যদি আমি হতাম মহাভারতের মহারথি(পর্ব ২))
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু করছি।
গল্পঃ-যদি আমি হতাম মহাভারতের মহারথি(পর্ব ২)
লেখকঃ- শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ।
সূর্যোদয় হতে আর কিছু সময় বাকী।কিছুক্ষণ পরে শুরু হবে যুদ্ধ।তুমুল যুদ্ধ।যেখানে এক পক্ষে পান্ডব ও এক পক্ষে কৌরব।যেখানে প্রায় ভারতবর্ষের সব রাজা ও তার সৈন্য অংশগ্রহণ করেছে।সেই যুদ্ধ হয় দৈব অস্ত্র দিয়ে।মহা বিনাশী এই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ।যেখানে এক ভাই আরেক ভাইয়ের রক্তের বন্যা বের করবে।আজ এই সময় অঙ্গরাজ কর্ন(১) প্রথম যুদ্ধে নামবে।
সেই যুদ্ধে যাওয়া অবস্থায় তাকে থামিয়ে(পর্ব ১ এ দ্রষ্টব্য) জ্ঞান দ্বান শুরু করলাম।কর্ণ আমাকে বলল--->>>
কর্ণঃ- তুমি আমাকে কি বলতে চাও।তুমি কোথা থেকে এসেছ। আমার অস্ত্র তোমার উপর কাজ করল না কেন?তুমি কিছুক্ষণ আগে এমন কি শোনালে! এটা যে বাসুদেব কৃষ্ণ থেকেও অনেক মধুর।
আমিঃ-শান্ত হও হে কর্ণ।তোমার কি মনে নেই;তোমার গুরু পরশুরাম (২) তোমাক শিক্ষাদান করেছে ক্রোধ/অশান্তি এসব ধ্যানকেন্দ্রের অনেক বড় বাধা।তুমি এটি পালন ও করো।কিন্তু সব একত্রে জানতে চাইলে এক বিষয়ে ধ্যান লাগাবে কিভাবে হে মহা ধনুকধারী।তোমাকে সব কিছুর উত্তর ই তোমাকে দিব।
কর্নঃ-তুমি আমার ব্যাপারে এত কিছু জানো কিভাবে?
আমিঃ-হে দাতাকর্ণ(৩),মনে আছে অনেকদিন আগের কথা। যেদিন কৃষ্ণের সাথে তোমার প্রথম পরিচয়ের কথা? জরাসন্ধের(৪)সাথে বন্ধুত্ব করে কৃষ্ণের বিপক্ষে যখন যেতে হয় তখন কৃষ্ণ ই তোমার প্রথম সারথি(৫) হয়েছিল।তুমি প্রথমে কিন্তু বাসুদেব কৃষ্ণ কে চিনতে পারো নি।কৃষ্ণ ঐদিন বলেছিল যদি মন সচেতন হয় তবে সারথি রথির মন পড়ে ফেলতে পারে।
কর্ণঃ-তো?(কর্ণ গম্ভীরভাবে বলল)
আমিঃ- তো আর কি?এই যে আমি তোমার সারথি হতে চাই। আর সারথি তার রথির (৬) মন পড়তে পারবে না।তা কি হয়?
আচ্ছা জানো আমার একটি জিনিস দেখলে খুব কষ্ট লাগে যে তুমি খুবই কম হাসো।
কর্নঃ-হাসব কিভাবে?মনের মধ্যে আমার অনেক দুঃখ। জন্ম হতেই দেখে আসছি শুদ্রদের কোন সামাজিক মর্যাদা দেয়া হয় নি।আমি আমার নিজ যোগ্যতায় ধনুক বিদ্যা শিখেছি।আমি শুদ্র জানলে পরশুরাম আমাকে কখনো শিষ্য বানাতেন না।তাই ব্রাহ্মনের পরিচয় দিয়ে ধনুকবিদ্যা শেখার পর যখন পরশুরাম জানলো আমি শুদ্র ; তখন আমাকে অভিশাপ দিল।তাছাড়া এখনো আমাকে শুদ্রপুত্র বলে কটুক্তি করা হয়।
আমি জানি যে অভিশাপ অনুযায়ী এই যুদ্ধে যখন সবচেয়ে প্রয়োজন হবে তখন আমার দৈব শক্তি অকেজো হয়ে পড়বে।
আমিঃ- তুমি যে বাস্তবে শুদ্র নও হে দাতাকর্ণ।তুমি যে সূর্যের পুত্র।আর তুমি তো ক্ষত্রিয় ও বটে।তোমাকে যদি তোমার মা কুন্তি(৭) পানিতে ভাসিয়ে না দিত তবে শুদ্ররা তোমাকে পালত না। যার ফলে তোমাকে শুদ্র হিসেবেও পরিচিতি পেতে হতো না।তুমি যেহুতু বাস্তবে পান্ডবদের জৈষ্ঠ ভ্রাতা তাই তথাকথিত পান্ডবদের জৈষ্ঠ্য যুথিষ্ঠিরের যায়গায় ইন্দ্রপ্রস্থে(৮)রাজ তুমি করতে।
কর্ণঃ- চাই না আমার এই রাজ্য।আমার এই ভোগবিলাস।বাসুদেব কৃষ্ণ আমাকে বারবার বলেছে কৌরবদের ছেড়ে পান্ডবদের দলে আসতে।কিন্তু আমি আসি নি।আর আসবো ও না।আমি আমার মিত্র (বন্ধু) দূর্যোধন(৯)কে ছেড়ে কোথাও যাব না।যেই সময় আমার সমর্থন দেয়ার মতো কেও ছিল না। গুরু দ্রোন(১০) যখন অর্জুনের প্রশংসার পঞ্চমুখ।জগতের শ্রেষ্ঠ ধনুকধারী অর্জুনকে দাবী করল তখন আমি আমার প্রতিভা দেখিয়ে এই কথাকে ভুল প্রমাণ করেছিলাম।তবে আমাকে কেও গুরুত্ব দেয় নি।শুদ্র বলে আমাকে সবাই হেয় প্রতিপন্ন করেছিল কিন্তু দূর্যোধন সেদিন আমার পক্ষে দাড়িয়েছিল।আমাকে সেইদিন ই অঙ্গ প্রদেশের রাজা ঘোষণা করে।যদিও আমি বাসুদেব কে পছন্দ করি কিন্তু সেই মিত্রের বিপক্ষে আমি কখনো যাবো না।
আমিঃ- আমি তো জানি হে মহারথি।তবে কৃষ্ণের বিপক্ষে গিয়ে সারা যুদ্ধ তুমি কখনো জিততে পারবে না।আর সব মানুষের সমান অধিকার তো এতে কখনো প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।কৃষ্ণ তোমাকে মারবে অর্জুনকে দিয়ে ছল করে।কৃষ্ণকে তুমি যতটা ভালো হিসেবে দেখ আসলে সে এতটাও ভালো নয়।এদিক দিয়ে দূর্যোধন যে কৃষ্ণ কে ছলিয়ে বলে তা ঠিকই বলে যা তুমি বুঝতে পারো নি।তুমি যদি মরেই যাও কিভাবে তুমি সকল মানুষকে নায্য অধিকার দিবে ?এদিকে তোমার মিত্র দূর্যোধন যে কেমন তা তুমি নিজেই জানো।তার নিজের দোষের কারণেও আজ এই মহা বিনাশী যুদ্ধ হতে চলেছে।
কর্ণঃ- তুমি দেখি কাওকেই ছাড়লে না?আমার মিত্র দূর্যোধনের সমালোচনার কথা না হয় বুঝলাম।কিন্তু ভগবান বাসুদেব শ্রী কৃষ্ণ! উনি যদিও আমাদের কৌরবের বিপক্ষের দলে আছে। তবুও সে যে ভগবান।জগতের অধিপতি।ঈশ্বর!
আমি মুচকী হাসি দিয়ে কর্ণকে বললাম------>>>
আমিঃ-এজন্যই তো আমি টাইম মেশীন দিয়ে একবিংশ শতাব্দির বাস্তব জগত থেকে এসেছি কর্ণ।
তোমার কাছে। তোমার কাছে প্রকৃত সত্যটা জানাতে।শুধু তোমার কাছে হে দানবীর।জগতের প্রকৃতপক্ষে কে এই বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা তা বোঝাতে এসেছি।
আমি এসেছি এই মহা বিধ্বংশী কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ থামানোর জন্য।আমি এসেছি ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য।আমি এসেছি তোমার স্বপ্নের সেই সকল মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।প্রকৃত সৃষ্টিকর্তাকে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য।
কর্ণঃ- জগতের প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বর তোমার মতে তাহলে কে?
আমিঃ-সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে তার পরিচয় তুলে ধরেছেন।তার বার্তাবাহকদের মাধ্যমে বারবার তিনি তার পরিচয় ও তার পথ দেখিয়েছেন।তিনি মানুষের জন্য পুস্তক প্রেরণ করেছেন।কিন্তু তা না মেনে যুগে যুগে মানুষ পথভ্রষ্ট হয়েছে।প্রকৃতপক্ষেই যিনি সৃষ্টিকর্তা হবেন তার বৈশিষ্ঠ্য হলো ---------->>>
আমি এর পরে আরবীতে কিছু পড়তে লাগলাম।তা শুনে কর্ণ বলল
কর্ণঃ-আরে এটিই না চতুর্দিকে ঘুরে সবার প্রথমে আমাকে শোনালে?যা বাসুদেব কৃষ্ণের বাঁশির সুর থেকেও অনেক মিষ্টি।এর অর্থ কি সাজ্জাদ?
আমিঃ-এর অর্থ হলোঃ- ''আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই তিনি সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়।আকাশ ও ভূপৃষ্ঠের যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আকাশ ও ভূপৃষ্ঠ পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।''(১১)
শুধু তাই নয় হে মহারথি তার পরিচয় হলো আল্লাহ এক।তার শরিক নেই।তিনি কাওকে জন্ম দেন নি।তিনিও কাওকে জন্ম দেন নি।তার সমকক্ষ কেও নেই(১২)
কোন কিছুই তার অনুরুপ নয়।(১৩)
আমি বলে একটু থামলাম।দেখলাম কর্ণ গভীরভাবে তা শুনে যাচ্ছিল।এর পরে আমি সংস্কৃত ভাষায় কিছু বলতে লাগলাম।যার অর্থ হলো----->>
স্রষ্টা মাত্র একজনই দ্বিতীয় কেউ নেই’’।(১৪)
''সর্ব শক্তিমান ঈশ্বরের বাবা নেই,মা নেই, তাঁর চেয়ে বড় কেউ নেই”।(১৫)
''সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কোন প্রতিমা নেই,প্রতিমূর্তি নেই,প্রতিকৃতি নেই, কোন রূপক নেই,কোন ছবি নেই,তাঁর কোন ভাস্কর্য নেই ,তাঁর কোন মূর্তি নেই”।(১৬)
“সর্বশক্তিমান ঈশ্বরকে কেউ দেখতে পায় না”(১৭)
''তারা অন্ধকারে প্রবেশ করে যারা প্রাকৃতিক বস্তুর পূজা করে ।তারা অন্ধকারে প্রবেশ করে যারা সম্ভুতির(১৮)পূজা করে।''(১৯)
আমি আরো বলতে নিচ্ছিলাম।কর্ণ আমাকে থামালো।থামিয়ে বলল--->>>>
কর্ণঃ-থামিয়ে বলল কেনই বা আমাকে এসব তুমি বলে যাচ্ছ?এটাই যে বস্তুতপক্ষে সৃষ্টিকর্তার প্রমাণ এটা তুমি কিভাবে বলতে পারো?এইসব বলেই কি প্রমাণ হয়ে যায় যে মহান বাসুদেব কৃষ্ণ ঈশ্বর নন।
আমিঃ-কয়েকটা শব্দ মিলে কোন সত্য প্রমাণিত হয় না হে কুন্তিপুত্র পরশুরামের শিষ্য দাতা কর্ণ।ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করতে থাকলে সত্য তার নিজের ধারের কাছেই হাজির হয়।একে শুধু মেনে নিতে হয়।আর এখানে আমি যা কথা বলেছি তা মহা সত্য। পরম সত্য।আর তা অনুধাবন ও করা যায়।আর তা আমি পরে দেখাব।অথচ কৃষ্ণ মায়া করতে পারে বলেই মানুষ তাকে ঈশ্বর ভাবে। অথচ সে ঈশ্বর নয়।তার মানব প্রতিকৃতি আছে। তিনি জন্ম নিয়েছেন।এমনকি তিনি এমন কাজ করেছেন যা ঈশ্বরের কাজ নয়।আর তোমরা যা আশেপাশে দেখছ যে দেব দেবীরা এমনিতেই পৃথিবীতে আগমণ করে ও যাওয়া আসা করে তা সবই মায়া।এটা কিভাবে হয় তা ও সামনে দেখতে পারবে।তোমার মিত্র দূর্যোধন ঠিকই বলতো যে যেই ছলিয়ে মাখন চোর কৃষ্ণ যে ছোটবেলাতেই কংস(২০)বধ করেছে তা গোয়ালার শক্তি বলতে পারো।তবে কোন ঈশ্বরের চমৎকার নয়।তাছাড়া কৃষ্ণ যে বলেছে ''সাধুদের পরিত্রান ও দুষ্কৃতিকারীদের বিনাশের জন্য আমি যুগে যুগে জন্ম নেই।''(২১)এটাও একটি ভুল কথা।আর তা কুরুক্ষেত্রেই যুদ্ধে যখন আমরা যাব তখন সবাইকে সত্যটা দেখানো হবে।
কর্ণ তা শুনে রাগান্বিত হয়ে গেল।কিন্তু সে রাগ কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।তার গুরু পরশুরাম তা শিখিয়েছে।সে রাগ নিয়ন্ত্রন করে বলল----->>>
কর্ণঃ-তাহলে কি বলতে চাও তুমি?বাসুদের শ্রী কৃষ্ণ যা যা করেছে তা সবই ভুল ছিল?আর আমার মিত্র যা করেছে তা কি ঠিক?দুঃশ্বাসনকে(২২) দিয়ে সবার সামনে পাশা খেলার পরে পান্ডবদেরকে দাস বানিয়ে দ্রপোদির বস্ত্রহরণের মতো যা পাপ করেছে সেটা কি ঠিক ছিল?কৃষ্ণ যদি দিব্য শক্তি দিয়ে না বাঁচাতো তবে সেটি কেমন হতো।এটা কি সহ্য করার মতো ?
আমিঃ-এজন্যই তুমি আমার প্রিয় মিত্র।তুমি নিজের দলের দোষ ও অন্য দলের ভালো দিকগুলোও দেখে ফেলতে পারো।
হ্যা,তারা(কৌরবরা) এটি অন্যায় করেছে।একজন নারীর সম্মান হরণের চেষ্টা সেটি অবশ্যই মহা অন্যায় কাজ।তাই আমি তোমার মিত্র দূর্যোধনের পক্ষেও নই।আর না আমি পান্ডবদের পক্ষে।কেননা শকুনি(২৩) যখন পাশা খেলতে চায় তখন পান্ডবদের জৈষ্ঠ্য যুথিষ্ঠির চাইলে নাও খেলতে পারত।শকুনি যে কেমন যাদুবিদ্যা দিয়ে পাশা খেলা জিতে ফেলতে পারে তা বোঝা উচিৎ ছিল।অথচ তাও নিজ ইচ্ছায় খেলে দাস হয়েছে।যার পরিণাম এই মহাযুদ্ধ।তাছাড়া দ্রোপদিও দূর্যোধনকে অন্ধের পুত্র(২৪) বলে অপমান করেছে। তাই শুধু রাজ্যের লোভেই নয় বরং এই কারণেও দূর্যোধন পান্ডবদের বিরুদ্ধে ক্রোধান্বিত হয়ে ওঠে।এই অপমানের প্রতিশোধ নেয়ার জন্যও এই পাশা খেলার আয়োজন করা হয়।যেই খেলায় হেরে পান্ডবেরা তাদের সব হারায়।
কর্ণঃ- আর কৃষ্ণ যে আমার মিত্র(বন্ধু) দূর্যোধনকে রাজ্যের বদলে মাত্র পাঁচটি গাভী চেঁয়েছিল।কিন্তু তাও তো আমার মিত্র দেয় নি।আমার বলার পরেও দিল না।অন্তত এটিও যদি করত তাও তো এই যুদ্ধটা এড়ানো যেত।
আমিঃদেখ যা হওয়ার তা তো হয়ে গেছে।তাই দুই দল থেকেই সেই তার স্ব স্ব পাপের অনুতাপ সহ তার ফল ভোগ করবে।সেটি যুদ্ধের পরে হবেই হবে।আমি তোমায় কথা দিলাম।চলো তাহলে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া যাক।সেখানেই সব কিছুর উত্তর পেয়ে যাবে।
[আমি এটি বলেই একটি ক্যাপসুল খেয়ে নিলাম।এটি এক ধরণের অত্যাধনিক প্রযুক্তি যা আমি টাইম মেশীন দিয়ে আসার সময় নিয়ে এসেছি।ক্যাপসুলের ভেতর আছে ন্যনো রোবট।এই রোবট আমার ব্রেইনের নিউরণে গিয়ে আটকে থাকবে।এটি আমাকে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের জন্য টেলিপ্যাথি(২৫)করার ক্ষমতা দান করে। এর দ্বারা আমি মন থেকে যা চাই তা হাজির হয়ে যাবে।আমি মনে মনে সুদর্শন চক্রের(২৬) কল্পনা করলাম।
আমি আমার অন্যান্য আঙ্গুল বন্ধ করে তর্জলি আঙ্গুল দাড়া করলাম।যেভাবে এক সংখ্যা দেখানোর জন্য আমরা করে থাকি।সাথে সাথে অদৃশ্য থেকে সুদর্শন চক্র দৃশ্যমান হলো।একে আমি সুদর্শন চক্র বলি না।বলি নিদর্শন চক্র(২৭)।এর মাঝখানে ফুটা আর তা আংটির মতো আমার আঙ্গুলে বসে গেল আর চক্রাকারে ঘুড়তে লাগল।।আমি নিশ্চিত কৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অস্ত্র উঠাবে না এই প্রতিজ্ঞা করলেও আমার বিরুদ্ধে কোন না কোনভাবে যুদ্ধে নামবেই।কেননা কেও তার চিন্তাধারার সমান্যতম বিরোধী হলেও তাকে ছলে বলে সে হত্যা করেছে।কৃষ্ণের সাথে আমার অন্তিম যুদ্ধের সময় তার সাথে টেক্কা দেয়ার জন্যই আমার এই অস্ত্র।
কর্ণকে এতক্ষণ জ্ঞান দিচ্ছিলাম বলে সময় থামানো ছিল। এখন এর দ্বারা সময় আবার সময় চালু হয়ে গেল।আর সাথে সাথে আমার আসল রুপ সাজ্জাদ থেকে আমি পন্দ্রাক বাসুদেব কৃষ্ণের মতো হুবুহু রুপ হয়ে গেলাম।
সূর্যোদয় হতে চলেছ।কর্ণকে বললাম রথে বসে ওঠতে।আমি ঘোড়ার গাড়ির চালক তথা সারথি হলাম।ঘোড়ার রশি ধরে টান দিলাম।আর তা চলতে শুরু করল।আমরা এখন কুরুক্ষুত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে যাচ্ছি।হ্যা,সেই রণক্ষেত্রে যেখানে এক ভাই আরেক ভাইয়ের রক্তের পিপাসু।যেখানে গুরু ছাত্রকে হত্যা করার জন্য উদগ্রীব।যেই যুদ্ধে ব্যবহৃত হয় দিব্য শক্তি।যখন দুই দিব্য শক্তি একত্রে মিলিত হয় তখন চতুর্দিকে আলোতে ঝলমল করে ওঠে ও চতুর্দিকে আকাশ বাতাস যেন এই মহা কলহ সইতে না পেরে প্রকম্পিত হয়ে দীর্ঘ বিশ্বাক্ত শ্বাস ফেলে।হ্যা, আমি সেই যুদ্ধে যাচ্ছি।প্রকৃত সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যাচ্ছি।
পর্ব ৩ শীঘ্রই আসছে..........
------------------------------
---------------------
------------------
(১)অঙ্গরাজ কর্ণঃ-মহাভারতের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র।পান্ডবদের মধ্যে জৈষ্ঠ্য হয়েও তার মা তাকে ভাসিয়ে দেয়ায় শুদ্রদের (নিম্নবর্ণের মানুষ) বড় হয়।সে অনেক বড় ধনুকযোদ্ধা।কর্ণ ছিলেন মহাভারতে বর্ণিত সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধাদের একজন এবং তিনিই ছিলেন একমাত্র যোদ্ধা যিনি মহাভারতের আরেক শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা অর্জুনকে যুদ্ধে পরাজিত করতে সক্ষম ছিলেন[১]। মহাভারতের বর্ণনামতে, কর্ণ ছিলেন সেযুগের একমাত্র যোদ্ধা যিনি সমগ্র পৃথিবী জয় করেছিলেন।সে হলো মহানুভব ও অনেক দানশীল।সে নিচু জাত হিসেবে সমাজে পরিচয়ের ফলে তাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে।যেদিন কেও তাজে শুদ্রপুত্র বলে তার যোগ্যতার সম্মান দেয় সেদিন দূর্যোধন এগিয়ে এসে তাকে তার এক অঙ্গরাজ্য দান করে দেয়।পুরো মহাভারতে সে অগাধ বীরত্বের প্রতীক।অস্ত্রহীন নিঃস্ব অবস্থায় যখন রথের চাঁকা ঠিক করছিলেন তখন কৃষ্ণ অর্জুনকে দিয়ে ছল করে এই বীরকে হত্যা করেন।তাকে নিয়ে যতই বলব ততই কম বলা হবে।আগ্রহী পাঠকেরা না জেনে থাকলে বিস্তারিত উইকিপিডিয়া থেকে জেনে নিন।
(২)পরশুরামঃ-বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার।শুধু মহাভারতে নয়,রামায়নেও তার উল্লেখ আছে। কঠোর তপস্যা করে তিনি শিবের নিকট হতে পরশু লাভ করেন এবং যুদ্ধবিদ্যা শেখেন।ইনি গুরু দ্রোন,পিতামহ ভীষ্ম ও কর্ণের গুরু।মজার ব্যাপার হলো কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার বিদ্রোহী কবিতায় তার উল্লেখ করেছেন এবং নিজেকে পরশুরামের কুঠার বলেছেন।
(৩)দাতাকর্ণঃ- কর্ণ সর্বদা দান করত।এমনকি ইন্দ্র তার জন্মগত রক্ষাকবচ চাইলে সেটিও দান করে দেন।
(৪)জরাসন্ধঃ জরাসন্ধ শব্দটি দুইটি সংস্কৃত শব্দের সন্ধিতে গঠিত। শব্দ দুইটি হলো জরা ও সন্ধ। সন্ধ অর্থ হলো যুক্ত করা। জরা নামক এক রাক্ষসী জরাসন্ধের দুইটি অর্ধাংশ জুড়ে পুর্ণ মানবাকৃতি দিয়েছিলো। তাই তার নাম জরাসন্ধ।তিনি মগধের রাজা।কৃষ্ণের বিরোধী তিনি অনেক রাজাকে আটকে রেখেছেন।ভীমকে দিয়ে ছল করে তাকে হত্যা করা হয়।
(৫)সারথিঃ-রথের চালক।
(৬)রথিঃ-রথে যে আহোরণ করেন।রথ হলো এমন ঘোড়ার গাড়ি যা সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
(৭)কুন্তিঃ-পান্ডবদের মা।
(৮)ইন্দ্রপ্রস্থঃ-পান্ডবদদের রাজ্য।
(৯)দূর্যোধনঃ-হস্তিনাপুরের যুবরাজ।কর্ণের মিত্র।যাকে খলনায়ন হিসেবে দেখা হয়।
(১০)গুরু দ্রোনঃ-পান্ডব ও কৌরবদের গুরু।
(১১)রেফারেন্সঃ কোরআনের সূরা বাকারা, আয়াতঃ২৫৫
(১২)রেফারেন্সঃ-কোরআনের সূরা ইখলাস,আয়াতঃ১-৪
(১৩)রেফারেন্সঃ-সূরা শুরা,আয়াত ১১ এর অংশবিশেষ।
(১৪)রেফারেন্সঃ-ছান্দেগ্য উপনিষদের ৬ নম্বর অধ্যায়ের ২ নম্বর পরিচ্ছেদের ১ নম্বর অনুচ্ছেদে।
(১৫)রেফারেন্সঃ-শ্বেতাশ্বতর উপনিষদদের ৬নম্বর অধ্যায়ের ৯ নম্বর শ্লোক।
(১৬)রেফারেন্সঃ-শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের ৪নম্বর অধ্যায়ের ১৯ নম্বর শ্লোক।
(১৭)রেফারেন্সঃ-শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের ৪নম্বর অধ্যায়ের ২০ নম্বর শ্লোক।
(১৮)সম্ভুতিঃ-সৃষ্ট বস্তু।এখানে নিজের হাতেই সৃষ্ট বস্তুকে উপাসনা করাকে নিষেধ অর্থে বোঝানো হয়েছে।যেমন মূর্তি পূজা।
(১৯)রেফারেন্সঃ-যজুর্বেদের ৪০ নম্বর অধ্যায়ের ৯ নম্বর শ্লোক।
(২০)কংসঃ-এটি জানার জন্য আমাদেরকে মহাভারত থেকে ভগবত পুরাণে ফিরে যেতে হয়।কৃষ্ণের জন্মের কাহিনীতে।কাহিনী অনেক বড় তাই আমি সংক্ষেপ করছি। পুরাণ অনুযায়ী কংস হলেন কৃষ্ণের মামা।তিনি উগ্রসেনকে বন্দি করে মথুরার রাজা হন। হঠাৎ তিনি দৈব বানী শুনতে পান তার বোন বাসুকীর ঘরে জন্ম নেয়া অষ্টম সন্তান তার প্রাণনাশের কারণ ঘটবে।তাই তার বোন বাসুকী ও তার স্বামী বাসুদেবকে কারাগারে আটকে রাখেন কংস।যাতে অষ্টম সন্তান কৃষ্ণ হলেই তাকে মেরে ফেলতে পারে।একে একে করে নিজ বোনের ৭ টি সন্তান হত্যা করেন কংস।একটা সময় কৃষ্ণ জন্ম নিল।সনাতনী বৈষ্ণব সম্প্রদায়দের মতে ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার।অর্থাৎ ঈশ্বর মানবরুপে জন্ম নিলে তাকে অবতার বলে।কংস মেরে ফেলবে এই ভয়ে কৃষ্ণের বাবা বসুদেব যশোধার কাছে বৃন্দাবনে কৃষ্ণকে লুকিয়ে রেখে আসেন।বৃন্দাবনে কৃষ্ণ বড় হতে থাকে।রাক্ষস পুতনা,বকাসুর সহ অনেককে বৃন্দাবনে কৃষ্ণকে হত্যার উদ্দেশ্য কংস প্রেরণ করলেন।কিন্তু বাচ্চা কৃষ্ণ সবাইকে উপযুক্ত শাস্তি দিল এবং মথুরায় এসে তার মামা কংসকে হত্যা করে।
(২১)রেফারেন্সঃ- ভগবত গীতা,চতুর্থ অধ্যায়ের ৮নং শ্লোক।
(২২)দূর্যোধনের ছোটভাই।১০০ কৌরবদের একজন।
(২৩)শকুনিঃ-দূর্যোধন তথা কৌরবদের মামা।
২৪)অন্ধের পুত্রঃ-দূর্যোধনের পিতা ধৃতরাষ্ট্র অন্ধ ছিল।
(২৫)টেলিপ্যাথিঃ-টেলিপ্যাথি হচ্ছে বার্তা প্রেরণের মাধ্যম যেখানে কোনো সাধারণ মাধ্যম অথবা শরীরের বাহ্যিক অঙ্গ ব্যবহার করা হয় না।এটিতে সাধারণত মনের ক্ষমতা ব্যবহার করে করা হয।
(২৬)সুদর্শন চক্রঃ- বিষ্ণুর অস্ত্র।হিন্দু সনাতনীদের মতে যেহুতু কৃষ্ণ ভগবান বিষ্ণুর ই অবতার তাই মহাভারতে কৃষ্ণকে সুদর্শন চক্র ধারণকারী রুপে দেখা যায়।এর দ্বারা বিষ্ণু অধর্মীকে হত্যা করেন।
(২৭)নিদর্শন চক্রঃ-এটির অন্যতম কাজ হলো প্রকৃত সৃষ্টিকর্তার নিদর্শন সবার সামনে চোখ মেলে ধরে দেখিয়ে দেওয়া।কৃষ্ণের সুদর্শন চক্রের সাথে আমার কল্পনা করা নিদর্শন চক্রের প্রার্থক্য হলো এর ভেতরে আছে ক্যামেরা আর আছে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ।আমি এতে প্রোগ্রাম করেছি যে এই এই মানুষকে আমি যখন কল্পনা করব তখন আমার ব্রেইনের নিউরন থেকে ইমেজের ছবি নিবে।সেই ছবি আশেপাশে মানুষের সাথে মিলিয়ে দেখবে।যদি আমার আহত বা নিহত করার ইচ্ছা করি তবে সেটি চক্রাকারে উড়ে গিয়ে তাকে হত্যা করবে।কেননা এর চারপাশ প্রচন্ড ধারালো কাঁটাকাটা ধরনের। এমনকি এই ক্যাপসুল যেহুতু টাইম মেশীন এর থেকেই এনেছি আর আমার সুদর্শন চক্র এটি ফোর্থ ডাইমেনশনের সাথে জড়িত বলে সময়কে সংকোচন,প্রসারণ ও থামিয়েও দিতে পারে।কিন্তু আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ব অনুযায়ী সময় যেহুতু আপেক্ষিক তা এটি হবেও আপেক্ষিক ।আমার নিদর্শন চক্র যখন ঘুরে তখন টাইম ডাইলেশন হওয়া শুরু হয় এবং ওয়ার্ম হোল তৈরী হয়ে যেতে পারে যার ফলে এই টানেল দিয়ে অন্য মহাবিশ্বে বা কালেও চলে যাওয়া যেতে পারে।

Comments
Post a Comment