হওয়া শুরু করলাম। দেখতে দেখতে আমি মানুষের হাতের সমান হলাম।আরেকটু পরে হাতের আঙ্গুলের সমান।   আরেকটু পর পানির কণার সমান। আরেকটু পর লবনের দানার সমান।এভাবে ছোট হতেই থাকলাম হতেই থাকলাম.......


ছোট হতে হতে আমি মানুষের দৃষ্টির আয়ত্বের বাইরে চলে গেলাম।অর্থাৎ এতক্ষণে আমি এতই ছোট হয়ে গেছি যে আমাকে এখন খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়।আমাকে দেখতে এখন অনুবীক্ষন যন্ত্রের প্রয়োজন।


আমি ক্রমাগত ছোট হচ্ছি আর ওদেরকে(ল্যাব্রেটরির মানুষগুলো) আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। খুব আনন্দ লাগছে। যা দেখতে পাচ্ছি তাও তারা দেখতে পাচ্ছে আমার স্যূটের কারনে(কেননা আমার এই জামাটি Extra ordinary!!)


ছোট হতে থাকলাম আর হতে থাকলাম। ঐতো জীবিত কোষ (living cell) দেখা যাচ্ছে।আমি এটির সামনে দিয়ে ধেয়ে চললাম!


(আমাদের জীবদেহের একককে কোষ বলে।কোটি কোটি বিলিয়ন ট্রিলিয়ন কোষ দিয়ে একটি জীবদেহ গঠিত হয়।এটি হলো জীবদেহের সবকিছুর ভিত্তি)


ধেয়ে যেতে যেতে আমি এর কোষপ্রাচীরে(কোষের বাইরের স্তর)এসে পৌছুলাম।তারপর এটি ভেদ করে ফেললাম। আমি অবাক হয়ে এর মধ্যে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস,রাইবোজম,গলজি বস্তু,এন্ড্রোপ্লাজমিক জালিকা, লাইসোজম ইত্যাদি দেখতে লাগলাম। আমি এই ইন্টেলিজেন্স বিভাগের সদস্য হিসেবে অনেকবারেই কোষ অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখেছি।এসব বিষয়ে study করেছি।কিন্তু এইবার সত্যি সত্যি বাস্তবে দেখে আমি খুব বিমোহিত।


আমার পরা এই স্যুটটি আমাকে কোষে অবস্থিত অনেকগুলো বস্তুর মধ্যে একটি বস্তু রাইবোজোমের দিকে নিয়ে গেল?আমি ভাবলাম করোনা ভাইরাস তো তার DNA ঠিক রাখার জন্য ও বংশবৃদ্ধির জন্য কপি তৈরী করে তাইতো এই ভাইরাসের প্রোটিন প্রয়োজন হয়। হয়তো তাই আমাকে এই স্যুটটি রাইবোজমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কেননা রাইবোজমের কাজ ই হলো প্রোটিন সংশ্লেষন করা। মানে ভাইরাসটি নিশ্চয়ই তার বেঁচে থাকার জন্য এ সুযোগটি কাজে লাগাবে। এসব ভাবতে ভাবতে ওদিকে এগুতে লাগলাম আর আমার আকার ক্রমাগত ছোট হতেই চলেছে হতেই চলেছে....


দেখতে দেখতে আমি ব্যকটেরিয়া লেভেলে চলে গেলাম। বাপরে কি ভয়ানক ব্যাকটেরিয়াগুলোকে দেখতে। অনেকটা কেঁচোর মতো! আমি দেখছি আর এসব তথ্যগুলো ঐ ল্যব্রেটরিতে থাকা মানুষগুলোকে দিচ্ছি আর ওসব মানুষগুলো কম্পিউটারের সাহায্যে দেখছে আমায়!


আমি এখন শেষ স্টেজে এসে পড়েছি।যেখানে আমার গন্তুব্য শেষ।হুম আমি এখন ভাইরাস লেভেল পর্যন্ত ছোট হয়ে গিয়েছি।পিছলে হওয়ার কারনে হাঁটতে পারছি না আমি।  চারদিক টা কি অদ্ভুত আমাদের পরিচিত চারপাশের পরিবেশটার সাথে কোন মিলই নেই। আশেপাশে দেখতে লাগলাম ভালো করে।ছোট হওয়ার প্রক্রিয়াটা ধীরে ধীরে কমে আসছে।ঐ তো দেখা যাচ্ছে করোনা ভাইরাস টা কে। কেমন অদ্ভুত গোলাকার। কাঁটাকাঁটা তার পুরো শরীর।আচ্ছা ল্যব্রেটরির মানুষগুলো কেন বলছে যে আমি এর সাথে যোগাযোগ করতে পারব? ওদের তো ব্রেন ই নেই। আর ব্রেন না থাকলে ওরা চিন্তাই বা কিভাবে করবে? আর চিন্তা না  করলে ওর সাথে কথাই বা কিভাবে বলব? এর মানে হয়তো তারা বুঝিয়েছে যে ওর সাথে কথা বলতে পারব না কিন্তু অস্তিত্ব অনুভব করতে পারব এভাবেই হয়তো যোগাযোগ হবে। এসব প্রশ্ন আমি মনে মনে ভাবতে থাকলাম আর সামনে এগুতে থাকলাম।


যেতে যেতে আমি করোনা ভাইরাসের সামনে এগুতে লাগলাম। তার সামনে যেতেই একটি অবাক কান্ড ঘটল। হায়হায়!!!! এতক্ষন যেখানে ঐ ল্যব্রেটরির মানুষগুলোকে সব তথ্য দিয়ে আসছিলাম করোনা ভাইরাসের কাছে যেতেই সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল।


 এই স্যুটের কার্যকারিতা প্রায় দশগুন হয়ে গেল।আমি আগে থেকে আরো দ্রুত গতিতে ছোট হয়ে যাওয়া শুরু করেছি।যা আগের থেকেও অনেক দ্রুত।আমি বুঝতে পারছি না।এখন তো এমন হওয়ার কথা নয়!!! করোনা ভাইরাসের কাছে তো এসেছি আমি যোগাযোগ করতে। তো এখানে এসেই তো থেমে যাওয়ার কথা (ছোট হয়ে যাওয়াটা)।নাহ! মেশিনটার ও তো গন্ডোগল হওয়া সম্ভব না। এত উন্নত মেশিন আমার স্যুটটিতে।আর ওরা এতো উন্নত এত বুদ্ধিমান ওদের তৈরী কোন জিনিসে তো সমস্যা হওয়ার কথা না!!!


এসব ভাবছি আর ছোট হচ্ছি।আমার খুব ভয় পেতে লাগল।আমি দ্রুত গতিতে ছোট হচ্ছি। ছোট হতে হতে নিমিষেই আমি অক্সিজেন অনুর সমান ছোট হয়ে গেলাম।ভাগ্যিস!  আমার স্যুটে অক্সিজেনের tank আছে।নয়তো তো নিশ্বাস ই নিতে পারতাম না।কারন অক্সিজেন অনু থেকেও আমি ছোট হয়ে গেলে নিশ্বাস নিব কিভাবে? যাইহোক আমার খুব ভয় করতে লাগল আমি সাজ্জাদ বেঁচে থাকব তো।কি হলো আমার এসব ফালতু গবেষনা মানা করে দিলেই হয়তো ভালো হতো(আমি ভাবতে লাগলাম)।


ঐ তো সমস্ত দৃশ্যমান জিনিসের একক পরমানু(Atom)। আমি দেখতে থাকলাম নিউক্লিয়াস কে কেন্দ্র করে ইলেক্ট্রনগুলো ঘুড়ছে। আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন আর নিউট্রন।আমি এখন পরমাণু থেকেও ছোট হয়ে যাচ্ছি।আমি নিউট্রন পার্টিকেলে দ্রুত পতিত হচ্ছি।কি ভয়ানিক দৃশ্য। ক্রমশই আমি নিউট্রন কণা থেকেও ছোট হয়ে যাচ্ছি।দেখতে দেখতে এখন আমি কোয়ান্টাম দুনিয়ায়।যেখানে ভৌত দুনিয়ার পদার্থবিজ্ঞানের কোন নিয়ম আর কাজ করে না। আমি এখন সর্বোচ্চ ছোট ও সুক্ষ্ণ স্ট্রিং এর দিকে  ধাবিত হচ্ছি ক্রমাগত ছোট হতে হতে । দেখতে দেখতে আমি এখন মহাবিশ্বের higher dimention (উচ্চ মাত্রা) গুলোও আমি দেখতে লাগলাম।আর এদিক দিয়ে আমার জন্য Warm hole খুলে গেল।


(আমরা মহাবিশ্বের মাত্র তিনটি মাত্রা দেখতে পাই।তা হলো দৈর্ঘ,প্রস্থ ও উচ্চতা।কিন্তু পরমানু থেকেও ছোট পর্যায়ে গেলে আমরা অনেক মাত্রা বা dimensions দেখতে পাই।স্ট্রিং থিউরি অনুযায়ী আমাদের মহাবিশ্বের অন্তত হলেও ১১ টি মাত্রা রয়েছে। যাই হোক এটি এখনো গবেষনার বিষয়)


Warm hole খুলে যাওয়ার পর এই মাল্টিভার্সে যত মহাবিশ্ব আছে সব মহাবিশ্বের আমার কপি আমি কে আমি দেখতে লাগলাম।এই মহাবিশ্বে তো আমি ছোট হতেই আছি কিছু আরেক মহাবিশ্বে আমি এখনো একটু আগের সময়ে মানে ঐ এলিয়েনটির সাথে কথা বলছি।আরেক জগতে (মহাবিশ্বে) আমি জন্মই নেই নি।এক কথায় যত সম্ভাবনা হওয়া সম্ভব সবকিছুই আমি এক না এক মহাবিশ্বে বিরাজ করছি।আমি একটা জিনিস দেখে  সত্যিই অভিভূত। সবচেয়ে অবাক তো এটা দেখে যে আমাদের মহাবিশ্বে আরো ১০০ বছর আগে যেমনটা হয়েছিল তা ওখানে(ঐ মহাবিশ্বে) এখন হচ্ছে। অর্থাৎ ওখানে ২০২০ সাল চলে। আর ২০২০ সালে বসবাসরত একটি ১৭ বছরের ছেলে যার নাম আমার নামের মতো ই (সাজ্জাদ) আমার কথা কল্পনা করছে। তাই তো এসব ঘটে যাওয়া সব ঘটনা সে জানতে পারছে।এইদিক দিয়ে ওর ব্রেনে থাকা তথ্যও আমার কাছে আসছে।এজন্যই তো অবাক হয়ে আমি এলিয়েনটার সাথে ঘুড়তে গেলাম আর ওকে এই প্রশ্নটা করার জন্য!  আমি মনে মনে এসব ভাবতে লাগলাম!


দেখতে দেখতে হঠাৎ করে ধুপ করে আমি মস্ত বড় হয়ে গেলাম।এত ছোট স্তর থেকে হুট করে ভাইরাসেরা যেই লেভেলে থাকে সেই লেভেলে চলে গেলাম।কি থেকে কি হলো আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।এদিক দিয়ে ল্যাব্রেটরির মানুষগুলোর সাথেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।উফফফ কি যে করি!!! 


দেখলাম যে সামনেই করোনা ভাইরাস। আমার দিকে তেড়ে আসছে।এসেই আমায় বলতে থাকল ---


 ভাইরাসঃ- সু স্বাগতম সাজ্জাদ, এই ভাইরাসের দুনিয়ায়। 


আমি এটা শুনেই যা মন চায় তা আবোল তাবোল বলতে থাকলাম।বললাম ----


আমিঃ- আরে আবাল, হাবলা, শয়তানের বাচ্চা, ******* ফালতুর ঢেকি তুই আরো ১০০ বছর আগে ২০২০ সালে মহামারি করে সারা দুনিয়ার ১২ টা বাজিয়ে দিয়েছিস। না জানি কত নিরীহ মানুষরা মারা গিয়েছে তোর জন্য।তোর জন্য সেই সময় সারা দুনিয়া ঘরবন্দি ছিল।গরীবরা না খেয়ে মারা গেছে লকডাউনের জন্য ।বাবা, মা, ভাই, বোন, প্রতিবেশী, আত্নীয় কেও কারো বাসায় যেতে পারে নি।শুধু তোর জন্য আর তুই কথা বলতে কিভাবে পারস তোর তো ব্রেন নেই  আর কিভাবেই বা চিন্তা করস? তোর কাছে এসে তো আমার ছোট হতে হতে পরে  থেমে যাওয়ার কথা।অথচ এটা না হয়ে আমি দেখি আরো ছোট হয়ে গিয়েছিলাম। আর এদিক দিয়ে ল্যব্রেটরির মানুষগুলোর সাথেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ধ্যাত। আমার সাথে এতকিছু কেন হচ্ছে। এত অদ্ভুত কিছু শুধু কেন আমিই দেখতে পাচ্ছি? 


 ভাইরাসঃ -দেখ তুমি এত রাগান্বিত হয়ো না। আমি তোমাকে সব উত্তরই দিব।তাই তোমাকে আধ্যাতিকতা বিষয়ে জানতে  হবে। তুমি বিজ্ঞানী বলে শুধু ভৌত বিষয়ে  খবর রাখ।আধ্যাতিকতা ও ধর্ম বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান ই নেই। তোমার কথার উত্তর সব ওখানেই রয়েছে।আমার কথা শোন তবে তুমি সব ই বুঝতে পারবে।কারন এসব ভৌত জ্ঞান যা তোমরা বুদ্ধি ও ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভব করো তা হলো একটি সাগরের পানির কণা মাত্র।আর বাকি পানিগুলো অর্থাৎ উক্ত পানির কণা ছাড়া বাকি সব পানির কনাগুলো যা সাগরে রয়েছে সব ই আধ্যাতিকতা ও ধর্মীয় জ্ঞানের অংশ।


ওর কথা শুনে আমার রাগটা একটু ঠান্ডা হলো।আর আমি বলতে লাগলাম----


আমিঃ-তুমি কি বলছ আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না!


ভাইরাসঃ-এখন বুঝবে না। তোমার কাছে কি কোন কিছু আছে যেখানে কোন ধর্মীয়  বিষয়ে কোন বক্তব্য আছে?


আমিঃ-হুম! একটা এলিয়েন আমায় ধর্ম বিষয়ক Virtual 3D Content দিয়েছিল।


 ভাইরাসঃ ওটা খোল।


আমি কাপা কাপা হাতে আমার স্যুটে একটি বাটন প্রেস করায় ঐ 3D content অদৃশ্য থেকে দৃশ্যমান হলো।সাথে সাথে একটি স্ক্রিন ভেসে উঠল।ওখানে আমি Islam and spirituality এই অপশনটাতে ক্লিক করলাম।আসলেই এই কিছুদিনের মধ্যে আমার সাথে যা যা হয়েছে তার জন্যে ভয়ে ও রোমাঞ্চে আমি কাঁপতে লাগলাম।আর কাঁপা কাঁপা হাতে আমি islam and spirituality( ইসলাম ও আধ্যাতিকতা) লেখাতে আমার হাতের আঙ্গুল দিয়ে স্ক্রিনে টাচ করলাম। আর খুব অবাক হয়ে চারপাশের পরিবেশটা ভয়ে ভয়ে দেখতে লাগলাম।


ভয়ে ভয়েই আমি ভাইরাসের কথা শুনে আমি এলিয়েনের দেয়া  3D virual content টি বের করলাম। এটি দেখতে অনেকটা ছোট চিপের মতো।একে এলিয়েন নাম দিয়েছে Matrix.কেন দিয়েছে জানি না।আসলেই কি এই সমাজ কিছু মানুষের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছি যেভাবে Matrix এ দেখানো হয়!এই দুনিয়া কি মায়া!


এসব ভাবতে ভাবতে

ওটি বের করতেই আমার কাছে বিভিন্ন অপশন আসল।ভাইরাসের কথামতো আমি islam and spiriuality অপশনটিতে ক্লিক করলাম। এখন এটি open হওয়ার আগে Loading দেখাচ্ছে।আর এদিক দিয়ে আমি ওকে (করোনা ভাইরাস কে)  কয়েকটি প্রশ্ন করে ফেললাম।]]]


আমিঃআচ্ছা আমাকে তুমি কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দাও তো!


 ভাইরাসঃ কি প্রশ্ন?


আমিঃ প্রশ্নগুলো হলো ----


১) আমার প্রথম প্রশ্ন হলো তুমি সামান্য একটি জীব।জীব বললেও ভুল হবে।তুমি জীব ও জড়বস্তুর মধ্যবর্তি অবস্থার মধ্যে বিরাজ করো।কেননা তুমি একটি ভাইরাস।তোমার না আছে কোন চিন্তা করার ক্ষমতা আর না আছে বিবেকবোধ।তাহলে তুমি কিভাবে আমার সাথে কথা বলছ?


 আমাকে তো তারা(ল্যাব্রেটরির মানুষ গুলো) এমন কিছু দেয় নি যে আমি ভাইরাসের কথা শুনতে পারব।আর তা কখনো সম্ভব ও নয়।কেননা যেখানে মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীর ব্রেইন থাকার পরেও কথা বলতে পারে না সেখানে তুমি আমার সাথে কিভাবে কথা বলছ আমি তার আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারছি না।তাছাড়া আমার কোন মানসিক সমস্যাও নেই যে আমার হ্যালুসিনেশন হবে।


করোনা ভাইরাসঃ হুম। তারা তোমায় এজন্য পাঠিয়েছে তোমায় যে তুমি যাতে আমার দেহের কার্যক্রম সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা তাদেরকে পৌছাত পারো তাই তো! এজন্যই তোমাকে সাময়িকের জন্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ছোট করেছে তারা!


আমিঃ হুম। 


২)আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো কেন তুমি আমায় ইসলামের বিষয়ে ঐ অপশনটিতে কেন ক্লিক করতে বললে?


আরো প্রশ্ন আছে কথা কথা কিন্তু আমার।


৩)তৃতীয় প্রশ্ন হলো কেন আরো ১০০ বছর আগে অর্থাৎ  

২০২০ সালে তোমার জন্য মহামারি ছড়ল?কেনইবা তোমার কারণে লাখ লাখ মানুষকে মারা যেতে হলো।কেন করেছে এত কষ্ট তারা! আর যে কিনা একসময় গোটা দুনিয়াকে নাড়িয়ে দিয়েছে (করোনা ভাইরাস) সে এখন আরো ১০০ বছর পর ২১২০ সালে এসে একটি এক্সপেরিমেন্টের বস্তু ছাড়া কিছুই নয়!কেন? আজ যখন তোমার সাথেই সরাসরি কথা বলতে পারছি তাই তোমাক উত্তর না দেয়া পর্যন্ত ছাড়ছি না আমি!


করোনা ভাইরাসঃ ওরে বাব্বা! তিনটি প্রশ্নের যায়গায় এত প্রশ্ন! আচ্ছা,তোমার সব প্রশ্নের উত্তর আমি দিব আগে তো আমার কথাটি শোন।পরে সব বুঝতে পারবে যে কেন আমি এসব করতে বলছি তোমায়।


 ভাইরাসটির সাথে সাথে কথা বলতে বলতে লোডিং হয়ে গেল।এখানে দেখি অনেক অপশন।একবিংশ শতাব্দির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন প্রযুক্তি ছিল ইন্টারনেট।কিন্তু এখন দেখছি যে  এখানে এত তথ্য আছে যে গোটা কয়েক কোটি ইন্টারনেটে ও যদি হতো তবে তার তথ্য মিলালেও এই তথ্যের কাছে কিছুই নয়!!!!!!


তো যাই হোক আমি ওর কথা শুনে ইসলাম ও আধ্যাতিকতা (islam and spirituality)  অপশনটিতে ক্লিক করলাম।তারপর দেখলাম যে ইসলাম বিষয়ক আরো অনেক তথ্য এখানে আছে।পরে আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম 


আমিঃ কি এখন কোন অপশনে ক্লিক করব?

 ভাইরাসঃ  কোরআন সম্পর্কিত যেসব বিষয় আছে সেটিতে ক্লিক করো।


ক্লিক করেই দেখি যে তারা কোরানের আয়াতের সমানে বিরোধিতা করেছে।আমি আন্দাজ করতে পারলাম যে এখন কিছু সংখ্যক লোক বাদে প্রায় সবাই ইসলামী জীবনধারা কে ছেড়ে দিয়েছে বলে এখন সমাজে কোন শান্তি নেই।যা আমি এলিয়েনের সাথে সৌরজগত ঘোরার সময় বুঝতে পেরেছিলাম। 


ক্লিক করার পরেই আমার সামনে একটি লেখা হাজির হলো আমি পড়তে শুরু করলাম -----


Virtual 3D content: প্রাচীনকালে আরবের লোকেরা জানত না কোন জ্ঞান বিজ্ঞান সম্পর্কে।তারা জানত না যে পৃথবী সুর্যের চারপাশে ঘুড়ে। তারা ভাবত পূর্ব দিগন্তে সূর্য জলাশয় থেকে উদিত হয়ে পশ্চম দিগন্তে জলাশয়ে সূর্য ডুবে যায়।নবী মোহাম্মদ (সাঃ) ও এই ভুল করেছে (নাউযুবিল্লাহ বলেন সবাই) তার কোরান লেখার সময়।


আমি এটা পড়ে থামলাম।পড়ে  ভাইরাস বলা শুরু করল।


 ভাইরাসঃ এসব লেখা সব নাস্তিকেরা লিখেছে।তারা মনে করে করে পবিত্র কোরান নবিজীর বানানো(নাউযুবিল্লাহ) তা তো জানই।তাই এসব কথা বলছে মানুষকে উল্টোপাল্টা বুঝিয়ে কুলষিত করার জন্য।তাই জগৎ থেকে সত্য চর্চা উঠে গিয়েছে।ওরা কি বুঝাতে চেয়েছে তা আমি দেখাচ্ছি।


আল্লাহ বলেছেন ''অবশেষে তিনি(যুলকারনাইন) যখন সূর্যকে পংকিল জলাশয়ে অস্তাচলে পৌছলেন,তখন তিনি সূর্য কে এক পংকিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং তিনি এক সমপ্রদায়কে দেখতে পেলেন। আমি (আল্লাহ) বললাম যে যুলকারনাইন!আপনি তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন অথব সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পারেন।(সূরা কাহফঃ৮৬)


এখানে দেখ সাজ্জাদ, আল্লাহ বলেছেন যে যুলকারনাইন দেখল যে সূর্য জলাশয়ে অস্ত যাচ্ছে। তিনি কিন্তু বলেন নি যে আসলেই অস্ত যায়।এটা কি আসলেই হয় নাকি কেও দেখেছে তারও উল্লেখ করা হয়েছে এখানে।কিন্তু এরা এতটাই অন্ধ যে তথাকথিত এত বুদ্ধিমান হওয়ার পরেও এটি দেখতে পায় না।


আমিঃতাহলে আল্লাহ কি বলেছেন যে পৃথিবী গোল বা এমন কিছু?কারণ আমি ইসলাম বিষয়ে তেমন কিছুই জানি না।কারণ সারাজীবন বড়ই হয়েছি আমি অণুজীব বিষয়ে চর্চা করে তুমি হয়তো এটাও জান।


করোনা ভাইরাসঃ হ্যা,জানি।আর কোরান কোন বিজ্ঞানের বই না যে এখানে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।নয়তো এটা একদিকে যেমন বিশাল বই হয়ে যেত।অন্যদিকে তখনকার আরবের মানুষ কিছু বুঝতেও পারত না।আর সমাজ, রাষ্ট্র, সাংসারিক জীবন,আখিরাত, আমল, শ্রেষ্ঠ মানুষের জীবনি(নবী- রাসূল) এসব বিষয়েও তো আলোকপাত করতে হবে নাকি! শুধু সৃষ্টিজগতের বিষয় নিয়ে বসে থাকলে চলবে? যদিও কোন দিক দিয়ে এসব বিষয়ে কম বর্ণনাও নেই।  কারণ কোরান তো একটি শেষ্ঠ জীবনবিধান।


আমিঃ আচ্ছা তবে তো ইঙ্গিত অবশ্যই আছে।


করোনা ভাইরাসঃঅবশ্যই। তোমার ঐ চিপ থেকে  কোরানের আয়াত বের করো।সূরা আর রহমানের ১৭ নং আয়াত।


আমি সার্চ করাতেই আয়াতটি এসে পড়ল।আমার সামনে লেখা ভেসে উঠল।


Virtual 3D content : তিনি দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের মালিক(সূরা আর রহমান ১৭)


ভাইরাসঃদেখলে তো! আল্লাহ বলেই দিচ্ছেন যে দিনে দুইবার সূর্যোদয় হয় এবং  দুইবার অস্ত যায়।অর্থাৎ পৃথিবী গোল বলেই একদিকে  সূর্যোদয় হলে ঠিক অপরপ্রান্তে সূর্যাস্ত হবেই।আবার অপর প্রান্তে সূর্যোদয় হলে উক্ত প্রান্তে সূর্যাস্ত হবেই। মানে কি! ২৪ ঘন্টায় দুইবার সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়! যা আমরা ভৌত চোখ দিয়ে বুঝতে পারি না!


অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে যে পৃথিবী চ্যাপ্টা নয়। কেননা তাহলে আল্লাহ বলতেন একবারই সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত হয়। হ্যা, সূর্য পানির নিচে ডুবে যায়। এক্ষেত্রে আল্লাহ কিন্তু বলেছেন যে এটি যুলকারনাইন দেখতে পেল।


বুঝতে পারছ তো? 


আমিঃ হুম!


 ভাইরাসঃ আচ্ছা এখন পরে তারা কি লিখেছে তা দেখ! 


আমিঃ আচ্ছা আমি তো জানিই যে তারা ভুল পথে আছে।কিন্তু আমি তো বুঝতে পারছি কোরআনের প্রকৃত মর্মার্থ টা।তবে আমায় তুমি কেন বোঝাচ্ছ?আমি যদি ইসলাম বিদ্বেশী হতাম তবে না হয় অন্য হিসাব।


আর আমার সবচেয়ে অবাক লাগছে যে যার কোন ব্রেইন ই নেই। সামান্য একটি ভাইরাস! সামান্য DNA ও নিউক্লিওপ্রোটিন দিয়ে তৈরী সে আমাদের মানুষের মতো এতকিছু কিভাবে জানে।তার তো কথা বলা দূরে থাক চিন্তা করতে পারারই কথা না! 


ভাইরাসঃআসলে তোমার ধৈর্য খুবই কম।আমি বলেছি যে সব প্রশ্নেরই আমি উত্তর দিব।অথচ এত অবাক বিষয়টি দেখে তুমি প্রশ্নের পর প্রশ্ন করেই যাচ্ছ।আমি বললাম তো সব উত্তরই আমি দিব।আর কেন তোমাকে এসব জানাচ্ছি এবং জানতে বলছি তার উত্তর ও পেয়ে যাবে।আপাতত ধৈর্য ধরো।


এমনকি এই মুহুর্তে আমি তোমায় কেন তোমার উত্তরগুলো দিচ্ছি না তাও পরবর্তীতে বুঝতে পারবে তুমি।


আমিঃ (ভয়ে ভয়ে চারপাশে তাকিয়ে) কেন?  লুব্রেটরির মানুষেরা আমাদের কথাগুলো শুনতে পারবে এজন্য বুঝি? কিন্তু অনেক আগেই তো আমার স্যূট্ট টি থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করার ক্ষমতা হারিয়েছে।আমিতো ভাবছি যে এত শক্তিশালী প্রযুক্তি দ্বারা নির্মিত স্যুটটি অকেজো কিভাবে হলো???


ভাইরাসঃ এটির ও অনেক গভীর ও বিশদ কারণ রয়েছে।এটি তো সৃষ্টিকর্তার আদেশেই হয়েছে।তিনিই একমাত্র বিশ্বজগতের অধিপতি।কিন্তু এই সমাজ এখন ম্যাট্রিক্স দ্বারা আবদ্ধ।যাই হোক এই রহস্যের সমাধান তোমায় এখন দিব না।সময় এখনো আসে নি।সব উত্তর দিব পরবর্তীতে↔।


আমি ওর কথাগুলো শুনে অবাক দৃষ্টিতে এই ভাইরাসটির দিকে তাকিয়ে রইলাম।


Comments

Popular posts from this blog

আজকের বিষয়:- খেলাফত রাজতন্ত্রে রুপান্তর।ইমাম হাসান(রা:) কে বিষ দিয়ে হত্যা।

১২ ইমাম নিয়ে শিয়া ও সুন্নীদের রায়।(১ম পর্ব)

আজকের বিষয়:-মুয়াবিয়ার শাসনামল