ওসমান(রা:) এর শাসনামলে ঘটা ফিৎনা
আজকের বিষয়:- ৩য় খলিফা ওসমান(রা:) এর শাসনামলে ঘটা ফিৎনা এবং শেষ পরিণতি ওনার মৃত্যু।
হাদীসের সংকলনঃ-খেলাফতে রাশিদা পতনের পেছনের
কারণ(৪ র্থ পর্ব)
লেখকঃ-শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ।
বানু উমাইয়াদের বেশীরভাগ যেখানে মক্কা বিজয়ের পরে শেষ সময়ে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন।সেখানে ওসমান(রা:) উমাইয়া বংশের হয়েও উনি অনেক আগেই ইসলাম গ্রহণ করেন।যেইসয় রাসুল(সা:) মক্কাতে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণের অনেক আগে থেকেই তিনি ধনি ছিলেন। ইসলামের জন্য উনি তার প্রচুর সম্পত্তি দান করেছেন(১)।আরবের মধ্যে অন্যতম ধনী ব্যক্তি উনি৷
ওমর(রা:) এর ইন্তেকালের পরে ওসমান(রা:) কে ইসলামের তৃতীয় খলিফা নির্বাচন করা হয়।
উসমান রা খলিফা হয়ে নতুন যে সমস্যায় পড়লেন যেটা আবু বকর রা বা উমর রা পড়েননি। সেটা হল সুবিশাল সম্রাজ্য লিবিয়া থেকে আফগানিস্তানে যেটার বিস্তৃতি তা ঠিকমতো শাসন করা এবং তার উন্নয়ন যেমন রাস্তাঘাট তৈরি ইত্যাদি। এর আগ পর্যন্ত খিলাফতের অর্থনীতি কেন্দ্রীয় ভাবে তেমন সুসংহত ছিলনা৷ যেমন ট্যাক্স বা খরচের নিখুঁত হিসাব রাখা হত না। উসমান রা এসব রিফর্ম করেন৷ তার সময় অর্থনীতি শক্তিশালী হয়। প্রাপ্ত খাজনা কয়েকগুন বাড়ে। আসলে ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি এ কাজের জন্য যোগ্য ছিলেন। এবং অর্থনীতির ব্যাপারে কোন ব্যর্থতা প্রশ্রয় দিতেন না৷
কিন্তু ২য় খলিফা উমরের রা: এর সাথে তার(ওসমান রা:) এক জায়গায় পার্থক্য ছিল৷ উমর রা: রাজনৈতিক বিষয়ের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি সহ্য করতেন না। খলিফা হওয়ায় পরেও তিনি নিজে কোন ধরণের সুযোগ সুবিধা ভোগ করতেন না এবং তার আত্মীয় স্বজনকেও করতে দিতেন না।কিন্তু উসমান রা: এদিক দিয়ে অতটা কঠিন ছিলেন না। ওসমান(রা:) তার নিজ আত্নিয়ের ব্যাপারে দুর্বল ছিলেন।এই ব্যাপারে সুনানে আবু দাউদেও হাদীস আছে।সেখানে ওমর(রা:) একটা খ্রিস্টান বিশপের সাথে কথা বলছিলেন।ওমর রা: বললেন তুমি আমাকে কিভাবে দেখতে পাও সে বলেছে যে লোহার দুর্গ ও বিশ্বস্থ দেখতে পাই।অতপর ওমর রা: বললেন এরপরে যে আসবে তাকে কেমন দেখতে পাও।বিশপ বললেন
আমি তাকে একজন ধার্মিক খলিফা পাই, তবে সে তার আত্মীয়দের পছন্দ করবে। উমর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহ উসমানের উপর রহম করুনঃ তিনি তিনবার বললেন।(২)(সুনান আবু দাউদ:৪৬৫৬)।
আসলে তাওরাত, ইঞ্জিলে রাসুল(সা:) ও তার সঙ্গী সাথীরা কেমন হবে এই ব্যাপারে বলা হয়েছে।এখন ইঞ্জিলের ই বিকৃত রুপ খ্রিস্টানদের মধ্যে রয়েছে এটা ওমর(রা:) ভালোভাবেই জানতেন।এজন্যই উনি এই ব্যাপারে বিশপের সাথে আলোচনা করছিলেন।
এখন প্রশ্ন হলো স্বজনপ্রিতির কথা শুনেই ওমর(রা:) কিভাবে নিশ্চিত বুঝলেন যে এখানে ওসমান(রা:) এর ই কথা বলা হচ্ছে? কেন স্বজনপ্রিতির কথা শুনেই তার মুখ থেকে বেরোলো আল্লাহ ওসমানের প্রতি রহম করুক?এর কারণ হলো ওনারা সবাই সঙ্গী সাথে।ওনাদের মধ্যে কে কেমন এটা ওনারা ভালোভাবেই অবগত।নবিজীর সময়ে ঘটা কিছু কাহিনী হয়েছে যার কারনে উনি এরুপ কথা বলেছিলেন।আমি বলছি:-
আমরা জানি যে ওসমান(রা:) বাদে ওনার বংশের প্রায় সবাই অর্থাৎ উমাইয়ারা মক্কা বিজয়ের পরে কালিমা পড়েন।এর আগে উমাইয়া প্রচুর ইসলামের ক্ষতি করেছে।নবিজীর মনে কষ্ট দিয়েছে।মুয়াবিয়ার মা হিন্দা নবিজীর চাচা হামযা রা: এর কলিজা চাবিয়েছে।আরোও অনেক কিছু হয়েছে।এজন্য এদের প্রতি নবিজীর দু:খ ছিল।যেই ওয়াহশি নবিজীর চাচাকে মেরেছে সে শেষ সময়ে ইসলাম গ্রহণ করলেও নবিজী বলেন তোমার ইসলাম কবুল করলাম।কিন্তু তোমার চেহারা আমাকে দেখাবে না।এমনকি উমাইয়া বংশের এক লোক ইসলাম গ্রহণ করেও আবার মুরতাদ হয়ে চলে যায়।এই জালেমের উপরে নবি (সা:) ক্ষিপ্ত ছিল।
মক্কা বিজয়ের পরে এই লোককে(আব্দুল্লাহ ইবনে সারহ) রাসুল(সা:) মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন।নবিজী ইবনে সারাহ এর উপরে ক্ষিপ্ত ছিল।কিন্তু ওসমান(রা:) এর অনুরোধে নবি সা: ওনাকে মাফ করে দেয়।(৩)(সুনান আবু দাউদ ২৬৮৩,৪৩৫৯)
এবার মুল কাহিনীতে আসি। ওসমান(রা:) ইসলামের ৩য় খলিফা হওয়ার পরে অল্প সময়েই তার নিজ বংশ উমাইয়ারা প্রভাবশালী হয়ে উঠে৷ এদের মধ্যে সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া আর তার নিজের সেক্রেটারি মারওয়ান বিন হাকাম উল্লেখযোগ্য৷ সকল ক্ষেত্রে উমায়াদের উথান খিলাফতের অনেক প্রভাবশালী সদস্যদের খলিফার প্রতি বিরুপ করে তোলে।
উমাইয়ারা আগে থেকেই ধনী ছিলো এবং ব্যবসায়ী হিসেবে সুনামের অধিকারী ছিল৷ উসমান রা: কোন প্রদেশ থেকে ঠিকমতো কর সংগ্রহ না হলে গভর্নর পরিবর্তন করে দিতেন এবং প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তিনি তার আত্মীয়দের বেছে নিতেন।
মিশরের পূর্বের গভর্নর ছিলেন আমর ইবন আল আস । আশাপ্রদ ট্যাক্স সংগ্রহ না হওয়ায় তাকে সরিয়ে উসমান রা: তার দুধভাই আব্দুল্লাহ ইবন সাদ কে গভর্নর করেন। তিনি গভর্নর হয়েই জনসাধারণের ওপর অনেক ট্যাক্স বসান এবং প্রয়োজনে অত্যাচার নির্যাতন করেন।
শুধু তাই নয়,বানু উমাইয়ারা রাসুল(সা:) এর শেখানো নিয়ম অনুযায়ী সাদকা ব্যয় করতেন না।তারা যাকাত আদায়েও মানুষের সাথে যুলুম করেছিলেন।এজন্য মানুষ ওসমান(রা:) এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।(৪)।বুখারীতে আছে যে এই সমস্যা সমাধানে আলি(রা:) হযরত ওসমানকে পত্র প্রেরণ করেছেন যেখানে যাকাত আদায়ের ব্যাপারে নবিজীর হাদীস ছিল।অথচ ওসমান(রা:) সেই পত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।(সহিহ বুখারী :৩১১১)
এরকম বিভিন্ন কারণে স্থানীয় মুসলমান ও কতিপয় সাহাবী উমাইয়াদের বিরোধী হয়ে যায়।শুধু তাই না,ওসমান রা: এর বানানো গভর্নর আব্দুল্লাহ ইবন সারহ এর মদ খেয়ে নামাজ পড়ানো শুরু করে।এমনকি নামাজ পড়িয়ে রাকাত ও ভুল পড়ে।এজন্য সেই গভর্নরদের বিরুদ্ধে মানুষ আরোও বিদ্রোহী হতে থাকে।
এই বিরোধ চরমে পৌছালে অসন্তুষ্ট মিশরীয় পক্ষে একটি দল উসমান রা: এর দরবারে পৌঁছায়। সেখানে কুফা ও বসরা থেকেও একি উদ্দেশ্য নিয়ে লোক জড়ো হয়েছিল। তারা আব্দুল্লাহ ইবন সারহ সহ আরোও উমাইয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে উসমান রা: আলী রা এর মধ্যস্থতায় ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দেন। উসমান রা: বলেন উমাইয়া গভর্নরদের এমন কাজের জন্য যেন তাদের চাবুক মারা হয়।উনি আলী রা: কে চাবুক মারতে নির্দেশ দেন(৫)(সহিহ বুখারী : ৩৮৭২, সহীহ মুসলিম: ৪৪৫৭)
যাই হোক সেই গভর্নর বিদ্রোহী দলটি ফেরত যাবার
পথে নিজেদের মধ্যে একজন অপরিচিত লোককে দেখতে পায় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জানা যায় যে সে উসমান রা: এর লোক এবং তার কাছে খলিফার সিল দেয়া একটি চিঠি পাওয়া যায় যাতে মিশরের গভর্নরকে উদ্দেশ্য করে লেখা ছিল এই দলটি মিশরে পৌঁছালে যেন তাদের হত্যা করা হয়।
এতে মিশরীয়দের দলটি উত্তেজিত হয়ে ওঠে(তাদের মধ্যে আসলে ভুল বোঝাবুঝি হলো। তারা ভাবল যে আমরা আবার কি করলাম।আমরা তো সেই উমাইয়া গভর্নরদের বিরোধীতা করছি যারা কিনা মানুষকে অত্যাচার করে এবং মদ খাইয়ে নামাজ পড়ায়।এজন্যই তো আমরা ওসমান রা: এর কাছে বিচার চাইতে আসলাম।আর ওসমান রা: কিনা আমাদেরকেই গুপ্ত হত্যা করতে চাইছে!সেই গভর্নরদের অপরাধ লুকানোর জন্য!)
তারা খলিফা উসমান রা: এর গৃহে ফিরে আসে আর জবাবদিহিতা চায়। উত্তরে উসমান রা: জানান এই চিঠি তিনি লেখেন নি। এখন অনেক ঐতিহাসিক বলেন যে চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন উসমান রা: এর কাজিন মারওয়ান বিন হাকাম।[এই বিষয়গুলো সুন্নীদের কিতাব আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া তে আছে।আবার শিয়াদের কিতাব নাহযুল বালাগাতেও আছে।]
আসলে সেই মারওয়ান উপর দিয়ে দেখাতো যে ওসমান রা: এর বন্ধু।কিন্তু ভেতর দিয়ে সে ছিল স্বার্থপর।ওসমান রা: নিজেও বুঝতে পারেন নি যে তার ঘরের লোক ই তার শত্রু।এই মারওয়ান কে? তার ব্যাপারে পরবর্তী পর্বে আলোচনা করব।(বুখারী ৪৮২৭ এ বর্ণিত আয়েশা রা: মারওয়ান কে ও তার পিতা হাকামকে লানত এর ভাগীদার বলেছেন।কেন বলেছেন এই ব্যাপারে হাদীস আমি পরবর্তী পর্বে দেখাবো ইনশাল্লাহ)
মারওয়ান সেই বিদ্রোহীদেরকে কৌশলে ক্ষেপিয়ে তোলে।যাতে সেই বিদ্রোহীরা ওসমান রা: কে হত্যা করে আর ক্ষমতা তাদের হাতে পৌছে যায়।
সেই বিদ্রোহীরা সত্যিই ওসমান রা: কে তারা প্রতারক ও গুপ্ত হত্যার প্ল্যানিং কারী হিসেবে মনে করতে থাকে।যার কারণ ছিল মারওয়ানের চিঠি।
মিশরের সেই দলটি উসমান রা এর ঘরের সামনে হট্টগোল করতে থাকে এবং দ্রুতই বিক্ষোভকারী থেকে বিদ্রোহীতে পরিণত হয়। এই সময় মদিনা ছিল প্রায় শুন্য। সবাই হজ্ব করতে মক্কা গিয়েছিল। খলিফার নিরাপত্তার দায়িত্বে যে কয়েকজন ছিল তাদের কেও একজন তীর মেরে হট্টগোলের মধ্যে কাওকে মেরে ফেলে। এতে উত্তেজিত দলটি আরো উত্তেজিত হয়ে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় ঘরের পিছন দিক দিয়ে। ভিতরে প্রবেশ করে কুরআন পাঠরত খলিফা উসমান রা: এর হত্যাকাণ্ড ঘটায়।আসলে সেই বিদ্রোহীরা ভাবত যে ওসমান (রা:)সেই গভর্নরদের বিচার করছেন না।তাই সেই বিদ্রোহীরা ওসমান (রা:) কে কোরআন তেলাওয়াত অবস্থায় হত্যা করে।
চলুন হাদীসগুলো দেখে নেই===>>
ইসলামের জন্য ওসমান(রা:) এর সম্পদ দান:=>
১)আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) যখন তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ’উসমান (রাঃ) নিজ জামার আস্তিনে ভরে এক হাজার দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) নিয়ে নবী (সা.) -এর কাছে আসলেন এবং দীনারগুলো রাসূল (সা.) -এর কোলে ঢেলে দিলেন। আমি দেখলাম, নবী (সা.) নিজ কোলের মুদ্রাগুলো উলট-পালট করে বলতে লাগলেন, আজকের পরে ’উসমান-কে কোন ক্ষতি করবে না। তিনি যে আমলই করেন না কেন- এ কথাটি তিনি (সা.) দু’বার বলেছেন। (তিরমিযী ৩৭০১, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৪৫৫৩,মিশকাতুল মাসাবিহ:৬০৭৩, হাদিসের মান:হাসান সহিহ)
ওসমান(রা:) এর ব্যাপারে ওমর রা: এর উক্তি=>
২)উমর ইবনুল খাত্তাবের মুআযধিন (ঘোষনাকারী) আল-আকরা বলেছেন: উমর আমাকে একজন বিশপের কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং আমি তাকে ডেকেছিলাম। উমর (রাঃ) তাকে বললেনঃ তুমি কি আমাকে কিতাবে খুঁজে পাও? সে হ্যাঁ বলেছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি আমাকে কিভাবে খুঁজে পান? তিনি বললেন: আমি তোমাকে (একটি) দুর্গের মতো খুঁজে পেয়েছি। তারপর তিনি তাকে একটি চাবুক তুললেন, বললেন: দুর্গ বলতে আপনি কী বোঝেন? তিনি উত্তর দিলেন: একটি লোহার দুর্গ এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ত। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ আমার পরে যে আসবে তাকে তুমি কিভাবে খুঁজে পাবে? তিনি বললেনঃ আমি তাকে একজন ধার্মিক খলিফা পাই, তবে সে তার আত্মীয়দের পছন্দ করবে। উমর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহ উসমানের উপর রহম করুনঃ তিনি তিনবার বললেন। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: যে তার পরে আসবে তাকে আপনি কিভাবে খুঁজে পেলেন?
তিনি উত্তর দিলেনঃ আমি তাকে মরিচা লোহার মত পাই। তখন উমর (রাঃ) তার মাথায় হাত রাখলেন এবং বললেনঃ হে নোংরা! হে নোংরা! তিনি বললেনঃ মুমিনদের সেনাপতি! তিনি একজন ধার্মিক খলিফা, কিন্তু যখন তাকে খলিফা করা হবে, তখন তলোয়ার খুলে যাবে এবং রক্তপাত হবে। (সুনান আবু দাউদ:৪৬৫৬)।
Note:- মক্কা বিজয়ের পরে এই লোককে রাসুল(সা:) মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন।নবিজী ইবনে সারাহ এর উপরে প্রচন্ড ক্ষিপ্ত ছিল।কিন্তু ওসমান(রা:) এর অনুরোধে নবি সা: ওনাকে মাফ করে দেয়।
সেই আব্দুল্লাহ ইবনে সারাহ ই ওসমান(রা:) এর খেলাফতকালে মদ খেয়ে নামাজ পড়ায়।ওসমান রা: এর শাসনামলে জুলুম করে বেড়াত।এইসব কাজকর্মের জন্য মানুষ বিদ্রোহ করে ওসমান(রা:) কে বিচার দেয়।এজন্য ওসমান এই পাপীকে শাস্তি দেয়।যেই পাপিকে উনি নবীর(সা:) এর শাস্তির হাত থেকে একদা বাঁচিয়েছিলেন=>>>>
৩) যেদিন মক্কা বিজয় হয়েছিল, সেদিন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চারজন পুরুষ ও দু’জন মহিলা ছাড়া লোকদের নিরাপত্তা দিয়েছিলেন এবং তিনি তাদের নামকরণ করেছিলেন। ইবনে আবি সারাহ তাদের একজন। অতঃপর তিনি হাদীসটি বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ইবনু আবূ সারহ নিজেকে উসমান ইবন আফফানের কাছে লুকিয়ে রেখেছিলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদেরকে বাইয়াত করার জন্য ডাকলে তিনি তাকে নিয়ে এসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে দাঁড় করালেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাসূল, তাঁর কাছ থেকে বাইয়াত গ্রহণ করুন। সে মাথা তুলে তিনবার তার দিকে তাকাল, প্রতিবার তাকে অস্বীকার করে। এরপর তৃতীয়বার তিনি শপথ গ্রহণ করেন। তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের দিকে ফিরে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কি এমন কোন বুদ্ধিমান লোক নেই যে আমাকে বাইয়াত গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে দেখে এই (লোকটির) পক্ষে দাঁড়াবে এবং তাকে হত্যা করবে? তারা উত্তর দিলঃ আমরা জানি না, আল্লাহর রাসূল, আপনার অন্তরে কি আছে; আপনি কি আপনার চোখে আমাদের ইঙ্গিত দেননি? তিনি বললেনঃ একজন নবীর জন্য বিশ্বাসঘাতক দৃষ্টি রাখা ঠিক নয়।আবু দাউদ বলেন: 'আব্দুল্লাহ (ইবনে আবী সারহ) ছিলেন উসমানের পালক ভাই এবং ওয়ালিদ। 'উকবা' মায়ের দ্বারা তাঁর ভাই ছিলেন এবং উসমান মদ পান করার সময় তাকে শাস্তি দিয়েছিলেন।(সুনান আবু দাউদ ২৬৮৩,৪৩৫৯)
যাকাত আদায়ের ব্যাপারে হযরত আলী রা: এর ওসমান(রা:) এর কাছে পত্র প্রেরণ=>
৪)ইবনে আল-হানাফিয়া বর্ণনা করেছেন:
আলী যদি উসমানের সম্পর্কে খারাপ কিছু বলতেন তাহলে তিনি সেই দিনের কথা উল্লেখ করতেন যেদিন কিছু লোক তার কাছে এসে উসমানের যাকাত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল। তখন আলী আমাকে বললেন, উসমানের কাছে যান এবং তাকে বলুন, এই দলিলটিতে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাদাকা ব্যয়ের নিয়ম রয়েছে, তাই আপনার যাকাত কর্মকর্তাদের সে অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দিন। আমি উসমানের কাছে দলিল নিয়ে গেলাম। উসমান (রাঃ) বললেন, এটা নিয়ে যাও, কারণ আমাদের এর প্রয়োজন নেই। আমি তা নিয়ে আলীর কাছে ফিরে এলাম এবং তাকে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন, তুমি যেখান থেকে নিয়েছ সেখানে রাখ।(সহিহ বুখারী :৩১১১)
ওসমান(রা:) এর বানানো উমাইয়া গভর্নর এর বাজে কার্যকলাপ।ওসমান(রা:) এর শাস্তি দান:=>
৫)হুদাইন আল-মুন্দির আবু সাসান বর্ণনা করেছেন: আমি দেখেছি যে ওয়ালিদকে উসমানের কাছে আনা হয়েছিল। 'ওয়ালিদ ফজরের নামাযের দুই রাকাত নামাজ পড়েছিলেন, এবং তারপর তিনি বলেন: আমি আপনার জন্য একটি বৃদ্ধি করা. আর দুজন লোক তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিল৷ তাদের মধ্যে একজন হলেন হুমরান যিনি বলেছিলেন যে তিনি মদ পান করেছিলেন। দ্বিতীয় জন সাক্ষ্য দিল যে সে তাকে বমি করতে দেখেছে। উসমান (রাঃ) বলেনঃ তিনি (মদ) পান না করলে তিনি বমি করতেন না। তিনি বললেনঃ আলী, দাঁড়াও এবং তাকে প্রহার কর। আলী বললেন: হাসান, দাঁড়াও এবং তাকে মারধর কর। তখন হাসান বললেনঃ তাকে (খিলাফতের) উত্তাপ ভোগ করুক যে এর শীতলতা উপভোগ করেছে[Note:-মানে হাসান রা: চাইছেন উমাইয়াদের মধ্যেই যেন শাস্তি দেয়া হয়। যারা তাকে গদিতে বসিয়েছে।কারণ হযরত আলী,হাসান রা: হলেন হাশেমী গোত্রের]
'আলী রা: এই মন্তব্যে শুনলেন এবং পরে তিনি বললেন: 'আবদুল্লাহ বিন জাফর, দাড়াও এবং তাকে বেত্রাঘাত কর, এবং সে তাকে চাবুক মারতে শুরু করলো এবং আলী চল্লিশটি হওয়া পর্যন্ত ফিতে গণনা করলেন। তিনি (হযরত আলী) বললেনঃ এখন থামুন, তারপর বললেনঃ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন এবং আবু বকরও চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন এবং উমর (রা.) আশিটি বেত্রাঘাত করেছেন এবং এগুলি সবই এর শ্রেণীভুক্ত। সুন্নাব, কিন্তু এটা (চল্লিশ ডোরা) আমার কাছে অধিক প্রিয়।(সহিহ বুখারী : ৩৮৭২, সহীহ মুসলিম: ৪৪৫৭)
ওসমান(রা:) এর বিরুদ্ধে অবস্থানকারীরা সবাই মুসলিম ছিলেন।তাই তাদের পেছনে নামাজ আদায় বৈধ যা ওসমান(রা:) বলেছেন:=>
৬)উবায়দ-উল্লাহ ইবনে আদী ইবনে খিয়ার থেকে বর্ণিত:
আমি উসমান বিন আফফানের কাছে গিয়েছিলাম যখন তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন, এবং তাকে বললাম, "আপনি সাধারণভাবে সমস্ত মুসলমানদের প্রধান এবং আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে আপনার উপর কী ঘটেছে। আমাদের সালাত (নামাজ) আল-এর একজন নেতা দ্বারা পরিচালিত হয়। ফিতান (পরীক্ষা ও ক্লেশ ইত্যাদি) এবং আমরা তার অনুসরণে পাপী হওয়ার ভয় করি।" উসমান রা. "সালাত (নামাজ) সমস্ত কাজের মধ্যে সর্বোত্তম, সুতরাং লোকেরা যখন ভাল কাজ করে তখন তাদের সাথে একই কাজ করে এবং যখন তারা খারাপ কাজ করে, তখন সেগুলি পরিহার কর।" আয-যুহরি বলেন, "আমাদের মতে, কোন বদমাশ ব্যক্তির পিছনে নামায পড়া উচিত নয় যদি না এর কোন বিকল্প থাকে।"
(সহিহ বুখারী:৬৯৫)

Comments
Post a Comment