ভাইরাস এন্ড ম্যাট্রিক্স।(পর্ব ১)





 যেদিন লিখেছিলাম:-(১৪-২২) ই মার্চ, ২০২০।নাম পরিবর্তন(যা গল্পের সাথে  মানানসই)ও কিছু পরিমার্জন করে দেয়া হয়েছে।


কল্পদ্রষ্টাঃ-Shohedul Islam


সায়েন্স ফিকশনঃ-ভাইরাস এন্ড ম্যাট্রিক্স।(পর্ব ১)


সকাল থেকে উঠেই আমি অবাক।আমি যেই বিছানায় ঘুমিয়েছি সেটি আমার নয়।ঘরটা অনেক বড়।অনেক উজ্জল।চারদিকে সব উন্নতমানের প্রযুক্তি।পরিবেশ টা অনেক শীতল।আমি বুঝতে পারছি না এমন উন্নত হোটেলে আমায় কে আনল।আমি বিছানা থেকে উঠে দাড়ালাম। আমি বুঝতে পারছি না এক রাতের মধ্যে আমি কোথায় এসে পড়লাম।ঐতো সামনে একটি আয়না দেখা যাচ্ছে। আমি আয়নার সামনে গেলাম।সামনে নিজেকে দেখে আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না।আমি এতটাই অবাক যে আমি চিৎকার ও দিতে পারছি না।শরীর থেকে ঘাম পড়ছে।আমি কি সেই ১৭ বছরের ছেলে সাজ্জাদ নই তো। বুঝলাম না আমি এই কোন দুনিয়ায় চলে এলাম।


দেখলাম আমি আর আমি নেই।আমার চেহারা পুরোপুরি বদলে গেছে।চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছে আমি কোন এক ৩০/৩২বছরের কোন লোক।বড় বড় চুল, মুখে ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি,আর বাদামী রঙের কোট পড়া।কোট???বুঝলাম না এটা কিভাবে এলো।একটু আগে না আমি খালি গায়ে ছিলাম?

বসে বসে এসব ভাবছি। এদিক দিয়ে এক ছোট মেয়ে আসল।রুমের ভিতর। আমায় বলতে লাগল 'বাবা তোমার কাজে যাবে না'

আমি জোড়ে একটা চিৎকার দিলাম।আমার চিৎকার শুনে সবাই দৌড়ে এল।আরে! সবাইকে দেখি আমি চিনতেও পারছি এটা আমার বাবা, মা ভাই, আপু........ তাহলে আমি কোন দুনিয়ার মানুষ এই যুগের(অর্থাৎ ২১২০ সালের) নাকি ২০২০ এ বসবাসরত ঐ দুনিয়ার???


সবাই বলল।তুমি কি ঠিক আছ??অসুখ হয় নি তো?  আমি বললাম না আমি ঠিক আছি।

সবাই বলল তোমার না জরুরি মিটিং আছে? জরুরি মিটিং বলতেই আমার সব মনে পড়ল ও হ্যা। বলে আমি আমার কাজের জন্য গেলাম।আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম যে আমার জন্ম ২০০৩ থেকে বর্তমান ২০২০ সাল পর্যন্ত অতিবাহীত জীবন হয়তো স্বপ্ন ছিল। কিন্তু তা যে ভুল এটি পড়ে বুঝতে পারলাম। 


এখন ২১২০ সাল।চিকিৎসাবিজ্ঞান উন্নত হওয়ায় ভাইরাস এখন হাতের ময়লা।যেহুতু আজ করোনা মহামারির শতবর্ষ পূর্ন হলো তাই আজকে একটি মজার গবেষনা করা হবে।


নিশ্চয়্যই মাথা চুলকাচ্ছেন আর বলছেন এটা আবার কি?আসলে বর্তামানে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে প্রতিটি বস্তুরই চেতনা আছে।আমরা শুধু  জীবের চেতনা বুঝতে পারি। জড়বস্তু নিয়ে গবেষনা হচ্ছে সেটি অন্য বিষয়।তবে জীবজগতের সাথে আমরা এখন যোগাযোগ করতে শুরু করেছি।


তো এই বছর এক নতুন বিষয় হবে যা কখনো হয় নি।হুম আমরা এখন করোনা ভাইরসের সাথে যোগাযোগ করব।আর সেজন্য নেহাত্তা আমাকেই বিজ্ঞানসভা নির্বাচন করে।কারন আমি একজন জীববিজ্ঞানি আর আমি অনেক ভাইরাস ব্যাক্টেরিয়ার বৈশিষ্ঠ ভালো বুঝতে পারি হয়তো এজন্য।


আমি বাসা থেকে বাইরে বের হলাম।বর্তমানে টেকনোলজি অনেক উন্নতি হয়েছে।এখন ফ্লায়িং কার হাতের নাগালে।আমি ফ্লায়িং কার দিয়েই উড়ে উড়ে আমার ল্যাবে পৌছুলাম। 


ল্যাব আজকে অনেক সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে।বিভিন্ন জীবাশ্নের ফসিল,কৃত্তিমভাবে মিউটেশন করার প্রযুক্তি থেকে শুরু করে আরো অনেক কিছু।আমি হতবাক হয়ে চারপাশ দেখতে লাগলাম।দেখতে দেখতে মাঝখানে হুট করে আমাকে বলা হলো(একটি স্যুট দেখিয়ে) এই স্যুটটি যেন আমি পড়ে নেই। আমি বললাম এটা পড়ে আমার কি হবে? তারা বলল এর মাধ্যমে আপনি ছোট হয়ে যাবেন এবং ছোট হতে হতে এতই ছোট হয়ে যাবেন যে আপনি ভাইরাস লেভেল পর্যন্ত ছোট হয়ে যাবেন।আর ভাইরাসের চেতনা অনুধাবন করতে পারবেন।


আমি তার কথা শুনে থ বনে গিয়ে বিস্ময়ে তাদের মুখের দিকে চেয়ে থাকলাম।


ল্যবরেটরির মানুষগুলোঃ-আপনি কি কিছু চিন্তা করছেন? সময় পেরিয়ে যাচ্ছে তো।এই স্যুটটা পড়ে নিন।


আমি ভাবছি এই লোকগুলোকে কি সত্য কথা টা বলব? না থাক যদি এতে ক্ষতিকর কিছু হয়।না বলাই ভালো।কাউকে খুব সহজে ভরসা করা ঠিক নয়।আর চেহারা দেখে তাদের বিশ্বস্থ ও মনে হচ্ছে না।তাই বললাম,

আমিঃ-জ্বি, আসলে আমার কিছু জরুরী কাজ আছে।আমার এখন বাইরে কোন কাজে যেতে হবে।সেটি কি কাজ তা আপনাদের ফিরে এসে বলব।

 

তারপর তারা তাদের হাতে লাগালো ঘড়ির মতো কি জানি দেখতে একটা বস্তুর বাটনটিতে টিপ দিল।সাথে সাথে অদৃশ্য থেকে কি জানি একটা দৃশ্যমান হলো।তাকিয়ে দেখি ওরে বাব্বাএ দেখি একটা দানব! একটি নীল রং এর মানব।তার চারটি হাত। প্রতি হাতে তিনটি করে আঙ্গুল।লম্বায় প্রায় ৭ ফুট। বুকের মধ্যে একটা হার্ট ফিট করা।ওখান থেকে আলো জ্বলছে।মজার ব্যাপার এর মাথায় শিং এর মতো চুল ও লেজ ও আছে।আমি হা করে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম।দেখতে দেখতেই ও জিজ্ঞাসা করে উঠল।

কি ব্যাপার আমাকে ডেকেছেন কেন?


ল্যব্রেটরিতে থাকা মানুষগুলোঃ-আসলে তুমি তো কাওকে এক যায়গা থেকে অন্য যায়গাতে ঘুরাতে নিয়ে যাও। এই যে উনি হলেন হলো সাজ্জাদ। আমাদের এই ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের মেম্বার।ও কোথায় জানি যেতে চাচ্ছে। ওকে নিয়ে যাও আর হ্যা সাজ্জাদ(ঐ মহাবিশ্বেও আমার নাম সাজ্জাদ)তোমার সাথে তো ওকে পরচয় করিয়ে দেয়া হয় নি।ও আমাদের সৌরজগতের বাইরে kepla062C নামক গ্রহতে থাকে।ও খুব ভালো একটি এলিয়েন।ওর কাজ হলো মানুষকে এক যায়গা থেকে আরেক যায়গা ঘুরাতে নিয়ে যাওয়া এর জন্য ও মাসিক পারশ্রমিক ও পেয়ে থাকে।


আমিঃ-ও আচ্ছা, ভালো।এদিক দিয়ে তো স্যুট পড়ে ছোট হয়ে আমাকে করোনা ভাইরাসের কাছে যেতে হবে। তাই সময় তো বেশি নেই।তাই এখন কি আপনারা সময় প্রসারনের জন্য আইনস্টাইনের থিউরী অফ রিলেটিভিটি ব্যবহার করবেন?মানে আমার যান টি কি আলোর গতিতে চলবে যাতে সময় থেমে যায়?আর আমি অনেক সময় ভ্রমণ করেও এসে দেখব যে কোন সময় ই যায় নি।


হেসে উঠলো এলিয়েনটি এটি শুনে আর বলতে লাগল,

এলিয়েনঃ-আরে এটি করলে তো সময় সংকোচন প্রসারণ হবে ঠিকই তবে আপনার কথার ঠিক উল্টোটি হবে।আমাদের যানবাহন টিতে পার করা সামান্য সময় তাদের কাছে অনন্তকাল হয়ে দাড়াবে। পড়ে কাজ শেষ করে দেখা যাবে যে তাদের নাতিপুতি সহ বুড়ো হয়ে গেছে।


এলিয়েনটির সাথে সবাই একমত হয়ে বলল,

ল্যাব্রেটরির মানুষগুলোঃ-সাজ্জাদ সাহেব আপনি যে এ কি কথা  বলছেন!আপনার যদি এমনই জরুরী কাজ থাকে যে এখনই যেতে হবে তবে আমরা সময় থামিয়ে দিতে পারি।যেহুতু সময় একটি আপেক্ষিক ব্যাপার তাই আমাদের কাছে আপনার করা অতিবাহিত সময়টি অনেক সময় মনে হবে আর আমাদের কাছে তা এক মুহুর্ত মাত্র।তাই আমাদের মনে হবে আপনি আসলেন আর গেছেন আর আপনার মনে হবে পুরো বিশ্বব্রম্ভাণ্ড থেমে গেছে।


আমিঃ-এটা কিভাবে সম্ভব।


ল্যবরেটরির মানুষগুলোঃ-আপনি জীববিজ্ঞানি মানুষ।পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে আপনার মাথা না ঘামালেও চলবে।আমরা এসব নিয়ে গবেষনা করি তাই আমাদের এসব নিয়ে থাকতে দিন।আপনাকে করোনা সাথে যোগাযোগ করার জন্য এজন্য নির্বাচন করেছেন যে আপনি জীবের মন ও দেহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশী ধারণা রয়েছে।


আমিঃ-আচ্ছা ঠিক আছে আপনাদের যা করার তা করুন।


তারা আমাকে ও এলিয়েনটাকে একটা অদ্ভুত ঘড়ি দিল। আমরা পড়ে নিলাম।আরেকটি ঐ এলিয়েনটির যানবাহন UFO(এলিয়েনের উড়ন্ত যানবাহন কে  UFO বলা হয় অনেকে এটি দেখেছেন বলেও দাবি করে।কেননা পৃথিবীতে অনেক এলিয়েন এসেছে এর অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়) টিতে ফিট করা হলো।কিন্তু তারা(ল্যব্রেটরিতে থাকা মানুষগুলো) ওড়কম কোন ঘড়ি পড়ল না।তারপর এর পাশে থাকা একটি কম্পিউটারে ক্লিক করল।কম্পিউটার টাও অন্যরকম। যেন আমাদের সামনে কোন স্কিন এসে দাড়াল সেখানে একটা অপশনে হাত দিয়ে টাচ করার সাথে সাথে চারপাশে একটা কম্পন(vibration) অনুভূত হলো।সাথে সাথে চিং...........একটা শব্দ অনুভুত হলো।আর আমি ছিটকে পড়ে গেলাম আর দেয়ালে আঘাত পেলাম।অজ্ঞান হয়ে গেলাম আমি।


জ্ঞান ফিরে দেখি চতুর্দিকে অন্ধকার।বুঝতে পারলাম আমরা চারপাশের কোন বস্তুতে আলো চোখে প্রতিফলিত হয়ে পড়ে বলেই আমরা দেখতে পাই। কিন্তু এখন সময় বন্ধ হয়ে যাওয়াতে সব থেমে পড়েছে।থেমে পড়েছে আলোর কণা ফোটন ও।আর তাই আলো আর চোখে প্রবেশ করছে না বলে কিছু দেখতে পাচ্ছি না।


কিন্তু ঐ এলয়েনটার শরীর থেকে আলো জ্বলছে।বুঝতে পারলাম আমাদের(আমি ও এলিয়েন) যেহুতু ঐ অদ্ভুত ঘড়ি রয়েছে তাই আমাদের ক্ষেত্রে সময় থামে নি।ও আমার কপালে স্পর্ষ করার সাথে সাথেই আমার কপাল থেকে আলো বের হতে লাগল।ঐ আলো দিয়ে দেখতে লাগলাম সব থেমে গেছে। ল্যব্রেটরির মানুষগুলো মুর্তির মতো হয়ে গেছে।আমি বলতে লাগলাম


আমিঃ- তবে তাহলে আমাদের বের হওয়া উচিৎ

এলিয়েনঃ-হ্যা তা তো অবশ্যই।


আমরা ঐ ল্যব্রেটরি থেকে বাইরে বের হলাম বাইরে বের হয়ে ঐ এলিয়েনটির যানবাহন UFO এর ভিতরে।গেলাম।এটি আকারে ছোট।এটি দেখতে গোলাকাল চাকতির মতো।আমরা উঠে পড়লাম।এলিয়েনটি এটির চালক।ও এটি স্টার্ট করল।সাথে সাথেই এটি মাটি থেকে আকাশের দিকে উপড়ে উঠা আরম্ভ করল।উপড়ে উঠে এটি অনেক দ্রুত সামনের দিকে ছুটতে লাগল।আমি আর ঐ এলিয়েনটি এই UFO এর ভিতর বসে আছি। 


এলিয়েনঃ-আপনাকে কোথায় নিয়ে যেতে হবে?


আমিঃ-আমাকে তুমি এই পৃথিবী সহ পুরো সৌরজগত টা ঘুড়িয়ে দেখাও।


এলিয়েনঃ-আমি বুঝলাম না আপনি কেন শুধু শুধু এই এখনই ঘুড়তে বের হলেন।এখন আপনার জরুরী গবেষনার জন্য আপনাকে করোনা ভাইরাস কে নিয়ে গবেষনা আর যোগাযোগের জন্য নিয়োগগ করা হয়েছে।আপনি তো পরে বের হলেও পারতেন। আর আপনি......


মনে মনে ভাবছি আমি খেলাম তো এখন ধরা এখন কি উত্তর দিব। ভাবলাম প্রশ্ন যখন করেছেই তখন বলি ওর চেহারা দেখে ওকে খুব বিশ্বস্থ মনে হলো আমার।তাই সব কথাগুলো আমি ওকে খুলে বললাম....


এলিয়েনঃ-ও আচ্ছা আপনি কি প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কে কিছু ভেবেছেন গতকাল?


আমিঃ-না আমিতো ভাবি নি।


এলিয়েনঃ-তাহলে এর একটিই মানে দাড়ায়, অন্য মহাবিশ্বে আপনার যে কপি সেখানে ওর বয়স ১৭বছর আর ওখানে সাল ২০২০চলে। যেহুতু ও এই মহাবিশ্বে আপনার ঐ কপিটি আপনাকে নিয়ে ভেবেছে তাই আপনার কিছু তথ্য আপনার মাথায় আর আপনার কিছু তথ্য তার মাথায় স্থানান্তরিত হয়েছে।এজন্যই এমনটা হয়েছে।


আমিঃ-আচ্ছা এমনটা কি সচরাচর সবার ক্ষেত্রেই হয়?


এলিয়েনঃ-না, হয় না।কেননা আরো ১০০বছর আগে এমন জটিল চিন্তা মানুষ কররে পারতনা।কিন্তু ঐ ছেলেটি করতে পেরেছে।তার কপি যেহুতু আপনি তাই এটি আপনার ক্ষেত্রে হয়েছে।যেহুতু এটি খুবই কম পরিমাণে ঘটে তাই এটি না হওয়ার জন্য দেশের নিউরোসায়েন্স বিভাগ কোন পদক্ষেপ নেয় নি।


আমিঃ-আচ্ছা তুমি এতকিছু কিভাবে জান?


এলিয়েনঃ-আপনি আমার থেকেও আরো বেশী জানেন।কিন্তু আপনার সাথে এরকম টা হয়েছে বলে আপনার অনেক তথ্য অন্য মহাবিশ্বে অবস্থানরত আপনার কপির মাথায় চলে গেছে আপনি আপনি ভুলে গেছেন অনেক কিছুই।অন্যদিকে ও যেহুতু এসব চিন্তা করছে তাই ও কিছু ভুলে যায় নি উল্টো তার জীবনধারা আপনার ব্রেনে এসে পড়েছে।এটা ততক্ষন পর্যন্ত যাবে না যতক্ষন না ঐ ছেলেটি কল্পনা বন্ধ করে।


আমিঃ-ও আচ্ছা। এবার আসল ঘটনা টা বুঝতে পারলাম। তবে তো এর মাধ্যমে ঐ দুনিয়াকে অনেক তথ্য পাঠানো সম্ভব।


এলিয়েনঃ- ও (UFO চালাত চালাতে) বলল তা তো অবশ্যই।


এদিক দিয়ে আমরা কথা বলতে বলতে যে কোথায় এসে পড়লাম তা যে আমি টেরই পাই নি।এতক্ষনে আমরা এই যানবাহন দিয়ে পৃথিবী  ভূ -পৃষ্ঠ ভাগ অতিক্রম করেছি।এখন স্পেস শুরু হয়েছে।আমি অবাক হয়ে দেখছি শুধু।


আমিঃ-আচ্ছা এখন এই  সৌরজগতে তে তো শুধু মানুষ ই বসবাস করে তাই তো (এলিয়েন তো নয়)?


এলিয়েনঃ- হুম


আমিঃআমাকে তবে তুমি আমাকে পুরো সৌরজগত টি ঘুরিয়ে দেখাও


আমার কথা শুনে ও ওর যানবাহনটির গতি বাড়াল।অনেক দ্রুত এটি চলতে লাগল।আমরা মোঙ্গল, বৃহস্পতি, ইউরেনাস ও নেপচুন থেকে ঘুরে এলাম মানুষ( বুধ ও শুক্রে যায় নি কারন ঐ গ্রহ সূর্যের কাছে বলে অনেক গরম তাই মানুষ ওখানে বসবাস করে না)এখন অনেক উন্নত।তারা আর আগের মতো নেই। গ্রহের পরিবেশ বুঝে সেখানে ঐ শক্তিকে ব্যবহার করা হয়। সব ঘুড়ে বুঝলাম মোঙ্গল গ্রহে পৃথিবীর  মতোই বসবাস। আর বৃহস্পতির ঝড়কে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। অন্যদিকে ইউরেনাস ও নেপচুনে ঠান্ডা  পরিবেশ আর ওখানে ঐ হিমশীতল পরিবেশে মানুষ কে একটি কফিনে রাখা ওখানে কেমন আঠালো তার দিয়ে কেমন যেন আটকে রাখা হয়েছে ঐসব মানুষদের।আমি দেখে জিজ্ঞাসা করলাম এগুলো কি?


এলিয়েনঃতারা এই জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট। তারা হতাশায়  ভুগছে তাই তারা এটি লাগিয়ে রেখেছে এটি ফিট করলে তারা ভার্চুয়াল দুনিয়ায় চলে যায়। তাদের মনে হয় তারা সন্দর একটি পৃথিবীতে আছে যেখানে কোন দুঃখ নেই।শুধু সুখ আর সুখ।( চারদিকে সন্দর পরিবেশ,গাছপালা, ভালোবাসার মানুষ,মজাদার খাবার ইত্যাদি।)


আমিঃ-কেন কি হয়েছে? মানুষের তো এখন প্রায় সবকিছুই আছে তো দুঃখ কিসের?


এলিয়েনঃ-সেটি অনেক বড় ইতিহাস আমি এতকিছু জানি না। আমি অন্য সৌরজগতে থাকি।তবে আমি তাদের ইতিহাস কিছু পড়েছি 3d version এ   (এটি এ যুগের প্রযুক্তি যেখানে এটি অন করলেই লেখা বা ভিডিও চোখের সামনে ত্রিমাত্রিক ভাবে ভেসে উঠে)


আমিঃআচ্ছা তবে ততটুকুই বলো।


এলিয়েনঃআসলে আজ থেকে প্রায় আরো পঞ্চাশ বছর আগে মানুষ ধর্ম কর্ম ভালোভাবে পালন করত।কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির কারনে মানুষের মধ্যে নাস্তিকতা নাড়া দিয়ে উঠতে থাকে।তারা মনে করতে থাকে তারাই সব।কোন সৃষ্টিকর্তা তাদের দরকার নেই।সব ধর্ম নিয়ে তারা সমালোচনা করতে থাকে।যেহুতু তারা বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে উন্নত ছিল তাই ধর্মাবলম্বীরা তাদের সাথে পেরে উঠে নি তাই তাদের মতমাদ ই জয়ী হয়।


আমিঃআমি বুঝলাম না আমার প্রশ্নের সাথে এটির সম্পর্ক কি?আর সব ধর্মের সমালোচনা বুঝলাম কিন্তু ইসলাম ধর্মের কেন?কি দোষ করেছে ইসলাম?


এলিয়েনঃ-এটিই তো আসল কথা। অন্যান্য ধর্মের গঠনমূলক সমালোচনা করার কারনে তাদের যখন পতন হচ্ছিল তখন তো পৃথিবী থেকে কুসংস্কার দূরীভূত হচ্ছিল।কিন্তু তাদের এতে ইচ্ছা মিটল না। নাস্তিকরা মনে করতেন কোন পরকাল নেই। নেই কোন সৃষ্টিকর্তা। তাই তাদের দেখার মতোও কেও নেই। তারা মুক্ত স্বাধীন।তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে।কিন্তু ইসলাম যা ইচ্ছা তাই করার স্বাধীনতা দেয় না।মানুষেকে নিয়ম শৃঙ্খলের মধ্যে রাখতে চায়। ইসলাম বলে মদপান করতে না, মেয়েদের পর্দা করতে, শালীলতা বজায় রাখতে,জুয়া না খেলতে। কিন্তু তারা এটি পছন্দ করল না।তারা চাইত তারা সারাদিন মদের মধ্যে ডুবে থাকবে, মেয়েরা ছোট ছোট পোশাক পরুক (এটাই নাকি নারী স্বাধীনতা),দানের নামে টাকা মেরে খাক।তারা একদিকে পরকাল নেই নিজেদের মুক্ত ভাবছিল আবার অন্যদিকে ইসলামী অনুশাসনের ফলে এসব করতেও পারছিল না।


আমিঃ ও আচ্ছা। তারপর?


এলিয়েনঃ-তারপর আর কি। তারা এভাবে ইসলাম বিদ্বেশী হয়ে উঠল আর ইসলামেকে আঘাত করতে লাগল বিভিন্নরুপে।সে হলো অনেক কথা। যাই হোক তারা যেহুতু সব দিক দিয়ে শক্তিশালী ছিল তাই তারা সব দিক দিয়ে জয়ী হলো। পরে যখন এক ধর্মহীন সমাজ তৈরী হলো পরে দেখা গেল আসল গন্ডগোল। তারা যখন কোন নিয়ম শৃঙ্গলা মানল না তাই অপরাধী কার্যক্রম বেড়ে গেল।যায়গায় যায়গায় হত্যা,ছিনতাই, অবৈধ কার্যক্রম বাড়তেই লাগল।যেহেতু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনেক উন্নত তাই উন্নতধারাতেই এসব হত্যাকান্ড, ছিনতাই , ডাকাতি হতে লাগল।বিয়েকে তারা বাতিল করারা পর এমন দেখা গেল যে কে কার বাপ এটাই চিহ্ণিত করা যাচ্ছিল না।তাই ভরণপোষন ও সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হচ্ছিল না। এসব অশান্তিতে যখন তারা বিরক্ত তারা তাই এই কৃত্তিম ব্যবস্থা করেছে নিজকে সুখী করারা জন্য।তারপর ও তারা পারছে না নিজেকে সুখী করতে।আসলেই ইসলাম 

চর্চা কমে আসার পর যত উন্নতি ই তারা করুক না কেন 

তারা অন্ধকার সময় দিয়ে অতিক্রম করছে।


আমি এলিয়েনটার সাথে কথা বোলতে থাকলাম আর ও চারপাশের পরিবেশ ও আমায় দেখাতে লাগল।আসলেই কোথাও শান্তি নেই।তারা ভাবছে যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দিয়ে তারা উন্নতজীবন উপভোগ করলেই বুঝি তারা সুখী হবে তাই আরো চেষ্টা করে যাচ্ছিল প্রযুক্তিকে উন্নত করার কিন্তু তাতে বিপরীতটাই হচ্ছে ইসলাম কে মান্য না করে।(যদিও কিছু সামান্য সংখ্যক মানুষ তখনো ইসলাম কে ধরে রেখেছে)


এদিক দিয়ে আমরা পুরো সোরজগত ঘুড়ে শেষ করে ফেললাম।আমার মাথায় না একটা প্রশ্ন ঘুড়পাক খাচ্ছে। তাই ওকে বলেই ফেললাম ----


আমিঃআচ্ছা সৃষ্টিকর্তা কি তোমাদের কোন আসমানী  কিতাব পাঠিয়েছে।(ভিনগ্রহী প্রাণীদের উপর)


এলিয়েনঃএর উত্তর অনেক বড়। আপনিই দেখুন আমরা পুরো সৌরজগত ঘুড়ে শেষ করে ফেলেছি।তো এ নিয়ে পরে আলোচনা করা হোক কেমন!আশা করি আপনি আমার সাথে আবার যোগাযোগ করবেন।


আমিঃ-হুম তা তো অবশ্যই।আর তুমি যে এত কথা বললে তুমি তো এত কিছু পড়েছ তাই তো। তো আমাকে ঐ 3 D content টা দাও যেখানে নাস্তিকরা ইসলাম নিয়ে সমালোচনা করেছে।করোনা ভাইরাসের সাথে আলাপ করব আমি এ নিয়ে ।মানুষরা খারাপ হতে পারে কিন্তু আল্লাহর অন্যান্য সৃষ্টি আল্লাহর সাথে কখনো বেঈমানী করে না।

 

এটা বলার পর ওর মুঠ করা হাত টা খুলল আর সাথে সাথে অদৃশ্য থেকে একটি চিপ দৃশ্যমান হলো। আর ও বোলতে লাগল-----


এলিয়েনঃ-এই নিন এটা আপনার ঐ সুটটির চিপ স্টোরে ভরে নেবেন।সময়মতো ব্যবহার করতে পারবেন।


আমিঃ-ঠিক আছে। এইবার তোমার যানবাহন টি পৃথিবীতে ঐ ল্যব্রেটরিতে নিয়ে চলো। অনেক সময় ধরে সময় থেমে রয়েছে(আমাদের ক্ষেত্রে)।তা on করতে হবে।আর  ভাইরাসের বোধ এর মাধ্যমে তো যোগাযোগ টাও করা হয় নি আমার তো চলো পৃথিবীর দিকে।


এলিয়েন ও আমি এখন সৌরজগত ঘুড়ে আমাদের চিরচেনা পৃথিবীর দিকে যাত্রা আরম্ভ করলাম।



Comments

Popular posts from this blog

আজকের বিষয়:- খেলাফত রাজতন্ত্রে রুপান্তর।ইমাম হাসান(রা:) কে বিষ দিয়ে হত্যা।

১২ ইমাম নিয়ে শিয়া ও সুন্নীদের রায়।(১ম পর্ব)

আজকের বিষয়:-মুয়াবিয়ার শাসনামল