জামাল যুদ্ধ।







আজকের বিষয়:- হযরত আলী রা: এবং হযরত আয়েশা (রা:) মাঝে ঘটা জামাল যুদ্ধ।





হাদীসের সংকলনঃ-খেলাফতে রাশিদা পতনের পেছনের
কারণ(৫ পর্ব)

লেখকঃ-শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ।

ওসমান (রা:) এর শাহাদাৎ এর পরে উম্মতের মধ্যে ফিৎনা চরম আকার ধারণ করল।সকল সাহাবীরা মিলে আলী(রা:) এর কাছে গেল।আর অনুরোধ করতে লাগল যে উনিই যাতে মুসলিম উম্মাহর চতুর্থ খলিফা হন।উনি প্রথমে রাজি ছিলেন না।কিন্তু অনেক অনুরোধের পরে আলী (রা:) রাজি হলেন।
ঐ সময় হজ্বের মৌসুম ছিল।সবাই গিয়েছিলেন হজ্ব
করতে।আয়েশা (রা:) ও ছিলেন হজ্বে।এইসময় আলী রা: এর কাছে তালহা ও যোবায়ের রা: এসে বললেন যে ওসমান রা: তো নিহত হয়ে গিয়েছে।আর আলী রা: হয়েছেন নতুন খলিফা।আর বললেন যে চলুন আমরা গিয়ে আলী রা: এর কাছে সেই হত্যার বিচার চাই।আয়েশা রা: রাজি হলেন ও বসরা অভিমুখে রওনা হলেন।
পথিমধ্যে,বসরায় কুকুর ঘেও ঘেও শুরু করল।তখন আয়েশা রা: যায়গার নাম জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন যে যায়গার নাম হলো বসরা।তখন আয়েশা রা: এর নবিজীর একটা হাদীস মনে পড়ল।রাসুলুলুল্লাহ সা: তার স্ত্রী দের মধ্যে একজন স্ত্রীর জন্য আফসোস করেছিলেন আর বলেছিলেন যে, "
তোমাদের মধ্যে একজনের অবস্থা কেমন হবে যখন হাওয়ার এর কুকুর তার দিকে ঘেউঘেউ করা শুরু করবে।”(১)
এই হাদীস ওনার মনে পড়ে গেল।আর উনি বুঝলেন যে আরোও সামনে রওনা দেয়া মানে ঘোর বিপদ হতে চলেছে।আমি একটা ভুল করতে চলেছি।কারণ নবিজী(সা:) এর ভবিষ্যতবানী বাস্তবায়ন হতে চলেছে।তাই উনি যেতে চাইলেন না।কিন্তু তালহা ও যোবায়ের রা: এর কথার মারপ্যাচে ওনার গভীর চিন্তা উনি ভুলে গেলেন এবং আবার যেতে আরম্ভ করলেন।
আয়েশা রা: এর পক্ষ থেকে হত্যার বিচার জানালো হলে আলী রা: তা গ্রহণ করলেন এবং বললেন যে আমার হাতে সবাই বায়াত হন।আমি সেই হত্যাকারীদের বিচার করব।
সবকিছু ঠিকমতোই চলছিল।কিন্তু এর ই মাঝে যারা তৃতীয় পক্ষ ছিল তারা জানত যে এখন যদি আলী রা: হত্যার বিচার করা শুরু করেন তবে আমরা ধরা পড়ে যাব।এখন একটা কাজ করা যায়,দুই দলের মধ্যে হাঙ্গামা লাগিয়ে দেয়া।এরা দুই দলের মধ্যে হাঙ্গামা লাগিয়ে দিল।এবং আয়েশা রা: এর দলের লোকেরা আলী রা: সের দলের লোককে ভুল বুঝতে লাগল।পরিণতিত্ব শুরু হলো যুদ্ধ।
তাই আলী রা: এর দলের লোক আক্রমণ কে ঠেকাতে তারাও যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন।আম্মার (রা:) সবাইকে ভাষণ দিয়ে বলেন যে আয়েশা রা: দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের মাতা।কিন্তু এই যুদ্ধের ক্ষেত্রে আল্লাহ তোমাদের পরীক্ষা করছেন যে তোমরা কি আল্লাহর আনুগত্য কর, না তাঁর (অর্থাৎ 'আয়িশাহ (রাঃ)-এর) আনুগত্য কর। (২)
আম্মার (রা:) এর কথা অনুযায়ী আলী (রা:) হক্বের উপরে ছিলেন।কারণ এটি নবিজীর হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত।(পরবর্তী পর্বে দেখবো)কিন্তু আয়েশা রা: এর এটি ছিল সিদ্ধান্তগত ভুল।যা তৃতীয় পক্ষের কুটনামী করার কারণে তৈরী হয়েছে।
হয়ে গেল তুমুল যুদ্ধ।এই যুদ্ধে অসংখ্য সাহাবী শহীদ হন দুই দল থেকেই।এটি ছিল প্রথম মুসলমানদের মধ্যে যুদ্ধ।আয়েশা রা: এর দল হতে তালহা রা: ও যোবায়ের রা: নিজের ভুল বুঝতে পারেন।উনি বুঝতে পারেন যে আমরা তো ওসমান রা: এর হত্যার বিচারের জন্য আলী রা: এর কাছে এসেছিলাম।অথচ আমরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করা শুরু করলাম।তৃতীয় পক্ষের উষ্কানিতে।আমরা নবিজী সা: এর এত ভালোবাসার মানুষ আলী(রা:) এর বিপক্ষে যুদ্ধ করে অনেক অন্যায় করছি।এই ভেবে উনি যুদ্ধ ছেড়ে দেন।উনি যুদ্ধ ছেড়ে চলে যাওয়ার মধ্যে সেই তৃতীয় পক্ষের দলেরা তালহা ও যোবায়ের রা: কে হত্যা করে(৩)।যাতে কেও সত্যটা জানতে না পারে।।যুদ্ধে আলী (রা:) জয়লাভ করেন।এর দ্বারা নবিজী সা: এর একটি ভবিষ্যতবানী বাস্তবায়িত হয়(৪)জয়লাভ করে উনি আয়েশা (রা:) কে তার বাবার বাসায় পাঠিয়ে দেন।
যে তালহা (রা:) কে যে মারে তার নাম মারওয়ান বিন হাকাম।সেই ওসমান রা: কে হত্যার জন্য জাল চিঠি তৈরীতে দায়ী।এমনকি সেই আবার সিফফনের যুদ্ধে আলী রা: এর বিপক্ষে যুদ্ধ করে।
শুধু তাই না।সে পরবর্তীতে মুয়াবিয়ার পক্ষে যুক্ত হয়।তার ছেলে ইয়াজিদ ক্ষমতায় আসুক তার পক্ষে বক্তব্য দিতে থাকে।তখন আয়েশা রা: এর ভাই এর বিরোধীতা করে।মারওয়ান কোরানের আয়াতের বিকৃত ব্যখ্যা করে আয়েশা রা: এর নামে মিথ্যা অপবাদ দেন। তখন আয়েশা রা: ক্ষেপে গিয়ে বলেন যে কোরাআনে আমার পক্ষে আয়াত নাযিল হয়েছে।আর মারওয়ান তোর নামে রাসুলুলুল্লাহ সা: অভিশাপ দিয়েছিল।আমি শুনেছি।৫)মারওয়ানের ব্যাপারে নবী সা: এর ভবিষ্যতবানী ওনার মনে পড়ে।
আর উনি(আয়েশা রা:) নিজেও বুঝতে পারেন যে আলী (রা:) এর বিপক্ষে তাকে ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য এই উমাইয়ারাই দায়ী।কিন্তু এখন আর কি করার।উনি সত্যটা অনুধাবন করে অনেক বেশী অনুতপ্ত হন।আর মনে প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছিলেন।উনি এতটাই বেশী অনুতপ্ত ছিলেন যে উনি বলেছিলেন আমাকে যেন আর নবী সা: এর সাথে দাফন ই দেয়া না হয়।(৬)কারণ উনি এতটাই অনুতপ্ত হয়েছেন যে উনার আবেগ তাকে বলছে যে আমি নবীর এত প্রিয় ভালোবাসার মানুষ আলী (রা:) এর বিপক্ষে অস্ত্র ধরেছি!আমিই তাকে ভুল বুঝলাম!আমাকে যেন আর প্রশংসিত না করা হয়।
আলী (রা:) এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে আলী(রা;) বলেন ---->>ওনাদের মতো মানুষদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছে, “এবং আমি তাদের অন্তরের
বিদ্বেষসমূহ উঠিয়ে নেব, ফলে তারা ভাই-ভাই হয়ে একে অপরের সামনা সামনি অবস্থান করবে।(৭)
চলুন হাদীসগুলো দেখি===>>>
১)কায়েস বর্ণনা করেন, উন্মুল মুমিনীন 'আইশাহ যখন তার বাহিনী নিয়ে বন্ধু আমিরের জলাশয়ের নিকট পৌঁছালেন, তখন কুকুর ঘেউ ঘেউ করা শুরু করল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এই জলাশয়ের নাম কী? তারা উত্তরে বললেন: "হাওয়ার জলাশয়। একথা শুনে তিনি বললেন: তাহলে আমাকে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে। তার সঙ্গীগণের কেউ এই সিদ্ধান্তে পরামর্শ দিলেন: না, বরং আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়া দরকার। হয়তোবা মুসলিমগণ আপনাকে দেখার পর মহান আল্লাহ তাদের মধ্যে শান্তির ব্যবস্থা করে দেবেন। উম্মুল মুমিনীন 'আইশাহ বলেন: আল্লাহর নবী একবার আমাকে বলেছিলেন, "তোমাদের মধ্যে একজনের অবস্থা কেমন হবে যখন হাওয়ার এর কুকুর তার দিকে ঘেউঘেউ করা শুরু করবে।” [মুসনাদ আহমাদ ২৪২১ ( ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৫২, সিলসিলা সহীহাহ ৪৭৪) শায়খ শুআইব আরনাউত, আইবানী এবং যুবাইর আলী যাঈ সনদটিকে সহীহ বলেছেন]
২) আবূ মারইয়াম আবদুল্লাহ্ ই যিয়াদ আসাদী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, ত্বলহা, যুবায়র ও "আয়িশাহ (রাঃ) যখন বসরার দিকে গেলেন, তখন আলী (রাঃ) আম্মার ইবনে ইয়াসির ও হাসান ইবনু 'আলী (রাঃ) কে পাঠালেন। তাঁরা আমাদের কাছে আসলেন এবং (মাসজিদের মিম্বরে উপবেশন করলেন। হাসান ইবনু 'আলী (রাঃ) মিম্বারের সর্বোচ্চ ধাপে উপবিষ্ট ছিলেন, আর আম্মার (রাঃ) হাসান (রাঃ)-এর নিচের ধাপে দন্ডায়মান ছিলেন। আমরা এসে তাঁর নিকট জড় হলাম। এ সময় আমি শোনলাম, আম্মার (রাঃ) বলেছেন, "আয়িশাহ (রাঃ) বসরার দিকে রওনা হয়ে গেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের (আমাদের) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পত্নী। কিন্তু আল্লাহ্ এ কথা স্পষ্ট করে জেনে নেয়ার জন্য তোমাদের পরীক্ষায় ফেলেছেন যে, তোমরা কি তাঁরই আনুগত্য কর, না তাঁর (অর্থাৎ 'আয়িশাহ (রাঃ)-এর) আনুগত্য কর। [সহিহ বুখারী : ৭১০০ ]
৩)কায়স বিন হাযিম বর্ণনা করেন: “আমি মারওয়ান বিন হাকামকে দেখেছি তালহা কে তাঁর দ্বারা আঘাত করতে, যা তার হাঁটুতে বিদ্ধ হয় এবং তিনি শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহর প্রশংসা করতে করতে ইন্তিকাল করেন। [মুসতাদরাক হাকিম: ৫৫৯১, ইমাম হাকিম এবং যাহাবি হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন
৪)আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উম্মাত দু'দলে বিভক্ত হয়ে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এর মধ্যে যে দলটি হাকের অধিকতর নিকটবর্তী হবে সেটিই ঐ সম্প্রদায়কে হত্যা করবে। [সহিহ মুসলিম: ২৩৫৯]
৫)ইউসুফ ইবনু মাহাক থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, মারওয়ান ছিলেন হিজাযের গভর্নর। তাকে নিয়োগ করেছিলেন মু'আবিয়াহ (রাঃ)। তিনি একদা খুতবা দিলেন এবং তাতে ইয়াযীদ ইবনু মু'আবিয়ার কথা বারবার বলতে লাগলেন, যেন তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তার বায়'আত গ্রহণ করা হয়। এ সময় তাকে "আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাক্ৰ কিছু কথা বললেন। মারওয়ান বললেন, তাঁকে পাকড়াও কর। তৎক্ষণাৎ তিনি "আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরে চলে গেলেন। তারা তাঁকে ধরতে পারল না। তারপর মারওয়ান বললেন, এ তো সেই লোক যার সম্বন্ধে আল্লাহ্ অবতীর্ণ করেছেন, "আর এমন লোক আছে যে, মাতাপিতাকে বলে, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব যদিও আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়েছে, তখন তার মাতাপিতা আল্লাহ্র নিকট ফরিয়াদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার জন্য। বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য। কিন্তু সে বলে এ তো অতীতকালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়। (একথা শুনে উম্মুল মুমিনীন ‘আইশাহ পর্দার আড়াল থেকে বললেনঃ “আল্লাহ্ আমাদের ব্যাপারে কুরআনে কিছুই নাযিল করেন নি, কেবলমাত্র আমার নির্দোষিতা ছাড়া")। সুনানুন নাসাই আল কুবরা ও মুসতাদরাক লিল হাকিমের বর্ণনায়ঃ মুহাম্মাদ বিন যায়দ বর্ণনা করেন যে যখন মু'আবিয়াহ তার ছেলের জন্য বায়আত নিচ্ছিলেন, মারওয়ান বললঃ "এটি আবু বাকার ও 'উমারের সুন্নাহ"। "আব্দুর রহমান জবাব দিলেনঃ “এটি হারকাল ও কায়সারের সুন্নাহ্”। তখন মারওয়ান বললঃ "এই সেই ব্যক্তি, যার ব্যাপারে কুরআনে অবতীর্ণ হয়েছে, আর এমন লোক আছে যে, মাতাপিতাকে বলে, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব যদিও আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়েছে, তখন তার মাতাপিতা আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার জন্য। বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য। কিন্তু সে বলে এ তো অতীতকালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়। [সুরা আহক্বাফ ৪৬:১৭]'। একথা শুনে 'আইশাহ্ বললেনঃ "আল্লাহ্র কসম! সে মিথ্যা বলেছে, আল্লাহ্ এই আয়াত আমাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ করেননি। আর আমি যদি চাই, তাহলে বলতে পারি এই আয়াত কার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আমি আল্লাহ্র রসুল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মারওয়ান ও তার পিতার ওপর লা'নত করতে শুনেছি, যখনও মারওয়ান জন্ম নেয়নি। কাজেই, মারওয়ান আল্লাহর লা'নতের ভাগীদার”। [সহিহ বুখারী: ৪৮২৭, সুনানুন নাসাই আল কুরাঃ ১১৪৯১, মুস্তাদরাক লিল হাকিমঃ ৮৪৮৩, ইমাম হাকিম বলেনঃ হাদিসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ]
৬) "আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবাইর (রাঃ)-কে অসিয়াত করেছিলেন, আমাকে তাঁদের (নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর দুসাহারী) পাশে দাফন করবে না। বরং আমাকে আমার সঙ্গিনীদের সাথে বাকী'তে দাফন করবে যাতে আমি চিরকালের জন্য প্রশংসিত হতে না থাকি। মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বার বর্ণনায়: কায়েস বর্ণনা করেন, যখন উম্মুল মুমিনীন 'আইশাহ মৃত্যুমুখে পতিত ছিলেন, তিনি বললেন, “আমাকে আল্লাহর নবীর স্ত্রীগণের সাথে দাফন কর, কেননা আমি তার পর বিদআত করে বসেছি"। [[[সৌদি আরবের প্রথাত মুহাদ্দিস শায়খ আলবানী বলেন: বিদআতের দ্বারা তিনি জামালের যুদ্ধে অংশগ্রহণকে বুঝিয়েছেন। কেননা যুদ্ধের পর তিনি কঠোরভাবে অনুতপ্ত ছিলেন এবং তা হতে প্রত্যাবর্তন করেন। যদিও তিনি কাজটি সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে করেছিলেন, যেমনভাবে তালহা, যুবাইর এবং অন্যান্য সাহাবা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন সৎ উদ্দেশ এবং সুফলাফলের আশা নিয়ে। ইমাম বুখারীও বর্ণনা করেন যে, আলী ইবনু আবী তালিব 'আম্মার বিন ইয়াসির এবং তার পুত্র হাসান কে কুফায় পাঠান। তারা মিম্বারে আরোহণ করলেন। হাসান আরোহন করলেন সবার ওপরে এবং আম্মার আরোহণ করলেন তার নিচে। আমরা সবাই তাদের ঘোষণা শোনার জন্য জড়ো হলাম। আম্মার বললেন: "আইশাহ বাসরার দিকে রওয়ানা হয়ে গেছেন। আল্লাহর কসম! তিনি এই দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর নবীর স্ত্রী। তবে, মহান আল্লাহ তোমাদের পরীক্ষা করতে চান যে, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর নাকি আইশাহর আনুগত্য কর। 'আম্মার বিন ইয়াসিরের এই ভাষণ ছিল জামালের যুদ্ধের পূর্বে, যাতে মানুষ 'আইশার পক্ষে যুদ্ধ না শুরু করে। [সহিহ বুখারী: ১৩৯১, আল মুছান্নাছ ইবনু আবী শায়বা:৩৭৭৭২, সিলসিলা সহীহাহ :৪৭৪ | ]]
৭). 'আলী ইবনু আবী তালিব(রা:) বলতেন: আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে আমি, উসমান, তালহা এবং
যুবায়ের তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন, যাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন, “এবং আমি তাদের অন্তরের
বিদ্বেষসমূহ উঠিয়ে নেব, ফলে তারা ভাই-ভাই হয়ে একে অপরের সামনা সামনি অবস্থান করবে। [আল হিজর:
৪৭]” [মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা ৩৭৮২১, ফাজায়েলে সাহারা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, ১০২১ ( ৩য় খন্ড,
পৃষ্ঠা ৩৫), হাফেয যুবায়ের আলী যাঈ হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।

Comments

Popular posts from this blog

১২ ইমাম নিয়ে শিয়া ও সুন্নীদের রায়।(১ম পর্ব)

আজকের বিষয়:- খেলাফত রাজতন্ত্রে রুপান্তর।ইমাম হাসান(রা:) কে বিষ দিয়ে হত্যা।

ইমাম হুসাইন(রা:) কে যারা ভুল বলে তাদের মিথ্যা দাবীর খন্ডন।