উমাইয়া বংশের প্রাথমিক ধারণা।

 




📝সাজ্জাদ।


আমি যখন কারবালা সিরিজ লিখেছি তখন অনেকে উমাইয়া বংশের লোকদের ভালো করে চেনেন নি।

তাই আজকে  উমাইয়া বংশ নিয়ে একেবারে সহজ ভাষায় আলোচনা করব।যাতে যেকোন মানুষ প্রাথমিক ধারণা লাভ করতে পারে।এখানে যারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তাদেরকে আমি রঙ দিয়ে চিহ্নিত করেছি।


এই পোস্টে আমি রেফারেন্স দিব না।কারণ দিতে গেলে আমার লেখা বিশাল বড় হয়ে যাবে।তাই লেখাকে সহজবোধ্য করার জন্য রেফারেন্স দেই নি।আমার খেলাফত সিরিজে সহীহ হাদীস এবং হাদীসের রেফারেন্স তাহকিক সহ লিখে রেখেছি।ওখানে গেলে সবগুলো পাবেন।


১)উমাইয়া:--উমাইয়া বংশের প্রথম সুত্রপাত হয়ে উমাইয়া বিন আব্দ শামস কে নিয়ে।দেখুন আমি তাকে হলুদ রঙ দিয়ে চিহ্নিত করেছি।


উনিই ছিলেন বেলাল (রা:) এর মনিব।হ্যা, ঠিক শুনেছেন।বেলাল (রা:) ওনার দাস ছিলেন।বেলাল রা: ইসলাম কবুল করাতে উমাইয়া তাকে প্রচুর অত্যাচার করেন।উমাইয়া বেলাল রা: এর উপর পাথর রেখে দেন।যাতে উনি ইসলাম ত্যাগ করে দেন।কিন্তু বেলাল(রা:) ইসলাম ত্যাগ করেন নি।বেলাল(রা:) কে পরবর্তীতে মসজিদে নববীতে মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দেন রাসুল(সা:)। বেলাল(রা:) এর আযান অনেক সুন্দর ছিল।


বি:দ্রি:-উমাইয়া কাফের অবস্থাতেই ইন্তেকাল করে।


২)আবু সুফিয়ান:-  আবু সুফিয়ান উমাইয়ার নাতি। ওনাকে দেখুন আমি বেগুনি রঙ দিয়ে চিহ্নিত করেছি। 


আবু সুফিয়ান রাসুল (সা:) এর বিরুদ্ধে উহুদের যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।প্রায় তিন হাজার বাহিনী নিয়ে রাসুল(সা:) এর বিরুদ্ধে সে আক্রমণ করে।আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা এই যুদ্ধতেই রাসুল সা: এর চাচা হামযা রা: এর কলিজা চাবিয়ে পৈশাচিক আনন্দ নেন।এই যুদ্ধে প্রায় ৭০ জন সাহাবী মারা যান।আমরা যখন মদিনায় যাই তখন উহুদের পাহার দেখে আসি।


ওসমান (রা:):- ইসলামের তৃতিয় খলিফা ওসমান বিন আফফান (রা:)  কে আমি সবুজ রঙ দিয়ে চিহ্নিত করেছি।


উনি উমাইয়া বংশের ছিলেন।ওনাকে রাসুল সা: এর দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন।অর্থাৎ উনি রাসুল (সা:) এর জামাতা ও।উনি কোরআনকে মুসহাফ সংকলনে অনেক বড় অবদান রাখেন।


ওসমান (রা:) তার ই বংশের লোককে বিভিন্ন গভর্ণর পদে দেন।আর সেই গভর্নর অনেকে মদ খেয়ে নামাজ পড়ার এবং উলটাপালটা অশালীন কাজ করে।এই কারণে ঐসকল দুরাচারী ব্যক্তিদের  ওসমান (রা:) শাস্তি ও দেন।[ রেফারেন্স খেলাফত সিরিজ ৪ এ লিখে রেখেছি]


কিন্তু ওসমান (রা:) শাস্তি দেয়ার পরেও অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তার উপরে ঘৃণার দানা বাধতে থাকে।এক পর্যায়ে এসে কোরান তেলাওয়াত অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়।


ওসমান (রা:) হত্যার  সকল সাহাবী আলী(রা:) কে কাছে এসে অনুরোধ করতে থাকে উনি যেন খেলাফতের পদে বসেন।সকলের অনুরোধে  আলী(রা:) রাজী হন।আলী(রা:) খেলাফতে এসে বলে যে যারা ই ওসমান(রা:) কে হত্যা করে তাদের সবাইকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে কিন্তু ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী কিসাস প্রতিষ্ঠার জন্য ওনার কাছে বায়াত(রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি) দিতে হবে।তবেই উনি করতে পারবেন।তাই সবাই এই বায়াত নিলেও একজন সরাসরি আলী(রা:) এর বায়াত নিতে অস্বীকার করে।সে হলো মুয়াবিয়া।

(রেফারেন্স:-খেলাফত সিরিজ ৬ এ লিখে রেখেছি]


৩) মুয়াবিয়া হলো  আবু সুফিয়ানের ছেলে।আমি তাকে লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করেছি।


মুয়াবিয়া আবু সুফিয়ানের পুত্র।উনি শেষ সময়ে এসে (মক্কা বিজয়ে পর) মুসলিম হন। রাসুল(সা:) তাকে ডাক দিলে বলে আমি খাচ্ছি।অনেক সময় পর পর তিনবার ডাক দেয়ার পরেও যে  আসলেন না।রেফারেন্স:-খেলাফত সিরিজ ৭ এ লিখে রেখেছি]


এই আবু সুফিয়ান ই আলী(রা:) এর বায়াত (খকিফা হিসেবে স্বীকৃতি) দিতে অস্বীকার করে।এবং আলী(রা:) কে বলে যে তাকে সে খলিফাই মানে না এবং সে আলী(রা:) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চায়।সিফফিনের ময়দানে সে অসংখ্য সৈন্য নিয়ে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত।এরপরে শুরু হয় এক ভয়ানক যুদ্ধ।


অনেকে বলতে পারে যে তাহলে ওসমান(রা:) এর হত্যার বিচারের কি হলো? এর উত্তর হলো আলী(রা:) করতে চেয়েছিল কিন্তু এর ই মাঝে মুয়াবিয়ার আরেক ঝামেলার জন্য আর করা হয় নি।কারণ মুয়াবিয়ার জন্য অনেক সৈন্য(তার দলের) আলী রা: কে খলিফা মানতে নারাজ।আর কিসাস করতে চাইলে বায়াত(রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাগবে) যেটা মুয়াবিয়া আলী রা: কে দেয় নি।


হাসান রা: এর সাথে কিছু শর্তের ভিত্তিতে মুয়াবিয়া ক্ষমতা প্রাপ্ত হন।এ অনেক বড় কাহিনী।আর মুয়াবিয়া তার শর্তের কিছুই মানে নি।উলটো মুসলিম শরীফেই আছে যে সে অন্যের মাল আত্নসাৎ করতে উৎসাহ দিত।


উমাইয়ারা হাসান (রা:) কে বিষ খাইয়ে হত্যা করে। আর আলী(রা:) এর বিরুদ্ধে গালি দেয়া চালু করে। [রেফারেন্স:-খেলাফত সিরিজ ৭ এবং ৯ এ পাবেন]


মারওয়ান:- মারওয়ান কে আমি কালো রঙ দিয়ে চিহ্নিত করেছি। মুয়াবিয়া তাকে অনেক যায়গার গভর্নর বানায় এবং সে ইয়াজিদ এর পক্ষে মানুষকে বোঝাত। যাতে সবাই ইয়াজিদকে খলিফা মেনে নেয়।


কিন্তু রাসুল সা: এর স্ত্রী আয়েশা রা: এবং তার আপন ভাই আব্দুর রহমান বিন আবু বকর (রা:) এর বিরোধীতা করে।


এইজন্য কাফেরদের জন্য নাযিল করা আয়াত আম্মাজান আয়েশা (রা:) এর উপরে মারওয়ান প্রয়োগ করে আর আয়েশা (রা:) কে কটুক্তি করে (নাউযুবিল্লাহ)

[রেফারেন্স:-খেলাফত সিরিজ ৯ এ লিখেছি]


কারবালা যুদ্ধ:- এর অন্তিম পরিণতি হলো ইয়াজিদ এর ক্ষমতা লাভ। কুফা তে ইমাম হুসাইন (রা:) এর কাছে আসতে থাকে অসংখ্য চিঠি। এজন্য উনি কুফায় রওনা দেন। পথিমধ্যে কারবালাতে ইয়াজিদী সেনারা ইমাম হুসাইনকে আটকে ফেলেন। এবং নির্মমভাবে তিনদিন পিপাসার্ত রেখে তার পরিবারের মানুষ সহ তাকে হত্যা করে।[খেলাফত পর্ব ১০ এ লিখব।এখনো লিখি নাই]


এই উমাইয়ারা ইমাম হুসাইনকে জবাই করে আর শরীর কে ঘোড়া দিয়ে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মাটিতে পড়ে থাকে রাসুল (সা:) এর প্রিয় নাতির মৃতদেহ!

Comments

Popular posts from this blog

১২ ইমাম নিয়ে শিয়া ও সুন্নীদের রায়।(১ম পর্ব)

আজকের বিষয়:- খেলাফত রাজতন্ত্রে রুপান্তর।ইমাম হাসান(রা:) কে বিষ দিয়ে হত্যা।

ইমাম হুসাইন(রা:) কে যারা ভুল বলে তাদের মিথ্যা দাবীর খন্ডন।